পীতাম্বর দাস গান লিখেছিলেন:
“একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি
হাসি হাসি পরব ফাঁসি দেখবে জগৎবাসী।
শনিবার বেলা দশটার পরে
জজ কোর্টেতে লোক না ধরে মা গো
হলো অভিরামের দ্বীপচালান মা, ক্ষুদিরামের ফাঁসি।“
গান-টা তো নিশ্চয় শুনে থাকবেন ! ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিস্মৃতপ্রায় কিন্তু প্রথম আত্মোৎসর্গ করা বিপ্লবীর নাম ক্ষুদিরাম বসু।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ক্ষুদিরাম-কে করেছিল প্রভাবিত। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে মেদিনীপুরে একটি গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠন গড়ে উঠেছিল । ব্রিটিশ বিরোধী রাজনৈতিক সেই সংগঠনে অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই ক্ষুদিরাম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন । ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট কিংফোর্ড প্রচণ্ড অত্যাচারী হয়ে উঠেছিলেন ৷ বিপ্লবীরা সিদ্ধান্ত নেয় তাকে হত্যা করার ৷ দলের আদেশে ক্ষুদিরাম ও প্ৰফুল্ল চাকী একটি ফিটন গাড়ীকে কিংসফোর্ডের গাড়ী মনে করে তার ওপর বোমা নিক্ষেপ করেন। গাড়ীতে দুইজন ইউরোপীয় মহিলা ছিলেন, তারা নিহত হন। প্ৰফুল্ল চাকী নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেন। অন্যদিকে, ক্ষুদিরাম পরদিন গ্রেপ্তার হন ও বিচারে তার ফাঁসির আদেশ হয়।
ক্ষুদিরামের ফাঁসি হয়েছিল ১৯০৮ সালের ১১ আগষ্ট মুজাফফরপুর জেলে। তখন বয়স ১৮ বছর ৭ মাস ১১ দিন। মহাত্মা গান্ধী তখন ভারতেই আসেননি। ক্ষুদিরামের ফাঁসির বেশ কয়েক বছর পরে ১৯১৫ সালে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ভারতে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। তখনও গোটা দেশবাসীর মুখে মুখে ঘুরত ক্ষুদিরামের নাম।
এই সেই বিপ্লবী ক্ষুদিরাম; গলায় ফাঁসির দড়ি পড়ে জল্লাদকে প্রশ্ন করেছিলেন:
আচ্ছা, ফাঁসির দড়িতে মোম দেওয়া হয় কেন?'
