রুমময় অন্ধকার। কোথাও আলোর নেই। জানালা ভেদ করে আসছে রুপালি আলো। আজ যেন চাদ তার সমস্ত কিরণ পৃথিবীর বুকে ঢেলে দিতে চাইছে। চারদিক আলোকিত হয়ে আছে চাদের আলোয়।
শূন্য রুমে এক রমনী ফ্লোরে বসে আছে। অঝোরে চোখের জল পরছে। যেন কোনো বাধ- বাধা মানতে নারাজ। চেচিয়ে কান্না করতে পারছেনা। এই কান্নার শব্দ যে বাহিরে যাওয়া যাবেনা। কেউ জানতে পারবেনা। এই কান্না অপরাধের। যেই অপরাধ সকলের কাছে গোপন রাখতে চায়।ভালোবাসা যে বিরাট বড় অপরাধ। এই অপরাধ স্বরূপ তার বুকের ভিতরটা ভেঙে তছনছ হয়ে যাচ্ছে। কাকে দেখা এই ব্যাথা? কে শুনতে চাইবে তার প্রেমের কষ্ট?একা একা কাউকে নীরবে ভালোবেসে না পাওয়ার কষ্ট!
সারাকে মিহি রুমে দিয়ে গেছে।আর মাস্ট ইসফি ছিলোই। এই ছেলে আজ সারাদিন তাদের পিছন পিছনই ছিলো। সারার প্রতি তার আগ্রহের শেষ নেই। সারা আর আসফির সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন ছুরে দেয় আর সারা তা হাতে নিয়ে কতক্ষন আমতা আমতা করে আবার ইসফির দিকেই ছুরে মেরে মুখ ভুতা করে দেয়। সারা বুঝে গেছে ইসফি কেমন। ছেলেটা তোহানের মতোই চঞ্চল। আর তাদের আরেকটা মিল খুজে পেয়েছে। ঝাঁকড়া চুল। যা কোনো ইন্টারেস্টিং কথা বললেই পিছনে ঠেলে দেয়। একে দেখেই তোহানের কথা মনে পড়ছে। ছেলেটা কি করছে? আদেও সব সামলাতে পেরেছে তো? কেউ বুঝে গেলোনা তো যে তোহানই তাকে পালাতে সাহায্য করেছে। ছেলেটা তাকে কল করছেনা কেন এখনো? সেও কল করতে পারছেনা। ওই দিকের পরিস্থিতি না জেনে হঠাৎ কল করলে বিপদ হতে পারে।সারা আসফির রুম দেখে অবাক হয়। আদেও এটা রুম নাকি লাইব্রেরি? রুমে একটা বিছানা,আলমারি টেবিল, সোফা। টেবিলে উচু করে বই রাখা। রুমে কয়েকটা বুক সেল্ফ আছে যেখানে ভর্তি বই। আবার ফ্লোরেও উচু করে রাখা। সারা অজান্তেই বলে ফেলে:
“এখানে কি তোদের বাসার সবার বই রাখা হয় রে ননদিনি?”
সারার এক্সপ্রেশন দেখে আর তার কথা শুনে মিহি আর ইসফির হাসি পায়।তাদের হাসতে হাসতে যেন পেকে খিল পরে যাচ্ছে। সারা এতক্ষন অবাক হয়ে রুম দেখলেও এবার বিরক্ত হয়ে মিহি আ ইসফির দিকে তাকায়। এ দুটো এমন পাগলের মতো হাসছে কেন? ইসফি হাসতে হাসতে বলে:
“সিরিয়াসলি আমি ভেবেছিলাম তোমাকে ভাইয়া তার রোগের সম্পর্কে বলবে। এতোদিন প্রেম করেও জানোনা!”
“কি জানবো আর উনারই বা কি রোগ আছে?”
মিহি নিজের হাসি থামায়। সারা সবসময়ই পড়াশোনা ভয় করে। মেয়েটা না পড়ে কিভাবে পাশ করা যায় সেকা গুগলে সার্চ করে। পরিক্ষার আগের দিন যেভাবে সেভাবে পড়ে পাস নাম্বার ছিলিয়ে আনে টিচার্সদের থেকে। আর আসফি একদম অন্যরকম। সে বই পেলে হয়তো আর কিছু লাগেনা। সারাদিন বইয়ে মুখ গুজে থাকে। একদম বই পোকা!
“আরে ভাবি চিন্তার কিছু নেয় শুধু তুই একটু পড়াশোনা চুর আর আমার ভাইয়া বই পোকা এটাই ব্যস।”
রাত এগারোটায় আসফি রুমে আসে। হঠাৎ বিয়ে হয়েছে তার। জীবন পরিবর্তন হয়েছে হঠাৎ করেই। আগে রুমে এসে কাউকে না পেলেও এখন এক রমনীকে পেল যে হয়তো তার অপেক্ষায় ছিলো। আসফি দরজা লাগিয়ে এসে দাড়ালো সারার। সারা বিব্রত গলায় সালাম জানালো।আসফিও উত্তর দিলো। আজ সে বিবাহিত। একটা নারী তার কক্ষে। যে নারীকে এতোদিন সে চিনতো না আজ সে তার অর্ধাঙ্গিনী। সারা প্রচুর আনইজি ফিল করছে। আসফি বুঝলো। সে গলা খাকড়ি দিয়ে বলল:
“ঘোমটা খুলতে পারেন চাইলে। অনেক গরম পড়েছে হয়তো গরম লাগছে!”
আসফি সরাসরি বলল না। ইনিয়ে বিনিয়ে বলল। সারা ধীরে সুস্থে ঘোমটা খুলে আসফির দিকে তাকালো। আসফিও তাকিয় থাকায় দুজনের চোখাচোখি হলো। দুজনেই দৃষ্টি সরিয়ে নিলো।
“আপনি ফ্রেশ ওযু অরে আসন।”
সারা প্রশ্ন চোখে তাকালো।
“বিয়েটা যেভাবেই হোক আমি তা যথাযথ পালন করবো। আপনার প্রতি সকল দায়িত্ব পালন করবো। আর ভাববেন না মানবতা বা অন্য কোনো কারণে এসব করবো। আপনি আমার অর্ধাঙ্গিনী মনে রাখবেন।”
সারা সত্যিই ভাবছিলো কেন লোকটা সম্পূর্ণ অচেনা একজনের জন্য এতো কিছু করবে তবে সে বলার আগেই তার উত্তর পেয়ে গেছে। ধীরে ধীরে ওঠে সময় নিয়ে সে ফ্রেশ হয়ে ওযু করে আসলো। আসফিও সারার পর গিয়ে ওযু করে এলো। নামায আদায় করে সারা বিছানায় বসতে বলে নিজেও দূরত্ব রেখে বলো। সারা মাথা নিচু করে রেখেছে।