রাস্তার এক নির্জন গলির কোণে ছোট একটা চায়ের দোকান। ম্লান আলো,
পুরোনো বেঞ্চ, আর চারপাশে ভাসতে থাকা ধুলো-গন্ধ মেশা শহুরে হাওয়া।
সেখানেই সে বসে আছে একা ডান হাতে গরম দুধ চায়ের কাপ যেটা সে ধীরে ধীরে চুমুক দেয়, যেন সেই উষ্ণতা একটু হলেও দিনের ক্লান্তি কমিয়ে দেবে।
অন্য হাতে আছে জ্বলে থাকা সিগারেট, আর সেই ধোঁয়াটা তার মুখ দিয়ে বেরোয় এমনভাবে, যেন প্রতিটা ধোঁয়া তার ভেতরের চাপে আটকে থাকা দীর্ঘশ্বাসের মতো বের হয়ে আসছে।
তার চোখে জমে থাকা ক্লান্তি খুব সহজেই টের পাওয়া যায়।
চোখদুটো দূরে কোথাও তাকিয়ে থাকে, কিন্তু সে যেন কিছুই সত্যি দেখে না যেন নিজের ভেতরের ভারী চিন্তাগুলোর সাথেই লড়ছে চুপচাপ জীবনের দৌড়ঝাঁপ, দায়িত্ব, ব্যর্থতার চাপ সব মিলিয়ে তার ভেতরটা অদ্ভুতভাবে ভারী চায়ের দোকানের কোলাহল, পাশ দিয়ে যাওয়া মানুষের আওয়াজ সবই তার কাছে দূরের মতো লাগে
সে জানে সিগারেটটা তাকে কোনো ভালো দিচ্ছে না, তবুও এই মুহূর্তে সেটাকে ফেলে দেওয়ার শক্তিটুকুও তার নেই। তার নিস্তব্ধ মুখভঙ্গি দেখে মনে হয় সে আজ শুধু একটু থামতে চায়, একটু নিঃশ্বাস নিতে চায়, একটু নিজের সাথে বসে থাকতে চায়। এই গলির ছোট্ট দোকানটাই যেন তার ক্লান্ত জীবনের ক্ষণিক আশ্রয়।