এই গল্পে গোলাপ রাজ্য এক রাজকন্যা ছিল। তার নাম ছিল মনিমালা। মা বাবা তাকে আদর করে মণিমা বলে ডাকতো। রাজ্যের সবাই থাকে ভালোবাসতো সম্মান করতো। তিনি খুব নরম ও কমল হৃদয়ের রাজকন্যা ছিলেন। তিনি রাজ্যের মানুষকে সাহায্য করতেন। রাজকন্যা দেখতে খুবই সুন্দর ছিল।তাই সবাই তাকে গোলাপি রাজকন্যা বলে ডাকত। তার একটি গোলাপ ফুলের বাগান ছিল যেটা খুবই সুন্দর ছিল।তার বয়স ছিল মাত্র ১৭বছর। কিন্তু তার বিচক্ষণতা বুদ্ধি ছিল তার বয়সের চাইতে বেশি অনেক। প্রত্যক্ষ রাজ্যে রাজকুমার তাকে পছন্দ করতেন। রাজকুমারী কে যে রাজকুমার দেখতে আসুক না কেন তিনি তাদের একটি করে পরীক্ষা নিতেন। পরীক্ষাটি এমন ছিল যে রাজকন্যা তাদেরকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতেন।প্রশ্নটি হল আপনি যদি আমাকে বিবাহ করেন তাহলে তার বদলে আমি কি পাবো।অনেক রাজকুমার বলতো আমি আপনাকে স্বর্ণ দেব কেউবা বলতো আমি আপনাকে রুপো দেব এতে রাজকন্যা খুবই চিন্তিত হতেন। কারণ তিনি তার মনের মতো রাজকুমারকে খুঁজে পেতেন না। যার মধ্যে কোন দাম্ভিকতা নেই,নেই কোন অহংকার।যে খুব ভাল মনের মানুষ যার মনটা খুবই কমন ও নরম হৃদয়ের। একদম ঠিক তার মত।সব রাজকুমারই এভাবে প্রশ্নে ব্যর্থ হয়েছে । রাজকন্যার একটি কবুতর পাখি ছিল যে কথা বলতে পারতো।রাজকন্যা একদিন তার কবুতর পাখিটির সাথে তার কক্ষে বসে কথা বলছেন চিন্তিত হয়ে। তিনি বলছেন আমি কি আমার প্রকৃত ভালবাসার মানুষকে পাবো না। পাখিটি বলছে আপনি আশাহিত হবেন না।আপনার মনে আশা ঠিক পূরণ হবে। রাজকন্যা বলল কোথায় আর পূরণ হচ্ছে তবু আর একটু দেখি , পূরণ হয় কিনা। গল্পের ঠিক অন্য দিকে দেখা যায় শান্তপুরের এক রাজপুত্র ছিল।যার নাম ছিল শান্তরাজ।যিনি ছিলেন খুবই শান্ত এবং নরম হৃদয়ের মানুষ।তার মধ্যে কোন দাম্ভিকতা বা অহংকার ছিল না ছিল শুধু ভালোবাসা ও সম্মান ও স্নেহ বোধ তিনি খুব শান্ত ছিলেন। তার খুব ইচ্ছা ছিল রাজকন্যার সাথে দেখা করার।তিনি চেয়েছিলেন রাজকন্যা যাতে রাজ্যের লোকের বলার মত প্রকৃতপক্ষে দায়িত্বশীল রাজকন্যা যাতে হন।তাই তিনি একদিন ভাবলেন আজ আমি রাজকন্যার সাথে দেখা করব। তিনি গোলাপ রাজ্যে গেলেন।রাজ্যে প্রহরিয়া অবাক হয়েতাকে বলল আপনি কি রাজপুত্র।তিনি জবাবে বললেন হ্যাঁ।রাজ্যে এক প্রহরী অবাক হয়ে বলল,তাহলে আপনি এক্ষুনি ফিরে যান।তিনি বললেন আমি কেন ফিরে যাব ।