Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব:১৭

May 6, 2026

busra islam

43
View

#গল্প - এক ছাতার নিচে

#লেখিকা - বুশরা নাদরাহ

#পর্ব - ১৭ 

  ফজরের আজান থামতেই রায়হানের গলাটা নরম হয়ে এল,   "ইনায়া, আপনি নামাজটা পড়ে নিন। আমিও পড়ে আসছি। ঘুমাবেন না কিন্তু।

"  ইনায়া ওড়নার কোণ আঙুলে পেঁচাতে পেঁচাতে বলল, "এই যে শুনুন, আমার কলেজ আছে, আপনারও তো অফিস। এখন না ঘুমালে দুজনেরই দেরি হয়ে যাবে।

"  রায়হান হালকা হাসল, "আগে নামাজটা পড়ে আসি, তারপর দেখা যাবে।

  *পাক্কা ৩০ মিনিট পর...* 

 ফোনটা বেজে উঠল। একবার... দুইবার...  ইনায়া তখন বারান্দায়। ভোরের প্রথম আলোটা মুখে এসে পড়েছে। ঠান্ডা বাতাসে চুল উড়ছে। শিউলির গন্ধ, পাখির কিচিরমিচির, দূরে রিকশার টুংটাং— ইনায়া যেন এই দুনিয়া থেকে হারিয়ে গিয়েছিল।   রিংটোনের শব্দে চমকে উঠল। দৌড়ে এসে ফোন ধরল, নিঃশ্বাসটা একটু এলোমেলো।  ধরার সাথে সাথেই ওপাশ থেকে রায়হানের কণ্ঠ, 

"কি মিস ইনায়া, ঘুমিয়ে পড়েছিলেন নাকি?

"  *"মিস ইনায়া"*— এই ডাকটা শুনেই বুকের ভেতর ধুকপুক বেড়ে গেল। গাল দুটো লজ্জায় টুকটুকে গোলাপি হয়ে উঠল। ইনায়া গলাটা শান্ত করে বলল, 

"না, ঘুমাইনি। বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, তাই ধরতে দেরি হলো।

  "ঠিক আছে, সমস্যা নেই। ভাবলাম ঘুমিয়ে গেলেন বুঝি।

"  তারপর কথা চলল। সময়ের কাঁটা থেমে গেল ওদের জন্য। হাসি, খুনসুটি, না বলা কথার ভিড়। একসময় রায়হান একটু থেমে বলল, 

 "আচ্ছা মিস ইনায়া, আজ আমার সাথে একটু দেখা করবেন? আপনার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।

"  ইনায়া চুপ। আম্মু তো বের হতে দেবে না। চিন্তার ভাঁজ পড়ল কপালে। 

  ওপাশের নীরবতা বুঝতে পেরে রায়হান আশ্বাস দিল, 

"মিস ইনায়া, বের হওয়া নিয়ে ভাববেন না। আরুকে পাঠাব। ও ঠিক ম্যানেজ করে নেবে।

"  কথায় কথায় ওরা টেরই পেল না, কলেজ আর অফিসের সময় গড়িয়ে যাচ্ছে।  

হঠাৎ ফারহানা বেগমের গলা, "এই ইনায়া! উঠ, কলেজে যাবি না? আর কত ঘুমাবি?

"  ইনায়া ফোনটা কানে চেপেই বলল, 

"আম্মু উঠেছি। এখনি রেডি হয়ে আসছি, তুমি যাও।

 "তাড়াতাড়ি আয়, লেট হয়ে যাচ্ছে,

" বলে ফারহানা বেগম চলে গেলেন।  ইনায়া ফ্রেশ হয়ে নিচে নামল, নাস্তা সেরে বেরিয়ে পড়ল। আজ মনটা বেশ ভালো। কেন ভালো, নিজেও জানে না। হয়তো রায়হানের সাথে কথা বলার জন্য। যে মেয়েটা ঘুমপাগল, তার চোখে আজ ঘুমের ছিটেফোঁটাও নেই।

  *কলেজ গেটে...* 

 আরিশা দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরল, "কিরে ইনু! আজ তোকে এত খুশি খুশি লাগছে কেন? ঘটনা কি বল তো?

"  আরিশার প্রশ্নে ইনায়া আরও লাল হয়ে গেলো । মাথা নিচু করে ফেলল। আরিশা  চোখ ছোট করে বলল, "কিরে, সামান্য প্রশ্ন করলাম, এত লজ্জা কিসের? ব্যাপার কি? দাঁড়া এক মিনিট কালই তো ভাইয়া তোর নাম্বার নিল আমার থেকে। কিরে খবর কি? বল না ইনু!

"  ইনায়া লজ্জায় মাটির দিকে তাকিয়ে বলল, "ধুর, উল্টাপাল্টা কি বলিস! শুধু... কাল রাত কথা বলেছি, বেস এই টুকুই। আর আজ দেখা করতে বলেছে, সারপ্রাইজ দেবে।

"  আরু সাথে সাথে চিৎকার, "কিইইইইই! হারামি, আমাকে আগে বলিস নাই কেন? আমি কি তোর কেউ না?

"  ইনায়া কান চেপে ধরে, "আরে বাবা থাম! বলার সুযোগ দিবি তো। তোর সাথে তো মাত্রই দেখা হলো। আর গরুর মতো চিল্লাস কেন

"  ওদের খুনসুটির মাঝেই ক্লাসের ঘণ্টা পড়ে গেল।  ক্লাস শেষে যে যার বাড়ি।   বাড়ি ফিরে খেয়েই ইনায়া বিছানায় গা এলিয়ে দিল। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে টেরই পায়নি।   

" ঘুম ভাঙল আরুর ডাকে। দরজায় দাঁড়িয়ে আরিশা হাসছে, চোখে দুষ্টুমি,  

"মহারানী, উঠুন। আপনাকে নিতে এসেছি। সারপ্রাইজের সময় হয়ে গেছে।

"  ইনায়ার বুকটা আবার ধুক করে উঠল। হালকা লাল লিপস্টিকটা ঠিক করে আয়নার সামনে দাঁড়াল। আজকের বিকেলটা হয়তো ওর জীবনের সবচেয়ে *ভাগ্যবান* বিকেল হতে চলেছে। 

Comments