রাত তখন প্রায় ১২টা। চট্টগ্রামের ছোট্ট এক নির্জন রেলস্টেশন। চারপাশে অদ্ভুত নীরবতা—শুধু মাঝে মাঝে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ।
রিয়াজ দাঁড়িয়ে আছে প্ল্যাটফর্মে। তার বাড়ি অনেক দূরে, আর আজই শেষ ট্রেনটা ধরতেই হবে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো—স্টেশনটা যেন আজ অন্যরকম লাগছে। লাইটগুলো বারবার জ্বলে নিভছে, আর বাতাসে একটা ঠান্ডা, অচেনা গন্ধ।
হঠাৎ দূরে একটা ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল।
ট্রেনটা ধীরে ধীরে এসে থামলো। কিন্তু আশ্চর্য—পুরো ট্রেনটা প্রায় খালি। শুধু একটা বগিতে ম্লান আলো জ্বলছে।
রিয়াজ একটু দ্বিধা করলেও শেষমেশ ওই বগিতেই উঠে পড়ল।
ভিতরে ঢুকে সে দেখল, একটা কোণায় সাদা শাড়ি পরা এক মহিলা বসে আছে। মুখটা ঠিক দেখা যাচ্ছে না। রিয়াজ একটু অস্বস্তি অনুভব করল, কিন্তু অন্য কোথাও বসার জায়গা না থাকায় দূরে গিয়ে বসে পড়ল।
ট্রেন চলতে শুরু করল।
কিছুক্ষণ পর রিয়াজ লক্ষ্য করল—মহিলাটা ধীরে ধীরে তার দিকে তাকাচ্ছে। তার চোখ দুটো অস্বাভাবিকভাবে বড়… আর পুরো মুখটা যেন ফ্যাকাশে।
রিয়াজ চোখ সরিয়ে নিল।
হঠাৎ মহিলাটা বলল,
“তুমি কি জানো… এই ট্রেনটা কোথায় যায়?”
রিয়াজ কাঁপা গলায় বলল,
“বাড়ি… মানে, শেষ স্টেশনে।”
মহিলা হালকা হাসল।
“না… এই ট্রেনটা কখনো শেষ স্টেশনে পৌঁছায় না।”
রিয়াজের বুক ধড়ফড় করতে লাগল। সে উঠে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে যেতে লাগল। কিন্তু দরজা খুলতে গিয়ে দেখল—দরজাটা ভেতর থেকে লক করা।
হঠাৎ সে পিছন থেকে ঠান্ডা একটা হাত তার কাঁধে অনুভব করল।
“নেমে যেতে চাও?”—মহিলার কণ্ঠ।
রিয়াজ ধীরে ধীরে পিছনে তাকাল…
আর দেখল—মহিলার মুখটা পুরো পুড়ে গেছে, চোখ দুটো রক্ত লাল, আর ঠোঁটের কোণে বিকৃত হাসি।
“অনেক বছর আগে… এই ট্রেনটা দুর্ঘটনায় পড়েছিল। কেউ বাঁচেনি… শুধু আমরা… আমরা এখনো যাত্রী খুঁজি…”
রিয়াজ চিৎকার করতে লাগল, কিন্তু তার আওয়াজ যেন কোথাও পৌঁছাচ্ছে না।
হঠাৎ ট্রেনটা একটা টানেলের ভেতর ঢুকে গেল। চারপাশ অন্ধকার।
আর তারপর…
সবকিছু নিস্তব্ধ।
পরদিন সকালে, স্টেশনের পাশের ঝোপে একটা ব্যাগ পাওয়া গেল। ভিতরে ছিল রিয়াজের আইডি কার্ড… কিন্তু রিয়াজকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না।
স্টেশনের বৃদ্ধ কেয়ারটেকার শুধু একটা কথাই বলল—
“রাতের শেষ ট্রেনে কেউ ওঠে না… যারা ওঠে, তারা আর ফিরে আসে না…”
45
View
Comments
-
Priti Chowdhury Priti 1 month ago
You write very beautiful