Posts

উপন্যাস

Dark influence of science ~ part:01

April 6, 2026

Tithi Sutradhar

Original Author Tithi Archel

25
View


মায়াজালে ভরা এক অসীম সমুদ্র, যার কোন কূল আছে কিনা, কে জানে। চারিদিকে নেই কোনো আলো, বাতাস, শুধু অন্ধকার আচ্ছন্ন। শূন্যে ভেসে বেড়াচ্ছে অসংখ্য পাথরের খণ্ডাংশ। এটা ভূমি নয়, এটা মায়াজাল। যার সর্বোত্ত রহস্যে ঘেরা।

ব্রহ্মাণ্ডের এক অলৌকিক জগৎ হলো এটি, যার নাম মহাকাশ। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এক অলৌকিক সৌন্দর্য। এই অতল সমুদ্রে ভেসে চলেছে গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, স্যাটেলাইট। তার সাথেই ভাসতে দেখা যাচ্ছে একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি মহাকাশযান বা স্পেসশিপ, যাতে পৃথিবী থেকে দূরে বৈজ্ঞানিক ও নবচারীরা রহস্য উদঘাটনে কাজ করে থাকে।

এক বিশাল আকারের স্পেসশিপ, যা স্থিরভাবে ভাসছে মহাশূন্যে। ভেতর থেকে অ্যালার্ম সাইরেনের কর্কট শব্দ ভেসে আসছে। শিপটির ভেতরে ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত ধোঁয়া। এর সৃষ্টি ল্যাবরুম থেকে আসছে। ল্যাবের ভেতরে দুজন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি পড়ে আছেন নিস্তেজ অবস্থায়। তাদের মধ্যে বিন্দু পরিমাণ প্রাণ অবশিষ্ট নেই। একজন মহিলা, অন্যজন পুরুষ, বয়স ৪৮–৫০ এর মধ্যে হবে। দুজনের গায়ে সাদা এফ্রন জড়ানো, মনে হচ্ছে তারা হবে কোনো বৈজ্ঞানিক।

বাইরের শত্রুর হামলার ফলে শিপে অনেক অংশ বিস্ফোরিত হয়েছে এবং ধ্বসে পড়েছে মহাকালের বুকে, যেখান থেকে ফেরার কোন অবকাশ নেই। তার ফলে ল্যাবে থাকা কেমিক্যালগুলো মেঝেতে পড়ে একে অপরের সংস্পর্শে আসায় বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি হয়েছে। কিছু জায়গায় আগুন লেগে জ্বলছে দাউ দাউ করে। নেভানোর কেউ নেই। 

পুরো স্পেসশিপের লাল লাইট বারবার ফিক্কার করে জ্বলছে । ভেতরে যেন ধ্বংসস্তূপের সমুদ্র বয়ে গেছে। ল্যাবের বাইরে কিছু গার্ড পড়ে আছে মৃত অবস্থায়, শরীর নীল হয়ে গেছে, বোঝা যাচ্ছে বিষাক্ত ধোঁয়ার ফলে মৃত্যু হয়েছে।

শিপে থাকা কন্ট্রোল রুম এখনো অক্ষত আছে। এটি অধিক শক্তিশালী ও সিকিউরিটি সিস্টেম দিয়ে তৈরি, লোহায় আবৃত। ভেতরে প্রবেশ করতে দুটি দরজা অতিক্রম করতে হয়, হাই সিকিউরিটি ব্যবস্থা রয়েছে। যার কারণে এখন পর্যন্ত এটি অক্ষত রয়েছে।

কন্ট্রোল রুমের ভেতরে, এলোমেলোভাবে একটি ছেলে গোলক্ষুদ্র মহাকাশযানে বসে কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস সেট করছে। ছেলেটির নাম অ্যালেক্স ট্রিটমাস, ফর্সা গায়ের রং, উচ্চতা ৬ফুট, মুখ ফ্যাকাসে, বিধ্বস্ত, ধূসর চোখে ক্লান্তির ছাপ। 

পাশে ছোট দোলনায় শুয়ে আছে "আড়াই" বছরের একটি বাচ্চা মেয়ে। বাচ্চাটি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কর্মরত অ্যালেক্সের দিকে।

