Posts

উপন্যাস

চেজিং দ্য ড্রাগন: সিন ক্রিয়েট

April 10, 2026

Shifat Binte Wahid

Original Author সিফাত বিনতে ওয়াহিদ

184
View

[ডিসক্লেইমার: এই গল্পে চিত্রিত প্রভাবশালী চরিত্র ও ক্ষমতার অলিগলি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। মানুষের মনের গহীনের অন্ধকার ও জটিল প্রবৃত্তিগুলো বাস্তব হলেও, এখানকার চরিত্র, তাদের কর্মকাণ্ড এবং প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বাস্তবের কোনো ব্যক্তি বা স্থানের মিল নেই।]

দ্য ট্রুথ ইজ আই অ্যাম অ্যা টয় দ্যাট পিপল এনজয়
টিল অল অফ দ্য ট্রিকস ডোন্ট ওয়ার্ক এনিমোর
অ্যান্ড দেন দে আর বোরড অফ মি
আই নো দ্যাট ইট’স এক্সাইটিং, রানিং থ্রু দ্য নাইট
বাট এভ্রি পারফেক্ট সামার’স ইটিং মি অ্যালাইভ আনটিল ইউ’র গন
বেটার অন মাই য়ৌন…

তুমুল বৃষ্টির পর ভেজা পাখির মতো পাখ ঝাড়া দিয়ে পিয়ানোর সুর আর লর্ডের কণ্ঠে আকাশটা নিমগ্ন হয়ে আছে। কার্নিশে জমে থাকা বৃষ্টির পানি ফোঁটায় ফোঁটায় টপ…টপ…টপ…রিদমে পড়তেছে বারান্দার ফ্লোরে। থোকায় থোকায় ফুটে থাকা লাল-বেগুনী-গোলাপী রঙের অধৈর্য্য ফুলের উপর বিন্দু বিন্দু পানি চুপ করে স্থির বসে আছে। এক ঝাঁক শুভ্র নয়নতারা মৃদু হেলেদুলে ঝেড়ে ফেলতেছে জমে থাকা পানির ছিটেফোঁটা। পাশেই ফুলবিহীন কাঁঠালিচাঁপার সরু পাতা চুয়ে নামতে চেয়েও গোলাকার ঝুলে আছে এক বিন্দু পানি।

দুই পাশে কাঁচা হলুদ রঙের বর্ডার আর মাঝের সাদা অংশ জুড়ে থাকা নীল রঙের প্রিন্ট করা ফুলের পর্দা জোড়া ঘরের মস্ত জানালা গলে আসা তুমুল বাতাসে প্রকাণ্ড ঢেউয়ের মতো উড়ে উড়ে একে অপরের গায়ে হেলে পড়লো বেশ কয়েকবার। বাতাসের গতি কমলো কি না, ঠিক বোঝা গেল না। তবে মুহূর্তের জন্য থেমে গেল পর্দা যুগলের উড়াউড়ি। কিছুটা নড়েচড়ে ফের উড়বার প্রস্তুতি নিতে গিয়েও হঠাৎ একে অপরের থেকে অভিমানরত যুগলের মতো এক হাত দূরত্বে সরে বসলো। বাতাসের গতি-প্রকৃতির মতো তাদের দূরত্বের কারণটাও দুর্বোধ্য।

দুই রুমের ছোট্ট স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দা ঘেঁষা টিপটপ এই ছোট্ট বেড কাম স্ট্যাডিরুমে কোনো বেড না থাকলেও একটা বেডসাইড টেবিল আছে। এর উপর আছে ছোট্ট একটা স্ট্যাডি ল্যাম্প। ঠিক পাশেই ৫/৭ ফুটের মোটা জাজিম-তোশকের উপর টান টান করে বিছানো সোনালী হলুদ রঙের ভেতর বিশালাকৃতির নীল-সাদা ফুলের ডিজাইন করা প্রিন্টেড বেডশীট। এর আরেক পাশে ল্যাপটপের ছোট ফোল্ডিং টেবিল। ঘরের ভেতর ঢুকতেই ডান পাশে একটা উড কালার চার ড্রয়ার বিশিষ্ট ওয়ারড্রব আছে, আর ঠিক উল্টা পাশে গাদা গাদা বই দিয়ে ঠাসা একই রঙের পাঁচ তাক বিশিষ্ট বুকশেলফ। এরাই মূলত এই ঘরের মূল আসবাবপত্র। ঘরের একমাত্র ফুল-হাইট জানালার ঠিক উপরে অবশ্য মিডিয়ার দেড় টনের একটা নন ইনভার্টার এসিও আছে। 

অধিকাংশ সময় ফাঁকা পড়ে থাকা ছোট্ট এই রুমের মাঝ বরাবর ওয়ালে অনেকটা অকারণেই মাস খানিক আগে লাগানো হইছে ৩২' ভিশন এলইডি স্মার্ট গুগল টিভি। এক রিল অটাম লিভস ডিজাইনের ওয়ালপেপার দিয়ে মোড়ানো এর ঠিক ডান পাশের দেয়াক। দেয়ালজুড়ে থাকা ছোট ছোট ফটো টাইলসগুলার প্রথমটায় দুই পায়ের ভাঁজে রাখা বই পড়ায় মগ্ন সিলভিয়া প্লাথ। তার পাশে সাত রঙের ছোঁয়ায় ঝাঁকড়া চুলে তাকিয়ে আছেন- দ্য লিজার্ড কিং জিম মরিসন। এর নিচে বাঁ পাশের ফ্রেমটায়- এক জোছনা রাতে পদ্মার পাড়ের নির্জনতায় একে অপরকে আঁকড়ে এক জোড়া হাত। ওই হাত জোড়াই ওই দুইজনের একমাত্র ফ্রেমে বন্দি স্মৃতি। এর ডান পাশে- পৃথিবীর জটিলতা থেকে তখনও যোজন যোজন দূরে থাকা নয় বছর বয়সী ছোট্ট বালিকার কাঁধে হাত রেখে জগতের সবচেয়ে সুদর্শন বাবা সাদা পোলো টি-শার্ট আর নীল জিন্স প্যান্টে দাঁড়িয়ে।

বেড সাইড টেবিলের পাশের ফাঁকা ফ্লোরটার উপর সকাল থেকে খালি পড়ে আছে কফির মগ। সামান্য কফি তলানিতে জমে কালচে দাগ হয়ে আছে। এর পাশে দশ টাকা দামের ভাঙা মাথার দুইটা লাইটার পড়ে আছে বেওয়ারিশভাবে। একটায় সামান্য গ্যাস বাকি, অন্যটা ফুল লোডেড। ছোট্ট নোট প্যাডের উপর সাদা স্কচ টেপ পেঁচানো নতুন একশ টাকায় বানানো পাইপটার পাশে সহাবস্থান করতেছে সাদা পাউডার জমে জমে হলদে হয়ে উঠা পাঁচ টাকার কয়েন। সঙ্গে সুঁই বসানো বিশ টাকা দামের নীল রঙা লাইটারটাও কিছুটা জায়গা নিজের মতো দখল করে নিছে। এর পাশ ঘেঁষে উপুড় হয়ে আছে- দ্য প্লেজার্স অফ দ্য ড্যামড। চার্লস বুকোস্কির সিলেক্টেড পোয়েম। উল্টিয়ে রাখা অংশ খুললেই বের হবে পৃষ্ঠা নম্বর দুইশ পনের, এরসঙ্গে ছাপানো অক্ষরে- মাই ফেইলিয়র। হাস্কি ভয়েজে, একটা সিগার ঠোঁটে চেপে ধরে, বুকোস্কি নিজেই যেন ওইখান থেকে পড়া শুরু করেন-

