Posts

উপন্যাস

চেজিং দ্য ড্রাগন: দিলসা কয়ি কামিনা নেহি

March 31, 2026

Shifat Binte Wahid

Original Author সিফাত বিনতে ওয়াহিদ

217
View

[ডিসক্লেইমার: এই গল্পে চিত্রিত প্রভাবশালী চরিত্র ও ক্ষমতার অলিগলি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। মানুষের মনের গহীনের অন্ধকার ও জটিল প্রবৃত্তিগুলো বাস্তব হলেও, এখানকার চরিত্র, তাদের কর্মকাণ্ড এবং প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বাস্তবের কোনো ব্যক্তি বা স্থানের মিল নেই।]

ব্ল্যাক কফিটা বেশ কড়া হইছে। ভোরের মিষ্টি রোদটা গায়ে লাগাতে লাগাতে আরেক কাপ কফি খাওয়ার ইচ্ছা করে স্নেহার, কিন্তু ওইটা বানানোর জন্য কিচেন পর্যন্ত যেতে মন চাইলো না। মন একটা বহুত হারামি জিনিস ভাবতেই রাহাত ফতেহ আলী খানের দিল তো বাচ্চা হ্যায় জি গানের একটা লাইন মনে পড়লো- “দিল সা কয়ি কামিনা নেহি!” এ লাইন মনে পড়তেই কফির কাপে চুমুক দেওয়া শেষে বলে উঠে- একদম! গানটা আগে প্রায়ই ও শুনতো। বেশ মজার আছে।

এর আগের লাইনগুলা যেন কী? গানটা ছাড়লেই মনে পড়বে, কিন্তু সেটা ও এখন করবে না। মেমোরিও ওকে বিট্রে করা শুরু করলে সমস্যা! জীবনে সকল প্রতারণা ও মেনে নিতে পারলেও নিজের মেমোরির প্রতারণা আলবৎ মানবে না। মেমোরি কি ম্যাসকিউলিন না ফেমিনিন, স্নেহা ভাবলো! হবে কিছু একটা! কমন জেন্ডারও হতে পারে, সমস্যা নাই তো তাতে। নাহ! মেমোরি ওকে প্রতারণা করে নাই। গানের আগের লাইনগুলা ওর মনে পড়ছে-

কিসকো পাতা থা পেহলু মে রাখা, দিল অ্যায়সা বাজি ভি হোগা
হাম তো হামেশা সমাজতে থে কোই, হাম জ্যায়সা হাজি হি হোগা
আয়ে জোর করে কিতনা শোর করে
বেভাজাহ বাতো পে আইঁভে গৌর করে
দিল সা কয়ি কামিনা নেহি…

বাহ! এই লাইন গুলজারের মতো লিজেন্ডের পক্ষেই লেখা সম্ভব। কী সুন্দর শব্দ পেহলু! পেহলু অর্থ পাঁজর। এখানে গুলজার সাহেব বলতেছেন- কে জানতো পাঁজরে রাখা মনটা এমন জুয়াড়ি হবে। আমি তো ভাবছিলাম যে আমার মতোই হাজি হবে। সে আসে, জোর খাটিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করে। ফালতু কথাবার্তায় মনোযোগ দেয়। মনের মতো এত কামিনা বা বদমাইশ আর কেউ নাই! স্নেহার আবার জানতে মন চাইলো- মন কি তাহলে ম্যাসকিউলিন না ফেমিনিন? ও চিন্তা করে, যেই জেন্ডারই হোক, প্রচণ্ড ঘাউড়া আছে মালটা! এর উপর কোনো ছড়ি ঘুরানোরই হিম্মত নাই কারো। কী একটা জিনিস, না? থাকে আমার শরীরের ভেতর; আমি এর মালিক, অথচ ওর ভালো লাগা-খারাপ লাগা আমাকে নাকানি-চুবানি খাওয়াইতেছে!

