বিংশ শতাব্দীর শুরুতে চীনের একজন লেখক ‘ডন কুইক্সোট’ এর প্রথম অংশ ক্লাসিকাল চাইনিজ ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন। ১৯২২ সালে লিন শু ‘মশিয়া ঝুয়ান’ (দ্য স্টোরি অব দ্য এনচ্যান্টেড নাইট) প্রকাশ করেন। এটিই ছিল ডন কুইক্সোটের প্রথম চীনা অনুবাদ। ১০০ বছর পর এটিকে ‘হিস্টোরিয়া দেল ক্যাবালেরো এনকান্তাদো’ নামে স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
২২ এপ্রিল ডন কুইক্সোটের স্রষ্টা মিগুয়েল ডি সারভান্তেসের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মশিয়া ঝুয়ান’ এর স্প্যানিশ অনুবাদ প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের মাধ্যমেই সারভান্তেসের লেখা অমর চরিত্র ডন কুইক্সোটের সঙ্গে চীনা পাঠকদের প্রথম পরিচয় ঘটেছিল।
লিন শু স্প্যানিশ কিংবা পাশ্চাত্যের কোন ভাষা বলতে এবং পড়তে পারতেন না। তা সত্ত্বেও বিখ্যাত এ উপন্যাসটি অনুবাদের সাহস দেখিয়েছিলেন তিনি। এক্ষেত্রে বন্ধু চেন জিয়ালিন তাকে সাহায্য করেছিলেন। জিয়ালিন ইংরেজি ভাষায় ডন কুইক্সোট পড়েছিলেন। তার কাছেই কাহিনী শুনে তিনি বইটি ভাষান্তর করেন। ফলে এটি হয়ে উঠে ম্যান্ডারিন ভাষায় লিখিত লিনের ‘ডন কুইক্সোট’।
এদিকে বেশ কয়েক বছর আগে বেইজিং এর সারভান্তেস ইন্সটিটিউটে লিন শু অনূদিত ডন কুইক্সোটের চীনা সংস্করণ প্রদর্শিত হয়। একজন সংগ্রাহক চীনের বিভিন্ন বাজার এবং বইয়ের দোকান খুঁজে বইটি সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর এটি স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর এই কাজের দায়িত্ব পান অ্যালিশিয়া রেলিনকে। তিনি গ্রানাডা ইউনিভার্সিটির ক্লাসিকাল চাইনিজ লিটারেচার এর অধ্যাপক।
লিন শুর মশিয়া ঝুয়ানের চরিত্রগুলোর সঙ্গে মূল বইয়ের কিছু পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায়। সারভান্তেস ডন কুইক্সোটকে একজন বিভ্রান্ত ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু লিনের কুইক্সোট কম বিভ্রান্ত এবং অনেক বেশি জ্ঞানী। সাংকো পাঞ্জাকে একজন উন্মাদ নাইটের ভৃত্য নয় বরং একজন সংস্কৃতবান মনিবের অনুগত ভৃত্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কুইক্সোটের প্রেমিকা কৃষক কন্যা ডালসিনিয়াকে ‘জেড লেডি’ উপাধি দেয়া হয়েছে। কুইক্সোটের বৃদ্ধ ঘোড়া রোসিন্যান্টকে দ্রুতগামী ঘোড়া হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে লিনের বইয়ে।
অনুবাদক রেলিনকে বলেন, ’লিনের কুইক্সোট কম উন্মাদ এবং অনেক বেশি রোমান্টিক। এটি খেয়ালি কুইক্সোট নয়। লিনের তৈরি এই চরিত্রটির প্রতি সারভান্তেসের ভালবাসা তৈরি হত।'
উল্লেখ্য, মিগুয়েল ডি সারভান্তেস স্প্যানিশ ভাষার সর্বকালের সেরা লেখক হিসেবে বিবেচিত। তিনি ‘ডন কুইক্সোট’ উপন্যাসের জন্য সর্বাধিক পরিচিত। অনেকেই এটিকে প্রথম আধুনিক উপন্যাস হিসেবে বিবেচনা করেন। এটি বিশ্ব সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য একটি উপন্যাস। বইটি ১৬০৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, প্লেজ টাইমস