চোখে আগ্রহ, মুখে অমায়িক হাসি। ছেলেটি কাজের ফাঁকে বারংবার বাচ্চা মেয়েটিকে দেখে। হঠাৎ বাচ্চাটি অস্পষ্ট আওয়াজ করতে করতে হাত বাড়ায় সামনের দিকে থাকা অ্যালেক্সের উদ্দেশ্যে। অ্যালেক্স দেরি না করে বোনকে কোলে তুলে নেন। হঠাৎ আবার বিস্ফোরণ ঘটে, সে বোনকে শক্ত করে চেপে ধরে নিজের বুকের সাথে, মুখে অসংখ্য টুকরো টুকরো চুমু আকেঁ।

চোখে অসহায়ত্বের ছাপ,যেন তার জীবনটা কেউ বের করে নিয়ে যেতে চাইছে আর তার কিছুই করার নেই। তখনই কন্ট্রোল রুমের বাইরে হট্টগোলের শব্দ শোনা যায়। শত্রুপক্ষ ঢুকেছে। হাতে আর সময় নেই। এখন আর দেরি চলবে না। বোনকে বাঁচাতে হলে তাকে দূরে পাঠাতে হবে। অ্যালেক্স জানে না এতে কতটুকু লাভ হবে, তবে শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়বেনা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সে লড়বে।

অ্যালেক্স বোনকে যানটির ভিতরে শুইয়ে দেয়। বাচ্চাটি পিটপিট করে তাকিয়ে থাকে, হাত বাড়িয়ে ধরে অ্যালেক্সকে। অ্যালেক্স অজান্তে দু’ফোটা নোনা জল ফেলতে ফেলতে হাসে। এক হাতে চোখ মুছে, অন্য হাতে ইনজেকশন। আজ হাত কাপছে তার।এ যে তার কলিজার টুকরা। চোখ দুটো আবার ঝাপসা হয়ে আসে তার।এর আগে সে কখনো এত অসহায় হয়তো করে নি। হাতের উলটো পিঠ দিয়ে চোখের জল মুছে, আর দেরি কেনা সে হাতের ইনজেকশন বসিয়ে বোনকে গভীর ঘুমে পাঠায়। এটি কড়াডোসের ঘুমের ইনজেকশন; বাচ্চাটি কমপক্ষে পাঁচ দিন ঘুমাবে।

অ্যালেক্স আবার চুমু খায় বোনের কপালে। বাচ্চা মেয়েটি দেখতে একদম পুতুলের মতো, চোখ নীল সমুদ্রের মতো, গায়ের রং এত কোমল যেন টুকা দিলেই রক্ত বেরোবে। মুখ মায়াবী, চুল বাদামী, যেন কোনো জীবন্ত শিল্পকর্ম।

অ্যালেক্সের গলা কাঁপছে, বুকে চাপা কষ্ট।হঠাৎই অ্যালেক্স অস্থির গলায় বলে ওঠে..

“I’m sorry, Princess. Please don’t misunderstand, brother. I’m sending you away from me for your own good. You’re not safe here, Princess. They’ve come here to take you away from me...”

কথাগুলো বাংলায় হলো....
(“আমি দুঃখিত, প্রিন্সেস। ভাই, আমাকে ভুল বুঝো না। তোমার ভালোর জন্যই আমি তোমাকে আমার থেকে দূরে পাঠাচ্ছি। এখানে তুমি নিরাপদ নও, প্রিন্সেস। তারা এখানে এসেছে তোমাকে আমার থেকে দূরে নিয়ে যেতে…”)

তারপর একটু থেমে আবার বলল...

❝I know you are my sister. You are strong. My strength. You are the happiness of my whole life. I cannot lose you. I can't watch my soul being consumed before my eyes. I love you so much, Princess. I don't know if I'll see you again, but if I live, Princess, I'll bring you back to me. But now you're not safe with me. I'll miss you so much, Princess, I miss you so much.❞

কথাগুলো বাংলায় হবে এরকম:
(“আমি জানি তুমি আমার বোন। তুমি শক্তিশালী। তুমি আমার শক্তি। তুমি আমার সারা জীবনের সুখ। আমি তোমাকে হারাতে পারব না। আমি আমার চোখের সামনে আমার আত্মাকে ধ্বংস হতে দেখতে পারছি না। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি, প্রিন্সেস। আমি জানি না আমি আবার তোমাকে দেখতে পাব কিনা, কিন্তু যদি আমি বেঁচে থাকি, প্রিন্সেস, আমি তোমাকে আবার আমার কাছে ফিরিয়ে আনব। কিন্তু এখন তুমি আমার কাছে নিরাপদ নও। আমি তোমাকে খুব মিস করব, প্রিন্সেস, আমি তোমাকে খুব মিস করব।”)