কফির কাপে লাস্ট চুমুকটা দিতে গিয়ে মুঘল-ই-আজম সিনেমার একটা ডায়লগ মনে করে ও হেসে দেয়। আব্বা ওই সিনেমাটা দেখাইছিলেন। সিক্সটিজের সিনেমা মনে হয়। সম্রাট আকবরের পুত্র শাহজাদা সেলিম আনারকলি নামের এক নর্তকীর প্রেমে পড়ে। নিজের বংশধর এক নর্তকীর প্রেমে পড়বে- কোনো রাজা-বাদশাহর পক্ষেই কি এটা মেনে নেওয়া সম্ভব? আকবর যতই গ্রেট হন না কেন, উনিও এই বিষয় মেনে নিতে পারেন নাই, অভিয়াসলি! ফলে উনি পুত্রকে একটু শাসন-টাসন করতে গেছিলেন। তখন শাহজাদা সেলিম তার পিতা আকবরকে বলে বসে- “মেরা দিল ভি আপকা কোই হিন্দুস্তান নেহি...জিসপর আপ হুকুমত করে।” স্নেহা ভাবে- নিজের মনের উপর তো শালা কত মানুষ নিজেই হুকুমত করতে পারে না, আরেকজন কীভাবে করবে! হুকুমত অর্থ শাসন। সুন্দর শব্দ। উর্দু বলেই ভারিক্কী আর সুন্দর।

হুকুমত শব্দের ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে স্নেহার মনে হলো, নিজের হৃদয়ের উপর হুকুমত করতে পারলে যে কত যন্ত্রণা এড়ানো যেত জীবনে! একটা আস্ত জীবন নিজের হৃদয়টাকে ও এত ফ্রিডম দিলো, অথচ এইটাই ওকে সবচেয়ে বেশি ভুগাইতেছে। এই জন্যই গুলজার সাহেব একে কামিনা বলছে! অকৃতজ্ঞ! বেঈমান! বদমাইশ- যা যা শব্দ ওই মুহূর্তে দিলকে ডিগাইন করতে গিয়ে মাথায় আসলো, সব এক নাগাড়ে বলে গেল ও। ভোর থেকে সকাল হওয়ার দৃশ্যটা সুন্দর। আশেপাশেই কোথাও কোকিল ডাকতেছে। অনেকক্ষণ যাবত হৃদয় সম্পর্কিত নানা রকম ভাবনার মধ্যেও ও শুনতে পারতেছিল। কফি খাওয়ার পর মাথার ঝিম ঝিমটা হালকা কমলেও শরীরের ডান পাশটায় এখনো একটা অসাড় ভাব রয়ে গেছে বলে মনে হইতেছে ওর। থাকুক! মনকে এত যত্ন করেও যখন সারা জীবন কোনো লাভ হয় নাই, শরীর নিয়ে ভেবে আর কী হবে- ভাবে ও।

এই মনের জন্য তো শুধু নিজেরই না, আবিরেরও ক্ষতি করলো ও শেষ পর্যন্ত। আবার ওই পুরানো গিল্ট ফিলিং ওকে কিছুটা সময় অশান্তিতে ভোগাবে বলে দিনের প্রথম ভাগের এটেন্ডেন্স দিতে হাজির হয়ে গেছে! ২ বছর আগের ৭ জানুয়ারির টেক্সটার কথা মনে করে রাকিনের উপর ওর মেজাজটা হঠাৎই খারাপ হয়ে গেল এই সকাল সকাল। ওই সন্ধ্যায় একটা রবি নম্বর থেকে স্নেহার হোয়াটসঅ্যাপে যে হ্যালো টেক্সট আসে, ওইটার জন্য স্নেহা মোটেও প্রস্তুত ছিল না। ওইটাই আবিরের অরিজিনাল ফোন নম্বর। এর আগে ও যেই নম্বর থেকে ওর সঙ্গে কমিউনিকেট করতেছিল, ওইটা একটা সাবস্টিটিউড নম্বর, সম্ভবত ওর আম্মার নম্বর হবে। ওকে হোয়াটসঅ্যাপে ওই নম্বর থেকে ব্লক করে দেওয়ার পর আবির ওই সিমটাও বন্ধ করে রাখছিল।

