Posts

উপন্যাস

এক ছাতার নিচে। পর্ব:১৯

May 7, 2026

busra islam

108
View

#গল্প - এক ছাতার নিচে 

#লেখিকা - বুশরা নাদরাহ 

#পর্ব - ১৯  

"ইনায়া নিজেই টের পেল না কখন যে হাত বাড়িয়ে ফুলগুলো বুকের সাথে জড়িয়ে ধরেছে।  মিষ্টি একটা ঘোর ওকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।   

প্রিয় মানুষের কাছ থেকে এত বড় সারপ্রাইজ! বিশ্বাসই হচ্ছে না। বুকের ভেতরটা কেমন ঢিপঢিপ করছে। ইনায়াও তো রায়হানকে ভালোবাসত... নীরবে। আজ সেই না-বলা কথাগুলো ফুল হয়ে ওর হাতে ধরা দিয়েছে। খুশিতে চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে।  

চারপাশের মানুষজন থমকে দাঁড়িয়েছে। ওদের দিকেই তাকিয়ে আছে সবাই। ফিসফিস করে কেউ বলছে, কি সুন্দর মানিয়েছে দুজনকে!" কারো চোখে মুগ্ধতা, কারো চোখে ঈর্ষা।  

 ইনায়ার লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে। মাথা নিচু দাড়িয়ে আছে, চোখের পাতা কাঁপছে। উপরে তাকানোর সাহসটুকুও নেই। গাল দুটো টমেটোর মতো লাল হয়ে আছে।  

রায়হান অপলক দেখছে ইনায়াকে। এই লজ্জা-রাঙা মুখটা... উফ! এত মায়া কেন মেয়েটার চেহারায়? লজ্জা পেলে ইনায়াকে যে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর লাগে, সেটা কি ও নিজে জানে?

  রায়হান আস্তে করে বলল, "চলো, কোথাও গিয়ে বসি?

"  ইনায়া ফিসফিস করে বলল, "হুম, চলুন...

"   _মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল— যাক বাবা, বাঁচা গেল। এখানে আর এক মিনিট থাকলে লজ্জায় মাটি ফাঁকা করে ঢুকে যেতাম।

 রায়হান আর ইনায়া একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসল। কাঁচের জানালার পাশে, কোনার টেবিলটায়। বাহিরে বসলে পরিচিত কেউ দেখে ফেলত। এখানে নিরিবিলি, নিশ্চিন্ত। ইনায়ার বুক থেকে যেন একটা পাথর নেমে গেল। 

 কফির ধোঁয়া ওঠা মগের মাঝখানে হঠাৎ রায়হান প্রশ্ন করল, "আচ্ছা ইনায়া, আমি কি তোমাকে সবসময় 'তুমি' করে বলতে পারি?

"  ইনায়া চোখ তুলে এক পলক তাকিয়েই আবার নামিয়ে নিল, "হুম, পারেন।

 "তাহলে কিন্তু তোমাকেও বলতে হবে," রায়হানের ঠোঁটে দুষ্টু হাসি।  

"চ... চেষ্টা করব," ইনায়ার গলা কেঁপে গেল। 

 "আচ্ছা, ঠিক আছে," রায়হান হাসল।

  এরপর গল্পের ঝাঁপি খুলে গেল। কফি ঠান্ডা হলো, বিকেলের আলো কমলা হলো, কিন্তু কথা ফুরাল না। কত জমানো কথা, কত হাসি, কত চোরা চাহনি।  

অথচ কি নিষ্ঠুর নিয়তি! রায়হান জানতেই পারল না এই ইনায়া তার বেস্ট ফ্রেন্ড ইহানের আদরের ছোট বোন। ইনায়াও ঘুণাক্ষরে টের পেল না, এই রায়হানই তার ভাইয়ের কলিজার বন্ধু।  

নিয়তি বোধহয় আজ ওদের অজান্তেই রাখতে চেয়েছে।  

সন্ধ্যা নামছে। ঠিক তখনই রায়হানের ফোনটা বেজে উঠল। 

স্ক্রিনে নাম: 

*আরিশা*।   

" রায়হান রিসিভ করল।  

"আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া,

" ওপাশ থেকে আরিশার উদ্বিগ্ন গলা। 

 "ওয়ালাইকুম আসসালাম। কি হয়েছে? 

  "ভাইয়া, ইনায়া কোথায়?

"কেন? আমার সাথেই আছে

"ভাইয়া, ওর কাছে ফোনটা একটু দিবে? খুব দরকার ছিল।

 "আচ্ছা, দাঁড়া।

" রায়হান ফোনটা ইনায়ার দিকে বাড়িয়ে দিল।  

"হ্যালো আরু, বল কি হয়েছে?" ইনায়ার গলায় কাঁপুনি।  

"হারামি, বান্দরনী! তোর ফোন কোথায়? গিলে ফেলেছিস নাকি?" আরিশা ফিসফিসিয়ে ঝাড়ি দিল। 

 "কেন রে? ফোন তো আমার কাছেই..."

  "তোর কাছে থাকলে বন্ধ কেন? তুই নিজে তো মরবি, সাথে আমাকেও মারবি নাকি?  

 ইনায়া ঢোক গিলল, "না মানে... আসার সময় তাড়াহুড়ায় চার্জ দিতে ভুলে গেয়েছি। বন্ধ হয়ে গেয়েছে।

  "উফ! আচ্ছা শোন, তাড়াতাড়ি আমাদের বাসায় আয়। আন্টি তোকে ফোনে না পেয়ে আমাকে কল দিয়েছিল। আমি বলছি তুই ঘুমাচ্ছিস। তুই যে ঘুম-কুম্ভকর্ণ, আন্টি তাই বিশ্বাস করছে। নয়তো আজ কেয়ামত হয়ে যেত। তাড়াতাড়ি আয়!

  "আচ্ছা আচ্ছা, আসছি। একটু অপেক্ষা কর।

"  ইনায়া কল কেটে রায়হানের দিকে তাকাল। চোখে অস্থিরতা, "আমাকে এখনই যেতে হবে। আজ আসি। আবার কোনো একদিন দেখা হবে।

"  "আচ্ছা ঠিক আছে। চলো, তুমি তো আমাদের বাসাতেই যাবে," রায়হান উঠে দাঁড়াল। 

 "না না! আমি একা যাব। কেউ দেখে ফেললে সর্বনাশ,

" ইনায়া প্রায় আঁতকে উঠল।  

রায়হান একটু থেমে হাসল, "আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি যাও। আমি তোমার পিছনে  আসছি।  

 ইনায়া আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। শাড়ি ঠিক করে দ্রুত পা চালাল আরুদের বাসার দিকে।

  আরু গেটের সামনেই পায়চারি করছিল। ইনায়াকে দেখামাত্র ছুটে এসে হাত চেপে ধরল। একটাও কথা না বলে ইনায়াদের বাড়ির দিকে চলল।  

 রাইহান দূর থেকে ইনায়ার চলে যাওয়া দেখছে।হাত পা একদম ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বুকের ভেতরটা পুরো উষ্ণ।

Comments