Posts

উপন্যাস

“অচেনা থেকে আপন”

May 2, 2026

Saima Islam

66
View

বৃষ্টিভেজা এক বিকেল। আকাশ যেন মনের কথা বলছে—কখনো ঝরে পড়ছে টুপটাপ বৃষ্টি, আবার কখনো থেমে গিয়ে চারদিকে এক অদ্ভুত নীরবতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। সেই বিকেলেই সায়মার জীবনে শুরু হলো এক নতুন গল্প।
সায়মা ছোটবেলা থেকেই শান্ত স্বভাবের মেয়ে। খুব বেশি বন্ধু নেই, নিজের মতো করে বই পড়া আর স্বপ্ন দেখাই ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় কাজ। কিন্তু পরিবারের সিদ্ধান্তে একদিন হঠাৎ করেই তার বিয়ে ঠিক হলো আরিয়ানের সাথে—একজন দায়িত্বশীল, ভদ্র আর চুপচাপ স্বভাবের ছেলে।
প্রথম দেখা হয়েছিল এক সন্ধ্যায়। দুজনেই চুপচাপ বসেছিল, মাঝখানে শুধু এক কাপ চা আর কিছু অজানা প্রশ্ন। আরিয়ান প্রথমে একটু হাসলো, তারপর বলল,
“তুমি কি খুব কম কথা বলো?”
সায়মা একটু লজ্জা পেয়ে উত্তর দিল,
“হ্যাঁ… মানে, আমি সহজে সবার সাথে মিশতে পারি না।” আরিয়ান বলল,
“ভালোই তো। কম কথা বলা মানুষগুলোই সবচেয়ে গভীর হয়।”
সেই কথাটাই অদ্ভুতভাবে সায়মার মনে জায়গা করে নেয়।
তারপর দ্রুতই বিয়ের দিন চলে আসে। চারদিকে আনন্দ, কোলাহল, আত্মীয়দের ভিড়—সবকিছু যেন এক স্বপ্নের মতো লাগছিল। কিন্তু এই স্বপ্নের মাঝেই সায়মার মনে ছিল একটা অজানা ভয়—নতুন জীবন, নতুন মানুষ, সবকিছু কেমন হবে?
রাত গভীর হলে সব অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেল। ফুল দিয়ে সাজানো ঘরে বসে আছে সায়মা। তার বুকের ভেতরটা ধকধক করছে।
দরজা আস্তে করে খুলে ভেতরে ঢুকলো আরিয়ান। সে কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো, যেন ঠিক বুঝতে পারছে না কীভাবে শুরু করবে।
তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে বলল,
“আজ অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছো, তাই না?”
সায়মা মাথা নেড়ে হালকা হাসলো। আরিয়ান একটু দূরে বসে বলল,
“একটা কথা বলি? আমরা আজ থেকেই একে অপরের সবচেয়ে কাছের মানুষ হয়ে গেলেও, আমাদের সময় নিতে পারি। তাড়াহুড়ো করে কিছুই করতে হবে না।”
এই কথাটা শুনে সায়মার চোখে একরাশ স্বস্তি ফুটে উঠলো। সে ধীরে ধীরে বলল,
“ধন্যবাদ… আমি আসলে একটু ভয় পাচ্ছিলাম।”
আরিয়ান নরম কণ্ঠে বলল,
“ভয় পেলে আমাকে বলবে। আমি আছি তো।”
সেই রাতে তারা অনেক কথা বলেছিল—শৈশবের গল্প, অপূর্ণ স্বপ্ন, প্রিয় গান, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। সময় কখন কেটে গেল বুঝতেই পারেনি।
পরদিন ভোরে সায়মার ঘুম ভাঙলো পাখির ডাক শুনে। জানালা দিয়ে আলো ঢুকছে। পাশে তাকিয়ে দেখে, আরিয়ান ঘুমিয়ে আছে। তার মুখে একটা শান্ত হাসি।
