Posts

পোস্ট

ঈদ, কমফোর্টার পিলো আর সিনেমা যাপন কিংবা “হুদাই ব্লগ”

April 2, 2026

Tahmid Hasan

Original Author Tahmid Hasan

82
View

ঈদ, কমফোর্টার পিলো আর সিনেমা যাপন কিংবা “হুদাই ব্লগ”

নিজের এক অপ্রকাশিত গল্পের কিয়দংশ ভেইগলি স্বপ্নে দেখে কিংবা মাথার ভয়েসেসের পীড়াপীড়িতে চাঁদ রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেছিল। আমি বনে ছিলাম, দুইটা দুনিয়ার মাঝামাঝি একটা আজগুবি জায়গায়। এসব স্বপ্ন আমি প্রায়ই দেখি কিন্তু আনকনশাস “ঈদ স্পেশাল স্বপ্ন” দেখতে চাইছিল। আমি জানি না এই স্বপ্নগুলা দেখতে কিরকম হয়, মাঝে মাঝে মনে হয় ভয়েসেস কোন একটা কিছু এরেঞ্জ করে ফেলবে। শালারা কি করে এটা বুঝতে গেলে আমার শামানদের সাথে থেকে ওদের থেরাপি নিয়ে ওয়েব সিরিজ বানাইতে হবে, আমি জানি না কি ইমপ্ল্যান্ট করা হয় ঐ ফেইসে(আনুনাকি না কি! হইতে পারে হয়ত!) আমি স্বপ্ন ক্রিটিক করতে করতে ঘুম ভাঙ্গায়া ফেলি ‘মেটা’ স্টাইলে।

এটা “Dream within dream” আর্কিটেকচারের একপ্রকারের মকারি বাস্তবতা হইতে পারে। আমি কফির সাথে আজকের দিনটা কি, কেমন এটা ফিল করতে চেয়ে একটু ‘আনমনা’ হই বারান্দায় যেয়ে। আনমনে ওয়েদার চেক দেই, দুই চারটা সুর(মাইনষের!) কেমনে জানি কেমিক্যাল দিয়ে রিলিজ হয়, সবকিছু মিন্টি মিন্টি লাগতে শুরু করে, ইউজ্যুয়ালি…. কিন্তু ঈদের সকালটা এক এটারনিটি পর একটু পুরাণে নিতে হেল্প করছিল, সকালটায় একটু অন্য আমেজে পুরাণের এন্সেস্টারদের আত্না অবচেতনে প্রবেশ করল, আত্নাগুলা ফিল করে আমি ক্যান্ডি চেতনায় ডুবে যেতে চাইলাম। 

(ক্যান্ডি চেতনা মানে ড্রিম লজিক ডিনাই করার পর সেটা এমব্রেইস করার বাস্তবতা, ক্ষেত্রবিশেষে এডোর করার বাস্তবতা) জেনে উপকার হইলে ক্ষতি নাই আর কি!

এখন লিখতে বসে এসব মিলান্তিস দেখে নিজের জীবন স্ক্রিপ্ট স্ক্রিপ্ট মনে হচ্ছে, সবকিছু বরাবরের মতই অদভোদ!

যাই হোক, সকালবেলা কিছু স্পেসিফিক আত্নাদের রিকল করছিলাম। আমি চাই না বেহেশতের সব মুরুব্বিরা কষ্ট পাক, ব্লগে লেখালেখির মত গুরুত্বপূর্ণ এক্টিভিজমে এসব বৈষম্য করলে আবার নানান ঝামেলা হইতে পারে। তবে ঈদের সকালটা যদি তিরিশ দিন সমান বড় হইত আমি তাদের অবশ্যই রিকল করতাম(আসলেই! সকালটা সুন্দর ছিল)। কিছু করারও ছিল না, নামাজ পড়তে হইত এমনেও!

