নীহারিকা তার ডায়রিতে লিখতে বসেছে। বিকেল হলে সে ডাইরি লিখে এটা তার অভ্যাস। ফ্লাটের ২য় তলা থেকে বাইরে তাকিয়ে নীহারিকা দেখলো আমগাছের ওপর ২টা কাক বসে আছে।
নীহারিকা কাকদের বলল, কিরে তোরা কি জামাই বউ নাকি? আহা! কাকের ও একটা বয়ফ্রেন্ড আছে আর আমি এতো সুন্দরী মেয়ে তাও সিঙ্গেল ইস।
তারপর নীহারিকা কলম নিয়ে লিখতে লাগলো। নীহারিকা লিখছে, সব মেয়ের ই স্বপ্ন থাকে আমারো আছে। আমার স্বপ্ন ডক্টর হওয়া। জানি অন্যদের কাছে তেমন আহামরী না। তবে আমি চেষ্টা করি পড়াশোনা করার। কিন্তু আমার পড়াশোনায় মন বসে না। চারিদিকে বান্ধুবীদের বয়ফ্রেন্ড দেখলে একটু জেলাস ই হই। আচ্ছা আমি যদি ছেলে হতাম। তাহলে কিরকম হতাম। হয়তো ছোট মামার মতো হতাম। আমার ছোটমামা বয়সে আমার চেয়ে ২বছরের বড়। ছোট মামা ফেবারিট। যখনই আসবে বাসায় আমার জন্য আইসক্রিম নিয়ে আসে। আমি কত বলি এসব আনার কি দরকার। তবে যখন আইসক্রিম মুখে দেই। আহা! সব ভুলে যাই। আচ্ছা সব মেয়েই কি আমার মতো ডাইরিতে এরকম উল্টাপাল্টা কথা লিখে? সেসব আমি জানি না।
আমার যে মামতো ভাই রকি। ওরে একটুও দেখতে পারি না। সারাক্ষণ আমার সাথে ঝগড়া করে। এমনকি আমার পিঠে কিল ঘুষিও মারে। আমি সহ্য করি। তবে বেশি মেজাজ খারাপ হলে আমিও ২টা কিল মেরে বসি। একটু খারাপ লাগে। তবে ঠিকই আছে। আমাকে মারব আর আমি চুপ থাকব। বাবা মায়ের একমাত্র আদরের সন্তান আমি৷ একটাই মেয়ে বলা চলে। সো আমাকে মেরে পাড় পেয়ে যাওয়া যাবে না মিস্টার রনি।
ছিঃ, আমি ওই বদমাইসটার ব্যপারে ভাবতাসি।।যারে পছন্দ করি না। সবসময় ওর কথাই কেন মাথায় ঘুরে জানি না আমি৷ বদমাইসটায় আবার সিগারেটও খায়। একবার সাদে গিয়েছি দেখি সিগারেট খাইতাসে। পরে আমি মামীকে বলে দিসি আর বকা খাওয়াইসি। এরকম খারাপ অভ্যাস ভালো না। আর ছেলেরা কেন এই সিগারেট খায়? আমি তো গন্ধ ই সহ্য করতে পারি না একদম বমি এসে পড়ে।
রকিরে একবার জিজ্ঞেস করছিলাম কেন সিগারেট খায়। রনি বলে, ওর নাকি ছ্যকা খাইসে। এজন্য সিগারেট খায়। ওরে কোন মেয়ে রিজেক্ট করছে। আমি বুঝি না রিজেক্ট করলে কেন সিগারেট খেতে হবে? একটা মেয়ের ভালো নাই লাগতে পারো। সেটা কি বলার অধিকার নাই? আবার দেখি নিউজে অনেক ছেলে এই রিজেক্ট খেয়ে মেয়েদের এসিড মারে চেহারায়৷ মানে এইটা কোন ধরনের ভালোবাসা? ভাই এজন্য আমি ভালোবাসা অনেক ডরাই। আমি তো রাস্তায় বের হলে ছেলেদের দিকে তাকাইও না। এডা একটু বেশি ঢং করলাম। তাকাই যদি হ্যন্ডসাম পোলা হয়৷
ওইদিন সিএনজিতে করে কলেজ যাবো। পাশে একটা সুন্দর যুবক ছেলে আসছে। এখন আমি দেখেই ক্রাস খাইসি। মনে মনে হাসতাসি। ছেলেটা দেখি আমাকে দেখে আমার সাথে না বসে ড্রাইবার এর পাশে বসলো। আমি বুঝি না কেন আমাকে এভোইড করলো? আমি কি দেখতে অসুন্দর?
ছোটমামাকে এই ঘটনা বলার পর মামা বলেছিল, ছেলেরা আসলেই এমনই হয়। মেয়েদের কে সম্মান করে।
আমি ঠোঁট উল্টে বলেছিলাম, এটা আবার কেমন সম্মান যে আমার পাশে বসতেও লজ্জা। হু।
আচ্ছা। আমি কি একটু পাজি টাইপের মেয়ে? হয়তোবা। সেটা জানি না। ওকে আজকের ডাইরি লেখা শেষ। বায়।
#নীহারিকার_ডায়রী
#লেখক_রুদ্র_সিয়াম