সায়মার মনে হলো—এই মানুষটার সাথে হয়তো সে সত্যিই সুখে থাকতে পারবে।দিন যেতে লাগলো। ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক গভীর হতে শুরু করলো। শুরুতে যে অস্বস্তি ছিল, তা বদলে গেল বন্ধুত্বে, তারপর সেই বন্ধুত্ব রূপ নিল ভালোবাসায়।
একদিন সন্ধ্যায় ছাদে দাঁড়িয়ে ছিল তারা। আকাশে রঙিন সূর্যাস্ত।
আরিয়ান বলল,
“তুমি জানো, আমি আগে ভাবতাম বিয়ে মানে শুধু দায়িত্ব। কিন্তু এখন মনে হয়, এটা একটা সুন্দর যাত্রা—যেখানে দুজন মানুষ একে অপরকে ধীরে ধীরে আবিষ্কার করে।”
সায়মা হেসে বলল,
“আমিও তাই মনে করি। আগে সবকিছু অচেনা ছিল, এখন সবকিছুই নিজের মনে হয়।”
হঠাৎ হালকা বাতাসে সায়মার চুল উড়ে এসে মুখে পড়লো। আরিয়ান আলতো করে তা সরিয়ে দিল।
সেই ছোট্ট মুহূর্তটাই যেন হাজারটা কথার চেয়েও বেশি কিছু বলে দিল।
জীবনে ঝড়ও এলো। ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি, মন খারাপ, অভিমান—সবই ছিল। কিন্তু প্রতিবারই তারা কথা বলে সব ঠিক করে নিয়েছে।
কারণ তারা জানতো—ভালোবাসা মানে শুধু হাসি না, একে অপরকে বোঝা, ক্ষমা করা, আর পাশে থাকা।
একদিন রাতে সায়মা বলল,
“যদি কোনোদিন আমি ভুল করি?”
আরিয়ান হেসে বলল,
“তাহলে আমি ঠিক করে দেবো। আর যদি আমি ভুল করি, তুমি আমাকে ঠিক করে দেবে।”
সায়মা বলল,
“তাহলে আমরা কখনো হারবো না, তাই না?”
আরিয়ান উত্তর দিল,
“না, কারণ আমরা একসাথে আছি।”
বৃষ্টির শব্দ আবার জানালায় পড়তে লাগলো—ঠিক সেই প্রথম দিনের মতো।
কিন্তু এবার সবকিছু আলাদা।
কারণ অচেনা থেকে তারা এখন একে অপরের সবচেয়ে আপন মানুষ হয়ে উঠেছে।  বৃষ্টিভেজা সেই বিকেলের পর থেকে সায়মার জীবন যেন এক নতুন মোড় নিল। সবকিছু এত দ্রুত ঘটছিল যে, মাঝে মাঝে সে নিজেই অবাক হয়ে যেত—এটা কি সত্যি, নাকি কোনো গল্পের ভেতর দিয়ে সে হেঁটে যাচ্ছে?
বিয়ের পর প্রথম কয়েকটা দিন কেটে গেল আত্মীয়স্বজনের ভিড়, আনুষ্ঠানিকতা আর নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে নিতে। নতুন বাড়ি, নতুন মানুষ—সবকিছুই ছিল অচেনা, কিন্তু আরিয়ানের উপস্থিতি সবকিছু সহজ করে দিচ্ছিল।
সকালের দিকে সায়মা একটু আগে উঠে পড়ত। রান্নাঘরে গিয়ে শাশুড়ির সাথে সাহায্য করত। প্রথমদিকে অনেক ভুল হতো—কখনো লবণ বেশি, কখনো কম। কিন্তু কেউ তাকে বকতো না। বরং আরিয়ান হেসে বলত,
“তোমার রান্না যেমনই হোক, আমার কাছে এটা স্পেশাল।”
এই ছোট ছোট কথাগুলোই সায়মার মনে সাহস জোগাত।
একদিন দুপুরে সায়মা নিজের ঘরে বসে পুরনো ডায়েরি পড়ছিল। সেখানে তার অনেক স্বপ্ন লেখা—নিজের একটা ছোট লাইব্রেরি হবে, নিজের পছন্দের বই দিয়ে সাজানো একটা ঘর… কিন্তু বিয়ের পর সে ভাবছিল, এসব স্বপ্ন হয়তো আর পূরণ হবে না।ঠিক তখনই আরিয়ান এসে পাশে বসলো।
“কি পড়ছো?”
