
টরন্টো মানেই এক আকাশচুম্বী আভিজাত্য আর হা'ড়কাঁপানো নিঃস'ঙ্গতার এক অদ্ভুত মিশেল। কানাডার এই ব্যস্ততম শহরটি মূলত নীল কাঁচ আর স্টিলের তৈরি এক গগনচুম্বী অরণ্য, যার মধ্যমণি হয়ে আকাশকে বিঁধে দাঁড়িয়ে আছে বিশালাকার সিএন টাওয়ার। দিনের বেলা সূর্যের আলো যখন দালানগুলোর কাঁচের দেয়ালে প্রতিফলিত হয়, তখন পুরো শহরটাকে এক রুপালি দর্পণ বলে ভ্রম হয়। কিন্তু গোধূলি ফুরিয়ে রাত নামলেই এই ঝলমলে জৌলুসের আড়ালে জমাট বাঁধতে শুরু করে এক মায়াবী অ'ন্ধকার।
শীতকালে যখন মাইনাস বিশ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পুরো শহরটা ধবধবে সাদা বরফের চাদরে ঢাকা পড়ে, তখন এক অদ্ভুত নি'স্তব্ধতা গ্রাস করে চারপাশকে। অন্টারিও হ্রদ থেকে ধেয়ে আসা কনকনে ঠান্ডা বাতাস যখন ডাউটটাউনের উঁচু দালানগুলোর ফাঁক দিয়ে শিস দিয়ে বয়ে যায়, তখন ব্যস্ত এই মহানগরীকে মনে হয় এক নির্জন বরফপুরী। রাস্তার ধারের হলুদ ল্যাম্পপোস্টের আলো আর নিওন সাইনবোর্ডগুলো কুয়াশার ভেতর দিয়ে ঝাপসা দেখায়, যা আধুনিক এই শহরকে এক রহস্যময় 'নয়ার' বা অন্ধকার জগতের রূপ দেয়।
টরন্টোর রাজপথগুলোতে যখন নামী-দামি গাড়ির ভিড় জমে, ঠিক তখনই তার মাটির নিচের সুড়ঙ্গপথ ‘পাথ’ বা ডিস্ট্রিলারি ডিস্ট্রিক্টের লাল ইটের পুরনো গলিগুলোতে এক অদৃশ্য রাজত্ব সচল থাকে—যেখানে প্রতিটি ছায়া যেন কোনো না কোনো গোপন গল্পের সাক্ষী।শহরটা বাইরে থেকে যতটা ধীর আর শান্ত, তার গভীরতা ঠিক ততটাই অতল আর র'হস্যঘেরা।
টরন্টোর সেই হাড়কাঁপানো নিস্তব্ধ রাত এখন এক বিভীষিকাময় র'ণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। একদিকে পুরো শহর যখন বরফের চাদর মুড়ি দিয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন অন্যদিকে শহরের ধনাঢ্য পরিবারের বখে যাওয়া সন্তানদের হুল্লোড়ে কাঁপছে দামি নাইট ক্লাবগুলো; সেখানে নিওন আলোর নিচে নে'শার ঘোরে তারা খুঁজে ফিরছে কৃত্রিম সুখ। কিন্তু এই উৎসব আর নি'স্তব্ধতার ঠিক মাঝখানে, অন্টারিও হ্রদের ধার ঘেঁষে চলা এক অন্ধকার গলিতে মৃ'ত্যু আর জীবনের খেলায় মেতেছে এক যুবক।
কনকনে উত্তুরে বাতাস তার চোয়ালকে আরও শক্ত করে তুলেছে। শ'ত্রুপক্ষের প্রতিটি অতর্কিত আ'ক্রমণ সে প্রতিহত করছে অমানুষি'কক্ষিপ্রতায়।সেখানে ২৭ বছর বয়সী এক যুবক নেমেছে মৃ'ত্যুর এক ভ''য়ঙ্কর খেলায়। চারপাশ থেকে ধেয়ে আসা শত্রুদের প্রতিটি আঘাত সে প্রতিহত করছে ইস্পাতকঠিন হাতে। কনকনে ঠান্ডায় যখন মানুষের নিঃশ্বাস জমে বরফ হয়ে যায়, তখন তার প্রতিটি শিরার র'ক্ত টগবগ করে ফুটছে প্রতি'হিংসায়। যখন ঘাতকদের দল তাকে ঘিরে ধরে শেষ করে দিতে চাইছে, তখন সে অ'মানুষিক ক্ষিপ্রতায় তাদের আক্রমণ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে—
