Posts

নন ফিকশন

ভয়ংকর নির্জন রাস্তা

April 12, 2026

Md Josam

Original Author MD samim sikdar

Translated by MD Shamim sikdar

8
View

প্রিয় দর্শক, গল্প শুরু করার আগে আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন, যাতে আপনি সবসময় নতুন গল্প ও খবর পেতে পারেন! চলুন, তাহলে শুরু করা যাক আজকের গল্প!”

ইউটিউব চ্যা সাবস্ক্রাইব করুন, এবং 10 হাজার টাকা জিতুন, চ্যানেলের ভিডিও তে কমেন্ট করুন, আমরা 3 জন বিজয়ী বেছে নেব।

https://youtube.com/@mrtempestis-q7f?si=g3B45DE2WFSjYpOi

নির্জন রাস্তা
রাত তখন প্রায় ১টা।
আকাশে চাঁদ নেই, শুধু কালো মেঘ। বাতাস থেমে আছে। এমন নিস্তব্ধতা—মনে হয় পৃথিবী থেকে সব শব্দ মুছে গেছে।
শহরের শেষ মাথায় একটা রাস্তা আছে—লম্বা, সরু, দুই পাশে পুরোনো গাছ। গাছের ডালগুলো এত নিচু হয়ে এসেছে, যেন রাস্তার ওপর একটা অন্ধকার সুড়ঙ্গ তৈরি করেছে। লোকজন একে বলে—নির্জন রাস্তা।
রুবেল ভুল করে এই রাস্তায় ঢুকে পড়েছিল।
প্রথমে সে কিছুই বুঝতে পারেনি। রাস্তা তো রাস্তার মতোই। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার বুকের ভেতর একটা অস্বস্তি জমতে শুরু করল।
হাওয়া নেই।
একদম নেই।
তবুও গাছের পাতাগুলো ধীরে ধীরে নড়ছে। যেন কেউ অদৃশ্যভাবে স্পর্শ করছে।
রুবেল হাঁটা থামাল।
তার পায়ের শব্দ ছাড়া আর কিছু নেই।
তারপর—
সে বুঝতে পারল, সে একা হাঁটছে না।
তার পায়ের শব্দের সাথে আরেকটা শব্দ মিশে গেছে।
একই তাল…
একই ছন্দ…
কিন্তু সেটা তার পায়ের না।
সে থেমে গেল।
শব্দটাও থেমে গেল।
সে আবার হাঁটল—
আবার সেই শব্দ।
এইবার একটু দ্রুত।
রুবেল ধীরে ধীরে পিছনে তাকাল।
কেউ নেই।
শুধু রাস্তা।
লম্বা, ফাঁকা, অন্ধকারে ডুবে থাকা।
সে নিজেকে বোঝাল—মনের ভুল।
তারপর আবার হাঁটা শুরু করল।
কিছু দূর যেতেই সে দেখল রাস্তার পাশে একটা গাছের নিচে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।
একটা মানুষের মতো অবয়ব।
মাথা নিচু।
চুল মুখ ঢেকে রেখেছে।
রুবেল একটু থামল।
“এই…?”
কোনো উত্তর নেই।
সে একটু কাছে গেল।
অবয়বটা নড়ল না।
কিন্তু হঠাৎ—মাটিতে কিছু একটা পড়ার শব্দ হলো।
রুবেল নিচে তাকাল।
মাটিতে ভেজা দাগ।
পায়ের ছাপ।
গাছের নিচ থেকে শুরু হয়েছে…
আর সোজা তার দিকে আসছে।
ধীরে ধীরে।
একটা… একটা করে।
কিন্তু অবয়বটা তো নড়ছে না।
তাহলে পায়ের ছাপগুলো কিভাবে এগোচ্ছে?
রুবেলের গলা শুকিয়ে গেল।
সে এক পা পিছাল।
ঠিক তখন—
