রাত তখন প্রায় বারোটা। শহরের কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে গেছে। চারদিকে এক অদ্ভুত নীরবতা। শুধু মাঝে মাঝে কুকুরের ডাকে সেই নীরবতা ভেঙে যাচ্ছে।
রিমা নতুন বাড়িতে উঠেছে মাত্র তিন দিন হলো। বাড়িটা পুরোনো, কিন্তু ভাড়াটা খুব কম বলে সে আর বেশি কিছু ভাবেনি। প্রথম দুই রাত ঠিকঠাক কাটলেও তৃতীয় রাতে কিছু অস্বাভাবিক ঘটতে শুরু করল।
সে হঠাৎ শুনতে পেল—
“রিমা… রিমা…”
মনে হলো কেউ যেন খুব ধীরে তাকে ডাকছে। প্রথমে সে ভাবল, হয়তো স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু ডাকটা বারবার আসতে লাগল।
সে উঠে বসে চারপাশে তাকাল। ঘরে কেউ নেই। দরজা-জানালা সব বন্ধ। কিন্তু ডাকটা যেন তার কানের খুব কাছে থেকেই আসছে।
হঠাৎ তার চোখ পড়ল ঘরের কোণে রাখা পুরোনোআয়নাটার দিকে।
আয়নায় সে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখল… কিন্তু সেটি তার মতো আচরণ করছে না!
তার প্রতিচ্ছবিটি ধীরে ধীরে হাসতে লাগল—একটি বিকৃত, ভয়ংকর হাসি।
রিমা ভয়ে পিছিয়ে গেল।
ঠিক তখনই আয়নার ভেতর থেকে হাত বাড়িয়ে দিল সেই প্রতিচ্ছবি!
সে চিৎকার করে উঠল, কিন্তু তার গলা থেকে কোনো শব্দ বের হলো না।
মনে হলো কেউ তার গলা চেপে ধরেছে।
পরদিন সকালে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে।
রিমা বেঁচে ছিল… কিন্তু সে আর কথা বলতে পারত না।
আর সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার—
যখনই কেউ সেই আয়নার সামনে দাঁড়াত, তারা দেখত…
রিমার প্রতিচ্ছবি তাদের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলছে—
“এবার তুমি…”
39
View