Posts

উপন্যাস

বার্নেড হার্ট-পর্ব ৫.২

May 2, 2026

Arora

87
View



ঘরের ব'দ্ধ দরজার ওপাশে তখনো মেহমানদের কণ্ঠস্বর আর হাসির কলরব শোনা যাচ্ছে। অরা ঘরের ভেতর অ'স্থির হয়ে পায়চারি করতে শুরু করল। তার দুই হাত শক্ত করে মুষ্টি'বদ্ধ, মাথার ভেতর হাজারটা চিন্তা জ'ট পাকিয়ে যাচ্ছে। একবার সে খাটে বসছে, আবার ধড়'ফড় করে উঠে দাঁড়িয়ে জানালার দিকে যাচ্ছে।

সে পায়চারি করতে করতে বিড়বিড় করে নিজেকেই বলতে লাগল, "অরা, কাজটা তুই মোটেও ঠিক করলি না। এভাবে ঘরের দরজা আটকে বসে থেকে তুই তো নিজেই নিজের হা'র স্বীকার করে নিলি। তুই ভেতরে ঢুকে গেছিস বলে এখন নিশাত আয়ান ভাইয়ের আশেপাশে ঘোরার আরও বেশি সুযোগ পেয়ে গেল! মাঠ খালি পেয়ে ও তো এখন গোল দিয়ে দেবে।"

অরা হঠাৎ আয়নার সামনে গিয়ে থামল। নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে তার চোখ দুটো জ্ব'লে উঠল। নয় বছর আগের সেই জেদি মেয়েটা যেন আবার তার ভেতরে জেগে উঠেছে। সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ওড়নাটা শক্ত করে কাঁধের ওপর টেনে দিল।ঠোঁট কা'মড়ে ধরে সে নিজেকে শাসা'নোর সুরে বলল, "উঁহু! অরা নিজের জিনিসে কোনোদিন কাউকে ছাড় দেয় না, আর দেবেও না।নিজের জিনিস কী করে আদায় করে নিতে হয়, সেটা অরা খুব ভালো করেই জানে।"

অরা যখন দরজার হাতলে হাত দিল, ঠিক তখনি আরশি হন্ত'দন্ত হয়ে ঘরে ঢুকল। "আপু! তুমি এখানে কী করছ? নিচে সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। চলো জলদি!" আরশির টানে অরা নিচের তলার দিকে পা বাড়াল।

নিচে নামতেই অরা দেখল পুরো বসার ঘর লোকে লোকারণ্য। সোফার একপাশে বড়রা গ'ম্ভীর মুখে পারিবারিক আলাপ করছেন। অন্য পাশে সাইফ, আবির আর আয়ানের বাকি মামাতো ভাই-বোনেরা মিলে তুমুল হু'ল্লোড় করছে। কিন্তু অরার নজর আটকে গেল মাঝখানের সোফাটায়।

সেখানে আয়ান একমনে ফোন স্ক্রল করছে, আর তার ঠিক পাশেই ঘাড় বাঁ'কিয়ে বসে আছে নিশাত। নিশাত অনবরত বকবক করে যাচ্ছে, মাঝে মাঝে হাসছে, আর আয়ানকে কিছু দেখানোর জন্য বারবার তার দিকে ঝুঁ'কে পড়ছে। আয়ান খুব একটা উত্তর না দিলেও সে যে ওখানেই বসে আছে, এটাই নিশাতের জন্য বড় জয়।

অরা এক মুহূর্তও দেরি করল না। সে গটগট করে এগিয়ে গেল তাদের দিকে। কোনো দ্বিধা বা জড়তা ছাড়াই সে সরাসরি আয়ানের একটা হাত শ'ক্ত করে ধরল। আয়ান চমকে গিয়ে ফোনের দিক থেকে মুখ তুলে তাকাল।

অরা কোনো ভূমিকা ছাড়াই আয়ানকে একরকম টেনে সোফা থেকে দাঁড় করিয়ে দিল। তারপর আয়ানের দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় পাশের একটা সিঙ্গেল সোফা দেখিয়ে দিল, যেখানে একজন আরাম করে বসতে পারে। আয়ান কিছু বলার সুযোগ পাওয়ার আগেই অরা তাকে সেখানে বসিয়ে দিয়ে নিজে গিয়ে দ্রুত নিশাতের পাশে বসে পড়ল—ঠিক যে জায়গাটিতে একটু আগে আয়ান বসে ছিল।

পুরো ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটল যে নিশাত হত'ভম্ব হয়ে গেল। সে চোখ বড় বড় করে অরার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "এই! এটা কী হলো অরা? তুমি আয়ান ভাইকে উঠিয়ে দিলে কেন?"

