জীবনটা যেন এক দীর্ঘ শোকগাথা।
হাসির স্মৃতি মনে করতে গেলেও চোখে জল এসে যায়।
নদীর পাড়ে বসে, ঢেউয়ের শব্দে কান পেতে থাকতে থাকতে একদিন স্বামীকে হারালাম—
হয়তো সেদিনই আমার সুখের স্রোত শুকিয়ে গিয়েছিল।
তারপর একে একে সব ভেঙে গেল—
অসুস্থ বাবা কালবৈশাখীর ঝড়ে গাছের নিচে চাপা পড়ে নিঃশব্দে চলে গেলেন।
বড় ছেলে, যে একদিন আমার হাত ধরে হাঁটতে শিখেছিল,
রাস্তা পার হতে গিয়ে চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে রইলো।
আর আমার আদরের ছোট্ট তনয়া—
পুকুরের জলে ডুবে নিঃশ্বাস হারিয়ে ফেললো, যেন কেউ তাকে আলতো করে ঘুম পাড়িয়ে দিল।
সব হারিয়ে, বাকি রইলাম শুধু আমি—
একটা নিঃসঙ্গ দেহ, ভেতরে ভাঙা এক পৃথিবী নিয়ে।
খোদা, আমাকে কি কোনোভাবে মুক্তি দেওয়া যায় না?
এই জীবনে আর সুখ দিয়ে কী হবে?
সাতান্ন বছর ধরে সুখের আশায় কেঁদে গেলাম, তবুও তাঁর দেখা পেলাম না।
মনে হয়, তোঁমার কলম শুধু দুঃখ লেখার কাজেই অভ্যস্ত।
সুখের গল্প লিখতে গেলেই যেন কালি ফুরিয়ে যায়।
তাই যে কলম সুখ লিখতে জানে না, সেই কলম আমি আর চাই না।
আমাকে নিয়ে যাও—
সেখানে, যেখানে আমার প্রিয়জনেরা ঘুমিয়ে আছে।
ওদের পাশে আমিও একটু চোখ বুজতে চাই।
আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে, খোদা।
এখন আর কোনো মায়া, কোনো লোভ আমাকে টানে না।
দুঃখই আজ আমার কাছে মধুর মতো লাগে—
কারণ এটাই একমাত্র সঙ্গী, যে আমাকে ছেড়ে যায়নি কখনো।