ওই সন্ধ্যায় টেক্সট পাঠানোর কিছুক্ষণ পর কল দিয়ে আবির জানতে চায়- হোয়াই ডিড ইউ ডু দিজ? স্নেহা বুঝতে পারে না ও কী করছে। ওইদিকে আবিরও বিশ্বাস করে না যে স্নেহা বুঝতে পারতেছে না ও কী করছে। আবির এটা ভেবেই নেয় যে ও যেটা করছে বলে স্নেহাকে একিউজ করতেছে, ওইটা ডেফিনিটলি স্নেহাই করছে। অনেকক্ষণ যাবত কেন করছো আর আমি আবার কী করছি বলাবলির পর জানা যায়- আবিরের কাছে ওইদিন বিকালে ওর প্রফেশনাল সেক্টরের একজন রিটায়ার্ড কর্মকর্তার কল গেছে। উনি কল করে স্নেহার সঙ্গে করা আচরণের কারণ জানতে চাইছেন। একইসঙ্গে স্নেহার সঙ্গে কমিউনিকেট করে ওকে মাফও চাইতে নির্দেশ দিছেন।

আবিরের এমনিতেই অ্যাংজাইটির প্রব্লেম আছে, খুব অল্পতেই ও অ্যাংকশাস হয়ে যায়, রেস্টলেসও। একজন থার্ড পারসন, তাও আবার ওর প্রফেশনাল সেক্টরের সিনিয়র কল করে এত পারসোনাল একটা ব্যাপারে জেরা করছে; স্বভাবতই ও নার্ভাস হয়ে পড়ে, ভয়ও পায়। পুরা জিনিসটা বুঝতে স্নেহার কিছুটা সময় লাগে। একমাত্র রাকিন ছাড়া কারো সঙ্গেই ও আবিরের ব্যাপারে ডিটেইল কোনো আলাপ করে নাই, এই বিষয়ে ও ১০০ ভাগ নিশ্চিত। মিতা আপা কিছুটা জানে, ওইটা না জানার মতোই। র‍্যান্ডম আলাপে যতটুকু মেয়েরা মেয়েরা ডেট নিয়ে গসিপ করে, অতটুকুই। রাকিন স্নেহার বেস্ট ফ্রেন্ড, এছাড়া আবির স্নেহাকে ব্লক করার পর যে ভয়াবহ মানসিক অবস্থার ভেতর দিয়ে ও যাইতেছিল, তাতে বাধ্য হয়েই অনেককিছু রাকিনের সঙ্গে শেয়ার করতে হইছে। 

স্নেহার মনে পড়ে- লিঙ্কডইনে আবিরের প্রোফাইল পাওয়ার পর ও প্রচণ্ড শকড অবস্থাতেই রাকিনকে ওই প্রোফাইলের একটা স্ক্রিনশট শেয়ার করছিল। একে একে দুই মেলানোর চেষ্টা করতে থাকে ও। অপর পাশে আবির অনবরত বলতেই থাকে- ইউ কুড কল মি ডিরেক্টলি! হোয়াই ডিড ইউ ইনভলভ আদার পিপল হেয়্যার। দোজ মোমেন্টস ওয়্যার টু পারসোনাল। হি ইজ মাই সিনিয়র! আই ডোন্ট নো আর কে কে এ বিষয়ে জানে। আর কাকে কাকে উনি এটা জানাইছেন। আই'ম…আই'ম জাস্ট ফিনিশড!

স্নেহা তখনও হিসাব মেলানোতেই ব্যস্ত ছিল। আবির অ্যাংজাইটিতে কী বলে যাইতেছে, ওইদিকে ওর খুব একটা মনোযোগ ছিল না তখন। ও জানতো তখন হাজার কিছু বলেও ওই অ্যাংকশাসনেস ও কমাতে পারবে না। এরচেয়ে বেশি ওর জরুরি মনে হইতেছিল- কলটা কে দেওয়ালো সেটা খুঁজে বের করা; ওই ঘটনা আর কেউ না জানা এবং আবিরের প্রফেশনাল লাইফে কোনো হ্যাম্পার যেন না হয়, ওইটা এনশিওর করা। আই ডিডেন্ট টক এবাউট দিজ টু এনিওয়ান একসেপ্ট রাকিন। তুমি একটু কলটা কাটো। আই'ম কলিং ইউ ব্যাক- বলে স্নেহা ফোন কাটে।

