ভ্যান গঘের বিখ্যাত পেইন্টিং দ্য স্টারি নাইট এর দিকে তাকালে আপনি যে উজ্জ্বল সোনালী চাঁদটি দেখেন, ওটা কিন্তু সাধারণ কোন রং না। এই রঙটা হইতেছে ইন্ডীয়ান ইয়োলো। এই কালারের পিছনে খুবি বর্বর যন্ত্রণাময় ইতিহাস আছে।

Photo by Yamaitrop Vioreenlack on Unsplash
১০০ বছর আগে বিহারের মুঙ্গেরে কিছু গোয়ালা গরুকে জোর করে দিনের পর দিন শুধু আম পাতা খাইয়ে রাখত। উদ্দেশ্য হইতেছে আম পাতায় থাকা ম্যাঞ্জিফেরিন নামক উপাদানের কারণে গরুর মূত্র গাঢ় হলুদ বর্ণ ধারণ করত। সেই মূত্র সংগ্রহ করে আগুনের তাপে শুকিয়ে বল তৈরি করা হতো, যা পিউরি নামে ইউরোপে রপ্তানি হতো। যা দিয়ে তৈরি হত বিখ্যাত ইন্ডিয়ান ইয়েলো রং। কিডনিতে পাথর জমে, প্রস্রাবের যন্ত্রণায় ধুঁকে ধুঁকে মারা যেত সেই গরুগুলো।
আমার আলাপ ঠিক এইখানে না। শতাব্দী পেরিয়েছে মানুষ এখন আরো সভ্য। কিন্তু আমাদের ভেতরের সেই নিষ্ঠুরতা কিন্তু সুযোগ পেলেই যেকোনভাবেই উকি দেয়।
গতকাল পাবনার ঈশ্বরদীতে এক সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী বাড়ির আঙিনায় সদ্য জন্মানো আটটি তুলতুলে কুকুরছানাকে বস্তাবন্দী করে পুকুরে ডুবিয়ে মেরে ফেলেছেন। তাদের অপরাধ হইতেছে তারা হয়তো একটু শব্দ করে ডাকাডাকি করে।
তফাৎটা আসলে কোথায় জানেন?
মুঙ্গেরের সেই গোয়ালারা গরুকে তিলে তিলে মারত বিলাসিতার জন্য, আর ঈশ্বরদীর ওই নিষ্ঠুর ভদ্রমহিলা আটটি হৃৎস্পন্দন থামিয়ে দিলেন নিজের সামান্য কমফোর্ট বা আয়েশের জন্য।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে Moral Disengagement
যখন মানুষ নিজের সুবিধার কাছে অন্য প্রাণীর জীবনকে তুচ্ছ মনে করে, তখন সে আর ওই প্রাণীটিকে জীবন হিসেবে দেখে না। সে ওটাকে দেখে একটা বস্তু বা আবর্জনা হিসেবে। তাই অবলীলায় আটটি জীবন্ত ছানাকে বস্তায় ভরে পানিতে ফেলে দেওয়া যায়, কারণ ওরা এই ধরনের মানুষের (!) কাছে ময়লার প্যাকেট।
অবশ্য ১৯০৮ সালে আইন করে গরুর মূত্র দিয়ে রং বানানো বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু মানুষের মনের ভেতর প্রাণীর প্রতি এইসব নিষ্ঠুরতার ফ্যাক্টরি কোনদিনও বন্ধ হবে না।
অবশ্য মাত্র এক বছর আগেই তো এইদেশে লাইভ গুলি করে শতশত মানুষ মারা দেখলাম আর এরা তো মাত্র পশু!