Posts

গল্প

স্মৃতির ধূলিকণা

April 18, 2026

কু হ ক

Original Author কুহক

35
View

শেষবারের মতো ঠিক কবে তোমার কণ্ঠস্বর শুনেছিলাম আমি ভুলে গেছি। ভুলে গেছি শেষ কবে তুমি আমার নাম ধরে ডেকেছিলে। কবে হেসেছিলে ! কবে গান গেয়েছিলে। কিংবা প্রচণ্ড আদরে বলেছিলে - আমি তোমাকে ভালোবাসি ! 
ফিঁকে হয়ে আসা ঝাপসা স্মৃতিতে আমার মনে আছে শুধু - একদিন আমরা একসাথে পূর্ণিমার চাঁদ দেখেছি। নির্জনতায় দুজনে একসাথে কাশফুলের ছোঁয়ায় অতিষ্ঠ হয়েছি। চুপচাপ ঝিম ধরা দুপুরের মুহূর্তে শরতের আকাশ দেখেছি। শেষ বিকেলে হাতে হাত রেখে হেমন্তের বাতাসে শীতের আগমনের অপেক্ষা করেছি। শীতের সন্ধ্যায় বারান্দায় বসে কাঁপা কাঁপা হাতে একই কাপে চা শেয়ার করেছি। অক্টোবরের ঝুম বৃষ্টিতে ভেজা শিউলির ঘ্রাণ সারা শরীরে মেখেছি। বকুলতলায় বসে বকুলের মালা গেঁথেছি ! 
আমার শুধু মনে আছে - একদিন চৈত্রের দুপুরে কাঠফাটা রোদে ঘুরতে গিয়ে উদ্যম জ্বরে মাথা ঘুরে পড়েছি। খিদে সহ্য করতে না পারা মানুষ তুমি, সেদিন আমায় বুকে জড়িয়ে সারাটা দিন তৃষ্ণা মুখে বসেছিলে। আমার জ্ঞান ফেরার পরে তোমার শুষ্ক মুখে কান্নাভেজা হাসি দেখে আমার বুক পুড়েছিল। তোমার কষ্ট আমার বুক ছুঁয়েছিল।

আজ আবার কত বছর, কত কাল পর তোমার চেহারা দেখলাম দূর হতে। হাসপাতালের এ মাথা হতে যখন ও মাথায় যাওয়ার জন্য পা বাড়ালাম। নজর গেল এক কেবিনের দরজার দিকে। দেখলাম তুমি কাঁদছো। বুকে তোমার ফুটফুটে সন্তানকে জড়িয়ে অশ্রুজলে ভাসিয়ে দিচ্ছো। অস্পষ্ট শব্দে শুনতে পেলাম তুমি তোমার সন্তানকে ডাকছো আকাশলীনা নাম ধরে। জানো? মুহূর্তেই আমার বুকে প্রচণ্ড কাঁপুনি দিয়ে উঠলো। ব্যথা জমে জমে এতদিন ধরে আমার বুকে যে পাহাড় গড়ে উঠেছিল তা নিমিষেই ধ্বসে পড়লো। সমস্ত ব্যথা ছড়িয়ে পড়লো আমার বুকের আনাচে-কানাচে ! আমার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করেছিল - কেন? কেন তুমি আজও এই নাম মনে রেখেছো? এই নাম তো আমি রেখেছিলাম আমাদের মেয়ের জন্য !

আমি আবারও হেরে গেলাম আজ নিজের কাছে। আমি হারালাম এতদিন ধরে যে আমিকে গড়ে তুলেছিলাম। কোথা দিয়ে সেই পুরোনো আমি হয়ে উঠলাম। তোমার দেওয়া ভালোবাসাগুলো আমায় দেখে আজ যেন উন্মাদের মতো হাসছে। আমাকে উত্যক্ত করছে। আমি সহ্য করতে পারছি না। কোনোভাবেই সহ্য হচ্ছে না। আমার মুক্তি মিলছে না। সারা দুনিয়াকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করছে - কেন? সমস্ত ব্যথার ভাগীদার আমিই কেন?

Comments

    Please login to post comment. Login