আউটসাইড, দ্য উইন্ডো টু মাই লেফট রিভিলস
দ্য নাইট লাইটস অফ দ্য সিটি
অ্যান্ড আই অনলি উইশ
আই হ্যাড দ্য কারেজ টু ব্রেক থ্রু দিজ সিম্পল হরর 
অ্যান্ড মেক থিংস ওয়েল অ্যাগেইন 
বাট মাই পেটি অ্যাঙ্গার প্রিভেন্টস মি।

রিয়ালাইজ হেল ইজ অনলি হোয়াট উই ক্রিয়েট, 
স্মোকিং দিজ সিগারেটস,
ওয়েটিং হেয়্যার…

জানালার পর্দা দুইটায় আস্ত একটা দুপুরের বিষণ্নতা ভর করলো বোধহয়। কার্নিশ চুয়ে নিচে এসে পড়লো জমে থাকা পানির শেষ বিন্দুও। সমস্ত শহর যেন ভাত-ঘুমে অচেতন হয়ে আছে লম্বা সময় ধরে। কেবল ছোট্ট এই ঘরের ব্লু টুথ স্পিকারে ভেসে আসা পিয়ানোর সুরের সঙ্গে কোরাসে গেয়ে উঠলো নির্জন এই দুপুরও-

দে সে, 'ইউ আর অ্যা লিটল মাচ ফর মি
ইউ আর অ্যা লায়াবিলিটি
ইউ আর অ্যা লিটল মাচ ফর মি'

সো দে পুল ব্যাক, মেক আদার প্ল্যানস
আই আন্ডারস্ট্যান্ড, আই অ্যাম অ্যা লায়াবিলিটি

গেট ইউ ওয়াইল্ড, মেক ইউ লিভ
আই অ্যাম অ্যা লিটল মাচ ফর
ই-আ-না-না-না, এভ্রিওয়ান

দে’র গনা ওয়াচ মি ডিজঅ্যাপিয়ার ইনটু দ্য সান
ইউ’র অল গনা ওয়াচ মি ডিজঅ্যাপিয়ার ইনটু দ্য সান...

লর্ডের ভয়েজ বেড কাম স্ট্যাডিরুম থেকে ভেসে এসে বাড়ি খাইতেছে ওয়াশরুমের সাদা টাইলসের ওয়ালে। এর নিচেই ফ্লোরে, জমাট বাঁধা রক্তের মাঝখানে পড়ে আছে স্নেহা। বেসিনের কর্নার বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত পড়তেছে ওর মাথার উপরে। মাথার ফেটে অথবা কেটে যাওয়া অংশ থেকে ব্লিডিং বন্ধ হয় নাই এখনো। মাথা থেকে আসা রক্তের স্রোত চোখ-মুখ-নাক বেয়ে জমতেছে বুকের উপর। গ্রে টি-শার্টটা রক্তে লেপ্টে আঁচে পুরাপুরি। স্নেহা কান পেতে ব্লু টুথ স্পিকার থেকে ভেসে আসা ক্লান্ত-বিধ্বস্ত এক কণ্ঠকে শেষবারের মতো বলতে শুনলো- “ইউ’র অল গনা ওয়াচ মি ডিজঅ্যাপিয়ার ইনটু দ্য সান…”।

বেসিনের কর্নারে বাড়ি খেয়ে ফ্লোরে পড়ার কয়েক সেকেন্ড আগে পানির ট্যাপটা ও বন্ধ করছিল। তুমুল কাশির সঙ্গে বের হওয়া তাজা রক্তের প্রবাহ যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা দিলে, হাত-মুখ ধুয়ে ঘরে যাওয়ার জন্য কেবল পা বাড়াইতেছিল, ঠিক ওই মুহূর্তেই ওর মাথাটা হঠাৎ ৩৬০ ডিগ্রি এঙ্গেলে ঘুরান দিয়ে উঠে। কিছু বুঝে উঠার আগেই ব্যালেন্স হারিয়ে ওর পা টলে যায়, মাথা গিয়ে বাড়ি খায় বেসিনের কর্নারটায়। কিছু বোঝার সময় হয় না তখনও, মুহূর্তের ভেতরই সমস্ত দুনিয়া অন্ধকার হয়ে ওর শরীরটা ফ্লোরে ঢলে পড়ে। কপাল ফাটলো না মাথা; কোনোটাই বোঝা গেল না, শুধু ফিনকি দিয়ে ছুটে আসা রক্তের স্রোত টের পাওয়া গেল। কণ্ঠনালী থেকে বের হওয়া রক্তের সামান্য দাগ থেকে যেই গ্রে টি-শার্টটা বাঁচাতে ঘণ্টাখানিক আগে ও ওয়াশরুমে আসছিল, এখন এর পুরাটাই রক্তে ভিজে সয়লাব হয়ে আছে।

মাথাটা বেসিনে বাড়ি খাওয়ার পর কিছু বোঝার মতো অবস্থায় ছিল না ও। ঠিক কতক্ষণ এভাবে বেসিনের নিচে পড়ে আছে, এখান থেকে বের না হলে বুঝতেও পারবে না। কপাল আর মাথা প্রচণ্ড যন্ত্রণায় টনটন করতেছে। রক্ত জমাট বেঁধে শক্ত হয়ে আঁচে চোখের ভ্রু আর পাপড়িতে। ঝাপসা চোখেই স্নেহা একবার আব্বার মুখটা দেখে। ঠোঁটের কোণে তার একই রকম মায়াভরা হাসি লেগে আছে। আম্মাকেও দেখা গেল গম্ভীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। রাগ না ঠিক; বিরক্তিও না, কী যেন একটা গভীর চিন্তার ছাপ তার সমস্ত চোখে-মুখে।

চোখ দুইট পুরাপুরি খোলার চেষ্টা করেও পারা যাইতেছে না। নোনতা স্বাদ ফিল হইতেছে মুখের ভেতর। গলা কাঠ হয়ে আছে শুকিয়ে। আবারও কাশিটা শরীরের ভেতর থেকে পুরা ফোর্স নিয়ে বের হতে গিয়ে হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়ে। শরীরটা হালকা কাঁপিয়ে, অতি সামান্য শব্দে দমকা বাতাসের মতো কাশিটা শেষ পর্যন্ত বের হতেই তীব্র ব্যথায় মাথাটা আবার টনটন করে উঠলো। রক্তে লেপ্টে থাকা শরীরটাকে টেনে ও দেয়ালে হেলান দিয়ে বসার চেষ্টা করলো পর পর তিনবার, পারলো না। চতুর্থবার চেষ্টার সময় চোখ বন্ধ করে বললো- আমি তো এরচেয়ে বেশি লানতের মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে আছি। শরীরের ভেতর থেকে এবার কে যেন একটা সজোরে ধাক্কায় ওকে দেয়ালে হেলান দিয়ে বসার শক্তি জুগিয়ে দিলো। দেয়ালে কোনো রকম ঠেস দিয়ে বসেই ও বিড় বিড় করে উঠে- আল্লাহুম্মা লাকাল-হামদু শুকরান, ওয়ালাকাল-মান্নু ফাদলান।

