চলতি বছরের উইমেন্স প্রাইজ ফর ননফিকশনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে অরুন্ধতী রায়ের স্মৃতিকথা ‘মাদার মেরি কামস টু মি’। ২৫ মার্চ এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। সংক্ষিপ্ত এই তালিকায় রয়েছে স্মৃতিকথা, সমসাময়িক রাজনীতি, জীবনী, স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা সহ আরও অনেক কিছু।
বিচারকমণ্ডলীর প্রধান থাঙ্গাম ডেবোনেয়ার বলেছেন, যখন সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে যুক্তরাজ্যে ননফিকশন বইয়ের বিক্রি হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, সে সময় এই তালিকাটি নারী লেখনীর শক্তি ও প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে।
‘মাদার মেরি কামস টু মি’ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয়। অরুন্ধতী রায় তার মা মেরি রায়ের ঘটনাবহুল জীবনকে কেন্দ্র করে এই স্মৃতিকথাটি লিখেছেন। এই বইয়ে বুকারজয়ী লেখকের সঙ্গে তার মায়ের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ৬৪ বছর বয়সী এ লেখক বলেছেন, 'এটি আমার মায়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নিয়ে লেখা। তিনি কীভাবে আমাকে আজকের এই লেখক বানিয়েছেন এবং তারপর তা নিয়ে অসন্তুষ্টও হয়েছেন তা তুলে ধরা হয়েছে।'
এই বইটি অরুন্ধতী রায়ের লেখা প্রথম স্মৃতিকথা। বহু বছর ধরে রাজনৈতিক প্রবন্ধ লেখার পর এর মাধ্যমে দীর্ঘ আখ্যানমূলক রচনায় তার প্রত্যাবর্তন হয়। বইটি তার লেখক হয়ে ওঠার পেছনের মূল অনুসন্ধানের একটি প্রয়াসও বটে। এটিকে দুজন অসাধারণ নারীর জীবনী ও আত্মজীবনী হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্মৃতিকথাটি আত্মজীবনী বিভাগে চলতি বছরের যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল বুক ক্রিটিকস সার্কেল (এনবিসিসি) অ্যাওয়ার্ড জিতেছে।
উল্লেখ্য, অরুন্ধতী রায় ১৯৯৭ সালে ‘দ্য গড অব স্মল থিংস’ উপন্যাসের জন্য বুকার প্রাইজ জিতেছেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় নাগরিক, যিনি সাহিত্যের মর্যাদাবান এই পুরস্কারটি পান। তার উল্লেখযোগ্য বইগুলো হল, ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’, ‘আজাদি’, ‘দ্য এন্ড অব ইমাজিনেশন’।