অরা খুব শান্ত আর নির্বিকার ভঙ্গিতে সোফায় হেলান দিয়ে বসল। তারপর নিশাতের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে হাসিমুখে বলল, "এটা আমার জায়গা নিশাত। আমি সব সময় এখানেই বসি।আমার জায়গা অন্য কেউ নিবে তা আমার পছন্দ না। তা সে যেই হোক।‘’

অরার এই সরাসরি'দখল‘’দারিত্ব' দেখে নিশাত একদম থমকে গেল। সে বুঝতেই পারল না এর উত্তরে কী বলা উচিত। এদিকে আরশিও আর দেরি না করে অরার অন্য পাশে গিয়ে ধপ করে বসে পড়ল।

আয়ান তার সিঙ্গেল সোফাটায় বসে পুরো দৃশ্যটা দেখছিল। সে খুব ভালো করেই জানে, অরা কেন এই কাণ্ডটা করল। তার ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। সে বুঝতে পারল, তার 'রাজরাণী' মোটেও তার রাজত্ব ছেড়ে দিতে রাজি নয়। অরা যে তার অধিকার ফিরে পেতে মরিয়া, সেটা এই ছোট অথচ সাহসী পদক্ষেপেই পরিষ্কার হয়ে গেল।

সার ঘরের বাকি হইচইয়ের মাঝে ওই সোফাটায় যেন এক অদৃশ্য বরফ শীতল যু'দ্ধ শুরু হলো, যেখানে অরা বিজয়ী হাসিতে নিশাতের দিকে তাকিয়ে রইল। আয়ান ফোনটা পকেটে রেখে এক অন্যরকম তৃপ্তি নিয়ে অরার দিকে তাকিয়ে রইল।

নিশাতের মুখটা তখন দেখার মতো হয়েছে। সে চট করে কিছু বলতে পারছিল না, শুধু রা‘’গে গলার রগগুলো ফুলে উঠছে। অরা তখন খুব আয়েশ করে সোফায় পিঠ ঠেকিয়ে বসল, সে আড়চোখে একবার আয়ানের দিকে তাকাল। আয়ান তখনো সেই বাঁকা হাসিটা ঠোঁটে ঝুলিয়ে রেখেছে। তার চোখেমুখে এক ধরনের অদ্ভুত তৃপ্তি—সে যেন এই যু‘’দ্ধটা বেশ উপভোগ করছে।

নিশাত অসহায়ের মতো একবার আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল, "তা আয়ান ভাইয়া, তুমি কি এভাবেই অন্য সোফায় বসে থাকবে? এখানে তো কত জায়গা!"

আয়ান ফোনের ওপর থেকে চোখ না তুলেই খুব শান্ত গলায় বলল, "না রে নিশাত, এখানটা বেশ আরামদায়ক। তাছাড়া অরা যখন বলেছে এখানে বসতে, তখন তো আর কথা চলে না। ও তো ছোটবেলা থেকেই জে‘’দি, আর ওর জে‘’দের ওপর কথা বলা মানেই বি'পদ।"

অরা মনে মনে ভাবল, ‘হ্যাঁ, জে'দ তো দেখবেই! নিজের জিনিস কীভাবে সামলাতে হয় সেটা অন্তত আমি জানি।’ ঠিক এই সময় আরশি অরার কানে কানে ফিসফিস করে বলল, "আপু, তোমার তে‘’জ দেখে তো নিশাত আপুর মুখ চুন হয়ে গেছে! জাস্ট ফাটা‘’ফাটি।"

অরা মুখে কিছু বলল না, শুধু আরশির দিকে তাকিয়ে একটা রহস্যময় হাসি দিল। বড়দের আড্ডার মাঝে আবির আর সাইফ তখন ভিডিও গেম নিয়ে চিৎ‘’কার করছিল।

ছোটো আব্বু শফিক শেখ তিনি খুব ফ্রী মাইন্ড এর একজন লোক। ছোটোদের সাথে তার ভালো জমে। তিনি একসময় আয়ানকে ডেকে বললেন, "আয়ান, শোন। তোর মামাতো ভাই-বোনরা তো আজ সব এখানেই থাকবে। কালকে ভাবছি তোদের সবাইকে নিয়ে একটু বের হব। অনেকদিন তো সবাই একসাথে হওয়া হয় না।"

আয়ানের চোখ চলে গেল অরার দিকে। সে দেখল অরা তখনো বেশ ভাব নিয়ে সোফায় বসে আছে। আয়ান হাসিমুখে জবাব দিল, "অবশ্যই ছোটো আব্বু । বাড়ির ছোটরা যেখানে যেতে চায়, সেখানেই যাব।"

নিশাত সুযোগ পেয়েই বলল, "ভাইয়া, আমরা না হয় কাল সেই নতুন থিম পার্কটায় যাই? ওখানে নাকি খুব মজা হয়!"

