
ইতিহাসের পাতায় এই কথাটি বহুল প্রচলিত হলেও, এর সত্যতা নিয়ে কিন্তু যথেষ্ট বিতর্ক আছে।
৬৪ খ্রিস্টাব্দে যখন রোমে সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল, তখনকার মূলত কি ঘটেছিলো তা দেখি চলেনঃ
বেশিরভাগ আধুনিক ঐতিহাসিকের মতে, রোমে যখন আগুন লাগে, সম্রাট নীরো তখন রাজধানী থেকে প্রায় ৩৫ মাইল দূরে তার জন্মস্থান অ্যান্টিয়ামে ছিলেন। আগুনের খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত রোমে ফিরে আসেন এবং ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করেন।
কথায় আছে তিনি "বাঁশি" বাজাচ্ছিলেন, কিন্তু সে সময় রোমে বাঁশির চেয়ে 'লিয়ার' নামক এক ধরণের তারের যন্ত্র বেশি জনপ্রিয় ছিল। যদি তিনি কিছু বাজিয়েও থাকেন, তবে সেটা বাঁশি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
নীরো তার প্রজাদের কাছে খুব একটা জনপ্রিয় ছিলেন না। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, নীরোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্যই পরবর্তীকালে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এই কাহিনী ছড়িয়েছিল। আগুনের পর তিনি তার বিলাসবহুল প্রাসাদ 'ডমাস অরিয়া' (Golden House) নির্মাণ করেছিলেন, যা দেখে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যে, হয়তো তিনি নিজেই শহরটি পুড়িয়েছেন।
কিছু ঐতিহাসিক দলিল অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের পর নীরো গৃহহীনদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং নিজের পকেট থেকে খাবারের যোগান দিয়েছিলেন। যদিও তার পরবর্তী স্বৈরাচারী আচরণের কারণে এই ভালো কাজগুলো ঢাকা পড়ে যায়।
সহজ কথায় বলতে গেলে, "রোম যখন পুড়ছিল, নীরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিলেন" এটি যতটা না ঐতিহাসিক সত্য, তার চেয়ে অনেক বেশি একটি শক্তিশালী রূপক বা বাগধারা।