Posts

নন ফিকশন

নৃশংস আমেরিকা

May 7, 2026

Md Josam

Original Author MD samim sikdar

Translated by MD Shamim sikdar

23
View

প্রিয় দর্শক, গল্প শুরু করার আগে আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করছি, আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন, যাতে আপনি সবসময় নতুন গল্প ও খবর পেতে পারেন! চলুন, তাহলে শুরু করা যাক আজকের গল্প!”

ইউটিউব চ্যা সাবস্ক্রাইব করুন, এবং 10 হাজার টাকা জিতুন, চ্যানেলের ভিডিও তে কমেন্ট করুন, আমরা 3 জন বিজয়ী বেছে নেব।

https://youtube.com/@mrtempestis-q7f?si=g3B45DE2WFSjYpOi

নৃশংস আমেরিকা
আমেরিকার ইতিহাস শুরু হয়েছিল রক্তের উপর। ইউরোপীয় উপনিবেশকারীরা এসে আদিবাসীদের জমি দখল করল। লক্ষ লক্ষ নেটিভ আমেরিকানকে হত্যা করা হল, তাদের জমি ছিনিয়ে নেওয়া হল, অসুস্থতা ছড়িয়ে দেওয়া হল। ট্রেইল অফ টিয়ার্সে চেরোকি, চিকাসাও, চকটাওসহ হাজার হাজার মানুষকে জোর করে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হল শত শত মাইল দূরে। অনেকে পথেই মারা গেল। “ম্যানিফেস্ট ডেস্টিনি” নামে ঈশ্বরের নামে পুরো মহাদেশ দখলের অজুহাত তৈরি করা হল। আদিবাসীদের সংস্কৃতি ধ্বংস করা হল, তাদের শিশুদের জোর করে বোর্ডিং স্কুলে নিয়ে ভাষা ও ধর্ম ভুলিয়ে দেওয়া হল।
তারপর এল আফ্রিকা থেকে ক্রীতদাস ব্যবসা। লক্ষ লক্ষ আফ্রিকানকে জাহাজে বোঝাই করে আনা হল। মাঝপথে অনেকে মারা গেল। যারা বেঁচে থাকল তাদের চাবুক মেরে খাটানো হল, পরিবার ভেঙে বিক্রি করা হল। দাসত্ব আইনত শেষ হলেও বর্ণবাদ চলতে থাকল। জিম ক্রো আইন, লিঞ্চিং, কু ক্লাক্স ক্ল্যানের সন্ত্রাস—শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য বজায় রাখার জন্য কালো মানুষদের উপর অমানবিক অত্যাচার চলল দশকের পর দশক।
১৮৯৮ সালে স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধের পর ফিলিপাইনস, কিউবা, পুয়ের্তো রিকো দখল করা হল। ফিলিপাইনসে স্বাধীনতাকামীদের দমন করতে গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হল, লক্ষাধিক মানুষ মারা গেল। ওয়াটার কিউর নামে বন্দিদের নির্যাতনের ক্যাম্প তৈরি করা হল। হাওয়াই দ্বীপের রানীকে ক্ষমতাচ্যুত করে দ্বীপ জবরদখল করা হল। লাতিন আমেরিকায় “ব্যানানা রিপাবলিক” তৈরি করা হল—ইউনাইটেড ফ্রুট কোম্পানির স্বার্থে দেশগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা হল।
১৯৫৩ সালে ইরানে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেককে CIA-র অভ্যুত্থানে সরিয়ে শাহকে ক্ষমতায় বসানো হল, কারণ তিনি তেল জাতীয়করণ করতে চেয়েছিলেন। এই ঘটনা পরবর্তীতে ইসলামিক বিপ্লবের বীজ বপন করল। ১৯৫৪ সালে গুয়াতেমালায় নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আরবেঞ্জকে সরিয়ে সামরিক শাসন কায়েম করা হল। তারপর শুরু হল দশকের পর দশক গৃহযুদ্ধ ও ইন্ডিজেনাস জনগোষ্ঠীর গণহত্যা। ১৯৭৩ সালে চিলিতে সালভাদর আলেন্দেকে সরিয়ে জেনারেল পিনোশেকে ক্ষমতায় বসানো হল। হাজার হাজার মানুষকে টর্চার করা হল, হত্যা করা হল, “ডেসাপারেসিডোস” বানানো হল।