নিশাত যখন খুব উৎসাহ নিয়ে থিম পার্কে যাওয়ার কথা বলছিল, অরা তখন নিজের ওড়নার খুঁট আঙুলে পেঁচাতে পেঁচাতে বেশ বি‘’রক্তি নিয়ে তাকাল। ও জানে, নিশাত আপু আসলে আয়ান ভাইয়ের সাথে একটু বেশি সময় কাটানোর জন্য এসব ফ‘’ন্দি আঁটছে।

অরা একটু ঠোঁট উল্টে নাক কুঁচকে বলল, "থিম পার্ক? ওই রোদের মধ্যে ধুলোবালি মেখে লাফালাফি করতে আমার একটুও ভালো লাগে না। তার চেয়ে কোথাও শান্তিতে বসে আইসক্রিম খাওয়া বা নদীর পাড়ে ঘুরতে যাওয়া অনেক ভালো।"

নিশাত এবার কিছুটা বি‘’রক্ত হয়েই বলল, "কেন অরা? পার্কে গেলে কী হয়? কত বড় বড় রাইড আছে, সবাই মিলে ছবি তুলব, মজা হবে! আয়ান ভাইয়া, তুমি বলো না—পার্কটাই ভালো না?"

আয়ান এবার বেশ বিপাকে পড়ল। সে দেখল একদিকে অরার ওই চিরচেনা জে‘’দি মুখ, আর অন্যদিকে নিশাতের পীড়া‘’পীড়ি। আয়ান একটু হেসে অরার চোখের দিকে তাকিয়ে দু‘’ষ্টুমি করে বলল, "থিম পার্ক কিন্তু মন্দ না। তুই কি খুব ভ'য় পাচ্ছিস নাকি? ডর‘’পোকের মতো রাইড দেখে পালিয়ে যাবি না তো?"

আয়ানের এই ‘ডর‘’পোক’ বলাটা অরার একদম সহ্য হলো না। ও সাথে সাথে সোজা হয়ে বসে জেদের সুরে বলল, "আমি? আমি কাকে ভয় পাই! আমি জাস্ট বলছিলাম রোদে চেহারা কালো হয়ে যাবে। আর আমার সামনে এতো বড় একটা পরীক্ষা, পরীক্ষার আগে শরীর খা;‘’রাপ হলে আপনি দায়িত্ব নেবেন?"

আয়ান এবার একটু ঝুঁকে এসে অরার খুব কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, "কেন? তোর দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তো আমি আছিই। রোদে তোকে একটুও পু‘’ড়তে দেব না, প্রমিস!"

আয়ানের এই নিচু স্বরের কথা আর চোখের চাহনিতে অরা মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। ওর বুকের ভেতরটা কেমন জানি শিরশির করে উঠল। নিশাত যখন বিজয়ী হাসিতে হাসছিল, অরা তখন মনে মনে একটা মোক্ষম ফ‘’ন্দি আঁটল। ও ভাব নিয়ে বলল, "ঠিক আছে, যখন সবাই যেতেই চাচ্ছেন—যাব। তবে একটা শর্ত আছে। আমার কোনো রাইড পছন্দ না হলে আমি কিন্তু তাতে উঠব না, আর তখন তুমিও কোথাও যেতে পারবে না, আমার সাথে নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে!"

আয়ান মাথা নেড়ে সায় দিয়ে বলল, "মহারানীর যা হুকুম! কাল তাহলে পার্ক মিশনই ফাইনাল।"

আরশি পাশ থেকে ফো‘’ড়ন কাটল, "আপু, চিন্তা করো না। পার্কে গেলে কিন্তু তোমার সেই ‘পিন্টারেস্ট স্টাইল’ এর দারুণ সব ছবি তোলা যাবে। আয়ান ভাইয়াকে বলব তোমার একশটা ছবি তুলে দিতে!"

ছবির কথা শুনে অরার মনটা একটু শান্ত হলো। 
বড়দের খাবারের ডাক পড়লে সবাই ডাইনিং টেবিলের দিকে এগোতে শুরু করল। অরা যাওয়ার সময় আড়চোখে একবার নিশাতকে দেখে নিয়ে মনে মনে বলল, ‘পার্কে গিয়ে রাইডে চড় নিশাত, কিন্তু আইসক্রিম হাতে নিয়ে আয়ান ভাইয়ের পাশে আমিই হাঁটব, দেখে নিয়ো!’