প্রতিটি পাল্টা আঘাতে জানিয়ে দিচ্ছে সে দমে যাওয়ার পাত্র নয়।তুষারপাতের সাদা চাদরে যখন শ'ত্রুদের উষ্ণ র'ক্ত ছিটকে পড়ছে, তখন সেই যুবক সেখানে কোনো সাধারণ মানুষ নয়, বরং এক অপরাজেয় যোদ্ধার মতো দাঁড়িয়ে আছে, যার চোখে জমাট বেঁধে আছে মৃ'ত্যুর চেয়েও ভ'য়ংকর এক সংকল্প।
মাঠের ল'ড়াইটা শেষ হতেই চারপাশ আবার সেই নি'স্তব্ধতায় ডুবে গেল। তুষারপাতের শুভ্র চাদরের ওপর পড়ে থাকা নি'থর দেহ'গুলোর পাশ কাটিয়ে যুবকটি ধীরপায়ে এগিয়ে এল রাস্তার ধারের একটা বেঞ্চের দিকে। কনকনে ঠান্ডায় কপালে জমে থাকা ঘাম আর র'ক্তের মিশ্রণটা জ্যাকেটের হাতা দিয়ে পরম অবহেলায় মুছে নিল সে। চোখেমুখে ক্লান্তির চেয়েও বেশি ফুটে আছে এক অদ্ভুত তৃপ্তি।
ঠিক তখনই অন্ধকারের আড়াল থেকে হন্ত'দন্ত হয়ে দৌড়ে আরো এক যুবক। তার হাতে একটা জলের বোতল। আগের যুবকের সামনে এসে হাঁ'পাতে হাঁ'পাতে বোতলটা বাড়িয়ে দিয়ে সে অনেকটা আ;র্তনাদ করেই ইংরেজিতে বলে উঠল,
"When will you stop this? How much longer will you gam'ble
with your life like this(এইসব কবে বন্ধ করবি? এভাবে নিজের জীবন নিয়ে জু'য়া খেলা আর কতদিন)?"
যুবকটি কোনো কথা না বলে জলের বোতলটা নিল। ক্যাপটা খুলে মুখ উঁচিয়ে সরাসরি কপালে আর চোখেমুখে জল ঢালল সে। হিমশীতল জল আর ঘাম মিশে একাকার হয়ে তার ধারালো চোয়াল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। জলটুকু মুছে নিয়ে সে শান্ত গলায় জবাব দিল,
"If I don't practice like this at least once a week, how will I develop skills? My body will get rusty(সপ্তাহে অন্তত একদিন এমন
প্র্যাকটিস না করলে স্কিল ডেভেলপ হবে কী করে? শরীরটা জং ধরে যাবে তো)."
পরের যুবকটি রাগে আর হতাশায় হাত-পা ছুঁড়ে চিৎকার করে বলল,
"So you're going to hire g'oons with your own money to a'ttack you?And then f'ight them to the death like this? Have you gone c'razy(তাই বলে নিজের টাকায় নিজে গু'ন্ডা ভাড়া করে নিজের ওপর আ'ক্রমণ করাবি? আর তারপর তাদের সাথে এভাবে জান হাতে নিয়ে মা'রামা'রি করবি? তুই কি পা'গল হয়ে গেছিস)?"
আগের যুবকটি ঠোঁটের কোণে সেই পরিচিত বাঁকা হাসিটা ফুটিয়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল, "Hey, calm down. I'll pay for their treatment at the end
of the day(আরে শান্ত হ। ওদের চিকিৎসার টাকাটাও তো দিনশেষে আমিই দিই)."
..........................