অপারেশন কন্ডরের মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ডানপন্থী সামরিক শাসকদের সমর্থন দেওয়া হল। আর্জেন্টিনায় “ডার্টি ওয়ারে” প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গুম হয়ে গেল। এল সালভাদর, নিকারাগুয়ায় কনট্রা বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও ট্রেনিং দেওয়া হল। স্কুল অফ দ্য আমেরিকাসে লাতিন আমেরিকান সৈন্যদের টর্চার, হত্যা ও দমনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। ইন্দোনেশিয়ায় সুহার্তোকে সমর্থন করে লক্ষাধিক কমিউনিস্টকে হত্যা করানো হল। কঙ্গোতে প্যাট্রিস লুমুম্বাকে হত্যায় সাহায্য করা হল।
ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমেরিকা নরক সৃষ্টি করল। নেপাম বোমা ও এজেন্ট অরেঞ্জ ছড়িয়ে বন-জঙ্গল পুড়িয়ে দেওয়া হল, লক্ষ লক্ষ মানুষের ত্বক গলে গেল, শিশুরা জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মাল। মাই লাই গ্রামে নারী, শিশু, বৃদ্ধ সবাইকে গুলি করে হত্যা করা হল। ক্যাম্বোডিয়া ও লাওসে গোপন বোমা হামলায় লক্ষ লক্ষ বেসামরিক মানুষ মারা গেল, যা খেমার রুজের উত্থানে সাহায্য করল।
১৯৯১-এর গাল্ফ ওয়ারের পর ২০০৩ সালে ইরাকে “ম্যাস ডেস্ট্রাকশন উইপন” এর মিথ্যা অজুহাতে আক্রমণ করা হল। লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেল, দেশ ধ্বংস হয়ে গেল, ISIS-এর উত্থান হল। আফগানিস্তানে ২০ বছর যুদ্ধ করে লক্ষ লক্ষ বেসামরিক মৃত্যু ঘটিয়ে শেষে আবার ট্যালিবানকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আসতে দেওয়া হল। লিবিয়ায় গাদ্দাফিকে সরিয়ে দেশকে বিশৃঙ্খলা ও দাস ব্যবসার আখড়ায় পরিণত করা হল। সিরিয়া, ইয়েমেনে প্রক্সি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া হল। ড্রোন আক্রমণে বিয়ের অনুষ্ঠান, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, হাসপাতালে বোমা ফেলা হল।
গুয়ান্তানামো বে ও আবু গারিব কারাগারে বন্দিদের উপর টর্চার, যৌন নির্যাতন, অপমান চলল। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার নামে ইরান, ইরাক, কিউবা, ভেনিজুয়েলাসহ অনেক দেশের সাধারণ মানুষকে খাবার, ওষুধ থেকে বঞ্চিত করা হল। কালার রেভল্যুশনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সরকার উল্টানোর চেষ্টা করা হল। সৌদি আরবের ইয়েমেন যুদ্ধে অস্ত্র ও সমর্থন দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ও দুর্ভিক্ষ ঘটতে দেওয়া হল।
আমেরিকার কর্পোরেট স্বার্থ বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোকে শোষণ করেছে। আইএমএফ ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণের ফাঁদে ফেলে দেশগুলোর সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। পরিবেশ ধ্বংস করে, খনিজ সম্পদ লুট করে, সস্তা শ্রম শোষণ করে নিজের সমৃদ্ধি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে যাতে অস্ত্র বিক্রি হয়, তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ হয়।
আজও এই নৃশংসতা চলছে। প্রক্সি যুদ্ধ, অস্ত্র সরবরাহ, অর্থনৈতিক চাপ, প্রচারণার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। যে দেশ নিজেকে বিশ্বের পুলিশ বলে দাবি করে, সে আসলে নিজের স্বার্থে পুরো বিশ্বকে রক্তাক্ত করেছে। নেটিভ আমেরিকানদের গণহত্যা থেকে শুরু করে আজকের ড্রোন হামলা পর্যন্ত—একটানা ধ্বংসযজ্ঞ।
এই ইতিহাস শুধু যুদ্ধের নয়, মিথ্যা, শোষণ ও ক্ষমতার অন্ধত্বের। যতদিন এই মনোভাব না বদলাবে, বিশ্ব শান্তি দেখবে না। নৃশংস আমেরিকা কোনো একটা সময়ের ঘটনা নয়—এটা একটা ধারাবাহিক ব্যবস্থা, যা পৃথিবীর অসংখ্য মানুষের রক্তে লেখা।

Comments

    Please login to post comment. Login