অরা একটা তৃপ্তির হাসি নিয়ে ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল, যেন কালকের যু‘’দ্ধের জন্য ও এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

ডাইনিং টেবিল তখন লোকে লোকারণ্য। বাড়ির কর্ত্রী আছিয়া খান টেবিলের মাথায় বসে গম্ভীর মুখে সব তদারকি করছেন। তাঁর বাঁ পাশে বসেছেন মেজ ছেলে আনোয়ার শেখ আর ডান পাশে বড় ছেলে মফিজ শেখ। আয়ান বসেছে তার বাবা মফিজ শেখের পাশেই।

মেজ মা মায়া বেগম আর ছোট মা সুফিয়া বেগম তড়িঘড়ি করে খাবার পরিবেশন করছেন। বড় মা জয়া বেগম রান্নাঘর থেকে একের পর এক গরম পদ পাঠিয়ে দিচ্ছেন। আছিয়া খান একবার চশমার ওপর দিয়ে তাকিয়ে মেজ বউকে বললেন, "মায়া, বড় ইলিশের টুকরোটা আয়ানের পাতে দে তো। ছেলেটা বাইরে থেকে এসেছে, ওর শরীরের যা শ্রী হয়েছে!"

সুফিয়া বেগম হাসিমুখে এক বাটি মাংস নিয়ে এসে বললেন, "মা, আমি তো খাসির রেজালাটা আয়ানের জন্যই নিয়ে আসছিলাম। ও তো এটা খুব পছন্দ করে।"

ঠিক তখন নিশাত আবদার করে বলল, "আয়ান ভাইয়া, আমি তোমাকে এই চিকেন রোস্টটা দিই? এটা কিন্তু খুব স্পা‘’ইসি!"

অরা তখন আয়ানের উল্টো পাশে বসে নিজের প্লেটে সালাদ নিচ্ছিল। সে খুব শান্তভাবে কিন্তু স্পষ্ট গলায় বলল, "নিশাত, আয়ান ভাইয়া এখন আর অত ঝা‘’ল খেতে পারে না। বড় মা ওর জন্য আলাদা করে কম ঝালের ভুনা করেছে, ওটাই ওর জন্য ভালো হবে।"

আয়ান অরার দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হাসল। বড় মা জয়া বেগম রান্নাঘর থেকে এসে বললেন, "হ্যাঁ নিশাত, অরা ঠিকই বলেছে। আমি আয়ানের জন্য আলাদা করেই রান্না করেছি।"

অরা মনে মনে বেশ খুশি হলো।

খাবার শেষে আছিয়া খান যখন সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "কাল নাকি তোরা সবাই পার্কে ঘুরতে যাবি? মফিজ, আনোয়ার—তোমরাও সাথে যাও না কেন?"

মেজ বাবা আনোয়ার শেখ হেসে বললেন, "না মা, আমরা গিয়ে কী করব? আয়ান আছে তো, ওই ছোটদের সামলে রাখবে। তাছাড়া অরার সামনে পরীক্ষা, ওকে একটু চোখে চোখে রাখতে হবে।"

আয়ান এবার অরার দিকে সরাসরি তাকিয়ে দু‘’ষ্টুমি করে বলল, "মেজ আব্বু, আপনি চি‘’ন্তা করবেন না। আমি ওঁকে একদম চোখে চোখে রাখব।‘’

সুফিয়া বেগম তখন আরশি আর সাইফকে সামলাতে ব্যস্ত। আরশি সুযোগ বুঝে বলল, "আয়ান ভাইয়া, কাল কিন্তু পার্কে আমাকে অনেকগুলো আইসক্রিম কিনে দিতে হবে!"

আয়ান হাসিমুখে বলল, "অবশ্যই।‘’

রাত তখন প্রায় ১১টা। বাড়ির বড়রা সবাই নিচের তলায় আড্ডায় ব্যস্ত, আর সেই সুযোগে সব কাজিনরা মিলে পাড়ি জমিয়েছে বাড়ির ছাদে। বসন্তের রাত, আকাশে এক ফালি চাঁদ আর হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছে। ছাদের এক কোণে মাদুর পেতে গোল হয়ে বসেছে সবাই। মাঝখানে রাখা একটা পানির খালি বোতল। খেলা হচ্ছে—'ট্রুথ অর ডেয়ার'।

আসর জমিয়ে বসেছে আবির, সাইফ, আরশি,সজিব(আয়ান এর খালাত ভাই),সারা(আয়ান এর খালাত বোন)আর নিশাত। আড়ালে থাকার অনেক চেষ্টা করেও কাজিনদের জোরা‘’জুরিতে অরাকেও বসতে হয়েছে।তবে সবার মধ্যে একটু আলাদা হয়ে বসে আছে নীরব—নিশাতের বড় ভাই। সে মাঝেমধ্যেই আড়চোখে অরার দিকে তাকাচ্ছে, যা আয়ানের তী‘’ক্ষ্ণ নজর এড়াচ্ছে না। তা দেখে আয়ান নিজেও খেলতে বসেছে।

বোতল ঘোরানো হচ্ছে আর একেকজনকে মজার সব ‘ডেয়ার’ দেওয়া হচ্ছে। এবার বোতল গিয়ে থামল সরাসরি আয়ানের সামনে। সজীব বেশ উৎসাহ নিয়ে বলল, "আয়ান ভাই, ট্রুথ না কি ডেয়ার?"

