সূর্যোদয় হয়েছে পৃথিবী জুড়ে। সূর্যের সোনালী আলোয় পৃথিবীময় চকচক করছে। আকর্ষণীয় করে তুলেছে প্রকৃতি।
সারার দিকে অবাক হয়ে সকলে তাকিয়ে আছে। কেউই বিশ্বাস করতে পারছেনা আসফির মতো ছেলে একটা মেয়েকে বিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে আনতে পারে। হ্যা আসফি বলেছে, সে সারাকে বিয়ে বাড়ি থেকে তুলে এনেছে। তাদের প্রেমের সম্পর্ক বিগত তিন বছর যাবত। এবং যখন সারার বাবা তাকে অন্যত্র বিয়ে দিতে চাইলো সে তাকে নিয়ে পালিয়ে এসেছে। সাইরা আসফির কথায় অবাক হয়। সে এই লোককে হয়তো জীবনে প্রথম দেখেছে এবং প্রথম দেখাতেই বিয়ে হয়েছে তাহলে মাঝে এই তিন বছরের প্রেম কোথা থেকে এলো। সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। সারা এনিতেই একটা ট্রমার মধ্যে আছে তার উপর আসফির এসব আজগুবি কথাবার্তা। সারা এখানে এসেই জেনেছে তার স্বামীর নাম আসফি। সারা আসফির দিকে অবাক নয়নে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে আসফি দাতে দাত চেপে ইশারা করে স্বাভাবিক হতে। আসফির মা কিছু বলতে যাবে তার আগেই কেউ এসে সারাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে। সারা তাল সামলাতে না পেরে আসফির হাত খামচে ধরে। আহফিও অপর হাত দিয়ে তার হাতটা ধরে।সারাকে এতো শক্ত করে ধরা হয়েছে যে সে নড়াচরাও করতে পারছেনা তবুও বলে:
“ক. কে আপনি.?”
“এই দেরবছরে আমায় ভুলে গেলি ভাবি”
সারা চিনতে পারে এক নিমিষেই। তাকে ‘ভাবি’বলে শুধু একজনই ডাকে। তার স্কুলের বান্ধবী মিহি। যার নাম্বার নিয়েই সে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলো। সারা কান্না করে দেয়। এতোদিন পর প্রিয় বান্ধবীকে পেয়ে। কান্না করতে করতে বলে:
“তোকে আমি কি করে ভুলে যায় ননদিনি?”
দুজন একে অপরকে ছাড়ে। চোখে খুশির জলক।
মিহি ঘুম থেকে ওঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে নামতে গিয়ে দেখে বাসার সবাই একত্রিত হয়ে দাড়িয়ে আছে। এই টাইমে যেখানে সবাই নাস্তা, অফিস নিয়ে ব্যস্ত থাকে আজকে এরকম দেখে অবাক হয়। নিচে নেমে বেনারসি পরিহিতা একমেয়েকে দেখে অবাক হয়। কোনো কিছু না ভেবে এসে জরিয়ে ধরে। আসমা বেগম তাদের কথার মাঝে বলেন:
“তোমরা একে অন্যকে চিনো?”
“হ্যা আম্মু। তোমায় বলেছিলাম না আমার বেস্টফ্রেন্ড সারার কথা যে SSCর পর গ্রামে চলে গিয়েছিলো।ওই তো সারা।”
আসফি শেষ। এতক্ষন বানিয়ে বানিয়ে সারাকে নিজের প্রেমিকা বলছিলো এখন কি করবে? মাথা কাজ করছেনা। সে চোরা চোখে সারার দিকে তাকায় যে একই ভাবে তাকিয়ে ছিলো।ইসফি মাঝে বলে:
“তাহলে তোর বান্ধবীর সাথে ভাইয়া…!আল্লাহ!তার মানে তুইও এসব জানতি? ভাইয়া তুমি আমায় কেন বললেনা?”
“কি জানতাম? তোমার কিসের কথা বলছো? আর সারা তুই হঠাৎ এখানে এই অবস্থায়? কিছু কি হয়েছে?”
সারা ভয় পায়।সে আমতা আমতা করে। কি বলবে সে? লোকটা এক কেচাল থেকে বাচাতে আরেক কেচালে ফাসিয়ে দিলো। ইসফি আবার বলে:
“তুই তাহলে জানিস না গাধী। ভাইয়ার ওর সাথে তিন বছর প্রেম করে বিয়ে করেছে পালিয়ে। কিন্তু তুই যদি নাইবা জানিস তবে ওকে ভাবি বলছিলি কেন?”
মিহির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। কিহ.. তার ভাই প্রেম করে বিয়ে করছে তাও আবার তার বান্ধবীকেই। এই দুটো থেকে একটাও তো প্রম করতোনা তার জানামতে। কি হচ্ছে এসব নিজের হাতে চিমটি কাটে। না স্বপ্ন না বাস্তব!আসফির চেহারা চোর ধরা পড়ার মতো। শায়লা বেগম মুখ বাকিয়ে বলেন:
“হুহ, এতোদিন বিয়ে্য কথা বললে বলতো সে বাচ্চা। আর এখন বউ নিয়ে হাজির। কি রে একদিনে বড় হয়ে গেলি। তোর মা তো কিছুদিন আগেও তোর বিয়ের কথা বললে নিজেকে বাচ্চা দাবি করতি। তখন বলে দিলেই পারতি অন্য কাউকে পছন্দ করিস শুধু শুধু মান সম্মান ডুবিয়েছিস কেন?”
“আহহা শায়লা চুপ করো। বলছে তো মেয়েটাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে চাইছিলো বলে এখন বিয়ে করেছে নাহয় পরে আমাদের জানিয়েই করতো এমন না হলে।”
আলম আহমেদের কথায় আবার শায়লা মুখ ভেংচি কাটে। মাহু ছুটে নিজের ঘরে চলে যায়। সে আর এসব শুনতে চাইনা। আহাদ আহমেদ এতক্ষন নীরব ছিলেন এখন গলা খাকড়ি দিয়ে ছেলের উদ্দেশ্যে বলেন:
"তুই যথেষ্ট বড় হয়েছিস আসফি। তাই এখানে আমার কিছু বলার প্রয়োজন মনে করছিনা। তুই যদি নিজের বউ পালার মতো নিজেকে যোগ্য ভাবিস তাহলে ভালো কথা। বউ পাল। আসমা বউকে বরণ করো।
#চলবে