Posts

উপন্যাস

চেজিং দ্য ড্রাগন: দিলসা কয়ি কামিনা নেহি

March 31, 2026

Shifat Binte Wahid

Original Author সিফাত বিনতে ওয়াহিদ

96
View

ব্ল্যাক কফিটা বেশ কড়া হইছে। ভোরের মিষ্টি রোদটা গায়ে লাগাতে লাগাতে আরেক কাপ কফি খাওয়ার ইচ্ছা করলো স্নেহার, কিন্তু সেটা বানানোর জন্য কিচেন পর্যন্ত যেতে মন চাইলো না। মন একটা বহুত হারামি জিনিস ভাবতেই তার রাহাত ফতেহ আলী খানের দিল তো বাচ্চা হ্যায় জি গানের একটা লাইন মনে পড়লো- দিল সা কয়ি কামিনা নেহি! স্নেহা কফির কাপে চুমুক দিয়ে বলে উঠলো- একদম! এই গানটা আগে প্রায়ই শুনতো স্নেহা। বেশ মজার আছে।

এই লাইনের আগের লাইনগুলা যেন কী? গানটা ছাড়লেই মনে পড়বে, কিন্তু সেটা সে এখন করবে না। তার মেমোরিও তাকে বিট্রে করা শুরু করলে সমস্যা। জীবনে সকল প্রতারণা সে মেনে নিলেও নিজের মেমোরির প্রতারণা আলবৎ মানবে না। মেমোরি কি ম্যাসকিউলিন না ফেমিনিন? স্নেহা ভাবলো! হবে কিছু একটা! কমন জেন্ডারও হইতে পারে, সমস্যা নাই তো তাতে। নাহ! মেমোরি তাকে প্রতারণা করে নাই। এর আগের লাইনগুলা তার মনে পড়ছে-

কিসকো পাতা থা পেহলু মে রাখা, দিল অ্যায়সা বাজি ভি হোগা

হাম তো হামেশা সমাজতে থে কোই, হাম জ্যায়সা হাজি হি হোগা

আয়ে জোর করে কিতনা শোর করে

বেভাজাহ বাতো পে আইঁভে গৌর করে

দিল সা কয়ি কামিনা নেহি…

বাহ! এই লাইন গুলজারের মতো লিজেন্ডের পক্ষেই লেখা সম্ভব, স্নেহা ভাবে। কী সুন্দর শব্দ “পেহলু”! পেহলু অর্থ হলো পাঁজর। এখানে গুলজার সাহেব বলতেছেন, কে জানতো পাঁজরে রাখা মনটা এমন জুয়াড়ি হবে। আমি তো ভাবছিলাম যে আমার মতোই হাজি হবে। সে আসে, জোর খাটিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করে। ফালতু কথাবার্তায় মনোযোগ দেয়। মনের মতো এত কামিনা বা বদমাইশ আর কেউ নাই! স্নেহার আবার জানতে মন চাইলো- মন কি তাহলে ম্যাসকিউলিন না ফেমিনিন? স্নেহা চিন্তা করে, যেই জেন্ডারই হোক, প্রচণ্ড ঘাউড়া আছে মালটা! এর উপর কোনো ছড়ি ঘুরানোরই হিম্মত নাই কারো। কী একটা জিনিস,  না? থাকে আমার শরীরের ভেতর; আমি এর মালিক, অথচ তার ভালো লাগা-খারাপ লাগা আমাকে নাকানি-চুবানি খাওয়াচ্ছে!