আয়ান নির্লিপ্ত গলায় বলল, "ট্রুথ।"

সজীব হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করল, "বিদেশে থাকতে কোনো বিদেশি মেয়েকে মনে ধরেছিল? সত্যি করে বলবেন কিন্তু!"
সারা পাশ থেকে ফোড়ন কাটল, "হ্যাঁ ভাইয়া, তোমার খালামনি তো তোমার বিয়ের জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছে। কোনো পছন্দ থাকলে বলেই ফেলো!"

আয়ান একবার অরার দিকে তাকাল। অরা তখন খুব মনোযোগ দিয়ে নিজের নখের কোণা খুঁ‘’টছে, যেন সে কিছুই শুনছে না। আয়ান শান্ত স্বরে বলল, "নাহ, ওসবের সময় কোথায়? আর পছন্দের মানুষ তো চোখের সামনেই থাকে, তাকে খোঁ‘’জার জন্য সাত সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার দরকার পড়ে না।"

আয়ানের এই রহ‘’স্যময় কথায় ছাদের আমেজটাই বদলে গেল। ঠিক তখনি নীরব একটু নড়েচড়ে বসল। সে অরার দিকে তাকিয়ে বেশ মোলায়েম গলায় বলল, "অরা, তোমার সামনের পরীক্ষার প্রিপারেশন কেমন? কোনো সাবজেক্টে প্রবলেম থাকলে আমাকে বলতে পারো। আমি তো এখন ফ্রি আছি, তোমাকে হেল্প করতে পারব।"

নীরবের এই অযাচিত সাহায্য করার প্রস্তাব শুনে আয়ানের চোয়াল শ‘’ক্ত হয়ে গেল। সে দেখল নীরব যেভাবে অরার দিকে তাকিয়ে কথা বলছে, তাতে এক ধরণের মুগ্ধতা স্পষ্ট। আয়ানের ভেতরে একটা ঈ‘’র্ষার ভাব দেখা গেলো। সে হাতের কাছে থাকা জলের বোতলটা একটু জো‘’রেই মেঝেতে রাখল।

অরা কিছু বলার আগেই আয়ান গ‘’ম্ভীর গলায় বলে উঠল, "অরার পড়াশোনার জন্য ওর বড় ভাই যথেষ্ট নীরব। তাছাড়া আমি থাকতে ওকে অন্য কারও কাছে পড়ার টিপস নিতে হবে না।"

আয়ানের গলার স্বর এতটাই ঠান্ডা আর শ‘’ক্ত ছিল যে নীরব কিছুটা অ‘’প্রস্তুত হয়ে গেল। নিশাত পরিস্থিতি সামাল দিতে বলল, "আরে ভাইয়া, নীরব তো জাস্ট হেল্প করতে চাইল। তুমি এত সিরিয়াস হচ্ছ কেন?"

বোতলটা যখন আবার সজোরে ঘুরিয়ে দেওয়া হলো, সেটা কয়েকবার চক্কর খেয়ে একদম কাঁটায় কাঁটায় অরার দিকে মুখ করে থামল। সারা আর আরশি সমস্বরে চিৎকার করে উঠল, "এইবার অরা আপু ধরা! বলো আপু, ট্রুথ না ডেয়ার?"

অরা একবার আড়চোখে আয়ানের দিকে তাকাল। আয়ান তখনো বেশ গম্ভীর হয়ে নীরবের দিকে তাকাচ্ছে। অরা নিজের জেদ বজায় রেখে চিবুক উঁচিয়ে বলল, "ডেয়ার!
সজীব হাততালি দিয়ে বলে উঠল, "সাবাস! তাহলে ডেয়ার হলো—অরাকে আজ একটা গান গেয়ে শোনাতে হবে। আমরা জানি ও খুব সুন্দর গায়, কিন্তু সহজে গাইতে চায় না।"
আরশি পাশ থেকে উৎসাহ দিল, "হ্যাঁ আপু, একটা বির‘’হের গান গাও তো!

