Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে

April 28, 2026

busra islam

12
View

#গল্প - এক ছাতার নিচে 

 #লেখিকা - বুশরা নাদরাহ

 #পর্ব - ২ 

ডুপ্লেক্স বাড়ির কলিংবেলটা বাজতেই মা দোতলা থেকে ছুটে নামলো।   দরজা খুলেই দেখে ইনায়া দাঁড়িয়ে আছে। চুল থেকে পানি ঝরতেছে, কলেজ ড্রেস গায়ের সাথে লেপ্টে গেছে। ঠান্ডায় ঠোঁট কাঁপতেছে।  ইনায়ার আম্মুর মুখটা মুহূর্তে ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

  "হায় আল্লাহ! এই অবস্থা কেন তোর? ছাতা নিস নাই?

"  ইনায়া কিছু বলার আগেই আম্মু ওকে টেনে ভেতরে ডুকিয়ে দিল। নিজের আঁচল দিয়েই মেয়ের মাথা মুছতে লাগলো। 

 "জ্বর বাঁধাবি তো। কালকে তোর টেস্ট পরীক্ষা না? এই মেয়ে একটা কথাও শোনে না।

" ইনায়া কিছু বলবে তার আগেই উপর থেকে দুইটা ছোট টর্নেডো ছুটে আসলো। 

 " বুবু আসছে! "বুবু আসছে!  

নয় বছরের ইশরা আর ছয় বছরের ইজহান।দুই চাচাতো ভাই বোন।ইনায়াকে দেখেই দুইজন দৌড়ে এসে জরিয়ে ধরলো। 

তখন ইনায়া তাদের বলল এই খবরদার!  সরে যা ভিজে যাবি তোরা। কিন্তু ওরা শুনে কার কথা।

  " বুবু বৃষ্টিতে কি ভূত আসে?

   " বুবু বৃষ্টিতে তুমি ভয় পাও না?   

    " বুবু আমারাও বৃষ্টিতে ভিজবো চলো আবার যাই।  তখন ফারহানা বেগম(ইনায়ার মা) বলে উঠলো বাপরে তোদের অনেক প্রশ্ন আর অনেক ইচ্ছা আগে বুবু ফ্রেশ হয়ে নিক তারপর তোদের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিবে। এখন তোরা ছারতো দেখি।  

 ইজহান আর ইশরা ভদ্র ছেলে মেয়ের মতো  বুবুকে ছেরে দিলো। আম্মু ততক্ষণে ড্রয়িং রুম থেকে মোটা টাওয়াল আর আদা চা নিয়ে আসছে।   "নে, মাথা মুছে ফেল ভালো করে। আর এই চা-টা খা।" আম্মুর গলায় বকা নাই, শুধু ভয়। "মা-টারে একটু শান্তি দে তুই।"

  "সরি আম্মু। রিকশা পাই নাই। আর..." ও থেমে গেল।  

" যা ফ্রেশ হয়ে নে। আমি খাবার বাড়ছি। 

ইনায়া উপরে নিজের রুমে চলে গেলো। 

বাথরুম থেকে বের হলো ইনায়া। ভেজা চুলে টাওয়াল পেঁচানো, গায়ে নরম সুতির কামিজ-সালোয়ার। মুখটা ধুয়ে ফ্রেশ, কিন্তু চোখের নিচে এখনো ক্লান্তি। বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর জ্বর লাগতেছে।  সিঁড়ি দিয়ে নামতেই নিচ থেকে গরম ভাতের গন্ধ নাকে আসলো।  সকাল থেকে কিছু খাওয়া হয়নি এখনো।   ডাইনিং এ আম্মু আগে থেকেই বসে আছে। ইনায়াকে দেখেই চোখ সরু করলো।  "এতক্ষণ লাগে গোসল করতে? ভাত ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।

"  ইনায়া চেয়ার টেনে বসলো চুপচাপ।

 আম্মু নিজের হাতেই ভাত বেড়ে দিল—গরম ধোঁয়া ওঠা ভাত, সাথে গরুর মাংস  আর কি লাগে।

 ফারহানা বেগম বললেন!"নে, খা।  শরীরটা কি খারাপ লাগতাছে?

"  ইনায়া কোন উত্তর দিলো না। মাথা নিচু করে খাওয়া শুরু করলো। ডাইনিংটা ফাঁকা। আব্বু অফিসে, ইহান ভাইয়া বাহিরে। ইজহান আর ইশরা কে  ছোট মা ঘুম পাড়াচ্ছেন। শুধু ফ্যানের শব্দ আর চামচের টুংটাং শব্দ।  

আম্মু তাকিয়ে আছে। "কি রে? কথা বলছিস না কেন? কলেজে কি কিছু হয়েছে?

" ইনায়া বিষম খেলো। আর বলল "কই না তো।"  "তাহলে মুখটা এমন শুকনা লাগছে কেন? জ্বর আসবে নাকি?"  বলেই ফারহানা বেগম হাত বাড়িয়ে ইনায়ার কপাল ছুঁলো।

 "গা টা গরম গরম লাগে।"  ইনায়ার বুক ধক করে উঠলো। এই গরম কি জ্বরের? নাকি ছাতার নিচে দাঁড়ানোর কথা মনে পড়ে যাওয়ার?

  ইনায়া বলল :"আম্মু, আমি ঠিক আছি," তাড়াতাড়ি বললো ও। ভাতের লোকমা দিয়ে কথা ঘুরানোর চেষ্টা করলো, আর ইনায়া নিজের চেষ্টায় সফল ও হলো।  

 ফারহানা বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, "খেয়ে ওষুধ খেয়ে নিস। আর রাতে বাহিরে যাবি না।   ইনায়া " মাথা নাড়লো।

  খাওয়া শেষ করে ইনায়া নিজের রুমে চলে যায়।ইনায়ার রুমের জানালা দিয়ে বাহিরে তাকালে ডুপ্লেক্স বাড়ির সামনে সব দেখা যায় ।ইনায়া উঠে  বারান্দায় চলে গেল বারান্দায়  দাঁড়িয়ে বাহিরে তাকিয়ে থাকলো। বৃষ্টি থেমে গেয়েছে। ভেজা রাস্তায় রোদের আলো পড়ছে।বেস্ত শহরে গাড়ি নিজ গন্তব্যে চলছে। ইনায়া আনমনে ভাবলো কাল কি আবার বৃষ্টি হবে?  

Comments