কফির কাপে লাস্ট চুমুকটা দিয়ে মুঘল-ই-আজম সিনেমার একটা ডায়লগ মনে করে হেসে দেয় স্নেহা। আব্বা তাকে ওই সিনেমা দেখাইছিল। সেভেন্টিজের সিনেমা মনে হয়। সম্রাট আকবরের ছেলে শাহজাদা সেলিম আনারকলি নামের এক নর্তকীর প্রেমে পড়ে ওইখানে। কোনো রাজা-বাদশাহর কি এটা মেনে নেওয়া সম্ভব- তার বংশধর নর্তকীর প্রেমে পড়বে? বাদশাহ আকবর যতই গ্রেট হন না কেন, উনিও এই বিষয় মেনে নিতে পারেন নাই, অভিয়াসলি! ছেলেকে একটু শাসন-টাসন করতে গেছিলেন, তখন শাহজাদা সেলিম তার বাবা আকবরকে বলে- মেরা দিল ভি আপকা কোই হিন্দুস্তান নেহি...জিসপর আপ হুকুমত করে। স্নেহা ভাবে, নিজের মনের উপর তো নিজেই হুকুমত করতে পারে না, আরেকজন কীভাবে করবে! হুকুমত অর্থ শাসন। সুন্দর শব্দ। উর্দু বলেই ভারিক্কী আর সুন্দর।

হুকুমত শব্দের ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে স্নেহার মনে হলো, নিজের হৃদয়ের উপর হুকুমত করতে পারলে যে কত যন্ত্রণা এড়ানো যেত জীবনে! একটা আস্ত জীবন সে নিজের হৃদয়টাকে এত ফ্রিডম দিলো, অথচ এটাই তাকে সবচেয়ে বেশি ভুগাইতেছে। এই জন্যই গুলজার সাহেব এটাকে কামিনা বলছে! অকৃতজ্ঞ! বেঈমান! বদমাইশ! যা যা বকা মাথায় আসলো, সব দিয়ে দিলো স্নেহা। ভোর থেকে সকাল হওয়াটা সুন্দর। আশেপাশেই কোথাও কোকিল ডাকতেছে স্নেহা অনেকক্ষণ যাবত হৃদয় সম্পর্কিত নানা রকম ভাবনার মধ্যেই শুনতে পারতেছিল। কফি খাওয়ার পর মাথার ঝিম ঝিমটা হালকা কমলেও স্নেহার মনে হলো শরীরের ডান পাশটায় এখনো একটা অসাড় ভাব রয়েই গেছে। থাকুক! মনকে এত যত্ন করেও যখন সারা জীবন লাভ হয় নাই, শরীর নিয়ে ভেবে আর কী হবে, সে ভাবে।

নিজের মনের জন্য তো সে শুধু নিজেরই না, আবিরেরও ক্ষতি করলো শেষ পর্যন্ত। আবার সেই পুরানো গিল্ট ফিলিং তাকে কিছুটা সময় অশান্তিতে ভোগাবে বলে দিনের প্রথম ভাগের এটেন্ডেন্স দিতে হাজির হয়ে গেল! ২ বছর আগের ৭ জানুয়ারির টেক্সটার কথা মনে করে রাকিনের উপর তার মেজাজটা হঠাৎই খারাপ হওয়া শুরু করলো এই সকাল সকাল। ওই সন্ধ্যায় একটা রবি নম্বর থেকে স্নেহার হোয়াটসঅ্যাপে যে হ্যালো টেক্সট আসে, ওইটার জন্য প্রস্তুত ছিল না স্নেহা। ওইটা আবিরের প্রকৃত ফোন নম্বর। এর আগে সে যেই নম্বর থেকে স্নেহার সঙ্গে কমিউনিকেট করতেছিল, সেটা একটা সাবস্টিটিউড নম্বর অথবা ফ্যামিলির অন্য কারো নম্বর হবে হয়তো। স্নেহাকে হোয়াটসঅ্যাপে ওই নম্বর থেকে ব্লক করে দেওয়ার পর সম্ভবত আবির ওই নম্বরটা ইউজ করা বন্ধ রাখতেছিল।

