Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে

April 30, 2026

busra islam

9
View

# গল্প - এক ছাতার নিচে

  # লেখিকা - বুশরা নাদরাহ 

 # পর্ব - ৭  

 "ইনায়া আম্মুর হাতে ভাত খেয়ে চুপচাপ উপরে রুমে চলে যায়।একটু ঘুমাতে হবে। মাথাটা খুব ব্যথা করছে। জ্বর আসবে মনে হয়।  বালিশে মুখ গুঁজে শুয়ে পড়লো। "উফ... এখন কাকে যে বলি?

 জ্বরের ঘোরে কখন ঘুমিয়ে  গিয়েছে জানা নেই।

  *রাত ৮টা।*  

হঠাৎ কপালে ঠান্ডা হাতের স্পর্শ পেল।  ইনায়া ধড়ফড় করে উঠে বসলো। মাথাটা ঘুরিয়ে  উঠলো। চোখে অন্ধকার দেখছে। 

"কে?" "কে?"  

সামনে আব্বু দাঁড়িয়ে আছে।  

*আব্বু: ইশতিয়াক শেখ।* বড় ব্যবসায়ী। কাপড়ের দোকান + ২টা গার্মেন্টসের মালিক। খুব গম্ভীর মানুষ।  আর ইমতিয়াজ শেখ ইশতিয়াক শেখ এর  বিপরীত। একেবারে হাসি খুশি সরল সোজা মানুষ।  

  "ইশতিয়াক শেখ, মেয়ের কপালে হাত দিয়েই চমকে উঠলো, 

"এই! গা তো পুড়ে যাচ্ছে !   

ইনায়া কাঁপা গলায় বললো, "আব্বু... আমি... আমি ঠিক আছি...

" কিন্তু ইনায়ার জ্বরে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। চোখ জলছে তাকাতে পারছে না।  আব্বু তাড়াতাড়ি থার্মোমিটার নিয়ে আসলো। জ্বর মেপে দেখলো ১০৪° জ্বর।   ২ মিনিটে পুরা বাড়ি গরম হয়ে গেছে। ইনায়ার জ্বর শুনে। ছোট চাচ্চু, ছোট মা,  সবাই এখানে আছে,।   ইনায়া সবার মাঝখানে শুয়ে আছে। 

ফ্যাকাশে মুখ, বন্ধ চোখ।   

ইশতিয়াক শেখ রেগে গেল, "বৃষ্টিতে ভিজেছ কেন?  

ইনায়া বুক ধুক করে উঠলো। জ্বরের ঘোরেও ভয় পাচ্ছে। আব্বু কি রায়হানের কথা জেনে গেলো কিনা?  

" ফারহানা বেগম বললেন এখন বাদ দেন। আগে ওরে সুস্থ করেন। পরে জিজ্ঞাসা কইরেন"।  ইশতিয়াক শেখ ডাক্তারকে ফোন দিল। আর এদিকে আম্মু জলপট্টি দিচ্ছে। আর ছোট মা হাত পা মালিশ করে দিচ্ছে। পাশে ইজহান আর ইশরা মন খারাপ করে বসে আছে।  ইনায়া চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে।

"এদিকে ফারহানা বেগম ভয়ে আছেন,,। কারন ইহান এর বাসায় আসার সময় হয়ে গিয়েছে,।........ ইহান বাবার মতো খুব রাগী,, আর ইহান এর কাছে ইনায়া হলো কলিজার টুকরা অনেক আদরের ছোট বোন,, যদি বাড়িতে এসে ইনায়ার এই অবস্থা দেখে তাহলে কি করবে,,, এই নিয়ে খুব ভয়ে আছে,,।   

" ফারহানা বেগম এর চিন্তার মাঝেই ইহান এসে হাজির,,।  

"ইহান, নিচে কাউকে না পেয়ে উপরে আসে আর দেখে সবাই ইনায়ার রুমে আছে, আব্বু, আম্মু, ছোট চাচ্চু, ছোট মা এমনকি ইজহান আর ইশরা ও আছে,,  

  ",, কি হচ্ছে এখানে তোমরা সবাই এখানে কেন?  

"ইনায়া কোথায়? 

এই বলে ইহান সামনে আসে আর দেখে ইনায়া শুয়ে আছে চোখ বন্ধ আর শুকনো মুখ,,। 

" তা দেখে ইহান ফারহানা বেগম কে বলেন,,। আম্মু আমার বনুটার কি হয়েছে.? অর এই অবস্থা কেন? আমাকে আগে জানাওনি কেন?  

"" এই বলে ইহান ইনায়ার কপালে হাত রাখে,, আর দেখে জ্বরে পুরে জাচ্ছে,,।  

"ইহান ফারহানা বেগম এর দিকে তাকিয়ে বলে আম্মু ওরে ডক্টর কাছে নিতে হবে,,

  " ইশতিয়াক শেখ বলে উঠলেন,, আমি ডক্টর কে কল দিয়েছি উনি আসছেন,,,,কিছুক্ষণ এর মধ্যে চলে আসবেন,,  তমি শান্ত হও,,। 

 "ইহান কারো কথা না শুনে ইনায়া কে কোলে করে হাটা শুরু করল,, হসপিটালের উদ্দেশ্যে ,,।  একমাত্র আদরের ছোট বোন বলে কথা,,।  " ইহান এর সাথে তার বাবা ও ছোট চাচ্চু গেল।

 "এদিকে ইনায়ার কোন হুশ নেই তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে,,,। 

 " হসপিটাল নিয়ে যাওয়ার ডক্টর ইনায়া কে দেখলেন কিছু ঔষধ দিয়ে বললেন ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করতে শরীর খুব দূর্বল,,।   "কিছুক্ষণ পরে তারা বাড়ি ফিরে এলো,,,  তারপর ফারহানা বেগম ইনায়া কে খাইয়ে ঘুম পারিয়ে দিলেন।  তিনি আর নিজের রুমে গেলেন না সারা রাত মেয়ের পাশেই ছিলেন,,।  

 " পরেরদিন কলেজ শেষ করে আরিশা আসে ইনায়া কে দেখতে,,। ইনায়া কলেজে যায়নি আর ফোনে পাওয়া জাচ্ছিলো না দেখে বাড়িতে চলে আসে,,,।।  এসে দেখে ইনায়া জ্বরে বিছানায় পরে আছে,,,.।

  "কিরেএএ ইনু কি হয়েছে তর?  আমায় আগে বললি না কেন? আমি কি তর কেউ না? আমার কল ও তুই ধরছিস না,,। মোবাইল টা ও বন্ধ করে রেখেছিস।  

" আরে আরু শোন তো,, বনু রাগ করিস না,, আমি তো কলেজ থেকে আসার পর আর মোবাইল হাতে নেই নাই হয়তো কোথাও বন্ধ হয়ে পড়ে আছে,,।  

 "শোন ইনু আর কখনো কিন্তু এমন করলে তর খবর আমি ৪২০ করে দিবো বলে দিলাম,,।

 "আচ্ছা বাবা মনে রাখবো,,।  

Comments