এভাবে ডিটেইল দেয়াটা আমার মানসিকতার দোষ ছাড়া আর কিছু না সম্ভবত, স্যরি কেউ অফেন্ডেড হইলে। কিন্তু কি কারণে হবে সেটাও খুব হাস্যকর একটা ব্যাপার। কিছু ভেইগ মুরুব্বিদের আত্না হয়ত হইলে হইতে পারে, who knows! 

শুনেন আমি নামাজে যাওয়ার আগে কুল ফিল করে নামাজ আদায় করতে যাইতে পারি, এখানে অফেন্ডেড হওয়ার কিছু নাই। আল্লাহ্‌ বলে নাই যে কুলনেসের উপর নারাজ হইতে। একটু Anecdote দিলাম। ঈদে আমার মত খাপছাড়া বইংগাদের কিছু কালচার আছে। আমি তো আবিয়াত্যা কি করব! তবে জোস্‌ আছি ভাই, টেনশান নাই।

আম্মুর সাথে প্রথমবারের মত ঈদ সেলফি তুলছিলাম, মুহুর্ত ক্যাপচারের সময়ে আম্মু কি দেখে কি বুঝে জানি বিয়ের টেনশান দিতে চাইছিল। আমি চোখ দিয়ে দুনিয়ার ক্রিঞ্জ খাওয়ায়ে দিছি, এরপর আম্মু ভদ্র মহিলা মানুষের মত পোজ দিয়ে তিন-চারটা ছবি তুলছে। এরপর কিছুক্ষণ ফোন স্ক্রল করে সুন্দরীদের ছবিতে প্রথমে, শেষে পরিচিতদের বেইল দিয়ে ‘হার্ট’ রিয়েক্ট দিয়ে সময় নষ্ট করছি। এলাকার কিছু ভাই-ব্রাদারদের সাথে ছাদে একটু নস্টালজিক হইছি। পোলাপাইন মার্কা সময় কাটাইতে কাটাইতে হঠাৎ সিরিয়াস হয়ে গেছি ঢাকা থেকে কাউয়া নাই হয়ে গেছে দেখে। কাউয়া অবজ্ঞা না ভাই, ভালোবাসার সম্বোধন। কাউয়া, কাক সবই ক্যারেক্টার দিনশেষে। আর ওরা যে নাম ধরে ডাকে সেই নামে ওদের আইডেন্টিফাই করাটা উচিত না, মাইন্ড করার কারণের তো আর অভাব থাকে না। কাউয়া শহরের মিথে ঢুকে ‘সেক্সি’ হইতে পারে না অবশ্য। ‘কাক’ পারে আর আছেও কিন্তু ঐ যে উচিত হয় নাই, সারাজীবন শুনতে শুনতে ক্লিশে লেগে গেছে বেচারাদের। আমাদের রেগুলারিটিতে এত পরিবর্তন ঘটল অথচ ওদের জন্য আমরা কি সিভিয়ার লেভেলের লেজি! এভাবে আমাদের সাথে থাকতে চাওয়াটা মানার কথাও না।

আমাদের রাজনীতি, প্রোপাগান্ডা, এজেন্ডা ধরতে না পেরে সবাই আয়ুইব বাচ্চুর দেশে চলে গেছে। চিটাগং এ কাকের সংখ্যা বেড়ে গেলে আমি অবাক হব না। জায়গাটা ওদের জন্য সুন্দর হওয়ার কথা। মেলোডি বসবাস করে ঐখানে, ঢাকা তো যন্ত্রের ‘Meh’! যেই শহরের মানুষদের কাউয়া রিজেক্ট করে ওদের নিয়ে আমার এমনিতেও কোন ভরসা নাই। আমি জানতে চাই ও না ওদের কপালে কি আছে ভবিষ্যতে!

