মা দিবসের আবেগময় কবিতা
আদিত্য ভৌমিক
তারিখ: ৫/০৫/২০২৬
১০/০৫/২০২৬ — বিশ্ব মা দিবস
মা,
তোমার নামটি উচ্চারণ করলেই বুকের ভেতর এক অদ্ভুত শান্তির ঢেউ নেমে আসে,
যেন ক্লান্ত জীবনের সমস্ত ঝড় থেমে গিয়ে আশ্রয় মেলে তোমার আঁচলের নিচে।
এই পৃথিবীর আলো দেখার আগে যে হৃদয়ের স্পন্দন আমি শুনেছিলাম,
সে ছিল তোমারই নিঃশব্দ ভালোবাসার গান।
মা,
আমি যখন হোঁচট খেয়ে পড়ে গেছি জীবনের কঠিন পথে,
সবাই যখন দূরে সরে গেছে নিজ নিজ ব্যস্ততার অজুহাতে,
তখন তোমার দুটি হাতই আমাকে তুলে দাঁড় করিয়েছে—
কখনো স্নেহ দিয়ে, কখনো বকুনি দিয়ে, কখনো চোখের জলে ভিজে।
তুমি না থাকলে হয়তো “ঘর” শব্দটির কোনো মানে থাকতো না,
কারণ ইট-পাথরের দেয়াল ঘর হয় না—
ঘর হয় মায়ের নিঃস্বার্থ অপেক্ষায়,
ঘর হয় মায়ের ডাকা “খেয়েছিস?” প্রশ্নে,
ঘর হয় মায়ের নির্ঘুম রাত আর সন্তানের জন্য অসীম প্রার্থনায়।
মা,
নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানের মুখে হাসি ফোটানো এক জীবন্ত ত্যাগের নাম তুমি।
তোমার শাড়ির আঁচলে লুকিয়ে আছে হাজারো না বলা কষ্ট,
তবুও মুখে ফুটে থাকে হাসি—
কারণ সন্তানের কান্না তুমি সহ্য করতে পারো না।
আজ বিশ্ব মা দিবসে আমি শুধু বলতে চাই—
পৃথিবীর সব ফুল একসাথে দিলেও তোমার ঋণ শোধ হবে না,
সব কবিতা একসাথে লিখলেও তোমার মমতার বর্ণনা শেষ হবে না,
সব প্রার্থনা একসাথে করলেও তোমার দীর্ঘায়ুর জন্য তা কম পড়ে যাবে।
মা,
তুমি আমার প্রথম শিক্ষক,
প্রথম আশ্রয়,
প্রথম ভালোবাসা,
আর আমার জীবনের সবচেয়ে পবিত্র শব্দ।
ভগবানের কাছে একটাই মিনতি—
পৃথিবীর সকল মায়ের মুখে হাসি থাকুক,
যাদের মা বেঁচে আছেন তারা যেন মায়ের মূল্য বুঝতে শেখে,
আর যাদের মা দূরে চলে গেছেন,
তাদের হৃদয়ে মায়ের স্মৃতি হয়ে থাকুক চিরন্তন আলো।
মা,
তোমাকে ভালোবাসি বলাটা খুব ছোট্ট বাক্য,
কারণ তোমার জন্য আমার অনুভূতি ভাষার চেয়েও অনেক বড়।
তুমি আছো বলেই আজও পৃথিবীটাকে এত সুন্দর লাগে।
66
View