আঘাতপ্রাপ্ত গলায় কথাগুলো বলা শেষে, অ্যালেক্স বোনের কপালে আলতোভাবে চুমু খায়। বাইরে দরজায় করাঘাতের শব্দ এবং গুলির আওয়াজ চলতেই থাকে। অ্যালেক্স ঝটপট হাতে থাকা কন্ট্রোল দিয়ে ডিম আকৃতির ছোট মহাকাশযানের ঢাকনাটা আটকে দেয়।
যানটির ইঞ্জিন অন হয়ে চারপাশে লাল, নীল, সবুজ বাতি জ্বলে ওঠে। লোডিং টাইমার ঘুরতে শুরু করে। অ্যালেক্স কন্ট্রোল রুমের সিক্রেট চেম্বার খোলার পর যানটিকে মহাকাশের অন্ধকারে ছুঁড়ে ফেলে। তারপর সিক্রেট চেম্বারের মুখটা আবার বন্ধ হয়ে যায়।

মহাকাশের অতলে হারিয়ে যায় ছোট বলটি। স্পেসশিপের অধিক গতি ও বায়ুমন্ডলের সংঘর্ষের ফলে আগুনের উল্কা তৈরি হয় স্পেসশিপের গায়ে। এখন প্রশ্ন হলো, অ্যালেক্স কি পারবে বোনকে বাঁচাতে? তার পরিকল্পনা কি সফল হবে, নাকি হবে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা?

_____✪◑◑◑◑◑⊕◑◑◑◑◑⊕◑◑◑◑◑⊕◑◑◑◑◑✪_____

➤ গাড়ি চলছে নিজের গতিতে, সময়টা প্রায় মধ্যরাত, দুইটা বাজে। 

গাড়িটি ছুটে চলেছে ঘন জঙ্গলের রাস্তা ধরে পেনসিভিলা থেকে নিউইয়র্কের একজন দম্পতি তার সাত বছরের ঘুমন্ত সন্তানকে নিয়ে। ছোট ছেলের অ্যাডভেঞ্চারের আবদার মেনে মেইন রোড এড়িয়ে তারা জঙ্গলের পথে চলেছে।

ভদ্রমহিলাটি হঠাৎ গাড়ি থামাতে বললেন। ভদ্রলোকটি বুঝতে পারলেন না। জানালা খুলে বাইরে তাকিয়ে থাকতে দেখলেন স্ত্রীকে, তিনিও দৃষ্টি দিলেন সে দিকে।দৃষ্টিতে যা মিললো তা এক উজ্জ্বল আলোর রশ্মি, ছুটে আসছে ভূপৃষ্ঠের দিকে।


মেঘমুক্ত তারাবিহিন অন্ধকার আকাশের বুক চিরে এক উজ্জ্বল আলোক রশ্মি ধেয়ে আসছে ভূপৃষ্ঠে।এ যেন এক অলৌকিক চোখ ঝলসানো দৃশ্য।মেঘ ও তারা বিহিন আকাশে সেটা দেখে মনে হচ্ছে কোন তারা যেন ছুটে চলেছে। এটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে মহাকাশ থেকে প্রেরিত কোন জান বা স্পেসশিপ যা ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে প্রেরণ করা হয়েছে। এসব ভাবতে ভাবতে তারা একটি ঘোরে চলে যায়। তবে পরক্ষণেই যেন তাদের বিকল হয়ে যা মস্তিষ্ক সচল হয়ে ওঠে। যখন দেখে বস্তুটি ক্রমাগত তাদের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে, ধেয়ে আসছে তাদের দিকে। এই দেখে যেন তাদের চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। পুরো বস্তুটি জলন্ত অগ্নি পিন্ড তৈরি হয়েছে এতক্ষণে । অতিরিক্ত গতি ও পৃথিবীর আবর্তিত বায়ুমন্ডলে সাথে ঘর্ষণের ফলে চারিদিক থেকে আগুনের ঝলকা নির্গত হচ্ছে। 

