গল্পের দ্বিতীয় অংশ বিয়ের পরে নিলয় যখন তার ফুলের ঝাপটা টা ওপরে তোলে তখন সবাই বুঝতে পারে এটি নিলয়। নীলিমা আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে আছে নিলয়ের দিকে।নিলয় কিছু না বলে তার ঘরে চলে গেল।তার মা ও তার ঘরে চলে গেল। তার মা তাকে বলল, নিলয় তোমার এমনটি করার কারণ কি তাহলে।তার মাকে সব খুলে বলল, তার মা তখনই অনামিকা ফোন করলো। অনামিকা তখনই বাড়িতে এসে হাজির।সে বুঝতে পারছে না এখানে কিছুক্ষণ আগে কি ঘটে গেছে। সবাই এরকম কেন তাও আবার তার বিয়ের দিনে। সবাইকে বলল আপনারা সবাই কেন এরকম হয়ে আছেন। ও বুঝেছি এখনো আমার বিয়ে হয়নি বুঝি। সেই জন্য এই গরিব মেয়েটির বিয়েতে আবার কেই বা আনন্দ করবে। তবু আজ একটু বিয়েআনন্দ করা যায়। কোন দিকে তখন নিলয় বন্ধু। সাগর তখন সেখানে উপস্থিত হল। সে সবাইকে বলল নীলিমা এভাবে কাঁদছে কেন।তখন নিলয় এসে বলল,বন্ধু ক্ষমা করিস।আমি তোর বউকে বিয়ে করে নিয়েছি। এতে তার বন্ধু সাগর খুব রাগান্বিত হল। আর সে বলল আমি এই বিয়েটা মানিনা।আমার আর নীলিমার আবার বিয়ে হবে। এই বিয়েটা ঠকবাজি করে হয়েছে। তখন নিলয় অনামিকা কে বলল তুমি কেন গিয়েছিলে। তখন অনামিকা বলল এ ব্যাপারে তোমার জানার কোন দরকার নেই এরকম করার পরেই কিভাবে জানতে চাইছো। তোমার লজ্জা করে না। তখন সবাই বললো তোমাদের যেভাবেই হোক বিয়েটা তো হয়েছে।এখন এই বিয়েটা তো মেনে নিতেই হবে।তখন নীলিমার পরিবার চলে গেল মন খারাপ করে।কারণ তাদের কিছু করার নেই। এরকম মেয়েকে দ্বিতীয়বার আর কেইবা বিয়ে করবে। মিলার বন্ধু বলল আজ আমি চলে যাচ্ছি কিন্তু আমি কাল আবার আসবো।আর হ্যাঁ নীলিমা তুমি কিন্তু এই ঘরে আশেপাশে একদম যাবে না। তুমি অন্য ঘরে থাকবে। নীলিমা ঠিক একই কাজ করলো।সে অন্য একটি ঘরে গেল।ঘরটি ছিল অনামিকার। অন্যদিকে নিলয় তার ঘরে এলো। এবং দেখল সেখানে কোথাও নীলিমা নেই। সে নীলিমাকে নীলিমাকে আশেপাশে খুঁজতে লাগলো। অনামিকা ঘর থেকে পেল। তখন সেখানে অনামিকা চলে আসলো বলল,তুই তো আমার ভালোবাসা কেউ দখল করেছিস এখন আমার ঘরটাকেও দখল করেছিস । এই বলে সে নীলিমা কে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল। তখন নিলয় বলল নীলিমা ঘরে চলো।তখনই সেখানে উপস্থিত হয়ে নিলয়ের মা বলল,এই মেয়ে তোর ঘরে যাবেনা।এই মেয়েটি রান্নাঘরে এক কোনায় শুয়ে থাকবে।তখন নীলিমা বলল, কেন এ বাড়িতে তো অনেক ঘরে আছে। আর তাছাড়াও এই বাড়িটার অর্ধেক ভাগ তো সাগরের। তাই আমি তাকে বলবো যে আপনারা আমাকে রান্না ঘরে রাখতে চান।তখন বিনীতা দিদি বলল, যা তোর যেখানে শোয়ার শুয়ে নে কিন্তু আমার ছেলে ঘরের আশেপাশেও যেন তোকে না দেখি। তখন নীলিমা কথা না বাড়িয়ে একটু