চোখের সামনে এখনো ঝাপসা সবকিছু। দেয়ালের ট্যাপটা খুঁজে বের করলো হাতাতে হাতাতে। মোচড় দিতেই পানির ছিটা এসে লাগলো গায়ে। খুব সাবধানে ট্যাপের নিচে মাথা নিতেই তেতে জ্বলে উঠলো ব্যথার জায়গাটা। সরলো না ও, ওইভাবেই থাকলো। মাথা বেয়ে আসা পানির কিছুটা যেতে দিলো কাঠ হয়ে থাকা গলা পর্যন্ত। কিছু একটা মনে করার চেষ্টা করতে গিয়ে কানের কাছে শুনলো আবরারের প্রশ্ন- ভাই, মানুষের তো মানুষের জন্য নানা কারণে ভালোবাসা ফিল হতে পারে। মানুষ হিসাবেই মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা বলছি। আপার জন্য আপনি ওইটাও ফিল করেন নাই?

খুব অপ্রত্যাশিত প্রশ্নে অপ্রস্তুত হয়ে গেলে মানুষ যেমন শেকি একটা কণ্ঠে উত্তর দেয়, ঠিক ওই একই রকম ভাবে আবিরকে বলতে শুনতেছে- আমি…আমি কোনোদিন উনাকে ভালোবাসার কথা বলি নাই। আমি কোনোদিন বলি নাই উনাকে আমি ভালোবাসি। নিজের হাসির শব্দও স্নেহা শুনতে পায় সঙ্গে সঙ্গে। হাসতে হাসতে ও বলে, আপনি বলছেন। একবার না, একাধিকবার। এখন চাইলে অস্বীকার করতে পারেন। আবির পাল্টা জানতে চায়, কবে বলছি,বলেন? স্নেহা আবারও হেসে বলে- বাদ দেন। আপনি যা বলবেন, তা-ই ঠিক। আমি দিনক্ষণ মনে করাতে আজকের সেশনে বসি নাই। সম্ভবত ওই পুরা সেশনে ওই একবারই ও কথা বলছিল। এরপর আর ইচ্ছা হয় নাই, রুচিও। স্নেহা খেয়াল করলো, মাথায় জ্বলতে থাকা অনুভূতিটা এখন সহনশীল লাগতেছে। চোখ বন্ধ রেখেই মুখে হাসি আনার চেষ্টা করতে গিয়ে ও ভাবে- কলিজা পোড়া যন্ত্রণার কাছে এইসব রক্তাক্ত ইনজুরি বোধহয় খুব মামুলি!

মাথার আঘাতে ব্রেন এখনো ঠিকঠাক আছে কি না চেক করতে ও আরেকটু পেছনের স্মৃতিতে যাওয়ার চেষ্টা করলো। ২৪ জুন, ২০২৫। রাজশাহীতে গাড়ি এক্সিডেন্টের নয়দিন পর সকালে হঠাৎ আবির ওকে টেক্সট করে জানায়- ও ঢাকাতে। হাতে সময় কম, দেখা করতে চাইলে তখনই কিংফিশারে যেতে হবে। এক্সিডেন্টের পর ওর সঙ্গে দেখা হওয়ার আশা অনেকটাই ছেড়েই দিছিল স্নেহা। ওর মন বলতেছিল, হয়তো বহুদিন ওদের আর দেখা হবে না। ওই ঘটনার পর দেখা করার কথা ও আর বলতোই বা কীভাবে। বারবার এইএসব ভেবে ওর মন খারাপও হইতেছিল। আচমকা তাই দেখা হওয়ার সুযোগটা ওর জন্য বিশাল প্রাপ্তি ছিল। কিন্তু শেষটা তো হতে হবে কদর্য! এমনটাই ভাগ্যের লেখনে বরাদ্দ ছিল যেহেতু। খোদর চাওয়া কে আর খণ্ডাতে পারে?

কিংফিশারে ঘণ্টা খানিক বসার পর আবির ক্যান্টনমেন্ট হয়ে এয়ারপোর্টে চলে যাবে। সন্ধ্যার ফ্লাইটেই ওকে ফিরতে হবে রাজশাহী। আবার কবে ওদের দেখা হবে, এর কোনো নিশ্চয়তা নাই বলে জানায় বিদায়ের আগে। স্নেহার খুব ইচ্ছা করে ওর সঙ্গে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত যেতে। নিজের কোনো ইচ্ছা আবিরকে জানাতে বরাবরই ওর দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করে। হাজারবার চিন্তা করে- বলবে কী বলবে না, বললেও কীভাবে বলবে, কীভাবে বললে আবির প্রেশার ফিল করবে না বা বিরক্ত হবে না। অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়েও শেষ পর্যন্ত ওইদিন বলেই ফেলে- তোমার সঙ্গে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত গেলে কি খুব সমস্যা হবে? আবির সঙ্গে সঙ্গেই মাথা নাড়িয়ে এক্সিডেন্টের পর থেকে ও সারভেইল্যান্সের ভেতর আছে, তাই এয়ারপোর্টে একসঙ্গে যাওয়া সম্ভব না জানায়।

কিন্তু স্নেহার বারবার মনে হইতেছিল, ওইদিনের পর যদি আর কোনোদিন দেখা না হয় ওদের! কিছুক্ষণ চুপ থেকে ও আবার বলে- তুমি আলাদা গাড়িতে যাও, আমি আলাদা গাড়িতে যাবো। এয়ারপোর্টের গেটে দাঁড়িয়ে দূর থেকে শুধু একবার তোমাকে দেখেই চলে আসবো। আবির সেটাতেও অসম্মতি জানায়। স্নেহা বুঝতে পারে না, ও এয়ারপোর্টে দূর থেকে দাঁড়িয়ে ওকে দেখলে কী এমন সমস্যা হবে! সামনে তো যাবে না। কথাও বলবে না। আবির তবুও রাজি হয় না। আবার কবে দেখা হবে, এর কোনো নিশ্চয়তা নাই! এক্সিডেন্টের ঘটনা কতদূর গড়াবে, সেটাও বোঝা যাইতেছিল না। ও চাইলেও তো আর রাজশাহী যেতে পারবে না। আবিরকে কি কোনোদিন ও দেখা করতে আসতে বলতে পারছে, না পারবে কোনোদিন? তাছাড়া ঢাকায় কখনোই ওর সঙ্গে দেখা করতে তো আবির আসেও নাই কোনোদিন। কাজের ফাঁকে দেখা করছে, সেটাও নিজের ইচ্ছাতেই করছে। সেটা করতে কেউ জোরজবরদস্তি অথবা ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোদিনই করে নাই ওকে।

