Posts

গল্প

ঠকে যাওয়া দুর্বল মানুষ

May 3, 2026

Md Josam

Original Author মোঃ জসিম

Translated by মোঃ জসিম

30
View

প্রিয় দর্শক, গল্প শুরু করার আগে আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন, যাতে আপনি সবসময় নতুন গল্প ও খবর পেতে পারেন! চলুন, তাহলে শুরু করা যাক আজকের গল্প!”

ইউটিউব চ্যা সাবস্ক্রাইব করুন, এবং 10 হাজার টাকা জিতুন, চ্যানেলের ভিডিও তে কমেন্ট করুন, আমরা 3 জন বিজয়ী বেছে নেব।

https://youtube.com/@mrtempestis-q7f?si=g3B45DE2WFSjYpOi

দুর্বল মানুষ
রহিমের নামটা শুনলে কেউ ভাবতো না যে সে এতটা নরম। ছোটখাটো চেহারা, চশমা, হাসিমুখ। ঢাকার একটা ছোট অফিসে চাকরি করতো। বেতন সামান্য। তবু যখন কেউ টাকা চাইতো, সে দিত। “মানুষ তো, বিপদে পড়লে সাহায্য করব না?”—এটাই ছিল তার কথা।
প্রথম ধাক্কাটা এল তার বন্ধু সোহেলের কাছ থেকে। সোহেল বলল, “ভাই, একটা বিজনেস আইডিয়া আছে। তোর পাঁচ লাখ লাগবে। ছয় মাসে ডাবল রিটার্ন।” রহিমের বাবার মৃত্যুর পর পাওয়া টাকা ছিল সেটা। সে বিশ্বাস করল। কাগজপত্র দেখল না, চুক্তি করল না। সোহেল টাকা নিয়ে ভ্যানিশ। পরে শুনল, সে টাকা দিয়ে গাড়ি কিনেছে আর বিয়ে করেছে। রহিম যখন ফোন করত, সোহেল বলত, “ভাই, ব্যবসা লসে গেছে। তুই তো জানিসই, দুনিয়াটা এমন।”
রহিমের বুকের ভিতরটা খালি হয়ে গেল। রাতে ঘুমাতে পারত না। মা জিজ্ঞাসা করলে বলত, “কিছু না, অফিসের চাপ।” কিন্তু ভিতরে ভিতরে সে মরছিল। টাকা ফেরত চাইতে গেলে সোহেল হুমকি দিল, “তুই দুর্বল মানুষ, চুপ করে থাক। মামলা করবি? পারবি?”
দ্বিতীয় আঘাত এল অফিস থেকে। তার সিনিয়র কলিগ আলম সাহেব। রহিম তার হয়ে অনেক কাজ করে দিত। ওভারটাইম করত, ক্রেডিট নিত না। একদিন প্রমোশনের সময় আলম সাহেব রহিমের নামে একটা ছোট ভুলের ফাইল বস করে দিল। বলল, “রহিম তো অসৎ।” ম্যানেজমেন্ট বিশ্বাস করল। রহিমের প্রমোশন গেল আলমের পকেটে। রহিম যখন প্রতিবাদ করতে গেল, আলম হাসল, “তুমি তো ভালো মানুষ, চুপ করে থাকো। ভালো মানুষদের এমনই হয়।”
এরপর তার বউয়ের ভাই। বিয়ে হয়েছিল তিন বছর আগে। শ্বশুরবাড়ি থেকে বলল, “জামাই, একটা ফ্ল্যাট কিনব। তোমার নামে লোন নাও।” রহিম আবার বিশ্বাস করল। লোন নিল। কিন্তু টাকা গেল শ্বশুরবাড়ির অন্য ছেলের ব্যবসায়। যখন EMI-এর চাপে রহিম অসুস্থ হয়ে পড়ল, বউ বলল, “তুমি তো পারো না কিছু। আমার ভাইয়েরা অন্তত চেষ্টা করে।”
রহিম একা হয়ে গেল। রাতে বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকত। চোখ দিয়ে পানি পড়ত, কিন্তু কান্না ফুটত না। শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। চুল পেকে যাচ্ছিল আগে আগে। অফিসে সবাই তাকে দেখে বলত, “রহিম ভাই, আপনি তো খুব সরল।” সরলতা যে কত বড় অভিশাপ, সেটা শুধু সে জানত।
একদিন সে তার পুরনো ডায়েরি খুলল। লিখেছিল— “মানুষকে বিশ্বাস করো, তারা তোমাকে ভালোবাসবে।” সে হাসল। হাসিটা কান্নার মতো শোনাল। তারপর ডায়েরিটা ছিঁড়ে ফেলল।
শেষ আঘাতটা এল তার নিজের চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে। যাকে সে নিজের ছেলের মতো দেখত। ভাইয়ের ব্যবসা ফেল করায় রহিম তার নামে জমির কাগজ দিয়ে গ্যারান্টি দিল। যেদিন ব্যাংক থেকে নোটিশ এল যে জমি নিলামে উঠবে, সেদিন রহিম রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁপছিল। তার চাচাতো ভাই ফোন ধরেনি। পরে মেসেজ দিল, “দাদা, দুনিয়া এমনই। তুমি শক্ত হও।”
সেদিন রাতে রহিম ছাদে উঠল। ঢাকার আলো-ঝলমলে আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে তার মনে হলো— এই শহরে, এই দুনিয়ায় দুর্বলতা একটা অপরাধ। কেউ তোমাকে সম্মান করে না। তোমার ভালোবাসা, তোমার সরলতা, তোমার সাহায্য—সবকিছুকে তারা দুর্বলতা হিসেবে দেখে। আর দুর্বলকে তারা বারবার খায়।
তার চোখ শুকনো হয়ে গিয়েছিল। আর কান্না আসছিল না। শুধু একটা কথা মনে হচ্ছিল বারবার— দুনিয়াতে বাঁচতে হলে শক্ত হতে হয়। না হলে মানুষ তোমাকে শুধু ঠকাবে না, তোমার হাড় পর্যন্ত চিবিয়ে খাবে।
রহিম নিচে নেমে এল। আয়নায় নিজের মুখ দেখল। চোখ দুটো আর আগের মতো নরম ছিল না।
দুর্বল মানুষ আর নেই।
কিন্তু সে যে কত কষ্ট পেয়েছে, সে কষ্ট কেউ বুঝবে না।
কারণ দুনিয়া দুর্বলের কষ্ট শোনে না। দুনিয়া শুধু শক্তিশালীর গল্প শোনে।
শেষ।