সুন্দর ঘর খোঁজে চলে গেল সেখানে। নিলয় সারারাত চিন্তা ভাবনায় কাটিয়ে দিল।অন্যদিকে সকালে উঠে দেখা যায়, বিনীতা দিদি নীলিমাকে ডাকছে আর বলছে আজ তোমার প্রথম রান্না।নীলিমা সেখানে আসলো, আর বলল আমার রান্না নয় বরং আপনার প্রথম রান্না। আমি কেন এই বিয়েটা মেনে নিয়ে রান্না করবো। আপনি তো আমাকে নিলয়ের বউ দেখেন না তাহলে আমি কেন রান্না করব। তখন নীলিমার শাশুড়িমা সেখান থেকে চলে গেল। তখনই সাগরের সাথে হলো নীলিমার দেখা হল। সে তাকে বলল তুমি কেন এই মিথ্যাবাদী এটা মেনে নেবে , তুমি আমার সাথে থাকবে। সাগর বললো আমি একজন উকিলকে ডেকেছি এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য। তখনই উকিল সেখানে হাজির হলো।আবার তখনই সেখানে বাড়ির সকলেই চলে আসলো। নিলয় বলল,এই উকিল কেন। সাগর জবাবে বলল তোমাদের দুজনের ডিভোর্সের জন্য উকিল নিয়ে আসা হয়েছে।এতে সাইন কর আর তোমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাও। তখন উকিল বলল, ইনাদের কতদিন ধরে বিয়ে হয়েছে। তখন সাগর বলল এই কালকেই হয়েছে।তাও আবার বরের মুখে ঝাপটা দিয়ে ঠকবাজির সাথে। তখন উকিল বলল, কাগজে কলম কি হয়েছে।বিনীত দিদি বলল হ্যাঁ। তাহলে এখনো এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। তাদের বিয়ের শুরু থেকে একমাস হওয়া পর্যন্ত তারা শুধু একে অপরকে এড়িয়ে যায়। এতে সাগর খুশি হয়ে আমেরিকায় চলে যায় যে ১১ মাস পরে সে নীলিমাকে নেওয়ার জন্য এখানে আসবে। অন্য দিকে অনামিকা প্রায় সময় নিলয় কাছে থাকতো এবং নীলিমাকে জেলাস ফিল করাতে চাই তো। কিন্তু নিলয় আস্তে আস্তে নীলিমাকে ভালবাসতে শুরু করল,তাদের পুরনো স্মৃতি মনে করে।নীলিমা নিলয়ের প্রতি একটু একটু দুর্বল হতে লাগলো। কিন্তু বুঝতে দিল না। সামনেই পূর্ণিমা রাত আসছে । নিলয় ভাবল এই পূর্ণিমার রাতে তার মনের কথা নীলিমাকে বললে কেমন হয়। দেখতে দেখতে পূর্ণিমার রাত চলে এল। এ পুরো বাড়ি সাজিয়েছে আর তার নিজের ঘরটিও। আজ পর্যন্ত কখনো নীলিমা নিলয় ঘরে যায়নি। দেখতে দেখতে সকাল কেটে সন্ধ্যা হয়ে গেল। নীলিমা অনামিকার ঘর থেকে একটি আওয়াজ পেল। সে সেখানে গেল। আর দেখতে পেল অনামিকা বসে আছে। সে জিজ্ঞাস করল আজ কি হয়েছে তোমার ঘর থেকে যে চিৎকার পেলাম।অনামিকা বলল,আমি একটু অসুস্থ ছিলাম তাই। তুমি এখান থেকে যাও। তখনই নীলিমা একটা দেখে চোখ যে আটকে গেল। অনামিকার ঘরে সাপের খোলস কোথা থেকে এলো আর কিভাবে এলো। সে অনামিকা বলল আঙ্গুল দেখিয়ে এটা কি। অনামিকা বলল ওইটা আমি শুটিংয়ের জন্য নিয়েছিলাম। নীলিমা তো পুরাই অবাক। যে মেয়ে সারাদিন ব্যস্ত থাকে সে আবার শুটিং কখন করে। সে সেখানে তার সন্দেহ নিয়ে ভাবতে ভাবতে চলে গেল। পরে ঘটনাতে খেয়াল দিলো না। ্ গল্পের তৃতীয় অংশটি দেরি করে আসবে।