দীর্ঘদিন ও ঢাকায় আসতে পারতেছিল না বলে স্নেহা কয়েক মাস রাজশাহী গিয়ে দেখা করতে চাইছে বা করছে। পুরা দুই বছরে, এই এতটুকুই চাওয়া ছিল ওর । এসব ভাবতে ভাবতেই ও আরেকবার আবিরকে বলে- যাই না? কী হবে? দূর থেকে দেখবো। কাছে যাবো না, প্রমিজ। তোমাকে আমার দিকে তাকাতেও হবে না। টার্মিনালে ঢোকার আগ পর্যন্ত দাঁড়াবো, তুমি ভেতরে ঢুকে গেলেই চলে আসবো। আবির এর উত্তরে ওর পুরানো ডায়লগটা দেয়- ইউ নেভার আন্ডারস্ট্যান্ড মাই ইস্যুজ। হয়তো সত্যিই তাই- স্নেহার তখনও মনে হতো, এখনো মনে হয়। কিন্তু আবিরও কি ঠিকঠাক বুঝতে পারছিল সব? বিপিডি অথবা ট্রমা বন্ডিং-এর মতো টার্মসগুলার বাইরে গিয়ে?

ভয়- শব্দটা হঠাৎ মাথায় খট করে টোকা দিতেই নিজের রক্তমাখা অবয়ব নিয়ে স্নেহা কিছুটা জোরে হাসতে গিয়েও ব্যর্থ হলো। হাসার চেষ্টা করলেই মাথায় টান লাগতেছে। ভয়ই যদি একমাত্র কনস্ট্যান্ট ট্রুথ হয়; আচ্ছা…কিছু মুহূর্তের জন্য ও ধরেই নিলো যে এটাই একমাত্র ধ্রুব সত্য, তবুও তো হিসাব মেলাতে পারে না! নিজের ভয়ের কারণে কেউ আরেকজনের জীবনকে এইভাবে বিপন্ন করে তুলতে পারে? ভয়ের জন্য কাউকে ইমোশনালি ডেস্ট্রয় করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে চাইলেই? নিজেও যেচে অশান্তি ডেকে আনে নিজের জীবনে? অদ্ভুত! মাথায় টান খেয়েও এবার সত্যি সত্যিই ও জোরে হেসে উঠে। যদিও বেশি সময় হাসা গেল না। দীর্ঘক্ষণ এই টপিকে হাসতে না পেরে ওর একটু কষ্টই লাগলো মনে।

এরচেয়ে বরং ওইদিনের মেমোরি রি-কল করাই ভালো বলে মনে হলো ওর। স্নেহার মনে পড়ে- ওইদিন ও বেশ ভালোই ড্রাঙ্ক ছিল। এরমধ্যে আবার আবির নিজেই বলছে, নেক্সট কবে ওদের দেখা হবে, ঠিক নাই। হয়তো অনেকদিন দেখা নাও হতে পারে। স্নেহার অস্থির মন তাই ওর বিদায়ের মুহূর্তটায় দূর থেকে দাঁড়িয়ে আরেকবার ওকে দেখতে চাইতেছিল। কিন্তু এর বদলে আবিরের চিরাচরিত ডায়লগ শুনে ওর মনটা খারাপ হয়ে যায়, কিছুটা রাগও উঠে। শেষ পর্যন্তও আবিরের মন গলানো যায় না। স্নেহার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ও চলে যায় ক্যান্টনমেন্টে। ও চলে যেতেই স্নেহাও একটা উবার কল করে এয়ারপোর্টের দিকে যায়।

ডোমেস্টিক টার্মিনালের ঢুকার মুখের রাস্তায় উবার থেকে যখন ও নামে, দুপুর থেকে ঝিরঝির করে পড়তে থাকা বৃষ্টি তখন রূপ নিলো ভারী বর্ষণে। ভেজা ছাড়া কোনো বিকল্প উপায় তখন নেই, উপায় ভাবার অবস্থাতেও ও ছিল না যদিও। ভিজতে ভিজতেই কতক্ষণ টার্মিনালে ঢুকার মুখে, কখনো বা এর উল্টা পাশে দাঁড়িয়ে ও গাড়ির আসা-যাওয়া দেখতে থাকে। বৃষ্টির ফোটা থেকে ফোনের স্ক্রিনটাকে কোনো রকম বাঁচানোর চেষ্টা না করেই পকেট থেকে বের করে আবিরকে টেক্সট করে জানায়- ও টার্মিনালে ঢোকার আগের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে, ওর গাড়ি এয়ারপোর্টে ঢোকার আগে যেন জানায়। দূর থেকে একবার দেখেই চলে যাবে।

ঘণ্টা খানিক ভেজা অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে কয়েকবার শরীরের ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলতেছিল স্নেহা। দুই একবার এইদিক-ওইদিক হেলে পড়তে গিয়ে নিজেকে সামলালো। এয়ারপোর্টের সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা এক লোক দূর থেকে অনেকক্ষণ ওকে ফলো করতেছিল বোধহয়। কাছে এসে জানতে চায়, ওর ফ্লাইট কখন, কী সমাচার! ও অসুস্থ কি না, সেটাও জানতে চায়। ও কিছু না ভেবেই উত্তর দেয়- ৬টার ফ্লাইটে রাজশাহী যাবে। লোকটা তখন বলে, আপনি কয়েকবার পড়ে যাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছিল। এখানে না দাঁড়িয়ে ভেতরে গিয়ে বসেন। স্নেহা একজনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে জানায়, সে এলেই ভেতরে যাবে বলে। লোকটা কয়েক মিনিট ওর দিকে তাকিয়ে থেকে চলে যায়।

প্রায় এক ঘণ্টা পর আবির টার্মিনালের ভেতরে ঢুকে বোর্ডিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছে জানিয়ে টেক্সটের রেসপন্স করলো। ওই মুহূর্তে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলো না স্নেহা। রাগে ফেটে পড়লো। এক ঘণ্টা যাবত ও বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে ভিজতেছে আবিরকে একবার দূর থেকে দেখার আশায়, আর ও টার্মিনালে ঢুকার আগে একবার জানানোর প্রয়োজনও মনে করলো না! এক ঘণ্টা আগে পাঠানো টেক্সট ও নিশ্চয় তখন দেখে নাই, স্নেহা ভাবতে থাকে! ইচ্ছা করেই এয়ারপোর্টে ঢুকে যাওয়ার পর উত্তর দিছে। রাগে, অপমানে, জেদে, অভিমানে ওর চোখ দিয়ে পানি পড়া শুরু হলো। আবিরের কাছে ও কখনোই কিছু চায় নাই। কখনো যদি খুব সামান্য কিছু চেয়েও ফেলে, সেটাও ও দিতে পারে না বা দেওয়ার চেষ্টাটাও জোর দিয়ে করে না- এমনটাই তখন স্নেহার মনে হতে থাকে। 

