Posts

চিন্তা

সব দোষ আলিয়ার? আর পার্টিজান সবাই ফেরেশতা?

April 24, 2026

ফারদিন ফেরদৌস

37
View

বিএনপির তড়িৎ রেসপন্স এবং শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণই প্রাথমিকভাবে প্রমাণ করে পার্টিজান শাহাদাত আলী গং অপরাধী। যদিও দলের অনেকেই সব দোষ নারীর ওপর ঢেলে দিয়ে আলীদেরকে সসম্মানে দলে ফিরিয়ে নিতে বলছেন। আপাদমস্তক পিতৃতান্ত্রিকতায় দীক্ষিত কেউ কেউ নারীকে উগ্রবাদী আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধেও একহাত নিচ্ছেন।

ঘটনার অন্তরালের খবর অনুসন্ধান কিংবা আগেপিছে না ভেবে মোবাইলে ধারণ করা কয়েকটা ভিডিও ক্লিপ দেখেই অনেকেই সব দোষ নারীর ওপর চাপিয়ে দিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। এমন পুরুষতান্ত্রিক আত্মপ্রসাদ এইদেশে নতুন না। অথচ কোন প্রেক্ষিতে একটি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ এবং তার সহকর্মী অপর একজন প্রদর্শককে সংঘবদ্ধ আক্রমণের মুখে রীতিমতো হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে -সেটি কেউ তলিয়ে দেখছে না।

প্রথম আলোয় পরিবেশিত সংবাদ থেকে জানা যাচ্ছে, রাজশাহীর দাউকান্দি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ও নারী শিক্ষককে (প্রদর্শক) মারধর ও কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলাকারীরা নারী প্রদর্শককে মারধর করে চুল ধরে বাইরে টেনে নিয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার কলেজের স্নাতক (ডিগ্রি) পরীক্ষার সময় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে হামলাকারীরা কলেজ প্রাঙ্গণে ঢুকে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত। কলেজের নারী প্রদর্শক আলিয়া খাতুনকে (হীরা) স্যান্ডেল দিয়ে পেটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

হামলায় আহত অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আর প্রদর্শক আলিয়া খাতুন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ওই সরকারি কলেজে স্নাতক পরীক্ষা চলাকালে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এলাকার তাফসির মাহফিলে সহযোগিতা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সাবেক পুলিশ সদস্য আবদুস সামাদের নেতৃত্বে কয়েকজন বিএনপি নেতা কলেজে এলে উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রদর্শক আলিয়া খাতুন ভিডিও ধারণ করায় জয়নাল আবেদীনের নির্দেশে তাঁর মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন আফাজ উদ্দিন, এতে হাতাহাতি শুরু হয়। এক পর্যায়ে অফিসের বাইরে মাঠের দিকে আক্রমণকারীদের তরফে ওই নারীকে পতিতা বলে গালিগালাজ করতেও শোনা যায়।

একই সময়ে পুকুর ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে মৎস্য ব্যবসায়ী শাহাদত আলীর সঙ্গে আলিয়া খাতুনের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আলিয়া তাঁকে থাপ্পড় দিলে শাহাদত আলী স্যান্ডেল দিয়ে তাঁকে ব্যাপক মারধর করেন। পরে শাহাদত আলীর ছেলে লিটন ও কর্মচারী মাহাবুর এসে অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক ও আলিয়ার ওপর হামলা চালান।

শেষে বিএনপির ৪০–৫০ জন নেতা-কর্মী কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষের কক্ষে ভাঙচুর ও মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

মূলত এই হলো ঘটনা। পেছনে উভয়পক্ষে বহুদিনের জমিয়ে রাখা পুঞ্জীভূত কোনো ক্ষোভও থাকতে পারে। এই ঘটনার নিশ্চয়ই প্রশাসনিক তদন্ত হবে। ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ কেইসও হতে পারে। ওই নারী মেজাজ হারিয়ে অভ্যাগত এক পুরুষের গালে কেন থাপ্পর দিতে গেলেন সেটারও নিশ্চয়ই অনুপুঙ্খ ইনভেস্টিগেট হবে। তিনি যেহেতু গভমেন্ট কলেজের প্রদর্শক তার বিরুদ্ধছ বিভাগীয় বিধিব্যবস্থাও নিশ্চয়ই প্রযুক্ত হবে।

কিন্তু তার আগে এই যে সরকারি কলেজে পরীক্ষা চলাকালে ১৪৪ ধারা থাকা অবস্থায় বহিরাগতরা ঢুকে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করল তাদের বিচার হওয়া উচিত না? অভিযোগ থাকলে থানা পুলিশ আছে। উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট আছেন। সেখানে অভিযোগ না দিয়ে রীতিমতো আইন হাতে তুলে নিয়ে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে প্রিন্সিপালের নাক নকশা ফাটিয়ে দিতে হবে? কলেজের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুর করতে হবে?

যারা দল করেন তাদেরও দলের নিয়মতান্ত্রিকতার ভিতর দিয়েই যেতে হয়। দেশের প্রচলিত আইন তো আছেই। তো একজন নারীর বিপরীতে গিয়ে এতগুলো পুরুষের পক্ষাবলম্বনই যদি আপনাদের প্রতীতি হয় -তাহলে এইদেশে এসবই চলতে থাকুক। যারে যেখানে পাবেন ধরবেন আর বিচার করে দেবেন। আইন আদালতের কোনো তোয়াক্কা কেউই করবেন না। আমরা দেখি মাৎসন্যায় ফিরিয়ে আনা সেই যুগে দেশটা কতখানি ভালো থাকে। আপনি কতক্ষণ গণমানুষের আক্রোশ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলতে পারেন!

ফারদিন ফেরদৌস 
২৪ এপ্রিল ২০২৬

Comments

    Please login to post comment. Login