https://rkmri.co/RM2elm2M5NAl/ বইটি খুব সুন্দর নিতে চাইলে লিংকে ক্লিক করুন
অক্টোবরের ছায়া
প্রথম অধ্যায় অক্টোবরের শেষ বিকেল। গ্রামের আকাশে হালকা কুয়াশা নেমেছে। ধানক্ষেতের গন্ধে ভরে আছে চারদিক। রাহাত, নবম শ্রেণির ছাত্র, হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছায় পুরনো বটগাছের নিচে। হঠাৎ তার চোখে পড়ে একটি ছেঁড়া ডায়েরি।
ডায়েরির প্রথম পাতায় লেখা— "অক্টোবরের রাতেই সত্য প্রকাশ পাবে।"
রাহাতের বুক ধক করে ওঠে। কে লিখেছে এই ডায়েরি? আর কী সেই সত্য?
দ্বিতীয় অধ্যায় ডায়েরির পাতায় অদ্ভুত কিছু নাম—"নদীর ধারে", "অপরিচিত ছায়া", "অক্টোবরের প্রতিশোধ"। প্রতিটি নামের নিচে অর্ধেক লেখা, যেন কেউ ইচ্ছে করেই অসম্পূর্ণ রেখে গেছে।
রাহাত ডায়েরি নিয়ে বাড়ি ফেরে। তার বন্ধু মীমকে দেখায়। মীম বলে, "এটা হয়তো কোনো পুরনো রহস্যের সূত্র। চল, আমরা খুঁজে বের করি।"
তৃতীয় অধ্যায় পরদিন রাতে তারা দু’জন নদীর ধারে যায়। কুয়াশার ভেতর থেকে ভেসে আসে অদ্ভুত শব্দ। হঠাৎ তারা দেখে, একজন বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে বটগাছের নিচে। বৃদ্ধের হাতে একই রকম আরেকটি ডায়েরি।
বৃদ্ধ ধীরে ধীরে বলে— "অক্টোবরের প্রতিটি রাতেই আমি অপেক্ষা করি। আমার ভাই হারিয়ে গেছে এই মাসে, বহু বছর আগে। এই ডায়েরি তার লেখা। তোমরা যদি সাহসী হও, তবে সত্যটা খুঁজে বের করো।"
চতুর্থ অধ্যায় রাহাত আর মীম ডায়েরির সূত্র ধরে এগোতে থাকে। তারা আবিষ্কার করে, গ্রামের পুরনো নদীঘাটে একসময় নৌকায় করে গোপন চোরাচালান হতো। সেই চক্রে হারিয়ে যায় বৃদ্ধের ভাই।
অক্টোবরের রাতগুলোতে নদীর ধারে অদ্ভুত ছায়া দেখা যায়—যেন হারানো মানুষদের স্মৃতি ভেসে ওঠে।
শেষ অধ্যায় রাহাত আর মীম সত্যটা প্রকাশ করে গ্রামের মানুষদের সামনে। সবাই মিলে নদীঘাট পরিষ্কার করে, পুরনো ভয় দূর করে।
অক্টোবরের কুয়াশা আর রহস্য মিলিয়ে যায়। কিন্তু রাহাতের মনে থেকে যায় এক শিক্ষা— "অক্টোবর শুধু শরতের মাস নয়, সত্যের মাসও হতে পারে।"