কাজিনদের নাছোড়‘’বান্দা আবদারে শেষমেশ তাকে রাজি হতেই হলো। ছাদের এক কোণে চাঁদের আলোয় অরা একটু গুছিয়ে বসল। চারপাশটা তখন অদ্ভুত নিঝুম, শুধু দূরের কোনো গাছ থেকে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। নীরব মুগ্ধ চোখে অরার দিকে তাকিয়ে আছে, আর আয়ান দুই হাত ভাঁজ করে দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসে তী‘’ক্ষ্ণ নজরে অরাকে দেখছে।

ছাদের পরিবেশটা তখন একদম নিঝুম। চাঁদের আলোয় অরার মায়াবী মুখটা যেন আরও উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। অরা একটু সময় নিয়ে সুরটা ধরল। ও খুব নরম গলায় গাইতে শুরু করল ওর প্রিয় একটা গান:

‘’তোমাকে ছাড়া এ আকাশ সাজে না
সহজে তো বাতাসে বাঁশি বাজে না
চলো না আজ এ রূপকথা
তোমাকে শোনাই‘’

‘’তোমাকে ছাড়া এ আকাশ সাজে না
সহজে তো বাতাসে বাঁশি বাজে না
চলো না আজ এ রূপকথা
তোমাকে শোনাই‘’

‘’সারাটা দিন
ঘিরে আছো তুমি এত রঙ্গীন
হয়নি কখনও মন
সারাটা রাত
আসছে না ঘুম ধরেছি হাত
থাকবো সারাজীবন‘’

‘’আকাশ হারায় যেখানে
ও তোমায় ছোঁবো সেখানে

অরার কণ্ঠের সেই আকুলতা বাতাসের ঝিরঝিরে শব্দের সাথে মিশে ছাদের ওপর এক অদ্ভুত মায়া ছড়িয়ে দিল। আয়ান দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে নিস্পলক চোখে অরার দিকে তাকিয়ে ছিল। গানের প্রতিটি কথা যেন ওর বুকের কোথাও গিয়ে বিঁধ‘’ছিল।

কিন্তু ঠিক তখনই, গানের দ্বিতীয় অন্তরা শুরু হওয়ার মুহূর্তে সবাইকে চমকে দিয়ে নীরব হুট করে ওর সাথে গলা মেলাল। নীরব বেশ ভালোই গায়, আর ও অরার দিকে তাকিয়ে ঠিক ডুয়েট গানের মতো সুর ধরল:

ও ভালোবাসো এখনি
হো... পরে কি হয় কে জানে‘’ (নীরব)

পুরো ছাদের আবহাওয়া এক পলকে বদলে গেল। আরশি আর সারা একে অপরের দিকে তাকাল, ওদের চোখেমুখে চরম বি‘’স্ময়। আবির আর সাইফ তো হা‘’বার মতো তাকিয়ে রইল। নিশাত খুশি হবে কি না বুঝতে পারছিল না, কারণ ওর ভাই গাইছে ঠিকই, কিন্তু সেটা অরার সাথে তাল মিলিয়ে।
সবার চেয়ে ভয়‘’ঙ্কর অবস্থা হলো আয়ানের।

‘’সারাটাদিন
ঘিরে আছো তুমি এত রঙিন
হয়নি কখনও মন
সারাটা রাত
আসছে না ঘুম ধরেছি হাত
থাকবো সারাজীবন"(অরা X নীরব)

"ভালো লাগা সারাক্ষণ
ও জানি না তার কি কারণ"(অরা)

"হা ভেসেছি স্বপ্নে আমি
ও তোমাকে পেয়েছে মন"(নীরব)

"তোমাকে ছাড়া এ আকাশ সাজে না"(নীরব)
"সহজে তো বাতাসে বাঁশি বাজে না"(অরা)

"চলো না আজ এ রূপকথা
তোমাকে শোনাই"(অরা X নীরব)

"তোমাকে ছাড়া এ আকাশ সাজে না
সহজে তো বাতাসে বাঁশি বাজে না
চলো না আজ এ রূপকথা
তোমাকেই শোনাই"(নীরব)

"সারাটা দিন
ঘিরে আছো তুমি এত রঙ্গীন
হয়নি কখনও মন
সারাটা রাত
আসছে না ঘুম ধরেছি হাত
থাকবো সারাজীবন‘’(অরা X নীরব)

গানটা একসাথে গাইল ওরা দুজন।

নীলচে জ্যোৎস্নায় দেখা গেল আয়ানের কপাল আর ঘাড়ের রগগুলো রা'গে ফুলে উঠেছে। ওর হাতের মুঠি এত জোরে ব'ন্ধ ছিল যে আঙুলের গাঁটগুলো সাদা হয়ে গেছে। ও ভাবতেই পারেনি যে ওর চোখের সামনে অন্য কেউ এসে অরার গানে এভাবে ভাগ বসাবে। বিশেষ করে নীরবের ওই মুগ্ধ দৃষ্টি আর অরার সাথে গলা মেলানোটা ওর সহ্য'সীমা ছাড়িয়ে গেল।

