রবীন্দ্রজয়ন্তীর আবেগময় কবিতা
আদিত্য ভৌমিক
তারিখ: ৪/০৫/২০২৬
৮ই মে এলেই বাংলার আকাশে ভেসে আসে এক অনন্ত সুর,
শিউলি-ঝরা ভোরের মতো নীরবতায় বাজে কবিগুরুর নূপুর।
যে মানুষটি শব্দকে দিয়েছিলেন হৃদয়ের রক্তমাখা ভাষা,
যে মানুষটি শিখিয়েছিলেন—দুঃখের মাঝেও লুকিয়ে থাকে ভালোবাসা।
তিনি শুধু একজন কবি নন, তিনি বাঙালির নিশ্বাসে মিশে থাকা প্রাণ,
তিনি আমাদের চোখের জলে লেখা আনন্দ, বেদনা আর অবিরাম গান।
তার কলমে ফুটেছিল ভোর, তার সুরে কেঁদেছিল সন্ধ্যার বাতাস,
তার ছোঁয়ায় নিঃস্ব হৃদয়ও খুঁজে পেয়েছিল নতুন জীবনের আশ্বাস।
আজ ৮ই মে, তাঁর জন্মজয়ন্তীর এই পবিত্র ক্ষণে,
মনে হয়—তিনি এখনও আছেন কোকিলের ডাকে, কৃষ্ণচূড়ার রঙিন বনে।
তিনি আছেন মায়ের মমতায়, প্রেমিকের অপেক্ষায়, শিশুর হাসির ভাঁজে,
তিনি আছেন বাংলার প্রতিটি মাটির ঘ্রাণে, নদীর ঢেউয়ের সাজে।
হে বিশ্বকবি, তোমার লেখা পড়লেই বুকের ভেতর জমে ওঠে আলো,
অন্ধকারে পথ হারানো মানুষও যেন খুঁজে পায় বাঁচার ভালো।
তুমি শিখিয়েছ—“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে”,
তাই আজও হাজার ব্যর্থতার মাঝেও মানুষ দাঁড়ায় নব সূর্যের তরে।
তোমার জন্মদিন মানে শুধু একটি তারিখ নয়,
এ দিন মানে বাঙালির হৃদয়ে নতুন করে জেগে ওঠা অমর পরিচয়।
তোমার গানেই প্রেম, তোমার কবিতায় কান্না, তোমার গল্পে জীবনের মানে,
তুমি আছো বলেই বাংলা ভাষা আজও এত মধুর টানে।
শ্রদ্ধাভরে নত করি মাথা, ভিজে ওঠে দুই নয়ন,
রবীন্দ্রনাথ, তুমি আছো বলেই বাংলা আজও অনুভবের চয়ন।
যতদিন পদ্মা বইবে, যতদিন ভোর হবে বাংলার মাঠে,
ততদিন তোমার নাম লেখা থাকবে কোটি হৃদয়ের পাতায় অক্ষয় হাতে।
59
View