টরন্টোর এক আকাশচুম্বী অট্টালিকার সর্বোচ্চ তলায় আজ যেন নক্ষত্রদের মেলা বসেছে। পুরো হলরুমটি সজ্জিত হয়েছে গাঢ় নীল (Midnight Blue) আর রাজকীয় সোনালী আভার এক মায়াবী সংমিশ্রণে। ছাদ থেকে ঝুলে থাকা দামী ক্রিস্টাল শ্যান্ডেলিয়ারগুলোর আলো হালকা রহ'স্যময় ধোঁয়ার চাদরে বাধা পেয়ে এক অ'পার্থিব পরিবেশ তৈরি করেছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে চলা ভায়োলিনের প্রতিটি সুর যেন উপস্থিত অতিথিদের হৃদস্পন্দনকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন কানাডার নামীদামী সেলিব্রেটি, বিশ্বখ্যাত মডেল আর বা'ঘা বা'ঘা ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এই গ্ল্যামারের ভিড়েও সবার চোখেমুখে ছিল এক অদ্ভুত অ'স্থিরতা। তারা অপেক্ষা করছিলেন এমন একজন মানুষের জন্য, যার একটি মাত্র অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে এই ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির কোটি কোটি ডলারের ভবিষ্যৎ।
ঠিক রাত নয়টা। হলরুমের বিশাল অলঙ্কৃত ডাবল-ডোরটি যখন শব্দহীনভাবে খুলে গেল, কয়েকশ মানুষের গুঞ্জন মুহূর্তেই এক অ'শরীরী নি'স্তব্ধতায় রূপ নিল। যেন কেউ অ'দৃশ্য কোনো রিমোট দিয়ে পুরো কক্ষের শব্দ শুষে নিয়েছে।
দরজার ঠিক মাঝখানে এসে দাঁড়াল সেই অতিকায় এবং রাজকীয় অবয়ব-কায়রন জাভান।
তার ৬ ফুট ২ ইঞ্চি দীর্ঘ ঋজু দেহটি যেন কোনো গ্রীক ভাস্করের নিখুঁত হাতে খোদাই করা এক বি'স্ময়। পরনে তার নিজের ব্র্যান্ডের তৈরি 'জাভান সিগনেচার' সিরিজের একটি নেভি ব্লু থ্রি-পিস স্যুট। কাপড়ের প্রতিটি ভাঁজ আর সেলাই চিৎ'কার করে
বলছিল তার আভিজাত্যের কথা। হ্যালোজেন লাইটের তী'ক্ষ্ণ আলো যখন তার ক্লিন শে'ভড ফর্সা চেহারায় প্রতিফলিত হলো,তখন মনে হচ্ছিল সে কোনো র'ক্ত-মাং'সের মানুষ নয়, বরং জীবন্ত এক নীল হীরে।
তার জিম করা চওড়া কাঁধ আর পা'থরের মতো শ'ক্ত শরীরটা যখন ধীর এবং মাপা পায়ে রেড কার্পেট দিয়ে এগিয়ে আসতে লাগল, চারপাশের বাতাস যেন এক অদ্ভুত চাপে ভারী হয়ে উঠল। উপস্থিত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা, যারা সাধারণত কারো সামনে মাথা নোয়ায় না, তারাও আজ অবচেতন মনেই দু-পা পিছিয়ে গিয়ে তাকে রাস্তা করে দিলেন। এটি কোনো সাধারণ সম্মান ছিল না; এটি ছিল তার ব্যক্তিত্বের সেই প্র'খর তাপ আর এক অদৃশ্য অ'প্রতিরোধ্য শক্তির কাছে নিঃশর্ত আ'ত্মসমর্পণ।
