১ম পর্ব,,,
গ্রামের নাম ছিল চাপানগর। ১৯৬২ সালের কথা। পরীজার মা যখন মারা যায় তখন পরীজার বয়স মাত্র ৩ বছর। পরীজার বাবার নাম করীম আলী। তিনি একজন চাষা। স্বভাবে তিনি একজন ভালো মানুষ হলেও একটু কঠোর প্রকৃতির। মায়ের নাম জরিনা খাতুন। জরিনা ছিলেন একটু নরম প্রকৃতির। তিনি স্বামীকে খুব ভয় পেতেন। করীম আর জরিনার ঘরে ছিল তিন মেয়ে। বড় মেয়ে লতা মেঝো মেয়ে ফুলি। এই দুই বোনের বর্ণনা যদি দিতে হয় তাহলে বলতে হবে একজন আকাশ তো অপরজন পাতাল। একজন অপরজনের বিপরীত। লতা হলো চঞ্চল আর ফুলি একটু সহজ সরল।আর ছোট মেয়ে পরীজা হলো অপোরুপ সুন্দরী।।
_________
তাদের মা জরিনা খাতুন কলেরাতে মারা যায়।সেই বছর কলেরাতে অনেক মানুষই মারা যায়।জরিনা মরার সময় লতার বয়স ৮,ফুলির বয়স ৬ আর পরীজার বয়স ৩ বছর ছিল।এই ছোট বয়স থেকে তাদের জীবনে শুরু হয় সংগ্রাম।তাদের বাবা প্রথমে ২য় বিয়ে করতে রাজি হননি। পরে গ্রামবাসি আর আত্নীয়- সজনের জরাজরিতে বিয়ে করে আনে সফেদাকে। সফেদা প্রথমে সবাইকে ভালোবাসলেও যখন তার নিজের মেয়ে আমেনার জন্মের পরের থেকে অন্যরকম হয়ে যায়।আর তাদের আগের মতো ভালোবাসেন না। সফেদা পুরোদিন তার মেয়েকে নিয়ে পড়ে থাকে আর সব কাজ করতে হয় পরীজারা তিন বোনের থেকে। লতা ছিলো একটু দুষ্ট। তারা বাবার সাথে মাঠে কাজ করছিল। তখন,,,
লতা: এই পরী এইদিকে আয়। একটা কাজ করে দে।
পরীজা : কি কাজ?
লতা: বাবার কাছ থেকে দিয়াশলাই টা নিয়ে আয় তো।
পরীজা: ও বাবা রে! আমি পারবো না। তুই আবার বিড়ি খাবি?
লতা: দূর তোর দ্বারা কিছুইই হবে না।আমি নিজেই নিয়ে আসছি।
পরীজা: আপা,তুই যে লুকিয়ে বিড়ি খাস এটা যদি বাবা জানে তাহলে তোকে প্রানে মেরে ফেলবে।
লতা : যা,, যখনের কথা তখন দেখা যাবে।
হঠাৎ পিছনে করিম এসে দাড়াল। লতা তা বুঝতে পেরে বিড়িটা তাড়াতাড়ি ফুলির হাতে দিয়ে দিল।
লতা বলল, ফুলি তোকে না কতোবার নিষেধ করেছি বাবার বিড়ি চুরি করে না খেতে।ফুলি আর পরীজা অবাক! ফুলি বলল, বাবা আমি খাইনি আপা বিড়ি খাচ্ছিলো। তাদের বাবা কোনো কথা না বলে বাড়ির দিকে চলে গেল। তারা পিছু পিছু বাড়ির দিকে গেল। বাড়িতে গিয়ে করীম সফেদাকে বলল:আমি লতা আর ফুলিকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিতে চাচ্ছি একজনের বয়স ১৬ আরেক জনের ১৪ হয়ে গেল এই মেয়েদের আর ঘরে রাখা যাবে না। সফেদা বলল,দুইটা মেয়ে একসাথে বিয়ে দিতে কতো টাকা খরচ তুমি জানো? এতো টাকা আমরা কোথায় পাবো? আমি কিন্তু আমার গয়না টয়না দিতে পারবো না।আমারও পেটের মেয়ে আছে তার কথাও তো আমার থেকে ভাবতে হবে।করিম দমক দিয়ে বলল, তোমার থেকে কিছু ভাবতে হবে না।ওদের মায়ের যে জমিটা আছে তা বেচে ওদের বিয়ের টাকার জোগাড় হয়ে যাবে।।
_________
কয়েক দিনের মধ্যেই দুইটা সম্মন্ধ দেখে লতা আর ফুলিকে বিয়ে দিয়ে দিল।পরীজা একা হয়ে গেল একদিন পরীজা নদীর তীরে বসে ছিল।তখন তার সাথে দেখা হলো একটা ছেলের। ছেলেটা নিজে সম্পর্কে পরিজাকে বলল, আমার নাম জব্বার। আমি নৌকা চালাই । আমার পরিবারে মা ছাড়া কেউ নেই।পরীজাও জব্বারকে নিজার সম্পর্কে বলল।
তাদের রোজ কথা হতে লাগলো। আর এইভাবে তারা একে অপরকে ভালোবেসে ফেলল। জব্বার পরীজার বাড়িতে বিয়ের পোস্তাব পাঠালে পরীজার বাবা রাজি হলো না। কারণ জব্বাররা ছিল অনেক গরিব।ফলে পরীজা জব্বারের সাথে বাড়ির থেকে পালিয়ে বিয়ে করে।বিয়ের পরে পরীজার জীবনে শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। পরীজার শাশুড়ীর নাম হলো বিলকিস বানু। তিনি ছিলেন জব্বারের বাবার ২য় স্ত্রী। সৎ শাশুড়ির পরীজাকে তেমন পছন্দ হয়নি।তারপর থেকে শুরু হয় নতুন সংগ্রাম।
আসছে ২য় পর্ব___