Posts

গল্প

শেষ শহরের ছায়া-মানচিত্র”

April 17, 2026

Gaimar Hossan

2
View

১. হারিয়ে যাওয়া শহর
নাম ছিল “নির্ভানপুর”। পাহাড় আর নদীর মাঝখানে গড়ে ওঠা এক আধুনিক শহর। প্রযুক্তি, আলো, আর অদ্ভুত এক নিয়মে চলত সবকিছু। এখানে সূর্য ওঠার সময় ঘড়ি ঠিক করত সরকার, আর বৃষ্টি নামার অনুমতি দিত “ক্লাইমেট বোর্ড”।
কিন্তু একদিন, কোনো যুদ্ধ হয়নি, কোনো বিস্ফোরণ হয়নি—শুধু সকালবেলা মানুষ ঘুম থেকে উঠে দেখে, শহরের এক অংশ “অনুপস্থিত”।
রাস্তা আছে, কিন্তু মানুষ নেই। বিল্ডিং আছে, কিন্তু ভেতরে শূন্যতা। আর সবচেয়ে ভয়ংকর—মানুষ ভুলতে শুরু করেছে যে সেই জায়গাগুলো ছিল।
২. আয়ান ও ভুলে যাওয়া মানচিত্র
আয়ান ছিল একজন সাধারণ মানচিত্র ডিজাইনার। তার কাজ ছিল শহরের ডিজিটাল ম্যাপ আপডেট করা। কিন্তু সে লক্ষ্য করল—তার তৈরি ম্যাপে প্রতিদিন কিছু অংশ নিজে থেকেই মুছে যাচ্ছে।
প্রথমে সে ভেবেছিল এটা সফটওয়্যার সমস্যা। কিন্তু এক রাতে সে নিজে চোখে দেখে—তার কম্পিউটারের স্ক্রিনে শহরের একটা অংশ ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে, যেন কেউ ইরেজার দিয়ে মুছে দিচ্ছে।
হঠাৎ তার ফোনে একটা অচেনা মেসেজ আসে:
“যা ভুলে যাওয়া হচ্ছে, সেটাই বাস্তব থেকে মুছে যাচ্ছে।”
৩. ছায়া-মানুষ
পরের দিন আয়ান সেই “মুছে যাওয়া জায়গায়” যায়। সেখানে গিয়ে সে কাউকে দেখে না… কিন্তু অনুভব করে কেউ তাকে দেখছে।
হঠাৎ এক শিশু তার সামনে আসে। কিন্তু শিশুটির ছায়া নেই।
শিশুটি বলে: “তুমি কি আমাদের মনে রেখেছ?”
আয়ান হতভম্ব হয়ে যায়। শিশুটি আবার বলে: “আমরা সেই মানুষ, যাদের শহর ভুলে গেছে।”
৪. সত্যের কেন্দ্র
আয়ান খুঁজে বের করে শহরের পুরনো তথ্যভান্ডার—“মেমরি কোর”। সেখানে সে জানতে পারে, নির্ভানপুর তৈরি হয়েছিল একটি পরীক্ষার জন্য—মানুষের স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি না।
যদি কেউ কোনো জায়গা বা মানুষকে দীর্ঘদিন “না ভাবে”, তাহলে সেটি বাস্তব থেকেও ধীরে ধীরে মুছে যায়।
কিন্তু পরীক্ষাটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এখন শহর নিজেই ঠিক করছে কী থাকবে আর কী থাকবে না।
৫. শেষ সিদ্ধান্ত
আয়ান বুঝতে পারে—যদি সে কিছু না করে, পুরো শহর একদিন “অস্তিত্বহীন” হয়ে যাবে।
সে সিদ্ধান্ত নেয় “রিবিল্ড প্রোটোকল” চালু করবে। কিন্তু এতে একটি শর্ত আছে:
👉 শহরকে বাঁচাতে হলে, মানুষের সব ভুলে যাওয়া স্মৃতি আবার ফিরিয়ে আনতে হবে
👉 আর এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে মানুষের বর্তমান বাস্তবতার
৬. শেষ দৃশ্য
আয়ান সিস্টেম চালু করে।
হঠাৎ পুরো শহর কাঁপতে থাকে। মানুষদের মনে অচেনা স্মৃতি ফিরে আসে—হারানো রাস্তা, হারানো মানুষ, হারানো সময়।
আর ধীরে ধীরে নির্ভানপুর আবার “পুরো” হয়ে ওঠে।
কিন্তু আয়ান বুঝতে পারে, সে নিজেই এখন আর কেউ মনে রাখতে পারছে না।
শেষ মুহূর্তে সে দেখে—শিশুটি আবার আসে।
শিশুটি বলে: “তুমি আমাদের মনে রেখেছিলে… তাই আমরা বেঁচে গেলাম।”
আয়ান হাসে।
তারপর… সে ধীরে ধীরে শহরের ভিড়ে হারিয়ে যায়, যেমন গল্পগুলো হারিয়ে যায় বইয়ের পাতায়।

Comments

    Please login to post comment. Login