প্রিয় দর্শক, গল্প শুরু করার আগে আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন, যাতে আপনি সবসময় নতুন গল্প ও খবর পেতে পারেন! চলুন, তাহলে শুরু করা যাক আজকের গল্প!”
ইউটিউব চ্যা সাবস্ক্রাইব করুন, এবং 10 হাজার টাকা জিতুন, চ্যানেলের ভিডিও তে কমেন্ট করুন, আমরা 3 জন বিজয়ী বেছে নেব।
https://youtube.com/@mrtempestis-q7f?si=g3B45DE2WFSjYpOi

প্রেম কাহিনী
শহরের ভিড়ের মাঝেও কিছু গল্প একদম নীরবে জন্ম নেয়। তেমনই এক গল্প ছিল রিয়াদ আর মেহরিনের।
রিয়াদ ছিল সাধারণ একটা ছেলে। কলেজে পড়ে, খুব বেশি বন্ধু নেই, নিজের মতো থাকতেই ভালোবাসে। আর মেহরিন—একদম উল্টো। হাসিখুশি, প্রাণবন্ত, যার হাসি শুনলেই মনে হতো সব দুঃখ যেন মুছে যায়।
তাদের প্রথম দেখা হয় এক বৃষ্টিভেজা বিকেলে।
কলেজ ছুটি হয়ে গেছে। সবাই ছুটছে বাড়ির দিকে। হঠাৎ বৃষ্টি নামলো ঝুম করে। রিয়াদ দাঁড়িয়ে ছিল একটা দোকানের সামনে। তখনই পাশে এসে দাঁড়ালো মেহরিন।
“আপনি কি একটু সরে দাঁড়াবেন? ভিজে যাচ্ছি,” মেয়েটা হেসে বললো।
রিয়াদ একটু অপ্রস্তুত হয়ে জায়গা করে দিল।
সেই প্রথম কথা।
তারপর… ধীরে ধীরে কথা বাড়লো।
ক্লাসে দেখা, ক্যান্টিনে বসা, নোট শেয়ার করা—সবকিছু যেন অজান্তেই একটা অভ্যাস হয়ে গেল।
রিয়াদ বুঝতে পারলো, সে বদলে যাচ্ছে।
আর মেহরিন… সে তো আগেই বদলে ফেলেছিল তার পৃথিবী।
একদিন মেহরিন হঠাৎ বললো—
“তুমি এত চুপচাপ কেন?”
রিয়াদ একটু হেসে বললো—
“কারণ তুমি বেশি কথা বলো।”
“তাহলে আমি না থাকলে?”
“তাহলে হয়তো… আমি একদম চুপ হয়ে যাবো।”
মেহরিন সেদিন কিছু বলেনি। শুধু তাকিয়ে ছিল।
সেদিনের পর থেকেই তাদের সম্পর্কটা অন্যরকম হয়ে গেল।
প্রেমের শুরু
একটা বিকেলে, লেকের পাশে বসে ছিল তারা।
মেহরিন হঠাৎ বললো—
“তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?”
রিয়াদের বুক ধক করে উঠলো।
সে ধীরে বললো—
“হ্যাঁ… অনেক।”
মেহরিন কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। তারপর হাসলো—
“আমিও।”
সেদিন থেকেই তাদের গল্পটা প্রেমের গল্প হয়ে গেল।
রাত জেগে কথা বলা, ছোট ছোট ঝগড়া, আবার মিল—সবকিছু যেন সিনেমার মতো চলছিল।
রিয়াদ ভাবতো—
“এই মেয়েটা আমার জীবন।”
ভাঙনের শুরু
কিন্তু সব গল্প একরকম থাকে না।
সময় বদলাতে লাগলো।
মেহরিনের পরিবার খুব কঠোর ছিল।
তারা এই সম্পর্ক মানতে পারছিল না।
একদিন মেহরিন বললো—
“আমার বাসায় আমাদের ব্যাপারটা জেনে গেছে…”
রিয়াদ চুপ হয়ে গেল।
“তারপর?”
“ওরা বলেছে… এই সম্পর্ক শেষ করতে হবে।”
রিয়াদের বুকটা যেন ফেটে গেল।
“তুমি কি চাও?”
মেহরিন চোখ নামিয়ে বললো—
“আমি… তোমাকে ছাড়তে চাই না।”
“তাহলে ছাড়বে না।”
“কিন্তু… সবকিছু এত সহজ না, রিয়াদ।”
দূরত্ব
ধীরে ধীরে তাদের কথা কমতে লাগলো।
আগে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হতো, এখন সেখানে “কেমন আছো” দিয়েই শেষ।
রিয়াদ বুঝতে পারছিল—
সে হারিয়ে ফেলছে তাকে।
একদিন সে মেহরিনকে দেখতে গেল।
“তুমি এভাবে দূরে চলে যাচ্ছো কেন?”
মেহরিন চোখে জল নিয়ে বললো—
“আমি চেষ্টা করছি… কিন্তু পারছি না।”
“আমার জন্য একটু লড়াই করো!”
“সব লড়াই জেতা যায় না…”
শেষ দেখা
একটা বিকেল।
ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে তাদের প্রেম শুরু হয়েছিল।
মেহরিন বললো—
“আজ শেষবারের মতো দেখা করতে এসেছি।”
রিয়াদ স্থির হয়ে গেল।
“মানে?”
“আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে…”
চারপাশটা যেন থেমে গেল।
রিয়াদ ধীরে বললো—
“তুমি রাজি?”
মেহরিন কাঁদতে কাঁদতে বললো—
“না… কিন্তু আমার কোনো উপায় নেই।”
রিয়াদের চোখে পানি চলে এলো।
“তাহলে… আমাদের সব শেষ?”
মেহরিন মাথা নেড়ে বললো—
“হ্যাঁ…”
কিছুক্ষণ তারা চুপ করে বসে রইলো।
একটা সময় মেহরিন উঠে দাঁড়ালো।
“ভালো থেকো…”
রিয়াদ কিছু বলতে পারলো না।
শুধু তাকিয়ে রইলো।
মেহরিন চলে গেল।
শেষ কথা
বৃষ্টি পড়ছিল সেদিন।
ঠিক সেই প্রথম দিনের মতো।
কিন্তু পার্থক্য একটাই—
সেদিন তারা একসাথে ছিল,
আজ… একা।
রিয়াদ বুঝলো—
সব প্রেম গল্পের শেষ সুখের হয় না।
কিছু গল্প থাকে…
যেখানে ভালোবাসা থাকে,
কিন্তু মানুষটা থাকে না।
শেষ।