ঢাকার মানুষদের জন্য আমি “Anesthetize” শুনি। এই গান না শুনলে আমি ঢাকার মানুষ সহ্য করতে পারতাম না। ঈদের দিন এই গান শুনি নাই, ঈদের দিন মোস্টলি স্পেশাল গান শুনি। যেটা সবাই শুনে, মানে কিছু জাতীয় গান। আমার অবশ্য পরের ঈদে কবিতা আবৃত্তি করার ইচ্ছা আছে। ঢাকায় ঈদের দিনটা সব থেকে বেশি দুঃখীচোদা মেলো কবিতার ফিল দেয়। এই শালার শহরে একটা ঈদেও কোন গান আই মিন জাতীয় গানগুলা ফিল নিয়ে শুনতে পারি না। চিটাগং এর মত বন্ধুবান্ধবের গাড়িতে গুনিং করতে করতে গান শোনার সিন নাই এখন। আর এই শালাদের রুচি না কি ইন্সটার রিল সবকিছু এইটা ডিফারেনশিয়েট করতে করতে আমার মেজাজ আরও খারাপ হয়ে যায়। এরা গুনিং এর গুষ্টিতে আগুন লাগায়ে দিছে! রুচির সাথে পনের সেকেন্ড দিয়ে অনেক কিছু প্রুভ করে ফেলছে। এখন একটা কল্পীয় আড্ডার লোভ সামলাইতে পারতেছি না ‘ঢাকার সিনে গান শোনার ভাষা কেমন অদ্ভুত দেখাইতে পারে’ সেটা বোঝার স্বার্থে। 

আমার একটা নাম বলা যাবে না স্পেসিফিক ফ্রেন্ডের সাথে সবসময় মেয়েরা থাকে। ধরে নিলাম আমাদের বয়স অনেক অনেক অনন্ত জলিলের মত কমে গেছে, তবে আমরা সেই ব্যক্তিটা না আর কি! শুধু তার কোর্সের ডিরেক্টরি ধার করছি। এখন ওর সুগারবেবি স্যরি মানে ফ্রেন্ডদের সাথে আমরা গাড়িতে ঘুরতেছি। কিন্তু কিছুক্ষন প্রিটেন্ড করে ফিল করতে থাকলাম বন্ধুর সাথে প্রতারণা করলে খুব ভালো হয়। 

এত কার গানের টেস্ট ভালো কে বুঝতে যাবে ভাই! মাঝে মধ্যে আমাদের টায়ার্ড হওয়ার জন্য সিনারিও দরকার। আমার ঘুম চলে আসছিল, কিছুক্ষণ মাথা কিছু একটা মনে করতে করতে ঘুমায়ে গেছে। তবে ঘুমানোর সময় গাড়ি একসিডেন্ট করতে দেই নাই। বন্ধুর গাড়ির সাউন্ড সিস্টেম ভালো ছিল। কনশাস মাইন্ড অলওয়েজ উইনস্‌ এর সুখ মাজেজা জেনে সুন্দরমত আমিও পরে ঘুমায়ে গেছি।

ঘুম থেকে উঠে ফিল করি আমি “Morphed” হয়ে গেছি। গাড়িতে আরও কিছুদিন দুনিয়া ঘুরতে না পারবার নুয়ান্সড আক্ষেপ থেকে আমার চামড়ার রং বদলে ব্রাউন হয়ে গেছে- আমি আর সেই ইমাজিনারি সুন্দর মাদারচোদটি নাই। আমার দেশে আলফ্রেড খুঁজি, পরে বুঝতে পারি এই দেশ তো সেই দেশ না! আলফ্রেড যে আমাকে দূর থেকে বইংগা বলে এড্রেস করে আয়না দেখতে বলবে এটা তো আর আমি বুঝি নাই। ব্রুস ওয়েনের বেসিনের শেল্ফে নিশ্চয়ই নরমাল রেজার থাকার কথা না। ফ্যান্সি টেক থাকার কথা আর সেক্সি সিনারিও থাকার কথা। স্পার্ম টকিং থাকার কথা! আমার তো মাথাটায় চাঁদ মামা, লন্ডন প্রবাসী কিছু হেরিটেজ যাদের পুরাণে নিতে আপত্তি আছে আর বাক্য মিলাইতে, শেষ করতে কষ্ট হয় মার্কা কিছু ভদ্র এন্টিটিদের আশীর্বাদ। ওনাদের যাদের ব্লেসিং দেয়ার কথা ওনারা সেটা জেনে বের করে আমাকে শেয়ার করলে আমিও তাদের নিয়মিত মনে করতাম। আর লোকগুলার জন্য প্রচুর ছবি ভাবতাম। এই লোকগুলার সাথে ফার্স্ট কন্ট্যাক্টের লোভ সামলানো বড় মুশকিল কাজ। তাদের গ্লোরি ডেইজের ফেইসের সময় বাথরুম দেখতে কেমন ছিল সেটা প্রায়োরিটিতে রেখে আমি অবশ্যই ভাবতাম। 