আবির ওই সন্ধ্যার টেক্সটের কিছুক্ষণ পর স্নেহাকে কল করে জানতে চায়- হোয়াই ডিড ইউ ডু দিস? স্নেহা বুঝতে পারে না সে কী করছে। ওইদিকে আবিরও বিশ্বাস করে না যে স্নেহা বুঝতে পারতেছে না সে কী করছে। আবির এটা ভেবেই নেয় যে সে যেটা করছে বলে স্নেহাকে একিউজ করতেছে, ওইটা ডেফিনিটলি স্নেহাই করছে। অনেকক্ষণ কেন করছো আর কী করছি বলাবলির পর জানা যায় আবিরের কাছে ওইদিন বিকালে একটা কল যায় ওর প্রফেশনাল সেক্টরের একজন রিটায়ার্ড কর্মকর্তার। আবিরকে উনি কল করে স্নেহার সঙ্গে এমন করার কারণ জানতে চায়। একইসঙ্গে স্নেহার কাছে উনি আবিরকে মাফ চাইতে বলে।

আবিরের এমনিতেই অ্যাংজাইটির প্রব্লেম আছে। খুব অল্পতেই ও অ্যাংকশাস হয়ে যায়, রেস্টলেসও। একজন থার্ড পারসন, তাও আবার ওর প্রফেশনাল সেক্টরের সিনিয়র কল করে এত পারসোনাল একটা ব্যাপারে ওকে জেরা করছে; স্বভাবতই আবির নার্ভাস হয়ে পড়ে, ভয়ও পায়। পুরা জিনিসটা বুঝতে স্নেহার কিছুটা সময় লাগে। একমাত্র রাকিন ছাড়া কারো সঙ্গে আবিরের ব্যাপারে ডিটেইল আলাপ সে করে নাই, এই বিষয়ে স্নেহা ১০০ ভাগ নিশ্চিত। মিতা আপা কিছুটা জানে, ওইটা না জানার মতোই। র‍্যান্ডম আলাপে যতটুকু মেয়েরা মেয়েরা ডেট নিয়ে গসিপ করে, অতটুকুই। রাকিন স্নেহার বেস্ট ফ্রেন্ড, আর এছাড়া আবির স্নেহাকে ব্লক করার পর যে ভয়াবহ মানসিক অবস্থার ভেতর দিয়ে স্নেহা যাচ্ছিল, তাতে বাধ্য হয়েই অনেককিছু রাকিনের সঙ্গে ওর শেয়ার করতে হইছে। 

স্নেহার মনে পড়ে, লিঙ্কডইনে আবিরের প্রোফাইল পাওয়ার পর ও প্রচণ্ড শকড অবস্থাতেই রাকিনকে ওই প্রোফাইলের একটা স্ক্রিনশট শেয়ার করছিল। ও একে একে দুই মেলানোর চেষ্টা করতে থাকে, অপর পাশে আবির অনবরত বলতেই থাকে- ইউ কুড কল মি ডিরেক্টলি! হোয়াই ডিড ইউ ইনভলভ আদার পিপল হেয়্যার। দোজ মোমেন্টস ওয়্যার টু পারসোনাল। হি ইজ মাই সিনিয়র! আই ডোন্ট নো আর কে কে এ বিষয়ে জানে। আর কাকে কাকে উনি এটা জানাইছেন। আই'ম…আই'ম জাস্ট ফিনিশড!

স্নেহা তখনও হিসাব মেলানোতেই ব্যস্ত ছিল। আবির অ্যাংজাইটিতে কী বলে যাইতেছে, ওইদিকে ওর খুব একটা মনোযোগ নাই তখন। ও জানে এখন হাজার কিছু বলেও ওর এই অ্যাংকশাসনেস স্নেহা কমাতে পারবে না। এরচেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে কলটা কে দেওয়ালো সেটা খুঁজে বের করা; এই ঘটনা আর কেউ না জানা এবং আবিরের প্রফেশনাল লাইফে কোনো হ্যাম্পার যেন না হয়, ওইটা কন্ট্রোল করা। স্নেহা আবিরকে বললো, আই ডিডেন্ট টক এবাউট দিজ টু এনিওয়ান একসেপ্ট রাকিন। তুমি একটু কলটা কাটো। আই'ম কলিং ইউ ব্যাক।

