চন্দনাথ পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়া চন্দ্রনাথ মন্দিরের উচ্চতা আনুমানিক ১০২০-১২০০ ফুট উচ্চতার কাছাকাছি। সময় তখন সকাল ১০ টা। যাত্রা শুরু করলাম চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উদ্দেশ্য। সারারাতের বাস জার্নিতে শরীরটা খুব ক্লান্ত। তারউপর সকালের খাবার খেয়েই যাত্রা শুরু। হাতে লাঠি আর দৃঢ় মনোবল নিয়ে উঠতে লাগলাম।মাথার উপর ছাতা হয়ে আশির্বাদ করছে সূর্যি রাজ।একজন ব্লগার আমার দিকে তাকিয়ে বললো কোন পাপ করতেযে এখানে এসেছিলাম। হঠাৎ করে ক্যামেরা ধরাতে আমি বিরক্তই বোধ করছি।পরে আবার উঠা শুরু করলাম। কেউ কেউ বললে লালগো এখান থেকেই ফিরে যান।আমারা পাহাড়ি ঢালাই করা রাস্তা, সিড়ি দিয়ে এঁকেবেঁকে উপরে উঠছি।কি অদ্ভুত সুন্দর প্রকৃতি। আশপাশের কিছু কিছু গাছের পাতা একদম ঝরে গিয়ে একধরনের গাম্ভীর্যতা ছড়িয়ে পরেছে আশপাশে। কিছুদূর এগিয়ে গেলাম। নাহ শরীটা সাপোর্ট করছে না।বড় একটা দল থেকে নিজেকে আবিষ্কার করলাম ছোট একটা গ্রুপে। কেউ কেউ নিচে নামতে শুরু করেছে আবার অদম্য কয়েকজন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাদের আর দেখা যাচ্ছে না।আমারা এগিয়ে চলছি।পথিমধ্যে আরেকজন বললো মনে হবে চাঁদের মতো আরেকটু গেলেই হয়ে যাবে। কিন্তু যত আগাবেন তত দূরে সরে যাবে।এতক্ষণে কিছুটা টের পেয়ে গেছি সবাই কেন নিরুৎসাহিত করছে।প্রচন্ড গরম।হিজাব পড়া অবস্থায় অবস্থা আরো খারাপ। কান, গাল গরম হয়ে যাচ্ছে। প্রতিটা পদক্ষেপ ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে যাচ্ছে আমার জন্য।তাও মনোবল হারায়নি।পাহাড় আমার বরাবরই পছন্দ। আমি আর আমার বান্ধবী এগিয়ে চলেছি।দূর থেকে চন্দ্র নাথ পাহাড়ের চূড়া দেখা যাচ্ছে। কি সুন্দর! রৌদ্রজ্বল নীল আকাশের বুকে একটুকরো সবুজ উপত্যকা। একটি মন্দিরও দেখা যাচ্ছে। চলার পথে কাঠ গোলাপ গাছ, ছোট ছোট মন্দির রয়েছে। শরীরটা হঠাৎ বেশি খারাপ লাগলো। মাথা ঘুরছে। না আর যাওয়া যাবে না। ফিরে যেতে হবে।তারজন্যও একটু শক্তি সঞ্চয় করা প্রয়োজন। একটু বসলাম বিশ্রাম নেওয়া জন্য। সাথে সাথে বমি হলো।বমি হওয়ার পর মুখে পানি দিয়ে একটা জুস খেলাম।পানি খেলাম।এবার বেশ ভালো লাগছে।ঠিক করলাম উপরে উঠবো। বান্ধবীকে রাজি করানোর চেষ্টা করলাম। না সে যাবেনা।তার কষ্ট হচ্ছে। এখন কি করা যায়। একাতো যাওয়া যায়না। অলরেডি ১ ঘন্টার ১০ মিনিট হয়ে গেছে। আর কতক্ষণ যেতে হবে তাও জানি না।রাস্তা কেমন তাও জানি না।সামনেই আরো দুজন ফ্রেন্ডকে দেখলাম তাদেরকেও বললাম। তারাও যাবেনা।অগত্যা সিদ্ধান্ত নিলাম একাই যাবো।বেশ কনফিডেন্স দেখিয়ে বিসমিল্লাহ বলে যাত্রা আবার শুরু করলাম একা একা । মানুষজন আমাকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো আপনি কি একা এসেছেন? আমি বললাম আরো মানুষ আছে তারা সামনে।তারা যেন একটু অবাক হলো।আমি উঠতে শুরু করলাম। শরীরটা আবার আগের মতো খারাপ লাগলো।সাথে সাথে বসলাম।বসে বান্ধবীকে কল দিলাম। প্রথম কলটা ঢুকলোনা। পরের কলটা ধরলো।সে বললো তারা নিচে নিমে যাচ্ছে। আমি বললাম দাড়াও আমিও আসছি।রাজ্যের সংকোচ নিয়ে তার কাছে ফিরে গিলাম।সে বললো আমি জানতাম তুমি পারবেনা।তাই বলে এত তারাতারি চলে আসবে ভাবিনি।কি আর করা আমরা নামতে শুরু করলাম। নামার পথে একটি হিন্দু পরিবারের সাথে দেখা হলো তারাও উপর থেকে নিচে নেমে আসছে।তবে তারা সফল। সারে পাচঘন্টা সময় লেগেছে তাদের। কারণ সাথে একটা ৪ বছরের বাচ্চা মেয়ে ছিল। আমরা রেস্ট নিয়ে নিয়ে নিচে নেমে পরলাম। কিন্তু অপূর্ণ রয়ে গেল ইচ্ছে। পাহাড় চূরায় আর আমার উঠা হয়নি।দেখা হয়নি চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্ঘতে দাড়িয়ে সীতাকুণ্ডকে দেখার সৌভাগ্য। হয়নি চূড়ায় দাড়িয়ে সমুদ্রের বাতাসের স্বাদ নেওয়া। আমি আবার এখানে ফিরে আসবো। এই পর্বতের চূড়ায় আরোহন করবো।হ্যা, চন্দ্র নাথ পাহাড় আমি ফিরে আসবো তোমাকে জয় করতে।