একদিকে ও ড্রাঙ্ক, আরেকদিকে ওই মুহূর্তে আবিরের দেওয়া ওই অ্যাব্যান্ডন ফিলিং ওকে প্রচণ্ড ট্রিগার করলো। বারবার ওর মনে হলো, ইচ্ছা করলেই আবির ভেতরে ঢোকার আগে দূর থেকে একবার দেখতে দিতে পারতোই তো চাইলে। খুব কনসাশলিই ও দেখতে দেয় নাই। প্রচণ্ড রাগে তখন স্নেহার যা মনে আসে, তাই ও টেক্সট করতে থাকে আবিরকে। অনেক আজে-বাজে কথাই আসলে লেখে। ওর ফিল হইতেছিল, আবিরের কাছে ও জাস্ট একটা ‘কিছুই না’। ওর ইচ্ছা-অনিচ্ছারাও আবিরের কাছে ওরই মতোই ‘কিছুই না’। এসব ফিলিংয়ে ভয়ংকর জেদ চাপে ওর। ও দেখা করতে টার্মিনালের ভেতরে ঢুকতেছে জানিয়ে টেক্সট করে আবিরকে। রাগে ওর মাথা কাজ করতেছিল না ঠিকমতো। ওর শুধু বারবার মনে হইতেছিল, ওদের বোধহয় আর কোনোদিন দেখা হবে না। ওই অস্থিরতায় একটার পর একটা টেক্সট ও করতেই থাকে, ওইদিকে আবির ওকে বারবার শান্ত হয়ে বাসায় যেতে বলে।

আবির ইচ্ছা করে ওকে পেইন দিছে, এমন বোধ থেকে ও নিজেকে একটা চিপ হোর মেনশন করে আবিরকে লেখে- ওই মুহূর্তে যদি ওদের দেখা না হয়, ও আবিরের ওয়াইফকে কল করবে। ওইবারই প্রথম স্নেহা এমন কথা বলছে। কেন বলছে, নিজেও জানে না। প্রচণ্ড রাগ আর জেদে ওর মাথা তখন কাজ করতেছিল না। ওই টেক্সটের উত্তরে আবির লেখে- ইউ আর অ্যা ম্যাড! ইউ হ্যাভ অলরেডি ডেসট্রয়েড মাই এভ্রিথিং! যদিও ওই ঘটনার পর বহুবার এই টেক্সটের জন্য সর‍্যি হয়ে বলার চেষ্টা করছে যে রাগের মাথায়, ড্রাঙ্ক অবস্থায় আর স্নেহা পাগলামী করতেছিল বলে ওই কথা লিখছে, মিন করে লেখে নাই। কিন্তু শেষদিন আবরারকে ও ঠিক একই রকম স্টেটমেন্ট দিয়েই বলছিল- ও নাকি ওর সব হারাইছে লাস্ট দুই বছরে। যদিও এর জন্য “কাউকে ব্লেইম করতেছে না”- এমন একটা লাইন এর পরপরই লেজ লাগিয়ে বলার ট্রাই করছে।

ওই কথা যে আবির ওকেই ইন্ডিকেট করে বলছে, এটা না বোঝার মতো গোবরে পরিপূর্ণ মাথা তো ওর না। এটা বোঝার জন্য আবিরের ওই বাক্যকে দ্বিতীয়বার ব্যবচ্ছেদ করার প্রয়োজন পড়ে না। প্রকারান্তরে তো আবির গত দুই বছরে ঘটা ওর সমস্ত খারাপ কিছুর জন্য স্নেহাকেই দায়ী করছে আসলে। ওর ড্রাঙ্ক হয়ে এক্সিডেন্টের জন্য, মোর‍্যাল টারপিটিউডের লেটার পাওয়ার জন্য, কমান্ডিং অফিসার পদ হারানোর জন্য, ফ্যামিলি ছেড়ে অন্য জায়গায় পোস্টিংয়ের আদেশের জন্য এবং শেষমেশ ওর কনজুগাল লাইফে অশান্তির জন্যও। শেষটার দায় স্নেহা কিছুটা নিতে রাজি আছে, তবে ওইখানেও ওর চেয়ে বেশি দায় আবিরের নিজেরই বোধহয় বলে ওর মনে হয়।

গত দুই বছরে আমি সব হারাইছি- আবিরের ওই কথাটা কানে বাজে ওর। স্নেহার খুব ইচ্ছা করে আবিরকে ওর এই মুহূর্তের কন্ডিশনটা স্বচক্ষে দেখিয়ে বলতে- সি…দ্যাটস হোয়াট ইউ মেড মি! সঙ্গে এই প্রশ্নটাও করতে- এক জীবনে এরচেয়ে বেশি মানুষ কী হারাতে পারে? হা হা হা! আবিরের সবকিছু ও ডেস্ট্রয় করে ফেলছে লেখা টেক্সটটা এয়ারপোর্টের বাইরে বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে পাওয়ার পর প্রচণ্ড ধাক্কা খায় ও, কষ্টও পায়। ওর বিশ্বাস হয় না আবির ওকে নিয়ে এমনটা ভাবতেছে। বুকে প্রচণ্ড একটা চাপ ফিল করতেছিল ও। কিন্তু ওর মাথায় একইসঙ্গে ভয়ানক রক্ত চাপে। কোনোকিছু না ভেবেই ও সোজা কাউন্টারে গিয়ে রাজশাহীর নেক্সট ফ্লাইটের টিকেট কাটে। কয়টার সময় ফ্লাইট, কত টাকা ফেয়্যার- কিছু নিয়ে চিন্তা করা বা বদার হওয়ার প্রয়োজন মনে হয় না ওর। ও জাস্ট ভেতর পর্যন্ত ঢুকতে একটা টিকেট চাইতেছিল। আবির কোন ফ্লাইটে যাইতেছে বা ওর ফ্লাইট কয়টায়, এর কিছুই ও জানতো না। কেনই বা ও রাজশাহীর ফ্লাইটের টিকেট কাটতে গেল, তাও জানে না। ওর তখন টার্মিনালের ভেতরে ঢুকতে হবে, এইটুকুই শুধু ওর ব্রেন ওকে বারবার সিগনাল দিয়ে যাইতেছিল।

সিকিউরিটি চেকিং পার হতেই আবির ওকে ডাকতেছে শুনতে পেল স্নেহা। ওর দিকে না তাকিয়েই গজ গজ করে ও বলতে থাকলো- কী হইছে? এখন ডাকতেছো কেন? কতবার বলছিলাম, কতবার রিকোয়েস্ট করছিলাম, একটাবার যাওয়ার সময় দেখতে দিও দূর থেকে। কথা শুনছিলা? তুমি তোমার পথে যাও। আমিও রাজশাহী যাবো। আবির ওর পেছন পেছন এসে বলে- হোয়াই ইউ আর ডুয়িং দিস? স্নেহা ওর দিকে ফিরেও তাকায় না, কোনো উত্তরও দেয় না।

