‘লোগোস হোপ’ আর দশটি সাধারণ বইমেলার মত কোনো মেলা নয়। এটি বিশ্বের বৃহত্তম ভাসমান বইমেলাগুলোর মধ্যে একটি। লোগোস হোপ নামের বিশাল একটি জাহাজ প্রতি বছর সারা বিশ্বের মানুষের কাছে বই পৌঁছে দিতে সাত সমুদ্র পাড়ি দেয়। এই জাহাজটি মানুষকে পড়তে, তাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়কে উৎসাহিত করতে বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করে।
২০০৪ সালে জ্ঞান, সহায়তা এবং আশা ভাগাভাগি করে নেওয়ার মূলমন্ত্র নিয়ে ভাসমান বইমেলার এই প্রকল্পটি চালু হয়। জার্মান দাতব্য সংস্থা গুড বুকস ফর অল (জিবিএ) এটি চালু করে।
প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকে লোগোস হোপ ৭৬টি দেশের ১৩০টিরও বেশি বন্দরে বই নিয়ে গেছে। প্রতিটি গন্তব্যে কয়েক সপ্তাহের জন্য অবস্থান করেছে জাহাজটি। ভাসমান এই বইমেলা এ পর্যন্ত ৪ কোটি ৯০ লাখের বেশি বইপ্রেমীকে স্বাগত জানিয়েছে৷
লোগোস হোপে ৫ হাজারের বেশি বই রয়েছে। এখানে বিজ্ঞান, খেলাধুলা, রান্না, শিল্পকলা, ওষুধ, ভাষা, অভিধান, অ্যাটলাস, শিশুতোষ, ধর্মীয় এবং একাডেমিক বই পাওয়া যায়। বইমেলায় আগত দর্শকরা সদ্য প্রকাশিত বই থেকে শুরু করে ক্লাসিক পর্যন্ত বিভিন্ন জনরার বই কিনতে পারবেন।
লোগোস হোপের মিডিয়া রিলেশন অফিসার সৌনভাল পেটালিয়া জানিয়েছেন, জাহাজে করে বইমেলা করার এই আইডিয়া একদল বন্ধুর কাছ থেকে এসেছে, যারা মেক্সিকোতে বই নিয়ে গিয়েছিলেন। এই প্রকল্পটি অন্য কোথাও করার পরিকল্পনা করেছিলেন তারা। এটি করার সেরা উপায় হিসেবে তারা একটি জাহাজের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য অংশে বই নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এভাবেই লোগোস হোপ বইমেলার উদ্ভব ঘটে।
লোগোস হোপ ভাসমান মেলার মাধ্যমে বই বিক্রি করার পাশাপাশি স্থানীয় লাইব্রেরিতে বই দান করে থাকে। এছাড়া এটি স্থানীয় প্রকাশকদের কাছ থেকে বই কিনে নেয়, যাতে পরবর্তী বন্দরে বিক্রি করা যায়।
উল্লেখ্য, বিশ্বের বৃহত্তম ভাসমান এই বইমেলাটি ২০২৬ সালের শুরুতে ইউরোপ সফর শুরু করেছে। এর পরিকল্পিত গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে স্পেন, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড এবং ফ্যারো আইল্যান্ডস। এটি ১৯ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল স্পেনের মালাগা এবং ১৯ মে থেকে জুন পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের শেভেনিঙ্গেন সমুদ্র সৈকতে অবস্থান করবে।
সূত্র: দ্য ন্যাশনাল