সায়মা একটু ইতস্তত করে বলল,
“পুরনো কিছু স্বপ্ন…”
আরিয়ান ডায়েরিটা হাতে নিয়ে পড়তে লাগলো। তারপর হেসে বলল,
“তুমি কেন ভাবছো এগুলো আর হবে না?”
সায়মা অবাক হয়ে তাকালো,
“মানে?”
“মানে, আমরা একসাথে চেষ্টা করলে সবই সম্ভব। তুমি তোমার লাইব্রেরি বানাবে—আমি তোমাকে সাহায্য করবো।”
সেই মুহূর্তে সায়মার চোখ ভিজে উঠলো। সে বুঝতে পারলো—এই মানুষটা শুধু তার স্বামী না, তার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট।
দিনগুলো এগিয়ে চললো। তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও গভীর হতে লাগলো। তারা একসাথে বাজারে যেত, মাঝে মাঝে রাস্তায় ফুচকা খেত, আর ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে বড় করে উপভোগ করত। একদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ করে তাদের মধ্যে একটু ঝগড়া হয়ে গেল। খুব ছোট একটা বিষয় নিয়ে—সায়মা মনে করেছিল, আরিয়ান তাকে সময় দিচ্ছে না। আরিয়ান ব্যস্ত ছিল অফিসের কাজে।
সায়মা চুপচাপ হয়ে গেল। কথা বলা বন্ধ করে দিল।
রাত হয়ে গেল, কিন্তু কেউ কারো সাথে কথা বলছে না।
হঠাৎ করে আরিয়ান এসে ধীরে বলল,
“আমরা কি এভাবে থাকবো?”
সায়মা চুপ।
আরিয়ান আবার বলল,
“তুমি যদি কষ্ট পাও, সেটা আমাকে বলবে না? আমি তো বুঝতেই পারবো না…”
সায়মার চোখে পানি চলে এলো।
“আমি শুধু চেয়েছিলাম তুমি একটু সময় দাও…”
আরিয়ান কাছে এসে বলল,
“আমি দুঃখিত… আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি।” সেই রাতে তারা অনেকক্ষণ কথা বললো। অভিমান গলে গেল, সম্পর্কটা আরও শক্ত হলো।
কারণ তারা শিখে গেল—ভালোবাসা মানে শুধু খুশির সময় না, কষ্টের সময়েও একে অপরকে বোঝা।
কয়েক মাস পর, একদিন আরিয়ান হঠাৎ করে সায়মাকে ছাদে ডাকলো।
ছাদে গিয়ে সায়মা অবাক হয়ে গেল—ছোট ছোট লাইট দিয়ে সাজানো, এক কোণে কয়েকটা বুকশেলফ রাখা।
“এগুলো কি?”—সায়মা জিজ্ঞেস করলো।
আরিয়ান হেসে বলল,
“তোমার স্বপ্নের শুরু। ছোট একটা লাইব্রেরি।”
সায়মার চোখে আবার পানি চলে এলো।
“তুমি এত কিছু করলে আমার জন্য?”
“কারণ তোমার স্বপ্ন মানেই এখন আমার স্বপ্ন।”
সেই রাতটা ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোর একটা।
সময়ের সাথে সাথে তাদের সম্পর্ক আরও পরিণত হলো। তারা একে অপরকে বুঝতে শিখলো, জায়গা দিতে শিখলো, আর একসাথে বড় হতে শিখলো।
এক বছর পর, তাদের জীবনে এলো আরেকটা নতুন সুখবর।
সায়মা একদিন কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“আমাদের জীবনে হয়তো আরেকজন আসতে চলেছে…”
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো, তারপর ধীরে হাসলো।
“সত্যি?”
