মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র। হরমুজ প্রণালি অবরোধে তেল আমদানি-রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে চরম অস্থিরতা চলছে। সংকট মোকাবিলায় অনেক দেশ বিকল্প খুঁজছে। বাংলাদেশ জ্বালানিতে আমদানিনির্ভর হওয়ায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আত্মনির্ভরশীল হওয়া জরুরি। বিকল্প হিসেবে স্থানীয় লোকায়ত জ্ঞান কাজে লাগানো দরকার। জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রযুক্তির যোগসূত্রই হোক আগামী দিনের জাতীয় আন্দোলন। লোকজ কৌশল জ্বালানি নিরাপত্তাকে টেকসই করবে।
পূর্বসূরিরা স্থানীয় আবহাওয়া বুঝে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতেন। বাঁশ, কাঠ, ছন, খড়, মাটি ও চুনের মতো প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করতেন তারা। এতে গ্রীষ্মে ঘর ঠাণ্ডা ও শীতকালে উষ্ণ থাকত। এখন ইট-পাথরের দালানে বিশাল কাচের জানালা রাখা হয়। এতে সিমেন্টের ছাদ ও অপর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন তাপ ধরে রাখে। গ্রীষ্মে গরম থেকে বাঁচতে মানুষ কৃত্রিম শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের (এসি ও ফ্যান) ওপর ঝুঁকছেন। এটি বিদ্যুৎ খরচ বাড়ায় ও পরিবেশ দূষণ করে। কিন্তু লোকায়ত পদ্ধতি বিপুল জ্বালানি সাশ্রয় করে।
বর্তমানে ফসলি জমিতে সেচে বিপুল পরিমাণ ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহার করা হয়। বোরো মৌসুমে সেচে কয়েক লাখ টন ডিজেল প্রয়োজন হয়। এটি বৈদেশিক মুদ্রা ও সরকারি ভর্তুকির বোঝা তৈরি করে। ডিজেল পাম্পের খরচ সামলাতে কৃষক ঋণগ্রস্ত হয়। আগে কৃষকরা ‘দোন’, ‘সেউতি’, ‘ঘড়ি’ ও ‘চাক’ পদ্ধতিতে সেচ দিতেন। এতে শ্রম ও সময় বেশি লাগত। তবে এটা প্রাকৃতিক শক্তিনির্ভর ছিল। এখন সৌরচালিত সেচপাম্প ব্যবহার হচ্ছে। এটি সূর্যের আলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। কোনো জ্বালানি তেলের খরচ নেই। কার্বন নিঃসরণও হয় না। প্রত্যন্ত এলাকাতেও সৌর পাম্প স্থাপন করতে হবে। এতে কৃষকদের সেচ খরচ ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে যাবে। লোডশেডিংমুক্ত সেচব্যবস্থা টেকসই করবে। সৌর পাম্প বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভর জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমবে।
সোলার হোম সিস্টেম (এসএইচএস) গ্রামীণ জীবনযাত্রায় দারুণ পরিবর্তন এনেছে। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানো সময়ের ব্যাপার ছিল, সেখানে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সোলার প্যানেলে চার্জ করা ব্যাটারি দিয়ে এলইডি বাল্বের মাধ্যমে ঘর আলোকিত করা হয়। মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া যায়। রেডিও, টেলিভিশন ও ফ্যান চালানো সম্ভব। কৃষক, দিনমজুর ও ব্যবসায়ীরা কম খরচে ব্যবহার করতে পারেন। শিক্ষার্থীরা রাতে আলোতে পড়াশোনা করতে পারেন। এতে কেরোসিনসহ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে। অনেকে নারী সোলার চার্জিং স্টেশন চালিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, মসজিদ ও কমিউনিটি ক্লাবে সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। গণমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে প্রায় ৬০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপিত হয়েছে। দুই কোটি সৌরবিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছেন। জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমছে।