অবয়বটা ধীরে ধীরে মাথা তুলল।
চোখ নেই।
শুধু ফাঁকা গর্ত।
আর সেই গর্তের ভেতর যেন কিছু নড়ছে।
রুবেল পিছিয়ে যেতে লাগল।
তারপর ঘুরে দৌড় দিল।
সে দৌড়াচ্ছে।
পেছনে তাকানোর সাহস নেই।
কিন্তু সে শুনতে পাচ্ছে—
কেউ দৌড়াচ্ছে।
তার থেকেও দ্রুত।
মাটি ঘষে ঘষে।
কখনো মনে হচ্ছে চার হাত-পায়ে।
কখনো মনে হচ্ছে অনেকগুলো পা একসাথে।
হঠাৎ সে থেমে গেল।
সামনে একটা অদ্ভুত জিনিস।
রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে—
একটা দরজা।
কোনো দেয়াল নেই।
কিছু নেই।
শুধু একটা পুরোনো কাঠের দরজা।
অর্ধেক খোলা।
ভেতর থেকে কালো অন্ধকার বের হচ্ছে।
রুবেল হাঁপাতে হাঁপাতে দরজার সামনে দাঁড়াল।
পেছনের শব্দটা থেমে গেছে।
পুরো নীরবতা।
সে ধীরে ধীরে দরজার ভেতর তাকাল।
কিছুই দেখা যায় না।
কিন্তু মনে হচ্ছে—
ভেতরে কেউ আছে।
অনেকগুলো।
চুপচাপ দাঁড়িয়ে।
তার দিকে তাকিয়ে।
হঠাৎ—
দরজাটা নিজে থেকেই পুরো খুলে গেল।
ভেতর থেকে ঠান্ডা বাতাস বের হলো।
তার সাথে—
একসাথে অনেকগুলো ফিসফিস কণ্ঠ—
“ভিতরে আয়…”
রুবেল পিছিয়ে গেল।
তার পা কাঁপছে।
ঠিক তখন—
তার পেছনে কিছু একটা নড়ল।
সে ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল।
পুরো রাস্তা ভরে গেছে অবয়বে।
একটা… দুইটা… অসংখ্য।
সবাই একইভাবে দাঁড়িয়ে।
মাথা নিচু।
তারপর একসাথে—
সবাই মাথা তুলল।
সবাইয়ের চোখ ফাঁকা।
সবাইয়ের মুখে একই হাসি।
ধীরে ধীরে তারা এগোতে লাগল।
রুবেল দৌড়াতে গেল—
কিন্তু তার পা নড়ছে না।
মাটির নিচ থেকে কিছু একটা তার পা জড়িয়ে ধরেছে।
ঠান্ডা, ভেজা, পচা হাত।
একটা না—
অনেকগুলো।
ধীরে ধীরে তাকে নিচে টানছে।
সে চিৎকার করার চেষ্টা করল—
কিন্তু তার গলা থেকে কোনো শব্দ বের হলো না।
তার সামনে দরজাটা এখনো খোলা।
ভেতর থেকে অন্ধকার যেন নড়ছে।
হঠাৎ—
অবয়বগুলোর ভেতর থেকে একজন সামনে এলো।
রুবেল তাকিয়ে জমে গেল।
ওটা—
সে নিজেই।
একই মুখ।
একই শরীর।
কিন্তু চোখ ফাঁকা।
ওটা ধীরে ধীরে মাথা কাত করল।
হাসল।
তারপর ফিসফিস করে বলল—
“এখন তুই এখানে থাকবি…”
রুবেলের শরীর ধীরে ধীরে মাটির ভেতরে ঢুকে যেতে লাগল।
শেষবার সে দেখল—
তার নিজের মতো দেখতে জিনিসটা দাঁড়িয়ে আছে।
রাস্তার ওপর।
চুপচাপ।
অপেক্ষা করছে।
রাত আরও গভীর হলো।
নির্জন রাস্তা আবার ফাঁকা হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর—
গাছের পাতাগুলো আবার নড়তে শুরু করল।
কেউ নেই।
কিন্তু মনে হয়—
কেউ আছে।
সবসময়।
শেষ।

Comments

    Please login to post comment. Login