সঙ্গে সঙ্গেই ও রাকিনকে কল দেয়। কিন্তু নো এন্সার। রাকিন ফোন ধরে না। টানা কয়েকবার কল দেওয়ার পর ও টেক্সট করে জানায় নওশিনের সঙ্গে বাইরে আছে, ফ্রি হয়ে কল ব্যাক করবে। কিন্তু ওই টেক্সট পেয়ে স্নেহা খুব কড়াভাবে ভয়েজ মেসেজ পাঠায়- কল মি রাইট নাউ!!! সঙ্গে সঙ্গেই কল দেয় রাকিন। যেটা সন্দেহ করছিল, সেটাই হয়। ঘটনাটা রাকিনই ঘটাইছে উইদ দ্য হেল্প অব অ্যা সিনিয়র রিটায়ার্ড অফিসার। এটা শুনে রাগে চিৎকার করে উঠে স্নেহা।

আবিরের লিঙ্কডইন প্রোফাইল ও রাকিনের সঙ্গে শেয়ার করছে ঠিকই, কিন্তু ওকে খুঁজে বের করতে বা ফোন দেওয়াতে ও কখনোই বলে নাই। আবিরের এভাবে চলে যাওয়াতে ও কষ্ট পাইছে সত্যি। মেন্টালি ওর ভয়ংকর ড্যামেজও হইছে। কিন্তু ওদের মধ্যে যা হইছিল তা তো মিচ্যুয়াল কনসেন্টেই হইছে, আরেকটা বাইরের মানুষকে কেন রাকিন ওইগুলা জানাতে গেছে ভেবে রাগে চোখ দিয়ে পানি পড়ে ওর। প্রচণ্ড রেগে গেলে ও কেঁদে দেয়।

ওর চিৎকার চেঁচামেচিতে হকচকিয়ে রাকিন কনফেস করে- খুব কাছের এক সিনিয়র ফ্রেন্ড মাহমুদ ভাইকে দিয়ে ও আবিরের খোঁজ বের করে কল করাইছে। আবির চলে যাওয়ার পর স্নেহার মানসিক অবস্থা যে ভয়াবহ লেভেলে পৌঁছাইছিল, ও ভয় পাইতেছিল যেকোনো অ্যাক্সিডেন্ট ঘটতে পারে। ওই ভয় থেকেই আবিরের খোঁজ লাগায় রাকিন। ওর মনে হইছিল, আবির যদি নিজের ওইভাবে চলে যাওয়ার কারণ স্নেহাকে এক্সপ্লেইন করে সর‍্যি বলে, স্নেহার নিজেকে নিয়ে বাজে ফিলিংটা আর হবে না। মেন্টালিও ও স্ট্যাবল হতে পারবে।

ও স্নেহার ভালো চেয়েই ওইটা করতে গেছে, স্নেহা এটা বুঝতে পারে। কিন্তু এভাবে ও আবিরের সর‍্যি শুনতে চায় নাই, কোনো এক্সপ্লানেশনও না। রাকিনকে ও রিকোয়েস্ট করে মাহমুদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করতে। ওই ঘটনা আর কেউ জানে না আর ওই ফোন কলের কারণে আবিরের কোনো প্রফেশনাল হার্ম হবে না- এই বিষয়ে ও নিশ্চিত হতে চায়। মাহমুদ ভাই খুবই স্ট্রেইট মানুষ। স্নেহা কিছু বলার আগেই উনি বলেন- ইয়ং লেডি, আই নো এবাউট ইউর ব্যাকগ্রাউন্ড। ইউ বিলং ফ্রম অ্যা ভেরি রেপিউটেড ফ্যামিলি। হোয়াই ডিড ইউ ইনভলভ উইদ অ্যা ম্যারিড ম্যান? হি ইজ ফ্রম ক্যাডেট কলেজ অ্যান্ড ডোন্ট আস্ক মি এবাউট দেম! আই নো হাউ ওম্যানাইজার দে আর! ডু ইউ থিংক ইউ আর দ্য অনলি ওম্যান উইদ হুম হি ডিড দিজ?