গ্রামীণ রান্নাঘরে এখনো গোবর, শুকনা পাতার গুঁড়ো বা খড় দিয়ে তৈরি ‘গোল চুলা’ দেখা যায়। কৃষক পরিবার গৃহপালিত পশুর গোবর ও কৃষিজ বর্জ্য জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও স্থানীয় সম্পদনির্ভর। তবে ধোঁয়ায় দূষণ হয়। রান্না সময়সাপেক্ষ। তাপের দক্ষতা কম। এই প্রথাগত রান্নাঘরের সঙ্গে বায়োগ্যাস প্রযুক্তির সংযোজন জ্বালানি ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন সহজ। গম্বুজাকৃতি ট্যাংকে গোবর বা কৃষিজ বর্জ্য পানির সঙ্গে মিশিয়ে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন করা হয়। গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নাঘরে পৌঁছায়। শিখা পরিষ্কার ও ধোঁয়াহীন। এলপিজি বা প্রাকৃতিক গ্যাসের মতোই কার্যকর। এর সুবিধা বহুমুখী। গ্রামীণ পরিবারকে আর এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হয় না। মাসে অনেক টাকা সাশ্রয় হয়। প্ল্যান্ট থেকে যে জৈব সার উৎপন্ন হয়, তা রাসায়নিক সারের চেয়ে উন্নত। জমির উর্বরতা ও ফলন বাড়ায়। বর্জ্যের সঠিক ব্যবহার মিথেন নির্গমন কমিয়ে পরিবেশ দূষণরোধ করে। ধোঁয়ায় গ্রামীণ নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ভর্তুকিতে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপিত যেতে পারে। মাত্র দুই থেকে তিনটি গরুর গোবর থেকেই রান্নার যথেষ্ট গ্যাস পাওয়া যায়। এটি জ্বালানি সাশ্রয় করে।
দেশের নদীগুলোতে একসময় পাল তোলা নৌকা ছিল। ‘পাল’ ব্যবহার করে বায়ুশক্তিতে চলত নৌকা। এটি ছিল শত বছরের নৌ-সংস্কৃতি। এটি সম্পূর্ণ নবায়নযোগ্য ও জ্বালানিনির্ভরতার বাইরে। কালের বিবর্তনে ঐতিহ্যটি বিলুপ্তির পথে। ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রলার নদীপথ দখল করেছে। এগুলো ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ও সংকটে বায়ুশক্তি ব্যবহারের বিষয় পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সংযোজনে পালের নৌকা নতুন রূপ পেতে পারে। ফয়েল বা কম্পোজিট উপকরণের হালকা ও মজবুত পাল ব্যবহার করা যায়। স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন সিস্টেম বায়ুপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে গতিপথ নির্ধারণ করবে। এটি আধুনিক জাহাজ ও ইয়টে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে সোলার বোট আরও বাস্তবসম্মত। প্যানেল লাগানো নৌকায় ব্যাটারিতে শক্তি সঞ্চিত হয়। এটি বৈদ্যুতিক মোটর চালায়। দিনে সৌরশক্তি, রাতে ব্যাটারির বিদ্যুৎ। নদীতে সূর্যের আলো প্রচুর। বিভিন্ন দেশে পরীক্ষামূলক সোলার বোট ইতোমধ্যে চলছে। এই নৌকার শব্দ কম ও ধোঁয়াহীন। এখন নদীপথের জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় ‘সোলার ও পালসহ হাইব্রিড নৌকা’ দারুণ সমাধান।