এদের এভাবে মনে করতে চাওয়াটা আসলে আর্টিক্যুলেট করে লেখালেখি বুঝতে চাওয়ার একটা ঘটনা মনে হয় আমার কাছে। এমনিতে তো আসলে তেমন কারণ নাই। ডিএনএ’তে আম্মু সুন্দর ঘটনা কিন্তু সবকিছু তো এত লিনিয়ার না আর কি! 

ঈদে দুপুরে খাওয়ার সময় জীবনে প্রথম একটা অভিজ্ঞতা হইছিল। প্রথমবার মিট করা এক পিউব কাজিনের দৃষ্টিতে আমার প্রতি অসম্ভব ঘৃণা, রাগ আর তাচ্ছিল্য খেয়াল করলাম। তার বাবা আমাকে শাসাচ্ছিল আর সে ভালো ভার্সিটিতে টিকছে দেখে বেশ পার্টে আছে মুডে আমারে পুরাটা টাইম জাজ করে যাচ্ছিল। আম্মু থামাইছিল তাদের অবশ্য। লোকগুলা খেয়ে চলে গেছে সাথে সাথে ক্লাসিক নোয়াখাইল্যা স্টাইলে। জাস্ট মুফতে কিছু শাসন চোদায়ে গেছে আর ছেলেটার চেহারা ওর ভালোর জন্য ভুলে যাওয়ার এবস্ট্রাক্ট দিয়ে আমারে উদ্ধার করছে।  

এই ছেলের সাথে পৃথিবীতে কেউ যাতে গেইম না খেলে, ওকে সবার শেষে সব জায়গায় যাতে ইনভাইট করে। ওকে কারন ছাড়া বুলি করে ডিপ্রেশান দিলে বেশি হয়ে যায়, থাক। শুধু ওর দিকে যাতে কোন মেয়েরা না তাকায় আর ক্রিঞ্জি সিম্পিং যাতে ইগ্নোর করে। এনাফ ছেলেটার জন্য! 

-----

রাতে ঈদ কনটেন্ট দেখলাম। কন্টেন্ট দেখার সময় আমি অনেক সিরিয়াস বান্দা হয়ে যাই। মাথা অনেক ফিল্টার করি, কিছু কিছু সময় নিজেরে স্পনসরড এজেন্ট মনে হয়। তো আমি দোষ কাটাইতে চেয়ে মাঝে মাঝে খুব ‘ধরায়ে দেই’ টাইপের তুচ্ছতা করে মাথা ঘামাই। এভাবে না ভাবতে পারলে মেজাজটা সিরিয়াস টোনে থাকে না। আজকাল লেখক স্টাইলে সবকিছু অবজার্ভ করতে মন চায়, কিন্তু এখানে নতুন কিছু কি ভাবা যায় সেই ভাবনা থেকে কনটেন্টের দেখতে চাওয়া নাই। কন্টেন্ট কন্টেন্টের জগতে এটারনাল অস্তিত্ব, সেই অস্তিত্ব কিছু ভাষা প্রিজার্ভ করে তাকে সেই ভাষা দিয়েই দেখার অভ্যাস আছে আমার। 

I adore filmmaking & the craft behind it!

