Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে

April 29, 2026

busra islam

9
View

# গল্প - এক ছাতার নিচে 

  # লেখিকা - বুশরা নাদরাহ 

 # পর্ব - ৫   

৭ দিন পর আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামছে। ঝুম বৃষ্টি। ইনায়া কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে আছে। ব্যাগটা বুকে চেপে ধরা। কিন্তু মুখে ১০০ ওয়াটের হাসি।  চোখ বন্ধ করে মুখ তুলে বৃষ্টির ফোঁটা মাখছে। ধবধবে ফর্সা মুখে পানির ফোঁটা চিকচিক করছে। 

 "আল্লাহ! শেষমেশ বৃষ্টি হলো!" নিজের মনেই ফিসফিস করে বললো।   ৭দিনের শুকনো মনটা একদম ভিজে গিয়েছে। খুশিতে পা দিয়ে রাস্তার পানিতে ছপছপ আওয়াজ  করছে।  ভিজে একাকার, চুল বেয়ে পানি পড়ছে—কিন্তু তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। 

 আরু ব্যাগ মাথায় দিয়ে দৌড়ে এসে বললো, "পাগল হয়ে গিয়েছিস? ভিজে জ্বর বাধাবি তো!"  ইনায়া হাসতে হাসতে বললো, "৭ দিন পরে বৃষ্টি আসলো! আজকে তো ভিজবোই। জ্বর আসলে আসুক।

"  হঠাৎ পাশ থেকে কেউ ছাতা ধরে ওর মাথার উপর। 

 ইনায়া চমকে পাশে তাকালো।  রাইহান। কালো শার্ট ভিজে গায়ের সাথে লেপ্টে আছে। চুল থেকে পানি পড়ছে। হাতে সেই কালো ছাতা। 

 রাইহান ভ্রু কুঁচকে বললো, "আপনি কি পাগল? এভাবে কেউ ভিজে?

"  ইনায়ার হাসি থেমে গেল। ৭ দিন পর দেখা। বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো।   লজ্জায় সাথে সাথে গাল দুইটা টুকটুকে লাল হয়ে গেল। ভেজা মুখে লাল আভাটা আরও স্পষ্ট। 

চোখ নামিয়ে ফেললো।  "আ...আপনি?" তোতলিয়ে বললো। 

 রাইহান ছাতাটা আরেকটু এগিয়ে দিয়ে বললো, "৭ দিন ধরে বৃষ্টি নেই দেখে ভেবেছিলাম আপনি রাগ করে আকাশটাই বন্ধ করে দিছেন। আজকে বৃষ্টি নামছে দেখে বুঝলাম আপনার রাগ কমেছে।

"  ইনায়া আরও লজ্জায় লাল হয়ে গেল।

 "আমি... আমি কেন রাগ করবো?

  "তাহলে এভাবে ভিজতেছেন কেন? চলেন, ভিতরে যাই। নইলে সত্যি জ্বর আসবে।

"  রাইহান হাঁটা দিল। ইনায়া চুপচাপ ছাতার নিচে ওর পাশে পাশে হাঁটছে।  বৃষ্টির টুপটুপ শব্দ। ছাতাটা ছোট।ইনায়ার বুক ধড়ফড় করছে। লজ্জায় মাটির দিকে তাকিয়ে হাঁটছে। গাল দুটো এখনো লাল।  

ঠিক তখনই—  

*ট্রিং ট্রিং ট্রিং!* 

 ব্যাগের ভেতর ফোন বেজে উঠলো।   ইনায়া চমকে উঠলো। তাড়াতাড়ি ব্যাগে হাত দিয়ে ফোন বের করলো। স্ক্রিনে বড় করে লেখা: *"আম্মু"*।  ওর মুখটা শুখিয়ে গেল।  

 রাইহান আড়চোখে তাকালো।

  "আমার আম্মু,"  বললো ইনায়া ।

   ফোনটা কেটে দিবে নাকি ধরবে বুঝতে পারছে না। আম্মু তো জিজ্ঞেস করবে "কোথায় তুই? বৃষ্টিতে ভিজতেছিস ?" তখন কি বলবে?  

 ফোন বাজতেই আছে।

  রাইহান শান্ত গলায় বললো, "ধরেন। নইলে টেনশন করবে।

"  ইনায়া ঢোক গিলে কল রিসিভ করলো। গলা যতদূর সম্ভব নরমাল রাখার চেষ্টা করলো,

 "হ্যা... হ্যালো আম্মু?

"  ওপাশ থেকে আম্মুর গলা, "কই তুই? বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ভিজিস না কিন্তু।

  ইনায়া আড়চোখে রাইহানের দিকে তাকালো। রাইহান ঠোঁট চেপে হাসি আটকিয়ে রাখছে।  "হ্যা... হ্যা আম্মু। ছা...ছাতার নিচেই আছি," ।  ৷ ..  লজ্জায় কান গরম হয়ে যাচ্ছে।  

"কার ছাতা? তোর ছাতাতো  বাড়িতেই রেখে গেয়েছিস ।

" আম্মু সন্দেহের গলায় বললো।  

 ইনায়া হতভম্ব হয়ে গেলো। কি বলবে কার ছাতা? রাইহনের দিকে অসহায় চোখে তাকালো।   "রাইহান কানের কাছে গিয়ে  ফিসফিস করে বললো, "বলেন জামাইয়ের  ছাতা।  

 ইনায়া যেন আকাশ থেকে পড়লো।একি শুনলো? সত্যি কি শুনলো? 

  " কিরে কথা বলছিস না কেন?

  " হে আম্মু! বলো।

  "ফ্রে...ফ্রেন্ডের ছাতা আম্মু। আরুর...  ছাতা।"  "আচ্ছা। তাড়াতাড়ি ক্লাসে যা। আর শোন, আজকে খিচুড়ি রান্না করেছি। ক্লাস শেষে সোজা বাসায় আসবি।আরিশা কেও নিয়ে আসবি।"  "আচ্ছা আম্মু," বলে ঠুস করে ফোন কেটে দিল।  ফোন রাখতেই জোরে নিঃশ্বাস ফেললো। যেন যুদ্ধ জিতে আসছে।

  রায়হান এবার আর হাসি আটকাতে পারলো না। ফিক করে হেসে দিল। "আরুর ছাতা? বেচারি আরু জানেও না ওর ছাতা এত কাজে লাগছে।"  ইনায়া লজ্জায় মরে যাচ্ছে।

"আপনি... আপনি কেন ফিসফিস করলেন? আম্মু শুনলে কি হতো?

" শুনলে বলতাম, আপনার মেয়েকে বৃষ্টি থেকে বাঁচাচ্ছি আম্মু ,

" রায়হান সোজা মুখে বললো।

" মানে কি? আম্মু কে?  

 " কেন?   

"চুপ করেন!ফালতু কথা বইলেন না। বলেই ইনায়া ছাতার বাহিরে পা বাড়িয়ে দিল।  রাইহান সাথে সাথে হাত ধরে টান দিয়ে আবার ছাতার নিচে টেনে  আনলো।

 “আরে “ চলেন আজকে বৃষ্টি বিলাস করি।  “ ” ” ” হ্যা  চলেন, করা ই যায়।

Comments