সায়মা মাথা নেড়ে হেসে ফেললো।
আরিয়ান আনন্দে তাকে জড়িয়ে ধরলো—সেই আলিঙ্গনে ছিল ভবিষ্যতের হাজারটা স্বপ্ন।
তারপর শুরু হলো নতুন এক অধ্যায়—আরও দায়িত্ব, আরও ভালোবাসা, আরও যত্ন।
রাত জেগে গল্প করা, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করা—সবকিছু যেন নতুন রঙ পেল। একদিন বৃষ্টির রাতে, জানালার পাশে বসে ছিল তারা দুজন।
সায়মা বলল,
“তুমি জানো, আমি কখনো ভাবিনি আমার জীবন এত সুন্দর হবে।”
আরিয়ান নরম কণ্ঠে বলল,
“এটা তো শুধু শুরু… সামনে আরও অনেক গল্প বাকি।”
বাইরে বৃষ্টি পড়ছিল, ঠিক সেই প্রথম দিনের মতো।
কিন্তু এবার তারা একা না—তাদের ভালোবাসা, তাদের স্বপ্ন, আর তাদের ছোট্ট নতুন পৃথিবী—সব একসাথে ছিল। বৃষ্টির সেই প্রথম দিনের কথা এখনো মাঝে মাঝে মনে পড়ে সায়মার। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে যখন সে বাইরে তাকায়, তার মনে হয়—জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলো হয়তো এমনই নিঃশব্দে আসে।
বিয়ের পর কেটে গেছে কয়েক বছর।
তাদের ছোট্ট পরিবার এখন আর শুধু দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাদের জীবনে এসেছে এক নতুন আলো—তাদের ছেলে, আরিহান।
আরিহান জন্মানোর পর সায়মার জীবন পুরো বদলে গেল। রাত জেগে থাকা, ছোট ছোট কান্না, হাসি—সব মিলিয়ে নতুন এক দায়িত্ব। প্রথমদিকে অনেক কষ্ট হতো, কখনো ক্লান্তিতে চোখ ভিজে যেত।
এক রাতে আরিহান অনেকক্ষণ ধরে কাঁদছিল। সায়মা ক্লান্ত হয়ে চুপচাপ বসে ছিল। তখন আরিয়ান এসে ধীরে বলল,
“তুমি একটু বিশ্রাম নাও, আমি সামলাচ্ছি।”
সায়মা অবাক হয়ে তাকালো,
“তুমি তো কাল অফিসে যাবে…”
আরিয়ান হেসে বলল,
“অফিস আবার হবে, কিন্তু এই সময়টা তো আর ফিরে আসবে না।”এই কথাটা শুনে সায়মার মনটা ভরে গেল।
ধীরে ধীরে তারা শিখে গেল—কিভাবে একসাথে সব দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হয়।
দিনগুলো এগিয়ে যেতে লাগলো। আরিহান একটু একটু করে বড় হতে লাগলো। তার প্রথম হাঁটা, প্রথম কথা বলা—প্রতিটা মুহূর্তই তাদের জন্য ছিল একেকটা উৎসব।
একদিন বিকেলে আরিহান দৌড়ে এসে বলল,
“মা, বাবা… আমি আজ স্কুলে স্টার পেয়েছি!”
সায়মা আনন্দে তাকে জড়িয়ে ধরলো, আরিয়ান গর্বের হাসি দিল।
এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ হয়ে উঠলো।
কিন্তু জীবন তো সবসময় সহজ থাকে না।
একসময় আরিয়ানের অফিসে সমস্যা শুরু হলো। কাজের চাপ বাড়তে লাগলো, আর একদিন হঠাৎ করে সে চাকরি হারালো।
ঘরে নীরবতা নেমে এলো।
আরিয়ান নিজেকে খুব ছোট মনে করতে লাগলো। সে চুপচাপ হয়ে গেল, কারো সাথে ঠিকমতো কথা বলতনা।
এক রাতে সায়মা তার পাশে এসে বসলো।
“তুমি এত চুপচাপ কেন?”