কিন্তু আমার যাপিত জীবনে ন্যারেটিভের প্রভাব আছে। দেশের ফিল্মমেকারদের যোগ্যতা নিয়ে আমার কোন সংশয় নাই, আর্টিস্ট-ক্রু-টেকনিশিয়ানদের বড় অংশ সারাজীবন ক্যাপাসিটির মধ্যে বাজেটের মধ্যে ডেলিভার করার চেষ্টা করে গেছেন। এখানে কখনোই কারও এফোর্ট ছোট করে দেখার স্কোপ নাই। কিন্তু আমি লিমিটেশান ফ্যাক্টটা স্ক্রিণে দেখতে প্রচন্ড হেইট করি আজকাল। কেন জানি না, আজকাল গল্প বলতে যেয়ে লিমিটে ফেঁসে গেছি এই ঝামেলাটা দেখতেছি ফিল করতেছি কিন্তু কিছু করার নাই এই “ভিজ্যুয়াল এট ইওর ফেইস এক্সকিউজ” আর পছন্দ করি না, বিশেষ করে যারা বড় স্কেইলে বিগার ভিশন নিয়ে কাজ করতে পারেন তাদের কাজে এসব দেখলে কষ্ট পাই। এদের পথ দেখানোটা উপভোগ করতে চাই এবং তারা পারেন ও সাক্সেসফ্যুলি এই কাজটা করতে।

স্পাই থ্রিলার “ক্যাকটাস”, “Casino Royale” আর্কেটাইপের একটা এফোর্ট মনে হইল, “Casino Royale” এর টেনশানটার সামান্যতম আঁচ ও আমি ফিল করি নাই। সিরিজটা জমানোর এরেঞ্জমেন্ট সোর্স ম্যাটেরিয়ালে খুব ভালোভাবে ছিল, কিন্তু এই জাতীয় জনরার সিরিয়াসনেসটা “ক্যাকটাসে” থেকেও মিস হয়ে গেছে। গল্পের স্ট্রাকচারাল টোন আর এডিটিং, সিজি, সাউন্ডের কনসিসটেন্সিতে আরেকটু মনোযোগ দিলে অভিজ্ঞতা হয়ত ভালো হইত। মূখ্য চরিত্রের আবেদন আর তাদের ঘিরে ওয়ার্ল্ড বিল্ডিংটা ব্যাপক ইন্টারেস্টিং একটা প্রসপেক্ট ছিল, অভিনয় লেয়ারড কিন্তু এক্টরদের ম্যাজিক শুধু সুন্দর রোমান্টিক কিছু মুহুর্তের ডাইমেনশানে আটকে ছিল। পারিবারিক ড্রামার ট্রিটমেন্টটা নতুন ছিল এবং এই একটা সিগনিফিকেন্ট ঘটনা ভালো ঘটছে “ক্যাকটাস” এ। দুনিয়াটার একটা পর্যায়ে রোমান্সের সুন্দর মূহুর্তের পেইসে, স্কিমিং এ প্রগ্রেশান দরকার ছিল, আরেকটা কানেক্টিং ব্রিজ দরকার ছিল। এই গল্পের ব্রিজটা রোমান্সের  এক এন্ড থেকে আরেক এন্ডে এসে শেষ হয়ে একটা লাভ স্টোরি হয়ে উঠতে চাইছে কেন তার উপযুক্ত কোন ন্যারেটিভ নাই। জুলাই রেভ্যুলেশান একটা প্রেম কাহিনীতে অর্ডার চেঞ্জিং এর আতংকে কেন দেখলাম সেটা পরে ভাবার কোন স্পেইস ও পাই নাই। আমরা টাইম রিপ্রেজেন্টাশানে সিরিয়াস রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলা আতংকে দেখব কেন সেটারও কোন সদুত্তর নাই। মানবিকতাটা নেইবারলি সিনড্রোমে নয়া প্যাকেজে ঢুকতেছে এটা কিছুটা ফিল করা যায় অবশ্য!

Well, go global! They say! 