কায়রনের চোখের চাহনি ছিল বরফের মতো শীতল এবং স্থির। সে কারো দিকে তাকাচ্ছিল না, অথচ প্রতিটি মানুষ অনুভব করছিল যে সেই গভীর ডা'র্ক ব্রাউন চোখের তী'ক্ষ্ণ নজর থেকে কেউ রক্ষা পাচ্ছে না। তার প্রতিটা পদক্ষেপের সাথে সাথে হলরুমের মার্বেল মেঝেজুড়ে এক অদ্ভুত দা'পট ছড়িয়ে পড়ছিল।
তার এক পা পেছনে ছায়ার মতো এগিয়ে আসছিল জ্যাক। জ্যাকের সজাগ দৃষ্টি আর কায়রনের এই রাজকীয় নি'র্লিপ্ততা মিলেমিশে এক ভয়ংকর সুন্দর দৃশ্যের অবতারণা করল। আজ এই হলরুমে কায়রন জাভান কেবল একজন ফ্যাশন টাইকুন হিসেবে প্রবেশ করেনি; সে এসেছে এক অঘোষিত সম্রাট হিসেবে, যার পা'য়ের নি'চে মা'থা নো'''য়াতে আজ পুরো টরন্টো শহর প্রস্তুত।
কায়রন সোজা মঞ্চের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়াল। তার পেছনে বিশাল ডিজিটাল স্ক্রিনে সোনালী হরফে ফুটে উঠল— "JAVAN'S SIGNATURE:THE VELVET SERIES"।
পুরো হলরুম তখন নি'স্তব্ধ, সবার শ্বাস যেন আটকে আছে কায়রনের পরবর্তী পদক্ষেপ দেখার জন্য। কায়রন কোনো লম্বা চওড়া ভাষণ দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করল না। সে কেবল মঞ্চের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা নারী ও পুরুষ মডেলদের দিকে একবার তী'ক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল। নারী মডেলদের পরনে থাকা এই সিরিজের সিল্ক আর ভেলভেটের গাউনগুলো ওপরের উজ্জ্বল আলোর নিচে হীরের মতো ঝিকমিক করে উঠল, যেন প্রতিটি পোশাক কায়রনের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিচ্ছে।
এরপর কায়রন ধীর পায়ে মঞ্চের সামনে রাখা মাইক্রোফোনটির দিকে এগিয়ে এল। তার সেই ৬ ফুট ২ ইঞ্চি দীর্ঘ অবয়বের সামনে আধুনিক স্ট্যান্ড মাইক্রোফোনটি যেন কিছুটা ছোটই মনে হচ্ছিল। সে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়াল, কিন্তু তার ঠাণ্ডা, ক্লিন শেভড ফর্সা মুখে হাসির কোনো চিহ্নমাত্র নেই। এক জোড়া বরফশীতল নীল চোখ দিয়ে সে পুরো অডিটোরিয়ামের অতিথিদের একবার মেপে নিল।তার গ'ম্ভীর আর ভা'রী কণ্ঠস্বর যখন হলরুমের স্পিকারে প্রতিধ্বনিত হলো, তখন উপস্থিত সবার শিরদাঁড়া দিয়ে এক অদ্ভুত শীতল স্রো'ত বয়ে গেল। কোনো প্রকার নাটকীয়তা ছাড়াই সে কেবল বলল:
‘’Ladies and gentlemen, welcome to Javan's Signature. Today, we mark the beginning of our Velvet Series. From this
moment on, the Velvet Series is officially open for all (সুধী, জাভান'স সিগনেচার-এ আপনাদের স্বাগতম। আজ আমরা আমাদের ভেলভেট সিরিজের সূচনা করছি। এই মুহূর্ত থেকে ভেলভেট সিরিজ আনুষ্ঠানিকভাবে সকলের জন্য উন্মুক্ত)."