কাকতালীয়ভাবে একই ফ্লাইটেরই টিকেট কাটছিল স্নেহা। আবির আগেই বোর্ডিং ক্রস করে চলে যায়। ও একটু পর এয়ারলাইন্সের শাটল বাসে উঠতে গিয়ে দেখে আবির বসে আছে। ওকে দেখে আবির পাশে বসতে ডাকে। ও তখনও গজ গজ করতে করতে পাশে গিয়ে বসে। ফ্লাইটে উঠে স্নেহা নিজের সিটে গিয়ে চুপচাপ বসে। আবির ওর পাশের সিটে বসা ভদ্রলোককে রিকোয়েস্ট করে স্নেহার সিটে পাঠালে ও উঠে এসে ওর পাশে। এরপর পুরা ৫০ মিনিট ও নানা উপায়ে, নানা কিছু বলে স্নেহার রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করলেও সুবিধা করতে পারলো না। যখনই ও কথা বলার ট্রাই করতেছিল, ও কেন টার্মিনালে ঢোকার আগে একবার ওকে দেখতে দিলো না, ওই রাগে স্নেহার মুখে যা আসতেছিল, ও বলে যাইতেছিল। আবির যে হেল্পলেস ফিল করতেছিল ওই কন্ডিশনে, স্নেহা ওইটাও বুঝতে পারতেছিল। তবুও ওর রাগ কমতেছিল না কোন্মোভাবে। আবির কয়েকবার ওর হাতটা ধরতে চাইলে ও বারবারই ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে ফেলতেছিল জেদে।

স্নেহা এত সেন্সেটিভ যে ওকে ডিল করা যায় না- আবিরের এমন আক্ষেপ বা অভিযোগ ছিল শেষ দিকে। স্নেহা সেন্সেটিভ, এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নাই। আবিরের ক্ষেত্রে বরং ও সুপার সেন্সেটিভ। কিছু হলেই ওর মনে হতো- সবাই যা খুশি বলুক বা করুক, আবির কেন ওর সঙ্গে এটা করবে! অথবা দুনিয়ার আর কেউ এটা-ওটা না করলেও কিছু যায় আসে না, আবির কেন করলো না। আবির কেন এটা বললো, আবির কেন ওইটা বললো না। আবির কেন এভাবে না বলে ওইভাবে বললো! আহারে! অভিমানে একটা ছোট্ট বাচ্চার মতো গাল ফুলিয়ে কত অভিযোগ ছিল আবিরের প্রতি ওর। আবির ছিল ওর গোটা পৃথিবী। ওই পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই ও বেঁচে থাকার রসদ জোগাড় করতো। কিন্তু আবিরের মতো মানুষদের এসব বোঝার মতো হৃদয় কিংবা বোধ-অনুভূতি নাই সম্ভবত। ওরা বোধহয় ‘ট্রমা বন্ডিং’ এর মতো কোনো একটা ক্লিনিক্যাল টার্মে ব্যাপারটাকে ফেলতে পারলে মুক্ত হওয়ার পথ খুঁজে নিতে পারে সহজে; তাও আবার সাক্ষী-সবুদ রেখে- স্নেহার এমনই মনে হয় এখন!

রাজশাহীতে ফ্লাইট ল্যান্ড করার পর আবির স্নেহাকে বলে- আই হ্যাভ টু গো। মাই কার ইজ ওয়েটিং। স্নেহার রাগ তখনও কমে নাই। ও জোরে জোরেই বলে, আপনাকে কেউ আটকে রাখে নাই। যান। জাস্ট গো! আবির নেমে কয়েক মিনিট দাঁড়ায়। ওর পাশ দিয়ে হেঁটেই স্নেহা এয়ারপোর্টের উল্টা পাশের টিকেট কাউন্টারে চলে যায়। ঢাকায় ফেরার নেক্সট ফ্লাইটের টিকেট কেটে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ফিরে এসে আবিরকে কোথাও আর দেখতে পায় না। নেক্সট ফ্লাইটের জন্য ৪০ মিনিট ওইখানে বসে থাকার পুরাটা সময়ই ওর চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে। ফ্লাইটে উঠার পর ঢাকায় পৌঁছানো পর্যন্ত ৫০ মিনিট, এয়ারপোর্ট থেকে বাসায় ফেরার আগ পর্যন্ত- পুরাটা সময়ই ও কেঁদে গেছে। কান্না থামাতে পারতেছিল না কোনোভাবেই।

ওইদিনের ওই সিন ক্রিয়েটটা আবির শেষদিন পর্যন্ত শুধু মনেই রাখে নাই, টুলস হিসাবে ইউজ করতে কয়েকবার মেনশনও করছে। এই রকম আরো কিছু ইনসিডেন্ট ঘটছিল যেগুলা আবির মনে রাখছে। একবার স্নেহা আবিরের মেয়ের জন্য সামান্য কিছু শপিং করতে গিয়ে বিল দেওয়ার সময় ওর ক্রেডিট কার্ড নিয়ে টানাটানি শুরু করলো আবির। বিল দিতে দেবে না। অথচ ওইখানে যাওয়ার আগে স্নেহা বারবার ওকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলছে, বিদায়ের মুহূর্তটা নষ্ট হয়, এমন কিছু না করতে। বিলের প্রসঙ্গেও যাওয়ার আগেই ওদের সমঝোতা হইছিল যে স্নেহাই বিলটা দেবে। খুব বড় কিছু তো না, সামান্য কিছুই মেয়েটাকে নিজের পছন্দে দিতে চাইছিল ও।

ওইদিন ২৬ এপ্রিল ছিল আবিরের মেয়ের জন্মদিন, সকালে দেখা করতে এসে স্নেহাকে ও জানায়। তখনই স্নেহা ওকে কিছু কিনে দেওয়ার ইচ্ছা জানালে প্রথমে রাজি হয় না আবির। স্নেহার বারবার রিকোয়েস্টে পরে রাজি হলে ওরা আড়ংয়ে যায়। কিন্তু বেছে বেছে পছন্দ করে কিছু কাপড় নিয়ে যখন স্নেহা ক্যাশ কাউন্টারে বিল দিতে গেল, আবির তখনই আবার তাল-বাহানা শুরু করে দেয়। মেজাজ খারাপ হলেও স্নেহা প্রথমে খুব ঠান্ডা মাথায় আবিরকে ওই রকম করতে না করে। একদিকে ওকে কিছুক্ষণ পরই ঢাকায় ব্যাক করতে হবে; অন্যদিকে আবিরের ফ্যামিলি পরদিন রাজশাহী মুভ করতেছে। ওদের আবার কবে দেখা হবে, সেই অনিশ্চিয়তায় স্নেহার মন খারাপ হইতেছিল। ওইখানে যাওয়ার আগে, হোটেলের নিচে গাড়িতে বসে ইচ্ছামতো আবির হুইস্কি গিলছিল এবং নো ওয়ান্ডার যথারীতি নানা আজাইরা কথা বলে স্নেহার মেজাজও কিছুটা খারাপ করে দিছিল। এইসবের মধ্যে আবার এতকিছু বুঝিয়ে যাওয়ার পরও ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে ও এক হাত দিয়ে স্নেহার ক্রেডিট কার্ড হোল্ডার ধরে রাখছে, আরেক হাত দিয়ে স্নেহাকে। বিল দিতে দেবে না। কাউন্টারে থাকা ক্যাশিয়ারকে বলতেছিল, ম্যাডামের কাছ থেকে বিল নিলে আপনাকে আমি গুলি করবো! স্নেহা মেজাজ হারাতে থাকলেও শান্ত স্বরে কয়েকবার বলে- ছাড়ো, ব্যথা লাগতেছে। বাট লাভ হয় না কোনো।