পাশের দেশের মানুষরাই কেন ভালো কনভিন্সিং এজেন্ট হয়ে উঠে এটা ভাবার দরকার আছে, এটলিস্ট ম্যানারিজমে তারা অরা ট্রান্সমিট করতে পারেন ভালো। কিন্তু বাংলাদেশকে “ক্যাকটাস” এর মত মোমেন্টারি ভাবার স্কিম তাদের মনে হয় নাই। এটা আরেকটা ফিল্ম দেখে বেশ জোরেশোরে উপলব্ধি হইছে।

তার আগে একটু দম নিয়ে রাতে ঘুমানোর সময় কি ফিল করতেছিলাম এটা একটু থ্রেডে রাখি, অনেকটা রম্যলেখকদের ক্যারিকেচারে! পরদিন আমার একটা দেশ যাত্রা হইছে আমি সেদিন রাতে তা জানতাম না। জানলে কি হইত সেটা ভাবতে একটু মন চাচ্ছে, আমার ইন্ট্যুশান বলতেছে ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং হওয়ার কথা।

শোন তাহ্‌মিদ, দেশ যাত্রার আগে আমি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চাচ্ছি। কিছুদিন পর তুমি-আমি ফিল্ম বানাইতে চাই, এখন দেশ যাত্রায় যদি মৈত্রীর অনুসন্ধানে সাড়া না দেই তাইলি কি আমি অচ্ছুত থেকে যাব বা স্বাভাবিকীকরণের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে ‘ষড়যন্ত্রকারী’ ট্যাগ খেয়ে (তোমার) চান্দির বেবি হেয়ার ছিড়বার কোন চান্স কি থেকে যাবে? আবার ফিল্ম থেকে ‘কিন্তু’ বের করে ফেলার ন্যারেটিভের পাপে দন্ডিত হয়ে (নিজেদের) জন্য ‘মুনাফেক’ ট্যাগ খাওয়া কি কখনও সেক্সি ঘটনার ডকুমেন্ট হিসেবে রেকগনাইজড হবে? (তোমার) ফিল্ম বুঝতে চাওয়ার অডাসিটি যদি স্বপ্নের ডাইমেনশানে থাকে তাইলে ভালো থাকবা। চিন্তা কর একবার দেশ যাত্রায় অমুক তমুক কিছু ঘটলে এওয়ার্ড পাইলে (নিজের) কাছে মুখ দেখাইতে পারবা না। এই এক্সিস্টেনশিয়াল ডিলেমায় থেকেও তুমি কোনদিন সিনেমা বানাইতে পারবা না। মানুষ (তোমার) যেকোন কিছু কম্প্রিহেন্ড হওয়ার আগে থেকেই ফান করা শুরু করবে। এটা আরেকটু এক্সটেন্ড করলে ‘বুলি’ টাইপের কিছু একটা হবে আর ঠিক এই পয়েন্টে এসে দুনিয়া এই ইন্সিডেন্টরে (আমার) জিনিয়াস ওভারথিংকিং বলবে। 

আমরা সারভাইভ করব কিভাবে কেউ কিন্তু জানে না! বড় আয়রনিক্যাল ব্যাপার-সেপার। তুমি ‘কিছু’ বাংলা বলে এই বিপদে পুড়তে চাবা কি না জানতে চাওয়া আমার এই মন….. 

ইন্টারেস্ট মরে যেয়ে, নিজে খামখেয়ালী করে বিকল্প স্বর খুঁজছি গত এক সপ্তাহ যাবত। কিন্তু কিছু ভালো কথা লেখা এত ক্রিটিক্যাল কেন হইতে যাবে! নিজেকে এখনও কি নার্সিসাস মনে হচ্ছে? থিয়েটারে ইন্টারভালে পপ চিকেন কিনতে যাওয়ার আগে কোন মেয়ে দর্শক বায়বীয় কাউকে উদ্দেশ্য করে কিংবা নিজের খাচ্ছর বান্ধবীকে বুঝাইতে চেয়ে “খাচ্ছর এটা বিদেশী! এটা বিদেশী” বলে সিনেমাটার সুনাম করতেছিল খুব। আমার পাশের কিছু দর্শক মনোলগের সময় একটু ডিস্টার্ব খাচ্ছিল, আমিও বুঝছি তারা ইমেজের গ্রামার বুঝতে ফিল্ম দেখতে আসছেন। ব্যাপারটা ভালো তো! 

