Posts

প্রবন্ধ

হেমনলিনী

April 14, 2026

কু হ ক

Original Author কুহক

10
View

হেমনলিনী বসে আছে বারান্দার দরজায়। হেমন্তের এলোমেলো বাতাসের ঝাপ্টায় ওর চুলগুলো উড়ছে ! শুষ্ক ঠোঁটে চায়ের কাপে এক চুমুক দিয়ে, উদাসীন ভাবে তাকালো বারান্দার গ্রীল ভেদ করে আকাশের দিকে। হেমন্তকালে এসে সূর্যের দাপটও কমে গেছে। নরম রোদের তেজ বাতাসের তোড়ে হারিয়ে গেছে। গাছের ফাঁকফোকর দিয়ে ঝিলমিলি খেলে যাচ্ছে। হেমনলিনী উদাসীন চোখে সেই রোদের খেলা দেখছে।

মেয়েটার চোখে এক অদ্ভূত বিষণ্ণতা লেপ্টে আছে। হাসিমুখে থাকা মানুষ সে। একলা হলেই এমন উদাসীন হয়ে পড়ে। এই সময়টাতে যেন সমস্ত অসহায়ত্ব ওর মুখে ফুটে ওঠে। কিন্তু কেউ দেখবার নেই। কাঁধে হাত রেখে নরম হাসি দিয়ে সাহস জোগাবার কেউ নেই ! যদি কেউ এসে একবার বলে উঠতো -  “দুঃখ পাস নে হেম, তোর সব দুঃখ আজ থেকে আমার !” 
সম্ভবত এই অসামান্য ভরসায় মেয়েটা কেঁদে বুক ভাসিয়ে দিত। কিন্তু ভাগ্য কী আর সইতে পারে?

চা শেষ করে হেমনলিনী বুক ভরে একটা শ্বাস নিল। উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রুগুলো মুছে ফেললো। এরপর মুখ ভর্তি হাসি নিয়ে ফিরে এলো। মেয়েটা বোধহয় দুঃখ সইতে সইতে শিখে গেছে কীভাবে চলতে হয় ! কীভাবে বুকে ব্যথা, চোখে অশ্রু আর মুখে অসহায়ত্বের ছাপ নিয়েও মানু্‌ষের সামনে হাসতে হয় ! 
 

Comments

    Please login to post comment. Login