আবিরকে ওইভাবে মোটেও চিনতে চায় না স্নেহা। ও কী, অথবা কী না- এসবও জানতে চায় না। ওই মুহূর্তে ও শুধু চাইতেছিল ওর কারণে আবিরের যেন কোনো হার্ম না হয়। সেটাই ও বারবার মাহমুদ ভাইকে বলার চেষ্টা করতেছিল। মাহমুদ ভাই তখন একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে ওকে বলেন- ও কী বলছে ওর ওয়াইফ সম্পর্কে? সম্পর্ক ভালো না? আলাদা থাকে? ডিভোর্স হয়ে যাবে…ব্লা ব্লা ব্লা? বুল শিট! দে আর লিভিং টুগেদার ইন মিরপুর ডিউএইচএস। হিজ ওয়াইফ ইজ ফ্রম ফোর্স টু। আই ডোন্ট কেয়ার এবাউট হিম আফটার হোয়াট হি ডিড উইদ ইউ। আই'ম থিংকিং এবাউট ইউর ওয়েল-বিং। হি শ্যুড বি পানিশড। ফাইজলামি নাকি! একটা মানুষকে ইমোশনালি ভার্নারেবল বানিয়ে দিয়ে সে চলে যাবে কজ হি হ্যাজ ফ্যামিলি! ইনভলভ হওয়ার আগে তোর মনে ছিল না এটা? স্কাউনড্রেল!

মাহমুদ ভাইয়ের ওইসব কথা শোনার বিন্দুমাত্র আগ্রহ হইতেছিল না ওর। ওইসব ইগনোর করে ও রিকোয়েস্ট করতে থাকে ব্যাপারটাকে ওইখানেই শেষ করতে। এই বিষয়ে কেউই যেন আর কিছু না জানে, ওইটাও বারবার অনুরোধ করে। এক প্রকার অনুনয়-বিনয় করেই ও মাহমুদ ভাইকে ওইগুলা প্রমিজ করায়। কনভার্সেশনের শুরুর দিকে উনি যতটা কঠোর ছিলেন, ওর অনুনয়-বিনয় দেখে সম্ভবত তার কণ্ঠে নমনীয়তা আসে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে উনি বলেন- লুক, আই'ম নট গোনা সে দিজ টু এনিওয়ান। হি ইজ ফ্রম মাই প্রফেশন। আমি কখনোই চাইবো না আমার একটা জুনিয়রের ক্যারিয়ার নষ্ট হোক। বাট হোয়াট হি ডিড ইজ আনএক্সেপ্টেবল। মাই সাজেশন ইজ- ডোন্ট কিপ ইন টাচ উইদ হিম এনিমোর। হে সেইড সর‍্যি টু ইউ, হি এক্সপ্লেইনড থিংগস, নো মেটার হোয়েদার হি ইজ লায়িং অর নট। ফিনিশ ইট হেয়্যার। তোমার রিকোয়েস্টে আমি এফেকশন আর ভালোবাসা সেন্স করতে পারতেছি। ডোন্ট মেক দ্যাট মিসটেক, আই'ম টেলিং ইউ। ইট উইল কজ ইউ লট অফ সাফারিংস। হি ইজ নট হোয়াট ইউ আর থিংকিং হি ইজ, মার্ক মাই ওয়ার্ডস।