এর পরে এক প্রহরী বলল আপনার আশা কখনো পূরণ হবে না। কারণ এই পর্যন্ত যত রাজকুমার এসেছেন উনারা তাদের কাছে ফিরে গিয়েছেন। তিনি বললেন কেন, প্রহরী বলল কেননা তাদের একটি করে রাজকন্যা পরীক্ষা নিতেন।যে পরীক্ষায় তারা সকলেই ব্যর্থ হতেন।এখন আপনি ভাবুন, আপনি কি সেই পরীক্ষার পরীক্ষায় সফল হবেন। তিনি বললেন রাজকন্যার যে পরীক্ষায় হোক না কেন আমি তাতে সফল হবার চেষ্টা করব।যদি আমার ভাগ্যে তিনি থাকেন তাহলে আমি অবশ্যই এতে সফল হব,নতুবা বিফল।কিন্তু চেষ্টা অবশ্যই করবো।তুমি আমাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দাও।আমি রাজকুমারী সাথে দেখা করতে চাই।তার প্রশ্নের জবাব দিতে চাই। তার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে চাই। তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন। রাজা তাকে বললেন তুমি কি রাজকুমার।কোন রাজ্যে থেকে এসেছো।তোমার নাম কি,তোমার পিতার পরিচয় কি। তুমি তুমি কি রাজকন্যাকে দেখতে এসেছো। রাজকুমার বলল আমি রাজকন্যাকে দেখতে এসেছি। আমার নাম শান্তরাজ।আমি শান্তপুরের একমাত্র রাজপুত্র।আমার পিতার নাম চাঁদ চাঁদরাজ। রাজা বলল তুমি তাহলে একটু অপেক্ষা কর। আমি এক্ষুনি প্রহরীকে দিয়ে রাজকন্যাকে ডেকে নিয়ে আসছিএবং তার সাথে রানী কেউ।কারণ তারাও তো জানা দরকার আজ তার আদরের মেয়ের ভাগ্যে কি হয়। রাণীমাকে ডেকে নিয়ে আনা হলো।রাজকন্যাকে প্রহরী ডাকতে আসলে রাজকন্যা যেতে বারণ করল।কবুতর পাখিটি বলল আপনি যান রাজকন্যা।আপনার যাওয়াটা প্রয়োজনীয়।কিন্তু রাজকন্যা মুখ ভার করে বসে থাকলেন। তিনি যেতে চাইলেন না।তখন প্রহরী বলল এইটা আপনার পিতার আদেশ কিন্তু। রাজকন্যা তখন মানা করতে পারলেন না।তিনি গেলেন এবং রাজপুত্রের সাথে দেখা করলেন, তিনি তাকে প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করলেন। জবাবে রাজপুত্র বললেন আমি জানিনা কতদিন আমার আমার এত বড় রাজপ্রাসাদ ও রাজ্য টিকে থাকবে।আমি চাই এসব যদি আমার কাছে নাও থাকে তবুও যেন আপনি আমাকে ভালোবাসেন। তাহলে আমি আপনাকে সারা জীবন সম্মান ও ভালোবাসবো দিব।আপনি এত সুন্দর সেই জন্য না বরং আপনি যে এত সুন্দর মনের মানুষ। আপনার কুৎসিত রূপ কেউ আমি ভালোবাসি আপনার মনের সুন্দর রূপকে দেখে।যার সাথে তুলনা হয় না কোন বিশ্ব সুন্দরীর। তিনি খুব আনন্দিত হয়ে বললেন, আমি আপনার সাথে সাথে বিবাহ করতে রাজি আছি।এতে রাজা ও রানী দুশ্চিন্তা দূর হলো এবং দুই রাজ্যে খুশির বন্যা বইল।আর এভাবেই গল্পটি এখানে সমাপ্ত হয়ে গেল।