'দেখতে কিছুটা উল্কার মত,তাই তারা ঠিক বুঝতে পারছিলেন না মহাকাশ থেকে প্রেরিত কোন জান নাকি সত্যি অন্য উল্ক পিন্ড ভূমিতে পতিত হচ্ছে ।দেখতে দেখতেই স্পেসশিপটা তরিৎ গতিতে ছুটে এসে ওদের গাড়ির ঠিক উপর দিয়ে গিয়ে সোজা গভীর জঙ্গলের ভেতর পরে। অতিরিক্ত আওয়াজে তারা তাদের কান চেপে ধরে,মাথা নিচে করে ফেলে। একে এমন বিকট শব্দ তার উপর গাছপালা ভেঙে পড়ার মরমর শব্দ। এমন বিকট শব্দে চারিপাশ কম্পিত হয়ে ওঠে। তারা এতটাই ভয় পেয়ে গেছিল যে তারা ভুলেই গেছিল গাড়িতে তাদের ছেলেও আছে। হঠাৎ এমন শব্দে বাচ্চা ছেলেটি ঘুম ভেঙ্গে চিৎকার করে ওঠে, আসলে সে গাড়িতে শুয়ে ঘুমিয়ে পরেছিল আর এমন হওয়ার কারনে বেচারা গাড়ির ছিট থেকে নিচে পরে যায়।যার ফলে ব্যাথায় চিৎকার করে ডেকে উঠে তার মাকে "মম…." ছেলে এমন কাতর ডাক শুনে তাদের হুশ ফিরে। এবং দ্রত গাড়ির ফ্রন্টসিট থেকে বের হয়ে ব্যাকসিটে যায় দুই' জনই। 

হঠাৎ এমন হাওয়াতে বাচ্চা ছেলেটি অনেক বেশি ঘাবড়ে গিয়েছিল এবং কান্না করতে থাকে। কোনভাবেই তার কানা বন্ধ করা যাচ্ছিল না,। তারা দেখলেন এভাবে পড়ে যাওয়ায় হাত-পায়ে সাথে মাথায়ও ব্যাথা পেয়েছে।ঘুমানোর সময় হেডসেট পড়েই ঘুমিয়ে গেছিল।তাই হেডসেট থাকার কারনে সে তেমন আওয়াজের উপলব্ধি করেনি। তবে ব্যাথা পেয়েছে বেশখানিক। অপরদিকে ভদ্রলোকটি ভাবছিল কি এমন এসে পড়ল এই জঙ্গলে তা তো জানতেই হবে। এর মাঝে ভদ্রমহিলাটি বাচ্চাটি কে শান্ত করতে সক্ষম হয়। 

মূলত এঘটনাই তারাও কিছু ব্যাথা পেয়েছেন, উল্কা তদের অনেকটা ওপর দিয়ে গিয়ে পড়লেও...
পুরো এরিয়া কেঁপে ওঠে ফলস্বরূপ তাদের গাড়িটিও কেপে ওঠেছিল। শরীরে ভারসাম্য হারিয়ে আছড়ে পরেছিল গাড়ির সামনের দিকে।তখনয় তারা একটু আঘাত প্রাপ্ত হয়। তবে বেশি না।

বাচ্চাটি শান্ত হতেই। ভদ্রলোকটি গাড়ি থেকে বের হয়ে আসে। তাকে বের হতে দেখি ভদ্রমহিলাও ছেলেকে গাড়ি রেখে বের হয়ে আসেন। দুজনে কি যেন একটা বলে মাথা নাড়ায় এবং ভদ্রলোকটি জঙ্গলে সেই দিকটা এগিয়ে যায় যেদিকে ওই উল্কাটি পড়েছে। ছেলের কাছে থাকে তার স্ত্রী।

ঘন্টাখানেক বাদে ভদ্রলোকটি হাতে কিছু নিয়ে দ্রুত জঙ্গল থেকে বের হয়ে আসে ।জঙ্গল থেকে বের হয়ে আসার সময় তার হাতে বড় বাস্কেটের মত কিছু একটা ছিল। গাড়িতে এসে উঠে বসতেই তিনি তার স্ত্রীকে দ্রুত গাড়ি স্টার্ট দিতে বলেন ।তিনি কোন প্রশ্ন করেন না দ্রুত গাড়ি স্টার্ট দেয় এবং ওই স্থান ত্যাগ করেন। জঙ্গল থেকে বের হয়ে আসার সময় তার হাতে বড় বাস্কেটের মত কিছু একটা ছিল। 
:


 

Comments

    Please login to post comment. Login