ব্যাপারটা ওইখানেই শেষ হয়ে যায়। ওই কল বা ঘটনার জন্য কোনো ক্ষতি আবিরের হয় নাই স্নেহার সঙ্গে যোগাযোগের শেষদিন পর্যন্ত। কিন্তু ওই ঘটনার রেশ শেষদিন পর্যন্ত ছিল। ওই কলটা যে স্নেহা দেওয়ায় নাই- আবির এটা কখনোই বিশ্বাস করে নাই। স্নেহার প্রতি একটা অবিশ্বাস ওর সবসময়ই ছিল। এমন কী স্নেহার প্রেগন্যান্সি নিয়ে লেখা ফিকশনটা পড়ার পরও ছিল। ওই ফিকশন পড়ে স্নেহাকে টেলিগ্রামে নক দিতে বলার পর ওদের মধ্যে আবারও যোগাযোগ শুরু হয়। ওইদিন আবির কল করে জানায়- ও ফিকশনটা পড়ছে। জানতে চায়, ইজ ইট ট্রু? স্নেহা ভাবতে পারে নাই আবির ওকে স্টক করে বা ওই ফিকশন ও পড়তে পারে। ওর ধারণা ছিল আবিরকে তো নিজের কাছ থেকে ও মুক্তই করে দিছে; কিংফিশারের ওই দেখাই হয়তো এই জন্মে ওদের শেষ দেখা হওয়ার মুহূর্ত ছিল।

কিন্তু ওই বিকালে ফোনের ওই প্রান্ত থেকে আবির খুব কাঁদলো। বারবার স্নেহার কাছে প্রশ্ন করলো- কেন ওকে প্রেগন্যান্সির ব্যাপারটা জানানো হলো না। স্নেহা ওকে শান্ত করার চেষ্টা করে। বারবার আবির প্রশ্ন করার পর ও পাল্টা প্রশ্ন করে- জানালে কী হতো? আবির কাঁদতেই কাঁদতেই বলে- অন্তত ওই সময়টা তোমার পাশে থাকতে পারতাম। বসুন্ধরার ফ্ল্যাটের এই বারান্দায় ওই ফোন কলের দুই বছর পর এসে স্নেহার উপলব্ধি হইতেছে- ওকে জানালেও কখনোই ও স্নেহার পাশে থাকতো না, অথবা থাকতে পারতো না। রিয়েলিটি ফেস করা আর কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর বলা যে আই কুড বি পার্ট অব দিজ- আর টু ডিফরেন্ট থিংগস। কিছু করার চেয়ে কিছু বলে দেওয়াটা সহজ।

প্রেগন্যান্সির ওই ঘটনা যদি আবির ফিকশনের মাধ্যমে পড়ে না জানতো, তাহলে হয়তো সারা জীবন ওর অজানাই থাকতো। ও না জানলেই ভালো হতো, স্নেহা ভাবে। তাহলে অন্তত ওদের যোগাযোগটা আবার শুরু হতো না। ওই বিকালের পর প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত আবির কিছুক্ষণ পর পরই ওকে অস্থিরতায় টেক্সট করতে থাকে। ও এমনই। যেকোনো ঘটনার পর গিল্ট ফিল করতে থাকবে, রিপেন্ট করবে। গিল্ট ট্রিপের ভেতর দিয়ে গিয়ে অ্যাংজাইটিতে ভুগবে আর রেস্টলেস হবে।

অনুশাসনের শক্ত দুনিয়ার খোলসের ভেতর ওর প্রচণ্ড নরম একটা হৃদয় আছে। অন্যকে ও কষ্ট দিতে চায় না, এটা সত্যি। কিন্তু ওই কষ্টটা না দেওয়ার জন্য কী কী করা লাগবে, ওইটা হয় ও বোঝে না, নাহয় বুঝলেও করতে পারে না। স্নেহার প্রতি একটা কৃতজ্ঞতা বোধ অথবা অনুশোচনা বোধ থেকেই ওই বিকালের পর আবির যোগাযোগটা আবারও কন্টিনিউ করে। ও হয়তো ভাবে- কথা বললে আর দেখা করলে, স্নেহার ভালো লাগবে। ও স্নেহাকে একটু খুশি রাখতে পারবে। কিন্তু ওই ভালো ফিল করাতে গিয়ে অথবা খুশি রাখতে গিয়ে যে ও ভয়ংকর ক্ষতিটা করছে দুইজনেরই, এটা বুঝতে ওর দুইটা বছর লাগছে, অথবা দুই বছর পরও ও আসলে পুরাপুরি বুঝতে পারে নাই। ততদিনে যা ক্ষতি হওয়ার, তা তো হয়েই গেছে সবদিক দিয়ে।

চেজিং দ্য ড্রাগন: ফাসলে

Comments

    Please login to post comment. Login