হাসমত ছিল এক সাধারণ গ্রামের ছেলে। ছোটবেলা থেকেই সবাই তাকে একটু আলাদা চোখে দেখত। কারণ, সে সবসময় অদ্ভুত অদ্ভুত স্বপ্ন দেখত।
একদিন সে বলল,
“আমি বড় হয়ে আকাশে উড়বো!”
গ্রামের সবাই হেসে উঠল। কেউ বলল, “পাখি নাকি তুই?”
কেউ আবার বলল, “হাসমত আবার উড়বে!”
কিন্তু হাসমত হাল ছাড়েনি।
সে প্রতিদিন মাঠে যেত, পাখিদের উড়া দেখত। কাগজ দিয়ে প্লেন বানাতো, আবার ভেঙে ফেলত। অনেকবার ব্যর্থ হলো, কিন্তু সে থামেনি।
একদিন শহর থেকে একজন শিক্ষক গ্রামে এলেন। তিনি দেখলেন হাসমত কিছু একটা বানানোর চেষ্টা করছে।
শিক্ষক জিজ্ঞেস করলেন,
“তুমি কি করছো?”
হাসমত লাজুকভাবে বলল,
“আমি উড়তে চাই, কিন্তু পারছি না।”
শিক্ষক হেসে বললেন,
“স্বপ্নটা ঠিক আছে, কিন্তু পথটা ঠিক করতে হবে।”
তারপর তিনি হাসমতকে পড়াশোনা শেখাতে শুরু করলেন—বিজ্ঞান, যন্ত্র, আর আকাশের গল্প।
বছর কেটে গেল।
একসময় সেই হাসমতই শহরে গিয়ে পড়াশোনা করে একজন ইঞ্জিনিয়ার হলো। আর একদিন, সে সত্যিই আকাশে উড়লো—নিজে প্লেন বানিয়ে না হলেও, নিজের স্বপ্নের জোরে।
গ্রামে ফিরে সে বলল,
“স্বপ্নকে নিয়ে হাসাহাসি করবে না, কারণ একদিন সেই স্বপ্নই তোমাকে উঁচুতে নিয়ে যাবে।”
এবার গ্রামের মানুষ আর হাসেনি। তারা গর্ব করে বলল,
“এই তো আমাদের হাসমত!”
শেষ কথা:
স্বপ্ন বড় হোক বা ছোট—যদি মন থেকে চাও, একদিন না একদিন তা সত্যি হবেই। ✨
11
View