বৃষ্টি পড়ছে টুপটাপ। শহরটা আজ অদ্ভুত শান্ত, যেন সব শব্দ কোথাও গিয়ে লুকিয়েছে। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, হঠাৎ সে এসে চুপচাপ পাশে বসে। কোনো শব্দ নেই, তবু মনে হচ্ছে অনেক কিছু বলা হয়ে যাচ্ছে।
আমি একটু হেসে বললাম, “তুমি এভাবে চুপ করে থাকো কেন?”
সে তাকালো না, দূরে বৃষ্টির দিকে চেয়ে বলল, “সব কথা বললে কি ভালো লাগে?”
তার কণ্ঠে একধরনের নরম ক্লান্তি ছিল। আমি কিছু বললাম না। শুধু তার হাতটা আলতো করে ছুঁয়ে দেখলাম—ঠান্ডা। কিন্তু সেই ঠান্ডা হাত ছুঁতেই আমার ভেতরে এক অদ্ভুত উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ল।
আমরা পাশাপাশি বসে রইলাম। সময় কেটে যাচ্ছে, কিন্তু মনে হচ্ছে থেমে আছে। সে হঠাৎ বলল, “তুমি কি সব বুঝে ফেলো?”
আমি হেসে বললাম, “না, কিছুই বুঝি না।”
সে এবার আমার দিকে তাকালো। চোখে একরাশ শান্তি, আবার একটু রহস্যও আছে। এই মেয়েটাকে আমি ঠিক বুঝি না। তার নীরবতা, তার ছোট ছোট কথা—সবই যেন ধাঁধার মতো।
কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, তাকে না বুঝতেই ভালো লাগে। মনে হয়, সব না জানলেও কিছু সম্পর্ক ঠিকই থেকে যায়—চুপচাপ, নিঃশব্দে, বৃষ্টির মতোই।