বর্তমানে শহরের বহুতল ভবনের বিশাল ছাদ কোনো কাজ ব্যবহার হয় না। ছাদগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের আদর্শ জায়গা হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। ‘রুফটপ সোলার’ ও ‘নেট মিটারিং’ শহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে। নেট মিটারিং হলো স্মার্ট বিলিং ব্যবস্থা। দিনের বেলায় প্যানেল যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে, তা প্রথমে নিজের ব্যবহারে লাগে। বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে চলে যায়। মিটার তখন পিছনের দিকে ঘোরে। রাতে বা মেঘলা দিনে গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া হয়। মাস শেষে ‘নেট’ ব্যবহারের বিল দিতে হয়। এতে গ্রাহক জাতীয় গ্রিডের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারে।
শহরে দিনের বেলায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অফিসে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকে। অনেক সময় পিক আওয়ারে সরবরাহসংকট দেখা দেয়। লোডশেডিং হয়। রুফটপ সোলার দিনের বেলা স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমায়। একে ‘পিক শেভিং’ বলে। ছাদ শুধু কাপড় শুকানোর জায়গা না। এখন তাতে মিনি পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি করতে হবে। এটি জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব।
আগের দিনে মানুষ সূর্যের আলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবনযাপন করতেন। ভোরবেলা কাজ শুরু ও সূর্যাস্তের পর বিশ্রাম করতেন। ঘরে বড় জানালা, খোলা বারান্দা ও দক্ষিণমুখী দরজা থাকত। দিনের আলো প্রতিটি কোণায় পৌঁছে যেত। কেরোসিনের বাতি প্রয়োজন হতো শুধু বিশেষ মুহূর্তে। বর্তমানে অফিস-আদালতে দিনের বেলাতেও কৃত্রিম আলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। জানালা ছোট হওয়ায় কৃত্রিম বাতি বাড়ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে অফিসারে ভেতর আলোকিত যায়। বড় জানালা, স্কাইলাইট ও হালকা রঙের দেয়াল আলো ছড়াতে সাহায্য করে। সেন্সর বসানো থাকলে পর্যাপ্ত আলোয় কৃত্রিম বাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিভে যায়। এতে বিদ্যুতের বিল বিপুল সাশ্রয় হয়।
শহরের দালান গ্রীষ্মে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসি চালালে বিদ্যুৎ খরচ ও দূষণ বাড়ে। আগে মানুষ স্থানীয় কাঁচামাল দিয়ে ঘর ঠাণ্ডা রাখার কৌশল জানতেন। মাটি, খড় ও বাঁশ ব্যবহার করা হতো। মাটির দেয়াল তাপ ধরে রাখে না। ছনের চাল বাতাস চলাচলের সুযোগ করে দেয়। উঁচু-নিচু ছাদ ও বারান্দা প্রাকৃতিক বায়ুপ্রবাহ নিশ্চিত করে। শহরের প্রেক্ষাপটে গ্রিন রুফ বা ছাদে বাগান কার্যকর পদ্ধতি। ছাদের ওপর মাটির স্তরে গাছ লাগালে তা প্রাকৃতিক ইনসুলেটর হিসেবে কাজ করে। এটি ঘরের তাপমাত্রা তিন থেকে ডিগ্রি সেলসিয়াস কমাতে পারে। মাটির বাষ্পীভবন ও উদ্ভিদের ছায়া রোদ আটকে দেয়। দেয়ালের জন্য মাটির প্লাস্টার বা চুন-বালির লেপ ব্যবহার করা যায়। বাঁশ বা কাঠের চাটাই দিয়ে ডবল সিলিং বানালে ছাদের তাপ নিচে আসতে পারে না। এসব কাঁচামাল সহজে সস্তায় পাওয়া যায়। এতে এসি ও ফ্যানের ওপর নির্ভরতা কমে। বাড়ির ছাদে বাগান করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। এটি টেকসই নগরায়ণের চমৎকার পথ।
