Posts

ভ্রমণ

এক ঘন্টায় সমুদ্র

April 1, 2026

Subrata Sarker

22
View
আমি ক্যামেরায় ছিলাম

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা।

পুলক আর আমি বিপিন পার্কে বসা অবস্থায় দেখছিলাম শান্তি পরিবহনের বাস পার্কের গেট অতিক্রম করে যাচ্ছে। হুট করেই কি মনে হলো, পুলককে বললাম চলেন আংকেল (পুলককে আমরা অনেকেই আংকেল বলি। গ্র‍্যাজুয়েট নাটকে জাহিদ হাসানের নাম ছিল পুলক।) সাজেক থেকে ঘুরে আসি। পুলকও দ্বিমত না করে বললো চলেন যাই৷ অবশ্য এইটুকু আলাপের মাঝেই বাস বেশ অনেক দূর চলে গিয়েছিলো। তাই সাজেকের চিন্তা বাদ...

এবার মনে হলো আটটার দিকে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন আছে৷ টিকিট কাটা নেই, স্টেশনে গেলে সীট পাবো কিনা সেই ভাবনা ভাবার আগেই দুজনে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম কক্সবাজার যাবো যেভাবে আছি সেই ভাবেই। মানে গায়ে কাপড়-চোপড় যা আছে সেভাবেই। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলাম সময় অনেক আছে। বাকীদের জিজ্ঞেস করে দেখি যায় কিনা? কিশোর ত্রিশাল থেকে আসছিলো, রনি বাসাতেই ছিলো, বিজয় মুক্তাগাছা থেকে রওনা হয়েছে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে। তিনজনই এক কথায় রাজী হয়ে গেলো কোনোরকম দ্বিধা-দ্বন্দ ছাড়াই। যে যে পোশাকে আছে সেই পোশাকেই কক্সবাজার যাবো। সবাই সাড়ে সাতটার মধ্যে স্টেশনে উপস্থিত, ঠিক যেভাবে কথা হয়েছে সেভাবেই। প্রয়োজনীয় বলতে একটা টি-শার্ট অথবা হাফপ্যান্ট সবাই বাসা থেকে নিয়ে এলো। ব্যাগের নিশ্চয়তা আমি দিয়েছি। আমার একটা ব্যাগই নিয়ে সেখানে সবার যা যা নিয়েছে সব ঢুকিয়ে নিলাম।

স্টেশন পৌছে আগে ৫ টা স্ট্যান্ডিং টিকিট করে নিলাম। ব্যস, আটটায় ট্রেন লাইনে দাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনে উঠে গেলাম। কোনোমতে খাবার গাড়িতে পেপার বিছিয়ে পাঁচজন বসে গেলাম। তাস খেলার মানুষ একজন শর্ট থাকায় সহযাত্রী একজনকে সঙ্গী করে নিলাম। চারজনে সারারাত তাস খেলতে খেলতে কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা পেরিয়ে ভোর নাগাদ চট্টগ্রাম পৌঁছে গেলাম।

চট্টগ্রাম স্টেশনে নেমে হাত মুখ ধুয়ে নাস্তা পানি সেরে চলে গেলাম সোজা মারসা বাস কাউন্টার চাঁন্দগাও। সকাল ১০ টা নাগাদ পৌঁছে গেলাম প্রশান্তির সমুদ্রকোল কক্সবাজার। টার্মিনালে নেমে অটোতে উঠার পর কিছুদুর এগিয়ে যেতেই মনে হলো আমার ক্যাপ বাসে ফেলে আসছি। বিজয়ের জুতাও রয়ে গেছে বাসে।

বন্ধু বিজয়ের একটা বিশেষ গুণ আছে। সেটা হলো চেহারা দেখে মানুষ চেনা। মানে, এক পলক যদি সে কাউকে একবার দেখে রাখে, তাহলে বহুদিন পরে হলেও তাকে সে চিনে ফেলে। তো ফেলে আসা টুপি আর জুতা খুঁজে আনার দায়িত্ব নিশ্চয়ই বিজয়ের ঘাড়ে। সুচারুভাবে সেই দায়িত্ব পালন করে অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই বাসের হেল্পারের মাথা থেকে টুপি আর বাসের ভিতর থেকে ওর জুতা নিয়ে যথাস্থানে ফিরে এলো।

সবার ইচ্ছামতো সমুদ্রের খুব কাছে একটা হোটেলের ৭/৮ তলায় একটা রুম নিয়ে উঠে গেলাম ৫ জন একসাথেই এক রুমে। ব্যস, দুদিন থেকে মৌজ-মাস্তি করে শনিবার রাতে আবার ফিরে এসে ফুরফুরে মেজাজে সবাই সবার কাজে ঢুকে গেলাম।

Comments

    Please login to post comment. Login