স্নেহা কলটা কেটে সঙ্গে সঙ্গেই রাকিনকে কল দিলো। নো এন্সার। টানা কয়েকবার কল দেওয়ার পর রাকিন টেক্সট করলো ও নওশিনের সঙ্গে একটু বাইরে আছে, ফ্রি হয়ে কল ব্যাক করবে। স্নেহা খুব কড়াভাবে ভয়েজ মেসেজ পাঠায়- কল মি রাইট নাউ!!! রাকিন সঙ্গে সঙ্গেই কল করে। স্নেহা যেটা সন্দেহ করছিল, তাই হয়। ঘটনাটা রাকিনই ঘটাইছে উইদ দ্য হেল্প ফ্রম অ্যা সিনিয়র রিটায়ার্ড অফিসার। ফোনের মধ্যেই রাগে চিৎকার করে উঠে স্নেহা।

আবিরের লিঙ্কডইন প্রোফাইল ও রাকিনের সঙ্গে শেয়ার করছে ঠিকই, কিন্তু ওকে খুঁজে বের করতে বা ফোন দেওয়াতে স্নেহা বলে নাই। আবিরের এভাবে চলে যাওয়াতে ও কষ্ট পাইছে সত্যি। মেন্টালি ওর ভয়ংকর ড্যামেজও হইছে, কিন্তু ওদের মধ্যে যা হইছিল তা তো মিচ্যুয়াল কনসেন্টেই হইছে, আরেকটা বাইরের মানুষকে কেন রাকিন এটা জানাতে গেছে ভেবে রাগে চোখ দিয়ে পানি পড়া শুরু করলো স্নেহার। প্রচণ্ড রেগে গেলে স্নেহা কেঁদে দেয়।

স্নেহার চিৎকার চেঁচামেচিতে রাকিন জানায় ওর খুব কাছের সিনিয়র ফ্রেন্ড মাহমুদ ভাইকে দিয়ে রাকিন আবিরের খোঁজ বের করে এবং কলটা করায়। আবির চলে যাওয়ার পর স্নেহার মানসিক অবস্থা যে ভয়াবহ লেভেলে পৌঁছে গেছিল, রাকিনের ভয় হচ্ছিল যেকোনো অ্যাক্সিডেন্ট ঘটতে পারে। ওই টেনশন থেকেই আবিরের খোঁজ লাগায় সে। রাকিনের মনে হইছিল, আবির যদি ওর ওইভাবে চলে যাওয়ার কারণ স্নেহাকে এক্সপ্লেইন করে সর‍্যি বলে, নিজেকে নিয়ে বাজে ফিলিংটা স্নেহার আর হবে না। মেন্টালিও ও স্ট্যাবল হতে পারবে।

রাকিন স্নেহার ভালো চেয়েই ওইটা করতে গেছে, এটা স্নেহা বুঝতে পারে। কিন্তু এভাবে সে আবিরের সর‍্যি শুনতে চায় নাই, কোনো এক্সপ্লানেশনও না। স্নেহা রাকিনকে রিকোয়েস্ট করে মাহমুদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে। ও নিশ্চিত হতে চায় এই ঘটনা আর কেউ জানে না এবং এই ফোন কলের কারণে আবিরের কোনো প্রফেশনাল হার্ম হবে না। মাহমুদ ভাই খুবই স্ট্রেইট মানুষ। স্নেহা কিছু বলার আগেই সে স্নেহাকে বলে- ইয়ং লেডি, আই নো এবাউট ইউর ব্যাকগ্রাউন্ড। ইউ বিলং ফ্রম অ্যা ভেরি রেপিউটেড ফ্যামিলি। হোয়াই ডিড ইউ ইনভলভ উইদ অ্যা ম্যারিড ম্যান? হি ইজ ফ্রম ক্যাডেট কলেজ অ্যান্ড আস্ক মি এবাউট দেম। আই নো হাউ ওম্যানাইজার দে আর! ডু ইউ থিংক ইউ আর দ্য অনলি ওম্যান উইদ হুম হি ডিড দিজ?

