মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী বই। প্রখ্যাত ফরাসি কবি শার্ল বোদলেয়ার বইকে ফলের বাগান, স্টোরহাউজ, সঙ্গী, পরামর্শদাতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রতিবছরের ২৩ এপ্রিল বিশ্ব বই দিবস হিসেবে পালন করা হয়। জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৫ সালে প্রথম এই দিবস উদযাপন করে। মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহিত করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২৩ এপ্রিল উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের মৃত্যুবার্ষিকী। এছাড়া এদিন আরো অনেক প্রখ্যাত লেখকের জন্ম কিংবা মৃত্যুবার্ষিকী। সুতরাং এই দিনকেই বিশ্ব বই দিবস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। বই নিয়ে অনেক বিচিত্র তথ্য রয়েছে। ফিকশন ফ্যাক্টরির পাঠকরা তাদের বইপ্রেমী বন্ধুদের সঙ্গে এসব তথ্য শেয়ার করতে পারেন।
১. গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম বই ‘দিস ইজ মোহাম্মদ’। বইটির দৈর্ঘ্য ৫ মিটার এবং প্রস্থ ৮ মিটার। ৪২৯ পৃষ্ঠার এই বইটির ওজন ১ হাজার ৫০০ কেজি। বইটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ১১ মিলিয়ন দিরহাম (১.৩২ মিলিয়ন ডলার)। ফলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল একটি বই। এটি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের ওপর আলোকপাত করে লেখা হয়েছে। বইটি লিখেছেন সৌদি লেখক আবদুল্লাহ আব্দুলআজিজ আল-মুসলিহ। এটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান করে নেওয়া প্রথম আরবী ভাষার বই।
২. বিশ্বের দীর্ঘতম শিরোনামের বইটির লেখক ভিটিয়ালা ইয়েথিন্দ্র। ‘দ্য হিস্টোরিকাল ডেভেলপমেন্ট অব দ্য হার্ট …….’ বইটির শিরোনামে ৩ হাজার ৭৭৭টি শব্দ রয়েছে। এতে অক্ষরের সংখ্যা ২৬ হাজার ২১টি। বইটি ২০১৯ সালের ২০ মার্চ প্রকাশিত হয়। মানুষের হৃৎপিণ্ড, রক্ত সংবহতন্ত্রের বর্ণনা, হার্ট অ্যাটাকের কারণ, লক্ষণ, জটিলতা, রোগ নির্ণয়, প্রতিরোধ এসব নিয়েই বইটি লেখা হয়েছে। অনেকেই হয়তো ভাবছেন, এত বড় শিরোনাম কি করে হয়? মূলত ইয়েথিন্দ্র বইয়ের শিরোনামের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতি এবং প্রশ্ন তালিকাভুক্ত করেছেন।
৩. ‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ বইটি অনেকেই হয়তো পড়েছেন। বিখ্যাত শিশুতোষ এই বইটির মূল চরিত্র অ্যালিস কিন্তু বাস্তবেও ছিল। ১০ বছর বয়সি অ্যালিস লিডেল দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই অ্যালিস চরিত্রটি সৃষ্টি করেন লুইস ক্যারল। তিনি লিডেল পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। অ্যালিসের বাবা হেনরি লিডেল ছিলেন ক্যারলের বস।
৪. বিশ্বের দীর্ঘতম উপন্যাস ‘আ লা র্যশের্শ দ্যু ত্যঁ পের্দ্যু’। ফরাসি ভাষায় বিশাল এই উপন্যাসটি লিখেছেন মার্সেল প্রুস্ত। ইংরেজিতে বইটি ‘ইন সার্চ অব লস্ট টাইম’ এবং ‘রিমেমব্রেনস অব থিংস পাস্ট’ নামে অনূদিত হয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের তথ্য অনুযায়ী এটিই বিশ্বের দীর্ঘতম উপন্যাস। ৪ হাজার ২১৫ পৃষ্ঠার এই বইটি ১৯১৩ থেকে ১৯২৭ সালের মধ্যে ৭ খন্ডে প্রকাশিত হয়।
৫. বিশ্বের প্রাচীনতম উপন্যাস রচিত হয়েছিল খ্রিষ্টীয় প্রথম শতাব্দীতে। ‘চেরিয়াস এন্ড ক্যালিরহো’ নামের উপন্যাসটি লিখেছিলেন গ্রিক লেখক চ্যারিটন। এটিকে বিশ্বের প্রাচীনতম উপন্যাস হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে উল্লেখ করেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। চেরিয়াস এন্ড ক্যালিরহো একটি রোমান্টিক উপন্যাস।
৬. ‘বুক-বসোমড’ শব্দটি স্কটিশ কবি ও উপন্যাসিক স্যার ওয়াল্টার স্কটের তৈরি। যারা সবসময় নিজেদের সঙ্গে বই রাখেন, তাদের বর্ণনা করার জন্য তিনি প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। ১৮০৫ সালে তার লেখা কবিতা ‘দ্য লে অব দ্য লাস্ট মিনস্ট্রেল’ এ ‘বুক-বসোমড’ শব্দটির প্রথম দেখা মেলে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া