অরা নিজেও খুব অ'প্রস্তুত হয়ে পড়েছিল। ও একবার নীরবের দিকে তাকাল, তারপর ভয়াতুর চোখে আয়ানের দিকে। ও দেখল আয়ানের চোখে অসম্ভব লাল হয়ে উঠেছে।

আয়ান কোনো প্রতি‘’ক্রিয়া দেখাল না। সে সরাসরি অরার দিকে তাকিয়ে বলল, "রাত অনেক হয়েছে অরা। তোর কাল সকালে পড়া আছে, নিচে চল।"

অরা বুঝল আয়ান ভাইয়া প্রচণ্ড জে‘’লাস হচ্ছে। আয়ানের এই রাগী মুখটা দেখে অরার মনে মনে বেশ মজাই লাগল। সে একটু দু‘’ষ্টুমি করে নীরবের দিকে তাকিয়ে বলল, "ধন্যবাদ নীরব ভাইয়া।‘’

কথাটা বলেই অরা দেখল আয়ানের চোখ দিয়ে যেন আ‘’গুন বেরোচ্ছে। আয়ান সোজা দাঁড়িয়ে পড়ল। সজীব আর সারা বুঝতে পারল বাতাস একটু গরম হচ্ছে। সারা বলল, "হ্যাঁ, রাত তো অনেক হলো। চলেন সবাই নিচে যাই।"

সবাই যখন নিচে নামার জন্য পা বাড়াল, নীরব আবার অরার পাশে গিয়ে হাঁটার চেষ্টা করল। আয়ান চট করে মাঝখানে ঢুকে পড়ে অরার হাতটা একরকম দখল করেই হাঁটতে শুরু করল। সাইফ আর আবির পেছনে ফিসফিস করে হাসছে।

ছাদ থেকে নামার সিঁড়িতে অরা নিচু স্বরে বলল, "আপনি কি রা‘’গ করছেন?"

আয়ান উত্তর দিল না, শুধু অরার হাতটা আরও শক্ত করে চেপে ধরল। ওর এই নীরব অধিকারবোধ অরাকে বুঝিয়ে দিল যে, রাজরাণীর আশেপাশে অন্য কারও উপস্থিতি আয়ান শেখ এক মুহূর্তের জন্যও সহ্য করবে না। ওদিকে নীরব আর নিশাত পেছনে পড়ে রইল, আর আয়ান তার অধিকার নিয়ে অন্ধ‘’কার সিঁড়ি দিয়ে নিজের রাজত্ব আগলে নিচে নেমে এল।

সকাল থেকেই বাড়ির পরিবেশটা বেশ জমজমাট। তিন চাচি—জয়া, মায়া আর সুফিয়া বেগম মিলে সবার জন্য নাস্তা আর দুপুরের খাবার গুছিয়ে দিচ্ছেন। আছিয়া খান বারান্দায় বসে বারবার তাগাদা দিচ্ছেন যেন সবাই সাবধানে থাকে।

অরা আজ অনেক সময় নিয়ে তৈরি হয়েছে। ও একটা নেভি ব্লু রঙের সালোয়ার কামিজ পড়েছে, সাথে হালকা কাজল আর কানে ছোট ঝুমকো। ওর প্রিয় সেই পিন্টারেস্ট স্টাইলের ভিন্টেজ লুকটা আনার জন্য চুলে একটা আলগা বেণী করেছে। আড়চোখে আয়নার দিকে তাকিয়ে ও নিজেই মুগ্ধ হলো—আজ আয়ান ভাইয়ার নজর ফেরানো মুশকিল হবে।

পরক্ষনেই অরা নিজের মনে বলল,
‘’ছিহ! ভাইকে নিয়ে কিসব ভাবছিস অরা? খু‘’দা তরে পা প দিবে!‘’

নিচে নামতেই দেখল গেটের সামনে দুটো গাড়ি দাঁড়িয়ে। একদল কাজিন হইহই করে বড় গাড়িতে উঠে যাচ্ছে। অরা দেখল নীরব খুব কায়দা করে আয়ানের গাড়ির আশেপাশে ঘুরঘুর করছে, হয়তো অরার পাশে বসার মতলব। কিন্তু আয়ান আজ কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। ও গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে চশমাটা ঠিক করতে করতে গম্ভীর গলায় বলল, "অরা, তুই সামনে বোস। রাস্তার ম্যাপটা তোকে দেখতে হবে।"