চরাঞ্চল, হাওর ও পার্বত্য এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানো ব্যয়বহুল। এসব দুর্গম অঞ্চলের মানুষ পারস্পরিক সহযোগিতা ও কমিউনিটির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে। এই সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে সৌর মিনি-গ্রিড প্রযুক্তির মেলবন্ধন টেকসই সমাধান। এটি ছোট আকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় স্থানে সোলার প্যানেল থাকে। ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সঞ্চিত করে কয়েক শ পরিবার ও দোকানে পৌঁছে দেওয়া হয়। এটি সম্পূর্ণ সৌরনির্ভর ব্যবস্থা। চরের জন্য মিনি-গ্রিড উপযোগী। চরের ভূমি অস্থিতিশীল হওয়ায় বড় অবকাঠামো কঠিন। ছোট সোলার ফার্ম ও ব্যাটারি ব্যাংক সহজে স্থাপন করা যায়। দুর্গম এলাকায় মিনি-গ্রিড চালু হলে শিশুরা রাতে পড়তে পারে। ডিজেলের ধোঁয়া থাকে না। বিদ্যুৎ বিল অর্ধেকের কম হয়।
আগে মানুষ হেঁটে ও নৌকায় চলাচল করতেন। এতে কার্বন নির্গমন কম ছিল। এখন সড়কে অনেক পরিবহন চলে ডিজেল বা সিএনজিতে। এই খাতের জ্বালানি খরচ বেশি। এতে পরিবেশ দূষণ হয়। আধুনিক সমাধান হলো সৌরচালিত গণপরিবহন। ছাদে সোলার প্যানেল লাগানো বাস ও ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সৌর-ব্যাটারিচালিত ই-রিকশাতে রূপান্তর করলে খরচ কমবে। প্রতিটি গাড়িতে খরচ সাশ্রয় হবে। রেললাইনের পাশে সোলার প্যানেল বসিয়ে সরাসরি ট্রেন চালানো সম্ভব। এটি স্বাধীন ও দূষণমুক্ত যানবাহনের আধুনিক সংস্করণ। প্যানেল ও ব্যাটারি স্থানীয়ভাবে তৈরির উদ্যোগ নিলে বিষয়টি বাস্তবসম্মত হবে।
একসময় গ্রামীণ সমাজে পুকুর, দিঘি ও খাল ব্যবহার করে বর্ষার পানি সংরক্ষণের কৌশল ছিল। বৃষ্টির পানি জমিয়ে পুরো বছর ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে ভূগর্ভস্থ পানি অতিরিক্ত উত্তোলনে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। পাম্পের খরচ বাড়ছে। লোকায়ত পানি সংরক্ষণের সঙ্গে সৌরপাম্প যুক্ত করা প্রয়োজন। ছাদের বৃষ্টির পানি ট্যাংকে জমা করে সৌরপাম্পের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। খাল পুনঃখনন করে ধারণক্ষমতা বাড়াতে হবে। সোলার পাম্পের সাহায্যে ওই পানি জমিতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে। বিদ্যুৎ খরচ ও ফসলি জমিতে পানির ব্যয় ৪০ শতাংশ কমে আসবে।
টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য মানসিকতায় পরিবর্তন জরুরি। আগের দিনে অপচয়কে মানুষ পাপ ভাবতেন। অপ্রয়োজনে বাতি জ্বালানো বা পানি ফেলা লজ্জার কাজ ছিল। ওই মূল্যবোধই আজ আমাদের উদাহরণ। জ্বালানি সাশ্রয়কে ‘দেশপ্রেমিক কাজ’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের গ্যাস ও তেল বৈদেশিক মুদ্রায় কিনতে হয়। অপ্রয়োজনীয় এসি বা আলো জ্বালালে দেশের সম্পদ অপচয় হয়। ফ্যান বন্ধ রাখা, দিনের বেলায় বাতি নেভানো ও এসি কম ব্যবহার করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। গণমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সচেতনতামূলক কাজে লাগাতে হবে। স্কুলের পাঠ্যবইয়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের গুরুত্ব শিখানো জরুরি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অপচয় রোধের বার্তা দিতে হবে। মূল বিষয় প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া। জ্বালানি সাশ্রয়ে লোকায়ত কৌশলের আধুনিক প্রয়োগই সমাধান।