মূল কথা:
জীবনে বাঁচতে হলে অবশ্যই শক্তিশালী হতে হবে। দুর্বলতা এখানে বিলাসিতা নয়, এটা আত্মহত্যার সমান।
দুনিয়া দুর্বলকে দেখে করুণা করে না, বরং বারবার ঠকায়।
যে নরম, সরল ও বিশ্বাসপ্রবণ, তাকে মানুষ শুধু ব্যবহার করে, তারপর ফেলে দেয়।
ভালো মানুষ হওয়া যথেষ্ট নয়, শক্ত না হলে ভালো মানুষটাই শেষ হয়ে যায়।
টাকা, সম্পর্ক, বিশ্বাস—সবকিছুতে দুর্বলতা দেখালে অন্যরা তোমার রক্ত চুষে খাবে।
কাঁদলে, বিশ্বাস করলে, ক্ষমা করলে কেউ তোমার পাশে দাঁড়াবে না। বরং তোমাকে আরও দুর্বল ভেবে আঘাত করবে।
শক্তিশালী না হলে জীবন তোমাকে রেহাই দেবে না। এটা নিয়ম, করুণা নয়।
সার কথা:
দুর্বল হয়ে এই পৃথিবীতে টিকে থাকা যায় না। শক্ত হও, না হলে মানুষ তোমাকে বারবার ঠকিয়ে, শেষ করে ছাড়বে।
এটাই বাস্তব। এটাই কঠিন সত্য।

Comments

    Please login to post comment. Login