Posts

উপন্যাস

ভালোবাসার আবদার ৬

May 2, 2026

সামিরা আক্তার ইন্নি

24
View

মনে পাথর চাপা দিয়ে ছেলের বউ বরণ করলেন আসমা বেগম। তিনি ভিষন কষ্ট পেয়েছেন। এই ছেলেকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন। ছেলে তার হিরের টুকরো। কক্ষনো কোনোকিছুতে জ্বালায়নি। তিনি চেয়েছিলেন ছেলের বউ দেখে শুনে মন মতো একটা মেয়েকে আনবেন। যে পুরো বাড়িকে সামলাতে পারবে। যার বুঝ বুদ্ধি থাকবে। দেখতে সুন্দরী হবে। সারাও কম না। হলুদ ফর্সা গায়ের রঙ। সরু নাক। হালকা ঠোঁট। হালকা গুলগাল। গালগুলোকে টমেটো বা রসগোল্লার সাথেও তুলনা করা যায়। কোমর পর্যন্ত চুল। যা মোটাও না আবার পাতলাও না।

আসমা বেগম বউ বরণ করেই নিজের রুমে চলে যান। আসফি মায়ের যাওয়া দিকে কিছুসময় তাকিয়ে থেকে মিহিকে বলল:

“মিহি, যা ওকে দাদুর সাথে দেখা করিয়ে আন।”

মিহি মাথা নারিয়ে চলে যায় সারাকে নিয়ে। পিছন পিছন ইসফিও যায়। আসফি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মা-বাবার রুমের দিকে পা বারায়।

আসফির দাদি সৈয়দা বেগম শুয়ে শুয়ে পান চিবাচ্ছিলো।হঠাৎ নাতি নাতনির সাথে অচেনা বেনারসি পরিহিতা রমনীকে দেখে ওঠে বসেন।ইসফি দাত কেলিয়ে হাসতে হাসতে লাফিয়ে সৈয়দা বেগমের বিছানায় ওঠে বলে:

“বুড়ি দেখো দেখো, কাকে এনেছি। তোমার দিন ফুরিয়েছে বুড়ি। তোমার সোয়ামি বিয়ে করেছে। দেখো.!”

“মানে কি বলছিস? পাগল হয়েছিস? আমার সোয়ামি তো ব্যবসার কাজে গেছে তাহলে বিয়ে করবে কিভাবে শয়তান?”

বলতে বলতে হাত বাড়িয়ে ইসফির কান মুচড়ে দেয়। ইসফি বুড়িকে ভেংচি দেয়। মিহি সারাকে সৈয়দা বেগমের পাশে বসিয়ে নরম স্বরে বলে:

“ছোট ভাইয়া ঠিকি বলছে দাদু।বড় ভাইয়া বিয়ে করেছে।”

সৈয়দা বেগম এবার দুষ্টামি ছেড়ে সারার দিকে মনোযোগী হয়। মাথায় লাল ওড়নার হিজাব বাধা। মাথা নিচু করে রেখেছে।সারার থুতনিতে হাত রেখে নরম কন্ঠে বলেন:

“তুই সত্যিই আমার সোয়ামির বউ।”

“আরে হ্যাঁ গো। তোমার সোয়ামি ফিরার পথে বউ নিয়ে এসেছে।”

ইসফি আবারো হাসে। সৈয়দা বেগম অদ্ভুত দৃষ্টিতে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে মুচকি হেসে বলেন:

“যাক, আমার সোয়ামির সুবুদ্ধি হলো তবে। মরার আগে তার বউ দেখার অনেক সখ ছিলো আজ তা পূরণ হলো। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ। শুকরিয়া মাবুদ। তা তোর নাম কি মেয়ে?বাবা কি করে? বাসা কোথায়? "

“স..”

সৈয়দা বেগম মিহিকে বলতে নিষেধ করলো। সে সারার মুখ থেকেই শুনতে চায়।

“তুই বল মেয়ে?”

“সারা আহমেদ।আমার বাবা সফিক আহমেদ ফার্মাসিস্ট।বিটগর গ্রামের থাকি।"

সৈয়দা বেগম ঠোঁট গোল করে ও করে।

“তা আমার সোয়ামিকে পেলি কোথায়?”

এই যা হলো। এখন কি বলবে? যে বিয়ে থেকে পালাতে গিয়ে উনার সোয়ামির বুকে পড়েছে এবং মানুষ উল্টা পাল্টা ভেবে মারা খাওয়াইছে মানে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। সারা ঠোঁট ভিজায়। মিহিও ঢেপঢেপ করে তাকিয়ে আছে। আর ইসফির তো কথায় নেই। এসব বিষয়ে তার মারাত্মক আগ্রহ।

“রাস্তায় নেটওয়ার্ক খুজছিলাম হঠাৎ একটা পরি আমার বুকে বা  পাশ হামলে পড়লো তাই শাস্তি স্বরূপ বাড়ি নিয়ে এলাম বুঝলে।”

সারাসহ সবাই সহসা দরজার দিকে তাকায়। আসফি দাড়িয়ে আছে। সারা এমন ভাবে তাকালো যা বুঝানো দায়।

সারাদিন সারা মিহির রুমেই ছিলো।তাকে পড়ার জন্য আসম বেগম নিজের একটা শাড়ি দিয়েছে।  রাতে আসমা বেগম সরাকে একজোড়া বালা আর কানের একজোড়া দিলো। তিনি বড় ছেলের বউয়ের জন্য রেখেছিলেন এগুলো।শায়লা বেগম নাকের টপ এনেছিলেন কিন্তু দুঃখজনক ভাবে সারার নাকই এখনো ফুটানো হয়নি তাই আবার নিয়ে গেছেন। যাওয়ার আগে মুখ ভেংচি দিতে ভুলেনি মুটেও।সারাকে আসফির রুমে নিয়ে যাওয়া হলো।

#চলবে

Comments

    Please login to post comment. Login