চড়-থাপ্পড় মারার সময় অথবা জোরজবরদস্তির মুহূর্তে নিজের ব্যাকগ্রাউন্ড আর সামনের মানুষের ক্যাপাবিলিটি সম্পর্কে আবিরের হুঁশ থাকে না বোধহয়। ওইটা কয়েকবার ওর ঢাই কিলোর হাত নিজের গাল পড়ার পর স্নেহা টের পাইছে। ওই সময়গুলাতে স্নেহার দামিনী সিনেমায় সানি দেউলের বলা- “ইয়ে ঢাই কিলো কা হাত, জব উঠতা হ্যায় না, তো আদমি উঠতা নহি, উঠ যাতা হ্যায়” কথা মনে পড়ছে বারবার! হিজ এক্সিলেন্সির ঢাই কিলো হাত প্রথমবার ওর গালে পড়ার পর স্নেহা একেবারে উপরে উঠে না গেলেও মিনিমাম দুই সপ্তাহ চোয়াল নাড়াতে পারে নাই। পরেরবারের গুলা যদিও কিছুটা সহনশীল ছিল, অথবা সহনশীল হয়ে উঠছিল। আবিরের ঢাই কিলো হাত ওর গাল পর্যন্ত আসা নিয়ে স্নেহার কোনো রাগ-জেদ-খেদ-ক্ষোভ কিচ্ছু নাই। না থাকার যৌক্তিক কারণও আছে। শুধুমাত্র ২৮ জানুয়ারি মধ্যরাতে বনানীর রাস্তায় বসে থাকার সময়েরটা নিয়ে ওর সামান্য কথা আছে; রাগ, জেদ, অভিমানও। এখন যদিও কোনোকিছু থাকা না থাকা একই সমান। কোনো ভ্যালু ক্রিয়েট করে না কোনোটাই। হিজ এক্সিলেন্সি এখন এইসবের ঊর্ধ্বে, স্নেহা ভাবে।

ওইদিন ক্যাশ কাউন্টারে অনেকক্ষণ ধস্তাধস্তির একটা পর্যায়ে স্নেহার মেজাজ ভয়ংকর খারাপ হয়। ক্রেডিট কার্ড হোল্ডারটা মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ও সোজা বের হয়ে হাঁটা শুরু করে। দুপুর দেড়টার প্রখর রোদে ওর শরীরের যেখানেই সূর্যের আলো পড়তেছিল, রীতিমতো জ্বলে যাইতেছিল। ওইটা ইগনোর করে ও সোজা হাঁঁটতেই থাকে। আবির ওইখান থেকে বের হয়ে ওকে না পেয়ে কল দিতে থাকে ক্রমাগত। স্নেহা তখন এতটাই বিরক্ত, রাগে ও আধা ঘণ্টা ফোনও ধরে না, টেক্সটের রিপ্লাইও দেয় না। হাঁটতে হাঁটতে ঘেমে ক্লান্ত হয়ে রাস্তার এক পাশের ফুটপাতে এক সময় ও বসে পড়ে। বেচারা আবিরও ওইদিন রোদে পুড়ে পুরা লাল হয়ে গেছিল, স্নেহা ফিরে গিয়ে দেখে। ওর শরীরটাও খারাপ করছিলো ওই সময়। স্নেহা ফেরার পর ও গাড়ির পেছনের সিটে গিয়ে অনেকক্ষণ ওর পায়ে মাথা রেখে শুয়ে থাকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ওরা একসঙ্গেই থাকে। ওইবারই সম্ভবত আবির স্নেহাকে প্রথমবার এয়ারপোর্টে নামিয়ে দিয়ে আসে। এয়ারপোর্টের বাইরের পার্কিংয়ে গাড়িতে বসে অনেকদিন দেখা না হওয়ার আশঙ্কায় কাঁদতে থাকে দুইজনই।

আরেকবার রাজশাহীর এক রাস্তার স্নেহা বেশ চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল। আবির বারবার ওকে রাস্তা থেকে গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করলে ও ওকে থাপ্পড় মেরে বসে। ওই ঘটনায় দেখার উদ্দেশ্যে ওইখানে বেশ কিছু মানুষ জড়ো হয়ে যায়। বিনা পয়সায় সিনেমা দেখার সুযোগ কেউ মিস করবে না, এটাই খুব স্বাভাবিক। যার রাগ উঠে, সেও সময় আর জায়গাভেদে মডারেট করে তা দেখাতে পারার ক্ষমতা সবসময় রাখে না, এটাও স্বাভাবিকতাই। বিশেষ করে রাগটা যদি কেউ নিজের ক্রমাগত বোকাচোদার মতো কাজের কারণে উঠায় এবং একই কাজই বারবার রিপিট করতে থাকে! এই ইনসিডেন্টগুলার একটাও আবির ভুলে নাই, মনে রেখে দিছে শেষদিন পর্যন্ত। তবে এই ইনসিডেন্টগুলায় স্নেহার রিয়্যাকশনের আগে ও ঠিক কী কী করছিল, সেটা ডেলিব্যারেটলি ভুলে গেছে অথবা ভুলে যেতে চাইছে।

একইভাবে, ড্রাঙ্ক থাকলে ও কখন কী করছে বা বলছে; কয়বার রাত নাই, দুপুর নাই স্নেহাকে অচেনা শহরের রাস্তার এইখানে-সেইখানে হুট করে নামিয়ে দিয়ে চলে গেছে, স্নেয়া কীভাবে যাবে বা ঠিকমতো গেল কি না দেখতে ফিরেও তাকায় নাই- এইগুলা ওর খুব প্রকৃতিস্ত সুস্থ মানুষের আচরণ ছিল!!! স্নেহা ওর এইসব নরমাল বিহেভিয়রগুলা ওকে সোবার অবস্থায় মনে করাতে যায় নাই বারবার, অথবা ইন্টিমেট মোমেন্টে ওর বিভিন্ন সময়ে বলা বিভিন্ন কথার কোনোকিছুই ও বিব্রত হবে ভেবে বলে নাই কখনো। এসবকে ওর বিরুদ্ধে টুলস হিসেবে ইউজ করা তো বহু দূরের কথা! এমন কী শেষদিনও যখন আবির ওকে ইন্ডিকেট করে ওর জীবনে শোনা জগতের সব থেকে নোংরা একিউজগুলা করতেছিল, তখনও স্নেহা এসব নিয়ে একটাও কথা বলে নাই, খুব কনসাশলিই বরং ও কথা না বলাটাকেই বেছে নিছিল।