আরিয়ান নিচু স্বরে বলল,
“আমি তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারলাম না…”
সায়মা তার হাত ধরে বলল,
“তুমি আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। একটা চাকরি চলে গেলে তুমি শেষ হয়ে যাও না।”
আরিয়ান চুপ করে রইলো।
সায়মা আবার বলল,
“তুমি কি ভুলে গেছো? তুমি আমাকে আমার স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করেছিলে। এবার আমার পালা।”
এই কথাগুলো যেন আরিয়ানের ভেতরে নতুন সাহসজাগিয়ে তুললো।
সেই সময় সায়মা তার ছোট লাইব্রেরিটাকে বড় করার সিদ্ধান্ত নিল। ধীরে ধীরে সেটা একটা ছোট বুকশপে পরিণত হলো।
আরিয়ানও নতুন করে চেষ্টা শুরু করলো। অনেক ইন্টারভিউ, অনেক ব্যর্থতার পর একদিন সে আবার একটা ভালো চাকরি পেল।
সেই দিনটা ছিল তাদের জীবনের আরেকটা বিজয়ের দিন।
রাতে তারা ছাদে বসে ছিল—যেখানে একসময় সেই ছোট লাইব্রেরির শুরু হয়েছিল।
আরিয়ান বলল,
“তুমি না থাকলে আমি পারতাম না।”
সায়মা হেসে বলল,
“আমরা না থাকলে কেউই পারতাম না।”
বছরগুলো কেটে গেল।
আরিহান বড় হয়ে উঠলো—নিজের স্বপ্ন নিয়ে, নিজের লক্ষ্য নিয়ে।একদিন সে এসে বলল,
“আমি বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করতে চাই।”
সায়মার চোখে একটু পানি চলে এলো, কিন্তু সে হাসলো।
“তুমি যা চাও, সেটাই করবে।”
আরিয়ান বলল,
“আমরা সবসময় তোমার পাশে আছি।”
আরিহান চলে যাওয়ার দিন, বাড়িটা হঠাৎ করে ফাঁকা লাগতে শুরু করলো।
রাতে সায়মা বলল,
“বাড়িটা কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেছে…”
আরিয়ান হেসে বলল,
“আবার আমরা দুজন হয়ে গেলাম… ঠিক আগের মতো।”
সায়মা একটু হেসে তার কাঁধে মাথা রাখলো।সময়ের সাথে সাথে তারা আরও পরিণত হলো। চুলে পাক ধরলো, মুখে বয়সের ছাপ পড়লো—কিন্তু তাদের ভালোবাসা যেন আরও গভীর হলো।
একদিন বিকেলে, ঠিক সেই বৃষ্টির মতো একটা দিনে, তারা জানালার পাশে বসে ছিল।
সায়মা ধীরে বলল,
“তুমি কি জানো, আমি এখনো সেই প্রথম দিনের মতোই তোমার সাথে থাকতে ভালোবাসি।”
আরিয়ান তার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আর আমি এখনো প্রতিদিন নতুন করে তোমার প্রেমে পড়ি।”
বাইরে বৃষ্টি পড়ছিল, ভেতরে এক শান্ত উষ্ণতা।
জীবনের এতগুলো বছর পেরিয়ে এসে তারা বুঝতে পেরেছে—ভালোবাসা মানে শুধু শুরুটা সুন্দর হওয়া না, শেষ পর্যন্ত একসাথে থাকা।
অচেনা থেকে শুরু হওয়া সেই গল্প আজ হয়ে উঠেছে এক পূর্ণ জীবন—যেখানে আছে হাসি, কান্না, লড়াই, স্বপ্ন, আর এক অটুট বন্ধন।শেষ বিকেলের আলোয় বসে তারা দুজন যখন একে অপরের হাত ধরে থাকে, তখন মনে হয়—
গল্পটা শেষ হয়নি,
এটা এখনো চলতেই আছে… 💖

Comments

    Please login to post comment. Login