আমি নদীকে একটা চিঠি পাঠালাম
চিঠির উত্তর এলো
নদী:
তুমি চিঠিতে লিখেছ
আমি কেন সবসময় বয়ে চলি?
কেন কোনোদিন থেমে যাই না?
কেন আমার স্রোত থেমে থাকে না?
তুমি আরও লিখেছ
আমার স্রোত নাকি তোমায় অদ্ভুতভাবে শান্ত করে।
আমার দিকে তাকিয়ে থাকলে
তোমার সব দুঃখ, কষ্ট
হঠাৎ কোথায় যেন মিলিয়ে যায়।
যখন তুমি আমার কাছে এসে
এক নিঃশ্বাসে তোমার সব একাকীত্ব বলে দাও,
আমি সেগুলো নিঃশব্দে
ভাসিয়ে নিয়ে যাই আমার স্রোতে।
“কত দূরে?”তুমি জানতে চেয়েছিলে।
আমি জানি না ঠিক কতটা দূরে,
তবে এতটাই দূরে নিয়ে যাই
যেন তোমার দুঃখগুলো
আর কোনোদিন তোমার হদিস না পায়।
তাই তো আমি থামি না।
থেমে গেলে
তোমার সব কষ্ট, সব একাকীত্ব
ফিরে আসবে আবার তোমার কাছে।
তখন তুমি আমায় দেখে
শান্তি পাবে কীভাবে?
তুমি যখন আমার দিকে তাকিয়ে
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলো,
ঠিক তখনই
আমি তোমার দিকে তাকিয়ে
মুচকি হেসে উঠি।
পৃথিবীর সমস্ত ব্যস্ততার মাঝেও
তুমি যখন আমায় তোমার মনের কথা বলো,
আমি তখন তোমার সব একাকীত্ব
স্রোতের সাথে বয়ে নিয়ে যাই
বহুদূরে… আরও বহুদূরে।
আমি যে নদী
আমায় যে ভেসে যেতেই হবে,
স্রোতে স্রোতে…
আমি যে নদী।