ব্যস! নীরবের মুখটা মুহূর্তেই ছোট হয়ে গেল। অরা বিজয়ী হাসিতে সামনে গিয়ে বসল। পেছনের সিটে বসল আরশি, সারা আর অনিচ্ছাসত্ত্বেও নিশাত। বাকিরা অন্য গাড়িতে।

পার্কে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হলো আসল লড়াই। পার্কের বিশাল এলাকা, রোদের ঝিলিক আর নানা রকম রাইডের শব্দে জায়গাটা বেশ আনন্দময়। কিন্তু আয়ানের মে‘’জাজ আজ একদম রোদচশমার মতোই ঢাকা। নীরব বারবার অরার পাশে এসে হাঁটার চেষ্টা করছে, এটা-সেটা নিয়ে কথা বলছে।

একবার একটা বড় রোলার কোস্টারের সামনে গিয়ে নীরব বলল, "অরা, চলো আমরা এই রাইডটায় উঠি। তুমি ভ‘’য় পেলে আমার হাত ধরতে পারো!"

আয়ান পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। নীরবের কথা শুনে ও অরাকে একরকম আড়াল করে দাঁড়িয়ে বলল, "ও একা কেন উঠবে? আমরা সবাই একসাথেই উঠছি। আর ভয় পেলে হাত ধরার জন্য ওর বড় ভাইয়া এখনো বেঁ‘’চে আছে, নীরব।"

রাইডে বসার সময়ও দেখা গেল চরম নাটক। চারজনের সিট। নিশাত আর সারা একপাশে বসার পর বাকি থাকল দুটো সিট। নীরব যখন অরার পাশে বসতে যাচ্ছিল, আয়ান একরকম ধা‘’ক্কা দিয়েই অরাকে ভেতরের দিকে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে মাঝখানে বসে পড়ল। ফলে নীরবকে বসতে হলো অন্য জায়গায়।

রাইড যখন শুরু হলো, অরা ভ‘’য়ে চোখ ব‘’ন্ধ করে আয়ানের হাত শক্ত করে চেপে ধরল। বাতাসের শব্দে আর গতির তোড়ে অরা আর্ত‘’নাদ করে উঠল। ঠিক তখনই ও অনুভব করল, আয়ানের বড় হাতটা ওর হাতের ওপর আরও শক্ত হয়ে চেপে বসেছে। আয়ান ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে চিৎ‘’কার করে বলল, "চোখ খোল রাজরাণী! ভ‘’য় নেই, আমি আছি তো।"

রোলার কোস্টার থেকে নামার পর অরার মাথা একটু ঘুর‘’ছিল। ও পা টলমল করে এক জায়গায় বসতে যাচ্ছিল, ঠিক তখন নীরব এক বোতল জল নিয়ে এগিয়ে এল। কিন্তু জলটা অরার হাতে পৌঁছানোর আগেই আয়ান সেটা ছোঁ মেরে নিয়ে নিল।

আয়ান খুব ঠান্ডা গলায় বলল, "থ্যাংকস নীরব, তবে ওকে বাইরের জল না দেওয়াই ভালো। আমি নিজের ফ্লাস্কেই জল এনেছি।"

নিশাত এবার বেশ বি‘’রক্ত হয়ে বলল, "আয়ান ভাইয়া, তুমি তো অরাকে একদম আ‘’টকে রাখছ! ও কি একটু শান্তিতে ঘুরতেও পারবে না?"

আয়ান অরার মাথায় আলতো করে হাত রেখে সবার সামনেই বলল, "ওকে আটকে রাখা নয় নিশাত, ওকে আগলে রাখা বলে। আর আমার জিনিস আমি কীভাবে আগলাব, সেটা আমার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না।"

অরা মাথা নিচু করে হাসল। ও দেখল নীরবের মুখটা অপ‘’মানে আর হিং‘’সেয় অন্ধকার হয়ে গেছে। পার্কের রোদে অরার ফর্সা মুখটা লাল হয়ে উঠেছে, আর আয়ান বারবার নিজের রুমাল দিয়ে ওর কপাল মুছে দিচ্ছে। সারা আর আরশি দূরে দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসছে।

বিকেলের দিকে যখন সবাই ক্লা‘’ন্ত হয়ে একটা বড় গাছের নিচে বসল, তখন অরা আড়চোখে আয়ানের দিকে তাকিয়ে ভাবল—কালকের সেই গানের ল‘’ড়াই আর আজকের এই পার্কের পাহারা, সবকিছুই যেন বলে দিচ্ছে যে আয়ান শেখ তার রাজত্বে অন্য কোনো ভাগীদার সহ্য করবে না। অরা জানে, আজকের এই দিনটা ওর সারাজীবন মনে থাকবে।
 

Comments

    Please login to post comment. Login