স্নেহা আবিরকে এভাবে মোটেও চিনতে চায় না। ও কী, কী না, এসব ও জানতেও চায় না। ওই মুহূর্তে ও শুধু চায় আবিরের যেন হার্ম স্নেহার কারণে না হয়। স্নেহা সেটাই মাহমুদ ভাইকে বলে। মাহমুদ ভাই একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে- তোমাকে ও কী বলছে ওর ওয়াইফ সম্পর্কে? সম্পর্ক ভালো না। আলাদা থাকে। ডিভোর্স হয়ে যাবে…ব্লা ব্লা ব্লা? বুল শিট! দে আর লিভিং টুগেদার ইন মিরপুর ডিউএইচএস। হিজ ওয়াইফ ইজ ফ্রম ফোর্স টু। আই ডোন্ট কেয়ার এবাউট হিম আফটার হোয়াট হি ডিড উইদ ইউ। আই'ম থিংকিং এবাউট ইউর ওয়েল-বিং। হি শ্যুড বি পানিশড। ফাইজলামি নাকি! একটা মানুষকে ইমোশনালি ভার্নারেবল বানিয়ে সে চলে যাবে কজ হি হ্যাজ ফ্যামিলি। ইনভলভ হওয়ার আগে এটা তোর মনে ছিল না? স্কাউনড্রেল!

স্নেহা মাহমুদ ভাইয়ের কাছে রিকোয়েস্ট করতে থাকে ব্যাপারটাকে ওইখানেই শেষ করতে। এই বিষয়ে কেউই যেন আর কিছু না জানে, ওইটাও বারবার রিকোয়েস্ট করে। সে এক প্রকার অনুনয়-বিনয় শুরু করে মাহমুদ ভাইকে প্রমিজ করায়। কনভার্সেশনের শুরুর দিকে মাহমুদ ভাই যতটা কঠোর ছিল, স্নেহার এই অনুনয় দেখে সম্ভবত তার কণ্ঠে নমনীয়তা আসে। সে কিছুক্ষণ চুপ থেকে স্নেহাকে বলে- লুক, আই'ম নট গোন্না সে দিজ টু এনিওয়ান। হি ইজ ফ্রম মাই প্রফেশন। আমি কখনোই চাইবো না আমার একটা জুনিয়রের ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাক। বাট হোয়াট হি ডিড ইজ আনএক্সেপ্টেবল। মাই সাজেশন ইজ, ডোন্ট কিপ ইন টাচ উইদ হিম এনিমোর। হে সেইড সর‍্যি টু ইউ, হি এক্সপ্লেইনড থিংগস, নো মেটার হি ইজ লায়িং অর নট, ফিনিশ ইট হেয়্যার। তোমার রিকোয়েস্টে আমি ওর জন্য ভালোবাসা ফিল করছি, ডোন্ট মেক দ্যাট মিসটেক, আই'ম টেলিং ইউ। ইট উইল কজ ইউ লট অফ সাফারিংস। হি ইজ নট হোয়াট ইউ আর থিংকিং হি ইজ, মার্ক মাই ওয়ার্ড।

