লেখকে সব লেখা পড়তে,
https://fictionfactory.org/contributor/4237
জিন ও ভুতের মিশ্রন
জামিল চাচার আজও দেখা নেই। যুহরের নামাজ শেষ। মসজিদের চারদিক ফিরে ফিরে দেখছে ফিরোজ। না কোথাও নেই লোকটা। কোথায় যাবে? মসজিদে না এসে বাসায় বসে থাকার লোক জামিল চাচা না। তার সন্তান সন্ততি নেই। তাই কোনোকিছুতে ব্যাস্ততাও নেই। বাসা ভাড়া তোলা আর খাওয়া। আর দিনরাত জিন ভুত নিয়ে গবেষণা। আছে একটা আজীব গবেষনাগার। নানান বোতল আর শিশিতে ভরা। অদ্ভুত গন্ধ।
ফিরোজ জামিল চাচার বাড়ির দিকে রওনা দিল। লোকটা অসুস্থ্য নয়তো? তাহলে সাওয়াব হাসিল করার এটাই সময়। ফিরোজ হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিল। ২ মিনিটের রাস্তা ।
পাশাপাশি দুইটা বাড়ি। একটা দোতলা আরেকটা ছয় তলা। দোতলাটায় জামিল চাচা থাকেন। ছয় তলাটা তার ভাড়া দেয়া। দোতলা বাড়ির ছাদ থেকে ঘন লতাগুল্মের ঝোপ ঝুলে আছে । সামনে ভাড়ি লোহার গেট। গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকতে ফিরোজের জান বেরিয়ে যাওয়ার জোগাড় হলো। গেটের কলকব্জায় যে একটু তেল দিবে সেই খেয়ালও থাকে না চাচার। ফিরোজ হাঁপাচ্ছে। খানিকটা বিরক্ত সে। এই বাড়িতে মনে হয় কলিং বেলও নেই। সে ডাক দিল।
“জামিল চাচা, আছেন বাড়িতে?”
কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না।
“বাড়িতে আছেন? জামিল চাচা।?‘
গেট খুলে গেল। কিন্তু কাউকে দেখতে পাচ্ছে না ফিরোজ। নারীকন্ঠ শোনা গেল,
‘কে ফিরোজ? তোমার চাচার যা জ্বর! আল্লাহ বাঁচায় রাখুক তাকে। কথা বলার শক্তি পর্যন্ত নাই।“
‘আসসালামু আলাইকুম, চাচি। বলেন কি?’
“ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হ্যাঁ রে বাবা। ভিতরে আসো।‘
ফিরোজ ঘরে ঢুকে সালাম দিল। কোনো উত্তর পেল না। সে দেখল মশারির ভেতরে সরলরেখার মত একটা শরীর কাঁথায় ঢাকা। ফিরোজ চেয়ার টেনে বসল। এমন সময় মশারির ভেতর থেকে সরলরেখাটা হঠাৎ হেসে উঠল।
‘হা হা হা। হা হা।‘
ফিরোজ বলল, কি হয়েছে চাচা, হাসছেন কেন?
চাচির রাগত কন্ঠ শোনা গেল, ডাক্তার দেখানোর নাম নাই। যত সব ঢঙ!
মশারির ভেতর থেকে আবার হাসি শোনা গেল।
‘হা হা হা। ওহ সরি। সালাম নিতে ভুলে গেছি। ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ফিরোজ, বিজ্ঞানীরা যে অকাট মুর্খ, সেটা কি তারা বোঝে না? তোরা নিজ গ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণী জিনকে খুঁজে পাস না। আবার মহাবিশ্বের গ্রহে গ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণী খুঁজে বেরাস। ভাব নেস?“
‘চাচা, আপনার না জ্বর। চলেন ডাক্তার দেখাই।“
“জ্বরে শরীর পুরো কাহিল। কিন্তু ব্রেইন হয়েছে ৩ গুন সচল!’
“সচল ব্রেইন দিয়ে করেন কী?’
‘জিন নিয়ে ভাবি। জিন বাস করে তিন ডাইমেনশনে। দৈর্ঘ, উচ্চতা আর সময়ের ডাইমেনশন। আর মানুষ বাস করে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা আর সময়- চার ডাইমেনশনে। ডাইমেনশন হলো একই জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন জগৎ। আরে ঘোড়া বিজ্ঞানীরা! সরি! গাধা বিজ্ঞানীরা, মহাবিশ্বের অন্য গ্রহে যদি তিন ডাইমেনশনের প্রাণী থাকে তাহলে তো তাদের দেখতে পাবি না। যেমন দেখতে পাস না নিজ গ্রহের জিনকে। কিন্তু এত ভাব কেন তোদের?’’
“চাচা, হয়েছে তো। কথা বলতে কষ্ট, তাও কথা বলছেন?”
“জ্বরের ঘোরে ভাবনা আসে অটোমেটিক। ঘুমিয়ে গেলে স্বপ্নেও নানান জিনিস দেখি।‘
‘কী দেখেন?’
“যা ভাবি তাই ভিজুয়াল দেখি! সপ্ন আর বাস্তব একাকার হয়ে গেছে আমার। স্বপ্ন আর বাস্তবতাও ভিন্ন ভিন্ন ডাইমেনশন। এই দুই ডাইমেনশনের মাঝের দেয়াল জ্বরের ভয়ানক তাপে গলে গেছে। হা হা হা। এখন আমার স্বপ্ন আর বাস্তবতা প্রায় একাকার। হা হা হা।”
ফিরোজ হঠাৎ আতঙ্কিত বোধ করছে। কারণ সে এই মাত্র নিশ্চিত হয়েছে, জামিল চাচা প্রচন্ড জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকছেন। মশারি উঠিয়ে সে চাচার শরীরে হাত দিয়ে আঁতকে উঠল। জ্বর কমপক্ষে ১০৩ ডিগ্রি। বেশিও হতে পারে। শরীর গলে যাওয়ার মত অবস্থা। খুব দ্রুত তাপ ঠান্ডা না করলে কেলেংকারি হয়ে যাবে। শিশুদের এরকম তাপমাত্রায় খিচুনি উঠে যায়। মুখ দিয়ে ফেনা ছুটে।
(ইনশা আল্লাহ চলবে…)
লেখকে সব লেখা পড়তে,