মিডপয়েন্টের আগে গাধার সিকোয়েন্সটা হলভর্তি সবাইকে বেশ এক্সাইট করছে, ঠিক এরপরেই খাচ্ছর বান্ধবীটা কিছু কটু কথা শুনছিল, আমার ওর দিকে তাকিয়ে লুক দিয়ে বেচারীকে আর বিব্রত করতে মনে চায় নাই। একটা সিনেমা না বুঝলে কি এমন খাচ্ছরতার ঘটনা ঘটে যায় এটা জানার কৌতুহলেও বেচারিকে দেখতে চেয়ে সান্তনা দিতে চাওয়ার ইচ্ছা হইল। পরে দেখি আমি নিজেই বিব্রত হয়ে নিম্বল স্টেপে হেঁটে চিকেন কিনতে গেলাম। নিম্বল পায়ে হাঁটার কারণে খাচ্ছর বান্ধবীটা একটু কনফিডেন্স পাইলে সিনেমাশেষে তো খারাপ ঘটনা না। ঈদ একটা কালেক্টিভ সেলেব্রেশান। সেলেব্রেশানের সময় সবার আচরণ, রিয়েকশান দেখতে ফিল করতে খুব ভালো লাগে। 

থিয়েটারে এই ব্যাপারগুলা ফিল করার সাথে সিনেমা দেখাযোগ আছে। যাই হোক এরপর সিনেমার ভালো জায়গাগুলা যেগুলা ভালো বললে একটা সর্বনাশ হয়ে যাবে ভাবছিলাম সেগুলা নিয়ে বোঝাপড়া সারি। এখানে পারফরম্যান্সের সাথে প্লটের নিবিড় কোলাকুলি বা ‘হাগিং এট টাইমস’ আমার ভালো ভাবতে হীনমন্যতা কাজ করছে। এগুলা তো অনেক সুন্দর ইন্ডি ওয়ার্ল্ডে হয় এটা এই সিনেমায় কেন থাকবে? খাচ্ছর বান্ধবীটা গোটা সিনেমাজুড়ে একটা আতংকে থাকবে, ও মনে হয় শুধু একশান চাইছিল। আমি দেখলাম শেষে যেয়ে বেচারির জন্যও কিছু বরাদ্দ ছিল। কিন্তু বান্ধবীটা কি পাকিস্তান হেটিং চাইছিল কি না আমি জানি না। না চাইলেও সমস্যা নাই, স্বাধীনতা দিবসের উছিলা সবাইকে তৈরি রাখতে পারার কথা। 

স্বাধীন বাংলাদেশে ইম্পোজ করা হেটিং বাস্তবতা আমার জমে না। আমার জাতীয়তাবাদ আইডিয়াটাই একটু ঝামেলা লাগে। তার উপর বাংলাদেশের মানুষের চোখে যুদ্ধের আইডিয়া দেখলে কার না অচেনা ভয় হয়! ‘দম’ সিনেমাটা যুদ্ধের জয়গান গায় নাই ফ্যাক্টটা বোধকরি বেঁচে থাকলে নজরুলও ডিজাগ্রি করতেন না, যদি না শেষে তার গান ব্যবহার করে একটু বিদেশের মাটিতে ফ্ল্যাগ বেয়ারার- আত্নত্যাগী- ডিগনিফায়েড সেক্যুলার বাঙ্গালী মুসলমানের সারভাইভালের সিনেম্যাটিকলি স্যাটিসফাইং ফাইনাল সেট পিস্‌টা না থাকত। এখানে ‘কিন্তু’ ন্যারেটিভ লাইনগুলোর মাঝে ভালো হয়ে গেছে! হাহ্‌! আমি কি তাইলে ‘মুনাফেক’?  