স্নেহা মনে করার চেষ্টা করে; নিজের ইনসেন আচরণগুলাকে ও জাস্টিফাই করার চেষ্টা করছে বা ওইসব নিয়ে খুব প্রাউড ফিল করছে- এমন তো না। মাথা ঠান্ডা হওয়ার পর সবসময়ই ওইসবের জন্য বরং ও লজ্জাই পাইছে। অনুশোচনাতেও ভুগছে। প্রতিবারই সর‍্যি হইছে। আবিরের মতো উঠতে-বসতে সর‍্যি হওয়ার মতো না। মদের নেশা কাটলে ওর সর‍্যির বন্যায় ভাসতে হতো প্রতিবারই। লাভ তাতে কিছুই হতো না, আবারও একই আচরণই ও রিপিট করছে বারবার, প্রতিবার। স্নেহাও নিজের ইনসেন আচরণ বারবার কন্ট্রোল করতে চেয়েও শেষদিকে কন্ট্রোল হারাইছে বারবার। ট্রিগারড হওয়ার ওই মুহূর্তগুলায় নিজের রাগ কন্ট্রোল করা ওর জন্য মুশকিল হয়ে যাইতেছিল। ওই আচরণগুলার শুরু এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে। জাস্টিফিকেশনের জন্য চাইলে কিছু হিসাব স্নেহা ক্যালকুলেট করে এর প্রত্যেকটার পেছনের কারণ দেখাতে পারতো, অন্তত শেষদিন যখন আবির আবোল-তাবোল বকে যাইতেছিল, ওই সময়টাতেই না হয়। কিন্তু তাতে কী-ই বা হতো? আবিরের বাকওয়াজগুলা বরং আরেকটু দীর্ঘায়িত হতো, স্নেহাকে আরেকটু কুৎসিতভাবে ও অপমান করতো।

স্নেহা এখন বিশ্বাস করে, ওইদিন আবির কিছু শুনতে বা মানতে কাপল সেশনের বায়না করে নাই। ও প্ল্যান করেই কথা বলতে আসছিল। নিজেকে ডিফেন্ড করার জন্য যা যা বলা দরকার, সমস্ত কিছু তোতা পাখির মতো মুখস্ত করে এসে বলছেও। স্নেহা ওকে ওই সুযোগটা দিতে চাইছে। তবে ওই বাকওয়াজগুলা না করলেও ওর কাঙ্ক্ষিত ক্লোজারটা আবির ওইদিন এমনিতেই টানতে পারতো। আলতু-ফালতু কথা বলে ও হয়তো ওইদিন প্রতিশোধ নেওয়ার তৃপ্তি ফিল করতে চাইছে কি না কে জানে। সেটা হলে ভালো, পানির ট্যাপটা বন্ধ করতে গিয়ে স্নেহা ভাবে। ও তো আবিরকে তৃপ্ত দেখতেই চাইছে সবখানে, সবসময়, সমস্ত সিচ্যুয়েশনেই। যতক্ষণ সময় আবির ওর পাশে ছিল, ওইভাবেই তো ওকে স্নেহা রাখার চেষ্টা করছিল।

কাশিটা আবার শুরু হইছে। এবার আর আগের মতো দুর্বল না। কিছুটা শক্তি সঞ্চার করে বুকের মধ্যে বিশাল এক ধাক্কা দিয়ে সজোরেই বের হইতেছে। একবার…দুইবার…কিছুটা দীর্ঘ সময় নেবে বোধহয়। কাশির দমকে আসা থুথুর দলা ফেলতে গিয়ে আবার টাটকা রক্তের দলার সঙ্গে মোলাকাত। চোখটাও সহনশীল হয়ে উঠতেছে রক্তের এইসব কারবারে! মাথারটা মুখে আসলো, না বুকেরটা? স্নেহা কনফিউজড হয়ে হাসার চেষ্টা করে।

লর্ডের লায়াবিলিটি শেষ হওয়ার পর অনেকক্ষণ ব্লু টুথ স্পিকারের গানে মনোযোগ ছিল না ওর। কানটা ওইদিকে দিতে গিয়ে মনে পড়লো, প্রায় আড়াই বছর হয় সিগারেট ছাড়ছে। আবিরের ইনফ্লুয়েন্সেই ছাড়তে পারছিল। সিগারেটের স্মেলও এখন আর ও সহ্য করতে পারে না। এই রক্তারক্তি অবস্থায় বাথরুমের ফ্লোরে হেলান দিয়ে বসে বহুদিন পর ওর একটা সিগারেট ঠোঁটে ঝুলিয়ে রাখতে ইচ্ছা করলো খুব। যদিও এর কোনো উপায় বা সুযোগ এখন নাই। পারফেক্ট! জাজ-ব্লুজের মিউজিক ভেসে আসতে শুনতে পাইতেছে ও। দৃশ্যত এই পুরা ফ্ল্যাটের কোনো আনাচে-কানাচে সিগারেটের অস্তিত্ব না থাকলেও ইমাজিন করতে দোষ নাই তো কোনো। রক্ত আর পানিতে লেপ্টে থাকা ভেজা শরীরটাকে নিয়ে ও মাথার পেছন দিকটা দেয়ালে ঠেকালো। চোখ বন্ধ করে, ঠোঁটের কোনায় মার্লবোরো গোল্ডের ফিল নিতে নিতে বিলি হলিডের গান শোনা শুরু করলো খুব আয়েশি ভঙ্গীতে -

গ্লুমি ইজ সানডে
উইদ শ্যাডোস আই স্পেন্ড ইট অল
মাই হার্ট অ্যান্ড আই
হ্যাভ ডিসাইডেড টু এন্ড ইট অল

সুন দেয়্যার উইল বি ক্যান্ডেলস
অ্যান্ড প্রেয়ারস দ্যাট আর সেড আই নো
লেট দেম নট উইপ
লেট দেম নো দ্যাট আই’ম গ্ল্যাড টু গো

ডেথ ইজ নো ড্রিম
ফর ইন ডেথ আই’ম কারেসিন ইউ
উইদ দ্য লাস্ট ব্রিথ অফ মাই সৌল
আই উইল বি ব্লেজিং ইউ…

শরীরে হালকা কাঁপুনি শুরু হইছে। বাথরুম থেকে আর ঠিক কতক্ষণ পর বের হতে পারবে, এর একটা আগাম ভবিষ্যত বাণী পেলে সুবিধা হতো বলে মনে হইতেছে ওর। কিন্তু সেটা যেহেতু হইতেছে না, আপাতত বিলির সঙ্গে চিৎকার করে গানটা তো গাওয়া যেতে পারতো। এইখানেও প্রতিবন্ধকতা! বুকের খাঁচা আপাতত তা পারমিট করতেছে না। কী আর করার! অদৃশ্য সিগারেটে একটা লম্বা টান দিয়ে গুন গুন করেই সুর মেলাতে থাকলো-

ড্রিমিং, আই ওয়াজ অনলি ড্রিমিং
আই ওয়েক অ্যান্ড আই ফাইন্ড ইউ অ্যাস্লিপ
ইন দ্য ডিপ অফ মাই হার্ট হেয়্যার
ডার্লিং, আই হোপ
দ্যাট মাই ড্রিম নেভার হন্টেড ইউ
মাই হার্ট ইজ টেলিং ইউ
হাউ মাচ আই ওয়ান্টেড ইউ…


চেজিং দ্য ড্রাগন: ডায়িং ইজ অ্যান আর্ট

Comments

    Please login to post comment. Login