প্রতিদান: (খুদে গল্প)
পিতামাতার সঙ্গে রাগ করে জসিম সাহেব স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে তাঁর কর্মস্থল স্কুলের সামনে একটি ছোট্ট বাড়ি ভাড়া নিলেন। নিরিবিলি পরিবেশে শান্তিতে থাকার আশায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রীর মুখে বারবার শোনা যেত—বৃদ্ধ বাবা-মা যেন সংসারের বোঝা। তখন সে কথাগুলোই যেন তাঁর কাছে সত্যি মনে হয়েছিল।
স্ত্রীর সুখকেই নিজের সুখ মনে করতেন জসিম সাহেব। তাঁর স্ত্রীর একটি অদ্ভুত স্বভাব ছিল—নিজের স্বার্থটাই আগে বুঝতেন। যেখানে নিজের কর্তৃত্ব নেই, সেখানে তিনি থাকতে চাইতেন না। সংসারে তাঁর কথাই ছিল শেষ কথা।
অন্যদিকে, বৃদ্ধ বাবা-মা সন্তানের মুখ না দেখে দিন গুনছিলেন। রাতের পর রাত তাদের চোখে ঘুম আসতো না। নিঃশব্দে ঝরে পড়ত চোখের জল। ঘুমের ঘোরে বারবার ভেসে উঠত ছেলের মুখ—আর সেই স্মৃতির ভারে হাউমাউ করে কেঁদে উঠতেন তারা।
এই নিদ্রাহীন বৃদ্ধ পিতা-মাতা যখন একাকীত্বে দিন কাটাচ্ছেন, তখন জসিম সাহেব স্ত্রী-সন্তান নিয়ে হাসি-আনন্দে দিন পার করছিলেন। কখনো মনে পড়তো না—দূরে কোথাও তাঁর জন্য দু’টি হৃদয় প্রতিনিয়ত অপেক্ষা করে আছে।
কিন্তু আজ…
আজ তিনি বুঝতে পারছেন—
যে ভালোবাসা তিনি ছেড়ে এসেছিলেন, তারই প্রতিদান একদিন তাঁকেও দিতে হবে।
“মানুষ যা দেয়, শেষ পর্যন্ত তা-ই ফিরে পায়—সময় শুধু তার হিসাব রাখে।”
উদ্বাসন কবি
২৯.০৪.২০২৬