Posts

গল্প

শিরোনাম: নীল চাঁদের রাজ্য আর হারিয়ে যাওয়া রাজকন্যা

April 28, 2026

Moonlight

38
View

শিরোনাম: নীল চাঁদের রাজ্য আর হারিয়ে যাওয়া রাজকন্যা
অনেক অনেক দিন আগে, পাহাড় আর নদী ঘেরা এক দূর দেশের নাম ছিল নীলচন্দ্রপুর। সেই রাজ্যে রাত নামলেই আকাশে উঠত এক অদ্ভুত নীল রঙের চাঁদ। সেই চাঁদের আলোয় সবকিছু ঝলমল করে উঠত—গাছের পাতা, নদীর জল, এমনকি মানুষের চোখও।
এই রাজ্যের রাজা ছিলেন অতি জ্ঞানী, আর রাণী ছিলেন অতি স্নেহময়ী। তাঁদের একমাত্র মেয়ে ছিল—রাজকন্যা ইরাবতী। সে ছিল খুব সুন্দর, কিন্তু তার সৌন্দর্যের চেয়েও বেশি ছিল তার সাহস আর কৌতূহল।
রাজ্যের সবাই জানত, নীল চাঁদের মধ্যে একটা রহস্য লুকিয়ে আছে। বলা হতো, পূর্ণিমার রাতে যদি কেউ নীল চাঁদের দিকে তাকিয়ে মনের ইচ্ছা প্রকাশ করে, তবে সেই ইচ্ছা পূরণ হয়। কিন্তু এই শক্তির জন্যই এক দুষ্ট জাদুকর—অন্ধকারেশ—সেই চাঁদকে নিজের করে নিতে চাইত।
এক রাতে, পূর্ণিমার আলোয় ইরাবতী রাজপ্রাসাদের বাগানে দাঁড়িয়ে ছিল। সে মনের মধ্যে একটা ইচ্ছা করল—“আমি জানতে চাই, এই নীল চাঁদের রহস্য কী।” হঠাৎ করেই আকাশে বিদ্যুৎ চমকালো, আর এক অদ্ভুত ঝড় শুরু হলো। সেই ঝড়ের মধ্যেই অন্ধকারেশ এসে রাজকন্যাকে অপহরণ করে নিয়ে গেল।
পরদিন সকালে পুরো রাজ্যে শোকের ছায়া নেমে এলো। রাজা ঘোষণা করলেন—যে রাজকন্যাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে, তাকে তিনি অর্ধেক রাজ্য উপহার দেবেন।
এই খবর শুনে এক সাধারণ গ্রামের ছেলে—আরিন—সামনে এগিয়ে এলো। সে ছিল দরিদ্র, কিন্তু তার হৃদয়ে ছিল অদম্য সাহস। সবাই তাকে হাসাহাসি করলেও সে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি।
আরিন তার যাত্রা শুরু করল। পথে সে তিনটি আশ্চর্য জিনিস পেল—
প্রথমত, এক কথা বলা পাখি, যে তাকে পথ দেখাতে রাজি হলো।
দ্বিতীয়ত, এক জাদুর তলোয়ার, যা শুধুমাত্র সত্য আর সাহসের জন্য কাজ করত।
তৃতীয়ত, এক বৃদ্ধা, যিনি তাকে একটি রহস্যময় নীল পাথর দিলেন এবং বললেন—“এটাই তোমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
অনেক বিপদ পেরিয়ে, অন্ধকার বন আর আগুনের পাহাড় অতিক্রম করে, অবশেষে আরিন পৌঁছাল অন্ধকারেশের দুর্গে।
দুর্গের ভিতরে রাজকন্যা বন্দী ছিল এক জাদুর ঘরে, যেখানে সময় থেমে ছিল। অন্ধকারেশ বলল, “তুমি যদি আমাকে হারাতে পারো, তাহলে রাজকন্যাকে নিয়ে যেতে পারো।”
ভয়ংকর যুদ্ধ শুরু হলো। অন্ধকারেশ নানা জাদু ব্যবহার করলেও আরিন তার সাহস আর বুদ্ধি দিয়ে লড়াই চালিয়ে গেল। শেষ মুহূর্তে, সে বৃদ্ধার দেওয়া নীল পাথরটি তুলে ধরল। পাথরটি হঠাৎ আলো ছড়াতে শুরু করল, আর সেই আলো অন্ধকারেশের সব জাদুকে ভেঙে দিল।
অন্ধকারেশ পরাজিত হলো, আর দুর্গ ভেঙে পড়তে লাগল। আরিন দ্রুত রাজকন্যাকে নিয়ে বেরিয়ে এলো।
রাজ্যে ফিরে আসার পর সবাই আনন্দে উল্লাস করল। রাজা তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আরিনকে অর্ধেক রাজ্য দিলেন। কিন্তু আরিন বলল, “আমি রাজ্য চাই না, আমি শুধু রাজকন্যার পাশে থাকতে চাই।”
রাজকন্যা ইরাবতী হাসল, আর বলল, “তুমি শুধু আমার পাশে নয়, আমার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছো।”
এরপর তারা দুজন মিলে নীলচন্দ্রপুরকে আরও সুন্দর আর শান্তিপূর্ণ করে তুলল। আর নীল চাঁদ আজও আকাশে জ্বলে, সাহস আর ভালোবাসার গল্প শুনিয়ে যায়।
শেষ।

Comments

    Please login to post comment. Login