ব্যাপারটা ওইখানেই শেষ হয়ে যায়। এই কল বা ঘটনার জন্য কোনো ক্ষতি স্নেহার সঙ্গে যোগাযোগের শেষদিন পর্যন্ত আবিরের হয় নাই। কিন্তু শেষদিন পর্যন্ত আবির এটাও বিশ্বাস করে নাই যে ওই কলটা স্নেহা দেওয়ায় নাই। স্নেহার প্রতি একটা অবিশ্বাস আবিরের সবসময়ই ছিল। এমন কী স্নেহার প্রেগন্যান্সি নিয়ে লেখা ফিকশনটা পড়ার পরও। ওই ফিকশনটা পড়ে আবির স্নেহাকে টেলিগ্রামে নক করতে বলার পর ওদের আবার কথা হয়। আবিরই স্নেহাকে কল করে। জানায় ও ফিকশনটা পড়ছে। আবির জানতে চায়- ইজ ইট ট্রু? স্নেহা ভাবতে পারে নাই আবির ওকে স্টক করে বা ওই ফিকশন ও পড়বে। ওর ধারণা ছিল আবিরকে তো নিজের কাছ থেকে মুক্তই করে দিছে। ওইটাই এই জন্মে ওদের শেষ দেখা হবে।

আবির ওই বিকালে ফোনের ওই প্রান্ত থেকে খুব কাঁদলো। বারবার স্নেহার কাছে প্রশ্ন করলো কেন স্নেহা ওকে প্রেগন্যান্সির ব্যাপারটা জানালো না। স্নেহা ওকে শান্ত করার চেষ্টা করলো। বারবার আবিরের ওই প্রশ্নে স্নেহা উত্তর দিলো- জানালে কী হতো? আবির কাঁদতেই কাঁদতেই বললো, অন্তত আমি তোমার পাশে থাকতে পারতাম। বসুন্ধরার ফ্ল্যাটের বারান্দায় ওই ফোন কলের দুই বছর পর এসে স্নেহার উপলব্ধি হলো- আবিরকে জানালেও ও কখনোই স্নেহার পাশে তখন থাকতো না। রিয়েলিটি ফেস করা আর কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর বলা যে আমিও এর অংশ হতে পারতাম আর টু ডিফরেন্ট থিংগস। করার চেয়ে বলাটা সহজ।

স্নেহার প্রেগন্যান্সির ওই ঘটনাটা যদি আবির ওই ফিকশনের মাধ্যমে পড়ে না জানতো, তাহলে হয়তো তা সারা জীবনই আবিরের অজানাই থাকতো। আবির না জানলেই ভালো হতো, স্নেহা ভাবে। তাহলে ওদের যোগাযোগটা আবার শুরু হতো না। ওই বিকালের পর প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত আবির কিছুক্ষণ পর পরই স্নেহাকে টেক্সট করতে থাকে অস্থিরতায়। আবির এমনই। ও যেকোনো ঘটনার পর অনুশোচনা করবে, অপরাধ বোধে ভুগবে, গিল্ট ট্রিপের ভেতর দিয়ে যাবে, অ্যাংজাইটিতে ভুগে রেস্টলেস হবে।

আবিরের নরম একটা হৃদয় আছে। ও অন্যকে কষ্ট দিতে চায় না, এটা সত্যি। কিন্তু সেই কষ্টটা না দিতে চাইলে কী কী করা লাগবে, সেটা হয় ও বোঝে না, নাহয় বুঝলেও করতে পারে না। স্নেহার প্রতি একটা কৃতজ্ঞতা বোধ অথবা একটা অনুশোচনা বোধ থেকেই ওই বিকালের পর আবির যোগাযোগটা আবারও কন্টিনিউ করে। ও ভাবে কথা বললে, দেখা করলে স্নেহার ভালো লাগবে। ওকে একটু খুশি রাখতে পারবে। কিন্তু এটা করে যে ও আরো ভয়ংকর ক্ষতি দুইজনেরই করতেছে, এটা বুঝতে ওর দুইটা বছর লাগলো। ততদিনে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে সবদিক দিয়েই।

চলবে…

Comments

    Please login to post comment. Login