হুজুর সমাজ আফগানিস্তানের মত Authoritarian ধর্মীয় শাসন-ব্যবস্থা ভাবার আগে নিজেদের কিভাবে বাঙ্গালী ভাবতে পারেন তার একটা বিকল্প বাতলানোর তরিকা ন্যারেটিভে ছিল। এই আইডিয়ায় দেশের ইউনিফায়েড বা এটেম্পটেড ডিজাইনরে মূল চরিত্র আর প্লট দিয়ে খুব সুক্ষ চালাকির সাথে ইমেজ দিয়ে ন্যারেট করা হইছে। ব্যাপারটা সাব্জেক্টিভ, তবে সমালোচনা করলে ফিল্মের আইডিয়ার সাথে বা বাঙ্গালী ন্যারেটিভের সাথে দুশমনি হওয়ার কথা না কিংবা ঐ আপুর ভাষায় খাচ্ছরতা হওয়ার কথা না।

এই সিনেমার সবাইকে কিছু সিনেম্যাটিক ব্রিলিয়ান্ট মুহুর্তের জন্য ধন্যবাদ, মাসের টেস্টটা রেস্পেক্ট করার ভিজ্যুয়াল বা ফিজিক্যাল আপিল খুব ভালো এচিভ করা গেছে। তবে দিনশেষে জাতীয়তাবাদের পতাকা নিয়ে সারভাইভ করার পলিটিক্যাল প্রজেক্টটা বাদ দিলেও ফিল্মটা অনেস্ট থাকতে পারত। আমি নিজের জন্য ফিল্ম থেকে এটমিক রেজ্যুলেশান চাই। পতাকা কোথায় কিভাবে ধরব সেটাও দিনশেষে ইল্যুশান মনে হইতে পারে, ইন কেইস যদি সবাই “ক্যাকটাস” দেখার আগে থেকে শিক্ষিত হয়ে থাকে আর কি!

সিনেমার ন্যারেটিভ যাপনের এখানেই ইতি। আমি চোদন খাওয়ার ফেইসে ঢুকি আবার!

অন্তিম প্রশ্নটা হইল এই পতাকা কি আমার কমফোর্টার পিলাররে জীবনে বউ হিসেবে স্বীকৃতি দিবে? কিংবা ছোটবেলায় গার্লফ্রেন্ড হিসেবে! আরও ছোটবেলায় গেলে কার্ট এঙ্গেল হিসেবে! যখন আমি ট্রিপল এইচের মত থানপ্যাঁচা করে বা শুকনা থাকার কারনে থানপাছা এক করে পিলোটা নিয়ে রাজ্যের উষ্ঠা খাইতাম আর রাতের বেলা মাঝেমধ্যে লালা মাখায়ে সকালবেলা সেই খাচ্ছরতা দেখার নিষ্ঠুর প্রমানের বলি হইতাম! কেউ জানে না!

ছায়ানটের কমফোর্টার পিলোগুলা খুব এস্থেটিক আছে, লিস্টের সরকারি এস্থেটিক প্রপারলি খেয়াল করি নাই। বাঙ্গালী অবশ্য ইনোসেন্টলি কমফোর্টার শেয়ার করে, ভাবতে চায় আমি আরামে আছি, তৎপর খাচ্ছরতা সিনেমাশেষে খাচ্ছর বান্ধবী থেকে ধার করা শিখছি- আমি কাউকেই নিরাশ করতে চাই না। 

সবাই এক ট্রেনে বিলং করলে তবেই না ভালোবাসা ভালোবাসা ফিল হয়! যদি হতে চাও খাচ্ছর এক বগিতে….. 

……..না হইতে চাওয়াটা আমি এপ্রেশিয়েট করি অবশ্য।        

        

           

                    

  

     

    

    

           

         

       

   

   

     

Comments

    Please login to post comment. Login