ব্যাস, সেটুকুই। কথাগুলো শেষ করে সে এক সেকেন্ডের জন্য বিরতি নিল না। কোনো করতালির জন্য অপেক্ষা না করে বা অতিথিদের দিকে তাকিয়ে মাথা না নুইয়েই সে মঞ্চ থেকে নামার জন্য পা বাড়াল। তার এই কাঠ'খোট্টা কিন্তু রাজকীয় ব্যবহারই বুঝিয়ে দিল যে, সে এখানে কাউকে খুশি করতে আসেনি; সে এসেছে কেবল নিজের আধিপত্য জা'হির করতে।
তার ঠিক এক পা পেছনে ছায়ার মতো অদৃশ্য নিরাপত্তার চাদর হয়ে সরে গেল জ্যাক। পুরো হলরুমে তখন করতালির ঝড় বয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কায়রন জাভান ততক্ষণে সেই জাঁকজমকপূর্ণ ভিড় ঠেলে তার গো'পন গন্তব্যের দিকে এগিয়ে গেছে।
পরিচয়:
কায়রন জাভান—যার শারীরিক গঠন যেকোনো মানুষের মনে ত্রা'স আর বিস্ময় জাগাতে বাধ্য। ৬'২ ফুট দীর্ঘ উচ্চতা, জিম করা পা'থরখোদাই করা শরীর আর ধবধবে ফর্সা গায়ের রঙে সে যেন এক জীবন্ত গ্রীক ভাস্কর্য। ক্লিন শেভ করা চেহারায় আভিজাত্যের ছাপ, যা তাকে ক্যানাডার সব মেয়েদের হা'র্টথ্রব বা 'ক্রা'শ বয়'-এ পরিণত করেছে।
কানাডার সাধারণ মানুষের কাছে কায়রন জাভান একজন "Enigmatic Billionaire" বা রহ'স্যময় ধনকুবের।কায়রন হলো কানাডার ফ্যাশন জগতের
সম্রাট। তার ফ্যাশন হাউজ "Javan's Signatures)" বিশ্বজুড়ে আভিজাত্য আর বিলাসিতার প্রতীক। টরন্টোর সবচেয়ে বড় ফ্যাশন ইভেন্টগুলো তার ইশারায় চলে। সবাই তাকে চেনে ফ্যাশন আইকন, সফল ব্যবসায়ী এবং ক্যানাডার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ব্যাচেলর হিসেবে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে এতো সফল হওয়ার জন্যে মিডিয়া তাকে নিয়ে মেতে থাকে, কিন্তু তার ব্যক্তিগত জীবন বা আয়ের উৎস নিয়ে কেউ খুব একটা ঘাটাঘাটি করার সা'হস পায় না।মানুষ মনে করে তার এই বিশাল ধন-সম্পদ কেবল তার পরিশ্রম আর রুচিশীল ফ্যাশন বিজনেসের ফল।
টরন্টোর ঠিক প্রাণকেন্দ্রে, শহরের সবচেয়ে উঁচু এবং অভিজাত কাঁচের স্ক্রাইস্ক্র্যাপারের ওপরের তিনটি তলা জুড়ে কায়রনের বসবাস। এই পেন্টহাউসটি মূলত তার 'ব্যবসায়িক ফেস' বা ফ্যাশন জগতের সম্রাট হিসেবে ব্যবহারের জন্য। এখান থেকেই সে পুরো শহরের ওপর নজর রাখে। এর দেয়ালগুলো বুলেটপ্রুফ কাঁচের তৈরি, যেখান থেকে রাতের টরন্টোকে মনে হয় তার পায়ের নিচে বি'ছিয়ে রাখা কোনো আলোকোজ্জ্বল গালিচা। এখানে আধুনিক প্রযুক্তি, ঝকঝকে মার্বেল আর নিওন আলোর খেলা—যা তার নাগরিক আভিজাত্যকে তুলে ধরে।
আর জ্যাক?জ্যাক কেবল কায়রনের কর্মচারী বা সহযোগী নয়, সে তার শৈশবের বন্ধু। টরন্টোর অলিগলিতে তাদের একসাথে বেড়ে ওঠা।সে কায়রনের এমন সব গোপন কথা জানে যা এই পৃথিবীতে আর কেউ জানে না। কায়রন যেখানে 'মস্তিষ্ক', জ্যাক সেখানে 'ঢাল'।
কায়রনের ৬'২ ফুট উচ্চতার তুলনায় জ্যাক খানিকটা খাটো (প্রায় ৬ ফুট), কিন্তু তার শরীর অত্যন্ত চটপটে এবং অ্যাথলেটিক। তার চোখেমুখে সবসময় একটা সজাগ ভাব থাকে। কায়রন যেখানে গ'ম্ভীর এবং শান্ত, জ্যাক সেখানে কিছুটা রসিক এবং চটপটে। তবে প্রয়োজন পড়লে জ্যাক মুহূর্তের মধ্যে অত্যন্ত নি'ষ্ঠুর হয়ে উঠতে পারে।
ফ্যাশন জগতে: সে‘’জাভান‘স সিগনেচার্স‘’-এর অপারেশনাল হেড। কায়রনের শিডিউল থেকে শুরু করে সিকিউরিটি—সবই সে সামলায়।